27/05/2026
লীলা মজুমদারের একটা গপ্পো আছে।
গপ্পের নাম কুঁকড়ো।
গপ্পোটা মূলত কুমু নামের একটা বাচ্চা মেয়ের গপ্পো।
কুমুর একটা পোষা মোরগ আছে, তার নাম কুঁকড়ো। সেই কুঁকড়োর সাথে বাচ্চা মেয়েটির দারুন বন্ধুত্ব, একসাথে দুজনে মিলে যত রকমের দস্যিপনা আছে, সব করে।
তা সেই কুঁকড়ো নামের মোরগটি একটা বেড়ার ঘরে থাকে। সেই ঘরে বিশাল ফাঁক। কুমু বারবার বাবাকে বলে কুঁকড়োর ঘর সারিয়ে দিতে। কুমুরর বাবা বলে দেব'খন...
এরমধ্যে একদিন সকালে কুমু নামের মেয়েটি দেখে, কুঁকড়োর ঘরে, সে নেই। বরং পড়ে আছে চাপচাপ রক্ত। সবাই বলে, শেয়ালে কুঁকড়োকে ধরে নিয়ে গেছে। কুমু নামের বাচ্চা মেয়েটি কাঁদে, সারাদিন কিছু খায় না।
এরমধ্যেই গ্রামে এসে হাজির হয় শেয়ালমারার দল। গ্রামের লোক মহাখুশি, এবার শেয়ালের উৎপাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তা শেয়াল মারার দল, সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়ে। বিকেলে গ্রামের মোড়ে অনেকগুলো মরা শেয়াল এনে ফেলে রাখে। কুমু ভেবেছিল, তার ভাল লাগবে, কিন্তু বমি পায়, সে ছুটে পালিয়ে বাড়ি চলে আসে।
আসার সময় সে দেখে, পাথরের ধারে একটা শেয়াল, আহত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কুমু বাড়ির কাউকে কিছু বলে না।
পরদিন সকালে আবার সেখানে যায় কুমু, এখন শেয়ালটি সেখানে মরে পড়ে আছে, কিন্তু পাশে একটা সদ্যোজাত শেয়াল। কুমু নামের সেই বাচ্চা মেয়েটি ঐ শেয়াল বাচ্চাটাকে লুকিয়ে রাখে, সেই কুঁকড়োর ভাঙা বেড়ার ঘরে, চুপিচুপি তাকে খাওয়ায়, যত্ন নেয়।
দুইদিন বাদে গ্রামে হাজির হয় বনকর্মীরা। ততদিনে শিয়ালমারারা পালিয়েছে। বনকর্মীরা গ্রামের লোককেই বকাবকি করে। কুমু তাঁর কাকুর কাছ থেকে জানতে পারে, এই বনকর্মীরা নাকি শিয়ালদের মারে না, তাদের বাঁচায়।
কুমু ছুটে গিয়ে শিয়াল বাচ্চাটিকে নিয়ে আসে, বনকর্মীদের হাতে তুলে দিয়ে বলে, "এর নাম কুঁকড়ো, একে মেরো না, বাঁচিও।"
এই গল্পে লীলা মজুমদার যা বলেছেন তা খুব স্পষ্ট, বুঝতে কোথাও এতটুকু অসুবিধা হয় না। যারা অকারণে নিরীহ কুঁকড়োদের ওপর অত্যাচার করে আমরা সঙ্গত কারনেই তাদের ঘৃণা করি। কিন্তু ঘৃণার আগুনে পুড়তে পুড়তে যেন আমরা তাদের মতই না হয়ে যাই। আমরাও যেন কোনো কুঁকড়োর ওপর অত্যাচারে উল্লসিত না হয়ে পড়ি।
আমরা যেন ওই কুমু নামের বাচ্চা মেয়েটির মতই থাকতে পারি...
ছবি ও লেখা ইন্টারনেট সূত্রে পাওয়া