01/06/2026
CPIM এর হিন্দু নিধন ইতিহাসের এক নিকৃষ্ট কাহিনী
হিন্দু জাগরণ মঞ্চ
🤐🤐🤐মরিচঝাঁপি হত্যাকাণ্ড বলতে ১৯৭৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে বোঝায়, যেখানে দেশভাগের পর দণ্ডকারণ্য শিবির থেকে আসা বাঙালি উদ্বাস্তুদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ ও বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হয় এবং এর ফলে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
👁️👁️👁️পটভূমি:
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে অসংখ্য হিন্দু শরণার্থী পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নিম্নবর্ণের হিন্দু, যারা পাকিস্তানে অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন। তৎকালীন কংগ্রেস সরকার এই শরণার্থীদের মধ্য ভারতের দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে, যেখানে তারা প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না।
১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার আগে, বামপন্থী নেতারা দণ্ডকারণ্যের শিবিরগুলিতে গিয়ে শরণার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তারা ক্ষমতায় এলে শরণার্থীদের পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন।
😈😈😈ঘটনা:
১৯৭৮ সালের প্রথম দিক থেকে দণ্ডকারণ্য থেকে হাজার হাজার উদ্বাস্তু পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসতে শুরু করেন এবং সুন্দরবনের জনমানবশূন্য মরিচঝাঁপি দ্বীপে বসতি স্থাপন করেন। তারা সেখানে নিজেদের উদ্যোগে কৃষিকাজ, মাছ ধরা, ছোটখাটো ব্যবসা এবং স্কুল ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করেন。 প্রায় ১৫,০০০ শরণার্থী মরিচঝাঁপি দ্বীপে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং দ্বীপটির নামকরণ করেছিলেন "নেতাজি নগর".
তবে, বামফ্রন্ট সরকার পরে দাবি করে যে সুন্দরবনের এই এলাকা পরিবেশগতভাবে সংরক্ষিত এবং সেখানে বসবাস অবৈধ। ১৯৭৯ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ দ্বীপটিকে ঘিরে ফেলে এবং খাদ্য, পানীয়, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে দ্বীপে খাদ্য সংকট ও রোগের প্রকোপ দেখা দেয়.
৩১ জানুয়ারি ১৯৭৯ থেকে শুরু করে ১১ মে পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ ও বামপন্থী কর্মীদের দ্বারা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে পুলিশের গুলিতে, ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে, নৌকা ডুবিয়ে এবং খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে শত শত উদ্বাস্তু মারা যান বলে অভিযোগ করা হয়। সরকারি সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ থেকে ৮ জন নিহত হয়েছিলেন, তবে কিছু গবেষক ও প্রত্যক্ষদর্শীর মতে এই সংখ্যা ৪,০০০ থেকে ১০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। এই ঘটনাকে অনেকেই কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে হিন্দু উদ্বাস্তুদের উপর সংঘটিত একটি নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ এবং দলিত নিপীড়নের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মরিচঝাঁপি হত্যাকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত এবং মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।