27/10/2025
বেস (BASE) এবং সর্বভারতীয় সিদ্দিকিয়া আমিনিয়া উলামা পরিষদ এর যৌথ উদ্যোগে বেস অফিসে একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হল গত ২৫.১০.২০২৫ এ। শিরোনাম ছিলো: "Discussion on CITIZENSHIP & RIGHT TO VOTE"
আলোচনাসভার সভাপতি হিসেবে আসন গ্রহণ করেন ড. মহ শামসুল হক মহাশয়, প্রাক্তন অধ্যক্ষ। সভার প্রারম্ভে মূল বিষয়ের সুর বেঁধে দেওয়ার জন্য SIR (Special Intensive Revision) এবং ভারতীয় সংবিধান ও নাগরিকত্ব বিষয়ে এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অতি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন বেসের বরিষ্ট সদস্য ও সুবক্তা কাজি মহ শেরিফ সাহেব।
প্রথম বক্তা মহ: মাসুদুর রহমান সাহেব, সহকারী শিক্ষক, এই মুহূর্তে BLO (Booth Level Officer) হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন করবার চলমান অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হন যে, বি এল ও হিসেবে যাবতীয় কাজের দায়ভার আমাদের, কিন্তু কোন ক্ষেত্রে সংশয় দেখা দিলে তার সদুত্তর ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া যায়না। অনেক কিছুই গোঁজামিলে ভরা। এছাড়া তিনি প্রশ্ন তোলেন, সামান্য কাগজের হেরফেরে যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধ নাগরিক হোন, তাহলে তাঁদের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও অবৈধ।
দ্বিতীয় বক্তা মানবাধিকার সংগঠনের ছোটন দাস মহাশয় একেবারে আইনি ধারা এবং সংবিধানের ধারা উল্লেখ করে নাগরিক কারা এবং কাদের ভোটাধিকার ন্যায়সংগত তা তথ্যসহ অত্যন্ত যুক্তিনিষ্ঠভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, SIR সংবিধানেও নেই, নির্বাচন কমিশন এর ধারাতেও নেই যা ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে, এটি একটি বিশেষ এলাকায় বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ নাগরিক নিয়ে যে বিশাল অঙ্কের গল্প ফাঁদা হচ্ছে তা ডাহা মিথ্যে কথা।
তৃতীয় বক্তা মানিক ফকির বাবু অত্যন্ত জোরালোভাবে জানান ২০০২ সাল কোন যুক্তিতে ভিত্তি বর্ষ। কোনোমতেই বাংলায় SIR হতে দেওয়া যাবে না।তাছাড়া SIR তো বিদেশিদের জন্য নয়, যে সমস্ত হিন্দুভাইয়েরা বিদেশ থেকে আসবেন তাদের জন্য আগে CAA, তারপর SIR.
চতুর্থ বক্তা ড. ফিরোজ আলি বর্তমানে দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নানা বিপন্নতার কথা বলে জানান, অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল যে বিচার ব্যবস্থা সেখানেও মানুষ সুবিচার পাচ্ছে না তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? চারিদিকে শুধুই অন্ধকার।
এরপরে সভার শেষে সভাপতি ড. মহ: শামসুল হক সাহেব সকলের বক্তব্যের নির্যাস টেনে জানান:
১. আগেও ভোটার তালিকায় সংশোধন সংযোজন বিয়োজন (Intensive Revision) হয়েছে, তাতে কোনো প্রশ্ন আসেনি, সমস্যাও তৈরি হয়নি। এবারের SIR থেকে আগের গুলির সঙ্গে মৌলিক তফাৎ হলো আগের গুলিতে ভোটাধিকারের সঙ্গে নাগরিকত্বের কোনো যোগ ছিলো না, এবার সেখানে নাগরিকত্বের প্রশ্ন জুড়ে দিয়েছে। সেখানেই সমস্যা যা সাধারণ মানুষকে একটি আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
২. ভারত স্বাধীনতালাভের পরপরই জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১ এবং নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ সালে পাশ হয়েছিল তাতে কেবল বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস রত হওয়া এবং আঠারো বছর কিংবা তার অধিক বয়স্ক ব্যক্তিমাত্রই ভোটের অধিকারী। আর কারা কিভাবে নির্বাচিত হবেন এবং নির্বাচন কমিশন কীভাবে বা কী পদ্ধতিতে নির্বাচন পরিচালনা করবেন তা বলা আছে। কেউ নাগরিক কি নাগরিক নন, তা দেখার কাজ ছিলনা।
যাই হোক, এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন হতে হবে। এরপর উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে সভাপতি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।