24/04/2025
সর্বকালের সেরাই? হবে হয়তো। শচীন টেন্ডুলকার একটা আবেগের নাম। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড। সাড়ে পাঁচ ফুটের মানুষটার নাম নাকি ছিল সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ক্রিকেটীয় রেকর্ডে...
গল্পের মতো এক জীবন কিংবা তারচেয়েও বেশি। শূন্য থেকে একশ। নিজেই এক উদাহরণ। ক্রিকেটের, জীবনের। অল্প বয়সে তারকাখ্যাতি, অর্থের ঝনঝনানি এসব পাশ কাটিয়ে কীভাবে সর্বকালের সেরা হওয়া যায়, শিখিয়ে গেছেন সবাইকে… জীবন শেখানোর শিক্ষকও এই শচীন।
ক্রিকেটের প্রতিশব্দ তিনি। জন্মই হয়েছে শুধু ক্রিকেটকে ভালোবাসার জন্য। যার কাছে ক্রিকেট ছিল প্রার্থনার মতো, মাঠে নামা ছিল উপাসনালয়ে আসার মতো। বাইশ গজে চব্বিশ বছর উইলো হাতে শাসন। কেবল শচীন বলেই হয়তো।
'ব্যাটসম্যান' শব্দটা কেউ উচ্চারণ করা মাত্রই তার কথা চলে আসবে। এমনই অনন্য একটা নাম। রেকর্ডগুলোও বোধকরি তার নামের সঙ্গে থাকতে সবেচেয়ে এবসজি পছন্দ করে।
শুধু ভারত না, শচীন সবার, সর্বজনীন। ক্রিকেটে ভালোবাসা মানেই শচীনের পক্ষে চলে যাওয়া। চাঁদেরও নাকি কলঙ্ক থাকে, তবে শচীনের ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে তো নেই একটা দাগও।
জিনিয়াস। আর জিনিয়াসদের যা হয় আরকি, নিজেই নিজের জন্য নিজেই নিয়ম বানান। ভারী ব্যাট নিয়ে ব্যাটিং করার গল্প তো আপনার জানাই।
পুরো ভারতজুড়ে ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের অভাব নেই। অসংখ্য বিভক্তির ভারত তার কাছে এসে মিলে গেছে এক বিন্দুতে। ব্যাট হাতে যখন নামতেন, পুরো ভারতবাসীর কোটি চোখ জোড়া থাকত একদিকেই। পাঁচ ফিট চার ইঞ্চি উচ্চতার মানুষটা কাঁধে বয়ে বেড়িয়েছেন দেড়শ কোটি ভারতীয়র প্রত্যাশার চাপ! কীভাবে সম্ভব? শচীন বলেই হয়তো।
শিবাজি পার্ক-আজাদ ময়দান চষে বেড়িয়েছেন সারাটা জীবন। মুম্বাইয়ের অলিগলিতে এখনো তার নামে সকাল শুরু হয়। কতোগুলো স্বপ্নবাজ তরুণের ঘুম ভাঙে, প্রথম ব্যাটটা ধরা হয়, শচীনের মতো হবে বলে। অবসরের প্রায় বছর দশ হলেও এখনো ভারতে শচীন এক উৎসবের নাম।
১১ বছর বয়সে শিবাজি পার্কে যে সাধনার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল তা শেষ হয় ২০১৩ সালের নভেম্বরের ১৬ তারিখ, ওয়াংখেড়েতে। শুধুমাত্র পরিশ্রম আর সাধনাই পারে এক সাধারণ কবিপুত্রকে ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় কবি বানাতে।
শুভ জন্মদিন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। ভাগ্যিস, আপনি ছিলেন! না হয় ক্রিকেটকে এতগুলো মানুষ কী করে ভালোবাসত?
#মিলনপরিবার
লেখা ও ভিডিও সংগৃহীত