07/09/2026
উচ্ছেদিত দামছড়ার মানুষেরা দীর্ঘদিনের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের পর পুনর্বাসনের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ।
দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা জমি থেকে উচ্ছেদের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি সুসংহত, সময়বদ্ধ ও কার্যকর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়ে গৌহাটি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
মাননীয় গৌহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি মানিশ চৌধুরী ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মামলাটি শুনানি করেন।
শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ.আর. ভূঁইয়া, তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট এস. লস্কর। এছাড়াও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষে সংশ্লিষ্ট Standing Counsel ও Government Advocate-রা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ আদেশ
মাননীয় আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষদের প্রতি নোটিশ জারি করেছেন এবং মামলাটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পরবর্তী শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।
তবে যেহেতু সকল প্রতিপক্ষের পক্ষে তাঁদের নিজ নিজ আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা নোটিশ গ্রহণ করেছেন, তাই আলাদাভাবে আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করার প্রয়োজনীয়তা আদালত মওকুফ করেছেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষদের নির্দেশ দিয়েছেন, ৫ অক্টোবর ২০২৬-এর নির্ধারিত তারিখের আগেই তাঁদের বক্তব্য/জবাব আদালতে দাখিল করতে হবে।
আবেদনকারীদের আইনজীবীকেও রিট পিটিশন ও সংযুক্ত নথিপত্রের প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কপি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের কাছে দুই কর্মদিবসের মধ্যে সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আদেশের তাৎপর্য কী?
এই পর্যায়ে আদালত চূড়ান্ত পুনর্বাসনের নির্দেশ দেননি। কিন্তু দীর্ঘদিনের বসতি থেকে উচ্ছেদের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সুসংহত ও সময়বদ্ধ পুনর্বাসনের দাবি নিয়ে দায়ের করা মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর কাছ থেকে তাঁদের অবস্থান ও জবাব চাওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো—৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জবাবের ভিত্তিতে আদালতে বিষয়টির পরবর্তী শুনানি।
উচ্ছেদ শুধু একটি ঘর হারানোর ঘটনা নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের বাসস্থান, জীবিকা, সন্তানদের শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা।
তাই পুনর্বাসনের দাবি কেবল একটি প্রশাসনিক দাবি নয়; এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মর্যাদাপূর্ণভাবে পুনরায় দাঁড়িয়ে থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।
ন্যায়ের পথ দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু ন্যায়ের জন্য লড়াই থেমে থাকা উচিত নয়।
আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়টি বিচারাধীন (sub judice)।