06/01/2024
একটা বিড়াল, দুই পৃথিবী
পশুপাখির প্রতি প্রেম আমার নতুন নয়। নতুন হল ওদের প্রতি এই প্রেম এখন যত মানুষের প্রকৃত স্বরূপ দেখছি বাড়ছে। গতকাল স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এমন এক ঘটনার সাক্ষী হলাম যা আমার মনে দু'রকম অনুভূতি জাগালো। হঠাৎ দেখলাম একটা গলির মধ্যে বেশ কয়েকজন জটলা করেছেন। পাশে কলকাতা পুলিশের দু'জন আর একজন সিভিক পুলিশ। আমি এই সব জটলা দেখে অত্যুৎসাহি তেমন হই না। অপরের জীবনের হখঁড়ির খবর নিয়ে আমার আগ্ৰহ বরাবরই তলানিতে। তাই কালও চলেই আসছিলাম এই ভেবে যে হয়তো পাড়ার ঝগড়াঝাঁটি বা বেআইনি কনস্ট্রাকশনের গোলমাল। তারপরেই হঠাৎ কানে এল, "বেড়ালটা দু'দিন আটকে ওখানে..." আরেকজন বললেন "একটা ব্যাগ লাগবে।" শুনে পিছন ঘুরে তাকালাম। দেখি দুটো পাশাপাশি বাড়ির জানালা আর ছাদ বরাবর একটা বাঁশ বাঁধা হয়েছে। একজন ভদ্রমহিলা তার স্কুলফিরতি মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম, "কী হয়েছে?" উনি যা বললেন তা শুনে আর নতুন করে অবাক হলাম না। পাশাপাশি দুটি বাড়ির এক বাড়ির বিড়াল আরেক বাড়ির ছাদে আটকে ছিল দু'দিন এই শীতের মধ্যে কোনো জল বা খাবার ছাড়া। দু'দিন ধরে বিড়ালটা কাঁদছে তবুও ছাদ খুলে বিড়ালটাকে নামানোর প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি ঐ বাড়ির বয়স্ক দম্পতি। নিজেরাও ছাদে উঠবেন না, অন্য কাউকে উঠতেও দেবেন না। নিজের কানে শুনলাম বয়স্ক মহিলা (ভদ্রমহিলা বলতে বাঁধছে) পুলিশকে বলছেন, "ছাদে শুধু আমার ছেলে ওঠে। আর কেউ উঠি না। ছাদ খোলা যাবে না।" জানিনা, ছাদে ওনার ছেলের কী ধনসম্পত্তি আছে যে আর কারওর ওঠা নিষিদ্ধ! স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে ছাদে ওঠার জন্য আলাদা লোক এনে বিড়ালটাকে যখন উদ্ধার করা হয় বিড়ালটার যিনি পালিকা তার কান্না বুঝিয়ে দিল এত্ত এত্ত অমানুষ আর না-মানুষের ভিড়ে মানুষ এখনও আছে। কম, খুব কম হলেও আছে আর তাই হয়তো পৃথিবীটা এখনও বাসযোগ্য আছে। অবাক হলাম পুলিশের আচরণে। পুলিশ কি পারত না ছাদের তালা খোলাতে? কেন আরেকটা লোককে কষ্ট করে পাইপ, কার্নিশ বেঁয়ে ছাদে উঠে বিড়ালটাকে ব্যাগে করে দড়ি বেঁধে নামাতে হল? তবে পুলিশ যে এই বিড়ালটার উদ্ধারে তৎক্ষণাৎ এসেছে তার জন্য ভাল লাগা থেকে গেল। পুলিশ মানবিক না হলে যে বড্ড অসহায় লাগে নিজেদের। রাস্তার চারপেয়েগুলো ভাল থাকুক। আপনারা ওদের ভাল রাখুন। ওরা মানুষ নয় তাই বেইমানও না। কোলে তুলে সবাই আদর করতে পারেন না কিন্তু মানবিক তো হতেই পারেন; তাই না?