20/06/2026
💢💢 স্বাধীনতার পর ভারতের ইতিহাসে "কালো দিবস"💢
হিন্দু জাগরণ মঞ্চ
✍️✍️ইন্দিরা গান্ধীর "কালো অধ্যায়" বলতে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ভারতে জারি করা জরুরি অবস্থাকে বোঝানো হয়। ২১ মাসের সময়কালকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি অন্ধকারময় অধ্যায় হিসেবে অনেকে উল্লেখ করেছেন।
😈😈😈😈জরুরি অবস্থা জারির কারণ ও প্রেক্ষাপট:
নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ: ১৯৭১ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর রায়বেরেলি আসন থেকে জয়লাভের বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক পার্টির রাজনারায়ণ অভিযোগ করেন যে ইন্দিরা গান্ধী সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
*
* ✍️ এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়:
১৯৭৫ সালের ১২ জুন এলাহাবাদ হাইকোর্ট নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে ইন্দিরা গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত রায় দেয় যে তিনি আগামী ছয় বছর কোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না এবং তাঁর লোকসভার সদস্যপদ বাতিল করা হয়। এই রায়ের ফলে ইন্দিরা গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া অনিবার্য হয়ে ওঠে।
* ✍️ রাজনৈতিক অস্থিরতা:
এই রায়ের পর দেশজুড়ে ইন্দিরা গান্ধীর পদত্যাগের দাবি ওঠে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
✍️ জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত:
পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ইন্দিরা গান্ধীকে অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরামর্শ দেন। এরপর ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন মধ্যরাতের কয়েক মিনিট আগে সংবিধানের ৩৫২(১) ধারা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণ দেখিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
🙀🙀🙀🙀জরুরি অবস্থার সময়কার প্রধান ঘটনা ও প্রভাব:
নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব: জরুরি অবস্থার সময় মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। সংবাদপত্রের ছাপাখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে সংবাদপত্র ছাপতে না পারে।
👹👹👹👹 বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার:
জয়প্রকাশ নারায়ণ, মোরারজি দেশাই, অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী সহ অসংখ্য বিরোধী নেতাকে গ্রেপ্তার করে জেলে ভরা হয়।
😎😎😎😎 সঞ্জয় গান্ধীর প্রভাব:
জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধীর কনিষ্ঠ পুত্র সঞ্জয় গান্ধী ভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং কোনো সরকারি পদে না থেকেও প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হন। কথিত আছে, তিনি তাঁর বন্ধুদের সাথে ভারতকে পরিচালনা করতেন এবং ইন্দিরা গান্ধীর উপর তাঁর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল।
🥸🥸🥸🥸 জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ:
সঞ্জয় গান্ধীর নেতৃত্বে জোরপূর্বক পুরুষদের বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি চালানো হয়, যা দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উপর চাপানো হয়েছিল।
🧐🧐🧐 বিচার ব্যবস্থার উপর চাপ:
জরুরি অবস্থার সময় বিচার ব্যবস্থাও প্রবল চাপে নতি স্বীকার করে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত হেবিয়াস কর্পাস এবং মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা বাতিলের সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিয়েছিল।
👺👺👺 অর্থনৈতিক কারণ:
ইন্দিরা গান্ধী যুক্তি দিয়েছিলেন যে দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং বাইরের হুমকি সামলাতে জরুরি অবস্থা প্রয়োজন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও এটি জরুরি।
👽👽👽জরুরি অবস্থার সমাপ্তি ও ফলাফল:
১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী এবং সঞ্জয় গান্ধী উভয়েই নিজ নিজ কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন এবং কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে ১৫৩ হয়। জনতা পার্টি ২৯৫টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে এবং মোরারজি দেশাই প্রথম অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী হন।
🤓🤓🤓রাহুল গান্ধী নিজেও জরুরি অবস্থাকে একটি ভুল সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
🙀🙀🙀🙀 জরুরী অবস্থা ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া:
ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার সময় (১৯৭৫ সালের ২৫ জুন থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ) আরও অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিল, যা ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এই সময়কালকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত ও অন্ধকারময় অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়।
* ✍️✍️✍️ গণমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশিপ:
* জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরপরই সংবাদপত্রগুলির ছাপাখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে তারা সংবাদ ছাপতে না পারে। সরকারের সমালোচনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয় এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে খর্ব করা হয়।
😈😈👹👹ব্যাপক ধরপাকড় ও গ্রেপ্তার:
ইন্দিরা গান্ধীর বেশিরভাগ রাজনৈতিক বিরোধীকে কারারুদ্ধ করা হয়। জয়প্রকাশ নারায়ণ, মোরারজি দেশাই, অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, জ্যোতি বসু, সমর গুহ সহ ১,০০,০০০-এর বেশি রাজনৈতিক বিরোধী, সাংবাদিক এবং ভিন্নমতাবলম্বীকে আটক করা হয়েছিল। ২৬ জুন, ১৯৭৫ তারিখে অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা আইনের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর বিরোধীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
😭😭😭😭 সংবিধানের মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ:
জরুরি অবস্থার সময় মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। নাগরিকদের বাক স্বাধীনতা, সমাবেশ করার অধিকার এবং গ্রেপ্তার ও আটক করার ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারায় প্রদত্ত সাতটি স্বাধীনতা রোধ করা হয়।
🥸🥸🥸🥸 সঞ্জয় গান্ধীর প্রভাব ও কর্মসূচি:
ইন্দিরা গান্ধীর কনিষ্ঠ পুত্র সঞ্জয় গান্ধী এই সময়ে প্রবল ক্ষমতার অধিকারী হন এবং তার নেতৃত্বে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান চালানো হয়। জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ (পরিবার পরিকল্পনা) কর্মসূচি চালানো হয়, যা দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উপর চাপানো হয়েছিল।
🤐🤐🤐🤐 রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ:
১৯৭৫ সালের ৪ জুলাই দেশের চারটি জাতীয়তাবাদী দল এবং তাদের ১২টি সহযোগী দলকে কেন্দ্রীয় সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর মধ্যে আনন্দমার্গ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, নকশাল এবং জামাত-এ-ইসলামি-এ-হিন্দ ছিল।
👉👉👉 অর্থনৈতিক কর্মসূচি:
জরুরি অবস্থা চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন শ্রমিক, ছোট কৃষক এবং গ্রামীণ শিল্পীদের ঋণ পরিশোধ করার বিষয়ে ২০টি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, এই সমস্ত শ্রমজীবী মানুষকে অন্য উপায়ে ঋণ দেওয়া। পাশাপাশি বিনা মজুরিতে শ্রম বন্ধ করা ও কৃষি জমি বিক্রি আইন প্রয়োগ করা। এই কর্মসূচির দ্বারা হস্তশিল্পকে বিশেষ সাহায্যের ঘোষণা করা হয়। দ্রব্যমূল্য কমানো, কর ফাঁকি দেওয়া, চোরাচালান বন্ধ এবং জরুরি জিনিসের সরবরাহ জারি রাখা হয়।
👁️👁️👁️ সংবিধান সংশোধন:
১৯৭৬ সালের ২ নভেম্বর ৪২তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ হয়। এই বিলের মাধ্যমে ভারতকে সামাজিক, গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়।
🧐🧐🧐🧐🧐🧐 বিচার ব্যবস্থার উপর চাপ:
জরুরি অবস্থার সময় বিচার ব্যবস্থা প্রবল চাপে নতি স্বীকার করে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত হেবিয়াস কর্পাস এবং মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা বাতিলের সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিয়েছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্টে ইন্দিরা গান্ধীকে ক্লিনচিট দিতে নতুন আইন তৈরি করা হয়।
✍️✍️✍️✍️ লোকসভার মেয়াদ বৃদ্ধি:
১৯৭৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি লোকসভার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
এই ২১ মাসের জরুরি অবস্থা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি কঠিন সময় ছিল, যা পরবর্তীতে অনেক বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
💢বি: দ্র: সকল তথ্য সংগ্রহীত।
✍️✍️✍️পরের পোস্টে পরবর্তী অংশ পোস্ট করা হবে।
💢সবাইকে অনুরোধ 🙏🙏🙏 share ও like করে সাথে থাকবেন,ধন্যবাদ।