22/09/2026
সারা বাংলা অনলাইন প্রতিযোগিতা–২০২৬-এ নজরকাড়া সাড়া
🌸S.M. ট্যালেন্ট সার্চ অর্গানাইজেশন কলকাতা শিল্প-সংস্কৃতি উৎসব সম্মেলন–২০২৬ 🌸
১০ হাজারেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণ, কলকাতা ও রানাঘাটে দুই পর্বে পুরস্কার বিতরণ
নিজস্ব সংবাদদাতা:
শিশুদের প্রতিভা বিকাশ এবং শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহকে আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে S.M. Talent Search Organization, Kolkata-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল রাজ্য বেবি অনলাইন প্রতিযোগিতা–২০২৬। প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম, বিহার, ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্র-ছাত্রীরাও অংশগ্রহণ করে। আয়োজকদের দাবি, এবারের প্রতিযোগিতায় ১০ হাজারেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম স্থানাধিকারীকে ট্রফি, দ্বিতীয় স্থানাধিকারীকে গোল্ড মেডেল, তৃতীয় স্থানাধিকারীকে রৌপ্য মেডেল এবং চতুর্থ স্থানাধিকারীকে ব্রোঞ্জ মেডেল প্রদান করা হয়।
অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বিপুল হওয়ায় প্রত্যেক বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীকে একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি। তাই মূলত প্রথম স্থানাধিকারীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী ছাত্র-ছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দূরবর্তী এলাকার এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না-পারা অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট ও পুরস্কার সংগঠনের পক্ষ থেকে ডাকযোগে পাঠানো হয়।
৭২২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার সক্রিয় সহযোগিতা
এই বৃহৎ অনলাইন প্রতিযোগিতায় প্রায় ৭২২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁদের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ করান। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সম্ভব হত না।
অনুষ্ঠানকে সফল করতে বাসুদেব ঘোষ, অচিন্ত্য চক্রবর্তী, দীপঙ্কর প্রামাণিক-সহ বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক-অভিভাবিকা এবং শুভানুধ্যায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে তাঁদের শিক্ষাদান ও ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিভা বিকাশে ভূমিকার জন্য ‘শিক্ষাগুরু সম্মান’ প্রদান করা হয়।
যেসব শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০ জনের বেশি ছাত্র-ছাত্রীকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করিয়েছেন, তাঁদের বিশেষভাবে রৌপ্য ফলক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও মঞ্চে আহ্বান করে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রাজ্য ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসর
এবারের প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি আসাম, বিহার ও ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
এমনকি বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ-সহ বিভিন্ন এলাকার মোট ২২ জন ছাত্র-ছাত্রী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীদের কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরেছেন, আবার অনেকে উপস্থিত হতে না পারায় তাঁদের সার্টিফিকেট ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। একইভাবে আসাম, বিহার ও ত্রিপুরার অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও উপস্থিতির পাশাপাশি ডাকযোগে সার্টিফিকেট পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, ডুয়ার্স, তরাই, নেপাল ও ভুটান-সংলগ্ন অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণও এই প্রতিযোগিতাকে আরও বিস্তৃত মাত্রা দেয়।
কলকাতায় প্রথম পর্বের পুরস্কার বিতরণ
গত ২৩ আগস্ট ২০২৬, রবিবার, কলকাতার শ্যামবাজারের বীরেন্দ্র মঞ্চে প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডি. আশিস, কলকাতা মেডিক্যাল ব্যাংকের প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষক ও সমাজসেবী শোভন ঘটক, নৃত্যজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ড. অর্কদেব ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী স্বাগতা অধিকারী নাথ এবং বিশিষ্ট অঙ্কনশিল্পী ননী গোপাল বিশ্বাস-সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।
প্রায় ১০০০ আসনের প্রেক্ষাগৃহে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক-অভিভাবিকা উপস্থিত হন। আসনসংখ্যার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেককে প্রেক্ষাগৃহে বসার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করা হয়।
বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতির কারণে তাঁদের নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। একসঙ্গে ২০–৩০ জন করে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে মঞ্চে তুলে সম্মাননা প্রদান করা হয়। কলকাতার অনুষ্ঠানে আড়াইশোরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতি ছিল বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত বীরেন্দ্র মঞ্চ
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলে। বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতিতে শুধুমাত্র পুরস্কার বিতরণীর মধ্যে অনুষ্ঠান সীমাবদ্ধ না রেখে নাচ, গান-সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়।
সরকারি কর্মসূচির কারণে বদল হয় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানস্থল
প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান প্রথমে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নদিয়ার কৃষ্ণনগর রবীন্দ্র মঞ্চে করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাত্র দুই দিন আগে, ১০ সেপ্টেম্বর, সরকারি কর্মসূচি থাকার কারণে ওই মঞ্চ ব্যবহার করা সম্ভব হবে না বলে আয়োজকদের জানানো হয়।
এর ফলে আয়োজকদের সামনে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, রানাঘাটের নজরুল মঞ্চ নতুন করে বুক করা হয়। নির্ধারিত তারিখেই অর্থাৎ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, রানাঘাট নজরুল মঞ্চে দ্বিতীয় পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
রানাঘাটে দ্বিতীয় পর্বেও ব্যাপক জনসমাগম
রানাঘাটের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরাঙ্গ বিশ্বাস মহাশয়, জেলা আধিকারিক, শারীরিক শিক্ষা ও যুবকল্যাণ দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, নদিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট যোগশিক্ষক ও সমাজসেবী ড. সুমিত কুন্ডু, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বুদ্ধদেব চক্রবর্তী, বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী শুভদীপ মজুমদার-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
রানাঘাট নজরুল মঞ্চেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবক-অভিভাবিকা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হন। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পর্বে প্রায় ৫০০ জনেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন।
“শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ”
S.M. Talent Search Organization-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পুরস্কার প্রদান নয়; বরং শিশুদের প্রতিভাকে খুঁজে বের করা, তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবদানকে সম্মান জানানো।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের প্রতিভার বিকাশে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি তাঁদের শিক্ষাগুরুদেরও সম্মান জানানো আমাদের কর্তব্য।”
দুই পর্বের অনুষ্ঠানেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মাননা, ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার প্রদান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ হয় এই বৃহৎ আয়োজন। ২০জনের ওপরে ছাত্র-ছাত্রী প্রদানকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাকে আমরা রূপ ও ফলক দিয়ে সম্বর্ধনা জানাই।
আয়োজকদের মতে, রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে রাজ্য বেপি অনলাইন প্রতিযোগিতা–২০২৬ একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনেও শিশুদের প্রতিভা বিকাশের এই উদ্যোগ আরও বৃহত্তর পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে S.M. Talent Search Organization, Kolkata।