08/06/2026
#প্রাসঙ্গিক
Susmita S Biswas
যদি আপনি ভারতকে মনেপ্রাণে বুঝতে চান, তাহলে শুধু মানচিত্রের দিকে তাকালে হবে না, বুঝতে হবে তার ইতিহাস, তার সভ্যতা, তার সম্ভাবনা এবং তার ক্রমবর্ধমান শক্তির কথা।
কারণ বিশ্বের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন, যে দেশ মাথা তুলে, স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে শুরু করে, তাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও শুরু হয় সমানতালে।
আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন দেশের অভ্যন্তরে যতটা লড়াই চোখে পড়ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি লড়াই কিন্তু চলছে আমাদের চোখের আড়ালে।
কখনও ভাষার নামে, কখনও জাতপাতের নামে, কখনও ধর্মের নামে, কখনও আবার আঞ্চলিক আবেগকে উসকে দিয়ে সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।
ঘটনাগুলোকে আপাতভাবে আলাদা আলাদা মনে হলেও এই সবকিছুর মিলিত প্রভাব গিয়ে পড়ছে একই জায়গায়..... আমাদের জাতীয় ঐক্যের ওপর।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্য্যকর অস্ত্র কিন্তু বাইরের আক্রমণ নয়, দেশের ভেতরের বিভাজন। মানুষকে মানুষের থেকে আলাদা করে দেওয়া, এক সম্প্রদায়কে আরেক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো, এক অঞ্চলের মানুষকে অন্য অঞ্চলের প্রতি সন্দিহান করে তোলা.....এই পথেই তো দুর্বল হয় সমাজ, দুর্বল হয় রাষ্ট্র।
গত কয়েক বছরে ভারত কোন কোন ক্ষেত্রে এগিয়েছে সেই সব খতিয়ান তো মাঝেমধ্যেই তুলে ধরি আমার লেখার মধ্যে দিয়ে।
প্রযুক্তি, অবকাঠামো, মহাকাশ গবেষণা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ডিজিটাল পরিষেবা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, এই সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট।
এই অগ্রগতির গতি নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, রাজনৈতিক মতও ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ভারতের উত্থান যে আজ আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। যেকোনো সুস্থ্য ও শিক্ষিত সচেতন মানুষ সে বিষয়ে নিশ্চিত একমত হবেন আমার সাথে।
কিন্তু আজ আমাদের চোখের আড়ালে যে চক্রান্তের জট ধীরে ধীরে আরো পাকিয়ে যাচ্ছে সেসব সম্পর্কে তো জানতে হবে, অবশ্যই যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে।
জানেন কি ভারত এখন সবচেয়ে বড় বিপদের মধ্যে অবস্থান করছে ?
কারন আমাদের দেশের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য “অপারেশন ৩৭” ডিপ স্টেট ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এর আওতায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মোদিজিকে সরাতে CIA ও ডিপ স্টেটকে ১২ মাস সময় দিয়েছেন বলেও খবর ভাসছে বাতাসে...!!
এই অপারেশনের অস্ত্র হবে—
ডিভিশন (ভাগ করা),
ডাইভারশন (দৃষ্টি ঘোরানো) এবং
ডিসেপশন (প্রতারণা)।
এর মধ্যে ভোট চুরি এবং অপারেশন ৩৭-ও অন্তর্ভুক্ত।
এর একটি উদাহরণ আপনি ইতিমধ্যেই জগদীপ ধনখড়ের ঘটনায় দেখেছেন। তাদের লক্ষ্য হলো কমপক্ষে ৩৭ জন বিজেপি সাংসদকে ভেঙে বিজেপির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা।
তাই কখনো শুল্কের নামে, কখনো সংরক্ষণের নামে, কখনো দালাল কৃষক নেতাদের মাধ্যমে, আবার কখনো যৌন ও ধর্মীয় আন্দোলন খাড়া করে বাংলাদেশে যেমন অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে, তেমন পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার ফেলার চেষ্টা করা হবে।
দক্ষিণ ভারত ও মহারাষ্ট্রে হিন্দি-বিরোধী আন্দোলন, কিছু নেতার জন্মাষ্টমীতে গোমাংস খাওয়ার ঘোষণা, এগুলো তারই উদাহরণ।
ডাইভারশন বলতে বোঝানো হচ্ছে বিজেপির মূল ভোটারদের ওপর আঘাত করে তাদের ভোট অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া।
যেমন -- কনস্টিটিউশন ক্লাবের নির্বাচনের মতো ঘটনা, যা আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
“পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?”— অমিত শাহ না যোগী ??
এই ধরনের প্রশ্ন তুলে হিন্দু সমাজকে ভাগ করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে উসকে দিয়ে ভারতকে ইউক্রেন–রাশিয়ার মতো দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়ে অর্থনীতিকে ধ্বংস করার চেষ্টাও চলবে।
এটা নিশ্চিত যে, যদি বিরোধী দল, ডিপ স্টেট তাদের কার্যসিদ্ধি করতে না পারে, সেক্ষেত্রে কি পূর্বতন প্রধানমন্ত্রীদের মতোই কোনো বড় প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনাও করেছে তারা !!
এটুকু তো বুঝতেই পারছেন আশা করি যে,
ভারতের অগ্রগতি আমেরিকার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আজ আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত দেশ, এবং তারা ভারতকে এগিয়ে যেতে দেখতে চাইবেনা কোনো মতেই।
এ এক মহা সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছি আমরা। ভারত তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
আজ হিন্দুদের দেশ ও নিজেদের রক্ষার জন্য আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।
অন্য একটি গোষ্ঠী কখনোই আপনার পাশে দাঁড়াবে না, কারণ তাদের লক্ষ্য হলো গজবা-এ-হিন্দ সম্পূর্ণ করা।
সুতরাং, নিজেদের স্বার্থেই একজোট হয়ে লড়তে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। আর পারিপার্শ্বিক সকলকে সচেতন করতে হবে।
ওই বিশেষ সম্প্রদায় কিন্তু সবসময় চায় ভারত হারুক। আর তাদেরই দোসর হয়ে -
আমেরিকা ,কানাডা / খালিস্তানিরা, ইউরোপ, ব্রিটেন, তুরস্ক ইত্যাদি, পাকিস্তান, চীন, অস্ত্র লবি, ওষুধ লবি, কট্টর ইসলামপন্থীরা, দেশবিরোধীরা, মিশনারিরা, বামপন্থীরা, মুসলমানরা.... সকলেই চায় বিজেপি হারুক। মোদী সরুক।
শক্তিশালী বিদেশি দেশগুলোও চায় ভারত হারুক।
কারণ ভারত তাদের অস্ত্র রপ্তানি বাজার এবং উৎপাদন ঘাঁটি দখল করে নিচ্ছে।
তারা চায় না ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমদানি-নির্ভরতা থেকে মুক্ত হোক।
তারা কেন্দ্রে একটি পুতুল সরকার চায়, যাকে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
ভারতীয় বিরোধী দল চায় বিজেপি হারুক, কারণ বিজেপি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে—
রাম মন্দির, CAA / NRC, নতুন শিক্ষা নীতি, অনুচ্ছেদ ৩৭০, প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা, NGO-র লাগাম টানা, নকশাল দমন, মিশনারিদের নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের ফ্রি উপহার বন্ধ, ভুয়া PAN ও আধার কার্ডের মাধ্যমে নগদ সুবিধা বন্ধ, বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে ওঠা, করোনা টিকাকরণ, কাশী করিডর, মহাকাশে সাফল্য, দাসত্বের চিহ্ন মুছে ফেলা, অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সাথেই
● IIT
● AIIMS
● মন্ত্রী স্তরে শূন্য দুর্নীতি
● GST
● নোটবন্দি
● শূন্য বোমা বিস্ফোরণ
● কাশ্মীরে শান্তি
● মোবাইল উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থান
● রেলের ১০০% বিদ্যুতায়ন
● রেল গেট সম্পূর্ণ বিলুপ্ত
● বন্দে ভারত ট্রেন
● একটি গুলিও না চালিয়ে পাকিস্তানকে ধ্বংস
● চীনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা
● ঘরে ঘরে জল
● আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে স্বাস্থ্য বীমা
● প্রবীণ নাগরিকদের জন্য চারধাম যাত্রা
এবং—
● বিজেপি দেশ বিক্রি করবে না
● বিজেপি চীনের সঙ্গে গোপন চুক্তি করবে না
● বিজেপি পাকিস্তানের প্রতি নরম হবে না
এত কিছুর পর আর বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি ?
আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আমাদের সকলের সতর্ক থাকা। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি খবর, প্রতিটি ভিডিও, প্রতিটি উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যকে সত্যি বলে ধরে নেওয়ার আগে প্রশ্ন করুন, কারণ বিভ্রান্তি ছড়ানোর যুগে তথ্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র, আর সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।
মনে রাখবেন, আমরা প্রথমে ভারতীয়।
রাজনৈতিক মত, ভাষা, অঞ্চল, ধর্ম, এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে দেশের স্বার্থ।
মতভেদ থাকবে, বিতর্ক থাকবে, সমালোচনা থাকবে, গণতন্ত্রে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতভেদ কখনও যেন এমন জায়গায় না পৌঁছয়, যেখানে দেশের ঐক্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা কেমন ভারত রেখে যেতে চাই, সেই প্রশ্নটাই আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি ভারত, যা আত্মবিশ্বাসী, নিরাপদ, উন্নত এবং নিজের শক্তিতে বিশ্বাস করে।
জয় হিন্দ। 🇮🇳
বন্দেমাতরম। 🙏