24/02/2025
গতকাল অর্থাৎ ২৩ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ রবিবার। সুতাহাটা জীবনদীপ ভলেন্টিয়ারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও তমলুক জেলা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় এই প্রথমবার বাড়সুন্দরা বালক সংঘের আয়োজনে রক্তদান শিবির, যার পরিচালনায় ছিলাম আমরা। এলাকার মানুষদের মধ্যে রক্তদানে ভীতি ছিল। এই কথা আমরা আগেই জেনেছি। সে কারণেই লাগাতার ওই এলাকায় প্রচার অভিযান চালানো হয় রক্তদান সংক্রান্ত বিষয়ে। গতকাল সকাল পর্যন্ত রক্তদাতা হিসেবে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন মাত্র ১৮ জন। কিন্তু আমাদের আশা ছিল অনেকটাই। বলে রাখি এই রক্তদান শিবির আয়োজন করবার জন্য চমকপ্রদ উপহারের বিজ্ঞাপন ছিল না। ছিল শুধু অঙ্গীকার রক্ত দাতা দের হাতে তুলে দেওয়া হবে চলো পাল্টাই পরিবারের পক্ষ থেকে একটি করে চারাগাছ। গতকাল রক্তদান শিবির শুরু হওয়ার পূর্বে চলো পাল্টাই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক মধুসূদন পড়ুয়ার বক্তব্য এবং পরিবেশপ্রেমী বিজ্ঞান কর্মী নকুল চন্দ্র ঘাঁটির বক্তব্যের পর বহু মানুষ এগিয়ে আসেন সাহস করে। তুমি সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৫৬ জনে। আমরা অভিভূত মানুষ সজাগ হচ্ছেন এটা দেখে। গতকাল অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া রক্তদান শিবির আমাদের বিগত দিনের সমস্ত অভিজ্ঞতাকে ভুলে যেতে বাধ্য করছে। মনে হচ্ছে নতুন করে একটা ইতিহাস লিখলেন বাড়সুন্দরা গ্রামের মানুষ। কারণ ৫৬ জন রক্ত দাতার মধ্যে প্রায় ৯০% রক্তদাতাই জীবনে প্রথমবার রক্ত দিলেন। এবং মোটোর রক্তদাতার ৪০% মহিলা ও ৬০% পুরুষ। যখন রক্তদাতাদের উদ্বুদ্ধ করবার জন্য লাভ কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামান্য উপহার তাদের তরফ থেকে তুলে দিতে চাইলেন তখন রক্তদাতারা তা প্রত্যাখ্যান করলেন। এই বিষয়টি বড় আনন্দের। একজন মা বললেন, আমি স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে এসেছি, রক্ত বিক্রি করতে আসিনি। তাই এই উপহার আমার লাগবে না।
জাগছে মানুষ, ফিরছে সেই মানবিক মন।
সফল হোক সকল রক্তযোদ্ধার এই ভালোবাসার সংগ্রাম।