29/09/2026
আজ World Heart Day — বিশ্ব হৃদয় দিবস। ❤️
“Heart” কথাটা শুনলে প্রথমেই মনে হয় একটা মেডিকেল টার্ম। কিন্তু “হৃদয়” শব্দটার সঙ্গে আমাদের বাঙালিদের অদ্ভুত এক আবেগ জড়িয়ে আছে।
সেই আবেগ থেকেই আমরা হৃদয়ের একটা কাল্পনিক আকার তৈরি করেছি—♥️। তারপর সেই আকারে আবেগ অনুযায়ী নানা রং দিয়েছি। আর সেই আকার ও রঙের মেলবন্ধনে তৈরি করেছি কত না আলাদা আলাদা অর্থ!
কিন্তু মজার বিষয় হল, আমাদের শরীরের মধ্যে থাকা আসল Heart-টার কথা আমরা কত সহজেই ভুলে যাই।
নিজের শরীরকে অবহেলা করি। নিয়মিত জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাই। রক্তে কোলেস্টেরল বাড়তে থাকে, রক্তনালিতে বাধা তৈরি হতে পারে। অথচ এই ছোট্ট অঙ্গটাই সারাক্ষণ কাজ করে আমাদের সারা শরীরে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছে দিয়ে শরীরকে সচল রাখার জন্য।
শুধু শারীরিক নয়, আবেগ দিয়েও আমরা আমাদের হৃদয়ের উপর কত অত্যাচার করি!
নিজের হৃদয়কে নিজে ভালো না বেসে, অন্যের ভালোবাসার আশায় কখনও কখনও নিজের হৃদয়টাকে এমন কারও হাতে তুলে দিই, যে তার মর্যাদা দিতে জানে না।
মর্যাদা তো দূরের কথা—কখনও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে Heart ঠিকই কাজ করে যায়, কিন্তু “হৃদয়”টা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।
অর্থাৎ, শারীরিক এবং মানসিক—দুই ধরনের চাপই আমরা আমাদের Heart ও হৃদয়কে নিতে বাধ্য করি।
আর একটা কথা মনে রাখা দরকার—
Cardiac arrest হলে CPR হয়তো একজন মানুষের হৃদপিণ্ডকে আবার সচল করার সুযোগ দিতে পারে।
কিন্তু নিজের হৃদয়কে প্রতিদিন ভালো রাখার দায়িত্বটা অন্য কেউ নিতে পারে না।
সেটার জন্য দরকার নিজের প্রতি যত্ন, নিজের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের শরীর ও মনের প্রতি সম্মান। ❤️
তাই এই World Heart Day-তে, অন্য কারও ভালোবাসা পাওয়ার আগে, অন্য কারও কাছে নিজের হৃদয়ের মূল্য খোঁজার আগে, চলুন একটা প্রতিজ্ঞা করি—
নিজের Heart-কে ভালো রাখব।
নিজের হৃদয়কেও ভালো রাখব।
নিজের শরীরের যত্ন নেব।
নিজের আবেগেরও যত্ন নেব।
আর নিজের হৃদয়ের মর্যাদা নিজেই দেব। ❤️
কারণ,
অন্য কেউ আমাদের হৃদয়কে ভালোবাসবে কি না, সেটা সবসময় আমাদের হাতে নেই।
কিন্তু নিজের হৃদয়কে আমরা কতটা ভালোবাসব—সেটা আমাদের হাতেই। ❤️
#স্থিতা_সংস্থিতা ( স্থিতা রাউত)