16/05/2026
|| ফলহারিণী ||
বৈশাখ মাস শেষ হল কি না চলে এসেছে জ্যৈষ্ঠ মাস। আর এবারে জ্যৈষ্ঠের পয়লাতেই পড়ে গেছে মায়ের আরাধনার দিন।
আজ অমাবস্যা! ভক্তের কাছে বহু পরিচিত এই অমাবস্যা। নাম হয়েছে ফলহারিণী অমাবস্যা! ঠাকুর আজকের দিনেই শ্রীশ্রীমাকে ষোড়শী রূপে পূজা করেছিলেন! সে আখ্যান অনেকের জানা। কিন্তু এই তিথির নাম ফলহারিণী হল কি করে?
আপনি যদি নামে লক্ষ্য করেন তাহলে বুঝবেন ফল হরণ করা সম্বন্ধে কিছু বলা আছে হয়তো। এই ফল আহারের ফল যেমন , তেমনি কর্মফল ও বটে!
ধরা যাক এক শিষ্য গুরুর কাছে সঠিক পথে চালিত হবার জন্য সাধনা শুরু করেন। গুরু আধার দেখে তাকে বীজ দেন। সাধনার বীজ। শিষ্যের কাজ ঐ বীজকে মহীরুহ করা নিজের সাধনার দ্বারা।
শিষ্য গুরুপ্রদত্ত বীজের লালন শুরু করেন নিজের সাধনা, জপের দ্বারা। সঠিক সময়ে তা অঙ্কুরিত হয়।
সাধনার পথে বাধা আসেই। শিষ্যকে বিচলিত হওয়া চলে না। একটা গাছ যখন বেড়ে ওঠে তার ক্ষেত্রেও প্রখর রোদ, ঝড় সহ্য করতে হয়। যারা পারেনা তারা আসন হারিয়ে ফেলে। সব গাছ ঝড়-খরা সহ্য করে দাঁড়াতে পারে না।
সবকিছু সহ্য করা গাছে মুকুল আসে। ফল আসার পূর্ব ইঙ্গিত! সাধকের সাধনাতেও এসময় মুকুল এলো। কিন্তু অস্থির হওয়া চলে না। সাধনা চালিয়ে যেতে হয়। নাহলে প্রবল ঝড়ে মুকুলও ঝরে পড়ে। এই মুকুলের ইঙ্গিত থাকে পৌষের অমাবস্যায় মায়ের পুজোয়। পুজোয় সেখানে আম্রমুকুল ব্যবহৃত হয়। যার জন্য পৌষ অমাবস্যার অপর নাম আম্রবকুল অমাবস্যা।
এবার অন্তিম পর্ব। মুকুল থেকে ফল হবার পর্ব। ফল হলেও সব ফল সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনা। অনেক সাধক এইসময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলে, অহং চলে আসে। ফল গাছ থেকে মাটিতে পড়ে চৌচির হয়ে যায়! এতদিনের সাধনা বৃথা হয়ে যায়। আমাদের এখনো সতর্ক থাকতে হবে।
সঠিক সময় আসে। সাধক নিজের সাধনালব্ধ ফল মায়ের চরণে দেন। মা সেই কর্মফল হরণ করেন। বদলে সাধককে দেন অপার তৃপ্তি। এটাই ফলহারিণী! ফাইনাল স্টেজ! সাধক শিষ্যের কাছে এখন মায়ের চিত্র পরিষ্কার। কষ্ট না করলে কি কেষ্ট মেলে?
প্রশ্ন হল আমরা সাধারণ মানুষ কি করবো আজকের দিনে? উত্তর হল আমরা আমাদের প্রত্যেকের যে ইষ্ট আছে তাকে স্মরণ করবো। অবশ্যই করবো। যার যে ইষ্ট থাক সব গিয়ে মিলিত হয় মা তেই! আমরা আজকে নিজের ইচ্ছা পূরণের কামনা হেতু আমাদের প্রিয় একটি ফল মায়ের কাছে অর্পণ করবো। এক বৎসর যাবৎ আমরা সেই ফল খাবো না। আমাদের ইচ্ছা পূরণ হলে আমরা পুনরায় সেই ফল খেতে পারবো। কিন্তু মনে রাখতে হবে ইচ্ছাটি যেন সর্বজনের কল্যাণের জন্য হয়!
মা আছে আর আমি আছি, ভাবনা আছে কি আর?
আমি মায়ের হাতে খাই পরি, মা নিয়েছেন আমার ভার...
জয় মা! আপনাদের কল্যাণ হোক, জগতের কল্যাণ হোক!
।।সংগৃহীত।।