05/05/2026
✔️🕉প্রেক্ষাপটঃ রামচন্দ্র ভরতকে রাজকার্য্য- সম্বন্ধে যা বলেছিলেন তা' এই অমিয় বাণী থেকে জানা যায়।
🔰শ্রীশ্রীঠাকুর--রামচন্দ্র ভরতকে রাজকার্য্য-সম্বন্ধে কী বলেছিলেন?
🙏কেষ্টদা--আমার সব ভাল ক'রে মনে নেই। তবে এইভাবের কথা আছে--তুমি গুণী ও যোগ্য ব্যক্তিকে বহু মান প্রদর্শন ক'রে থাক তো? বীর, বিদ্বান,জিতেন্দ্রিয়, সদ্বংশজাত, ইঙ্গিতজ্ঞ লোকদের মন্ত্রীপদে প্রতিষ্ঠিত করেছ তো? তুমি তাঁদের সঙ্গে মন্ত্রণা কর তো? তোমাদের মন্ত্রণা লোকের মধ্যে প্রকাশ হ'য়ে পড়ে না তো? তুমি যথাসময়ে শয্যাত্যাগ কর তো? রাত্রিশেষে অর্থলাভের চিন্তা কর তো? তুমি সহস্র মূর্খ পরিত্যাগ ক'রেও একজন বিদ্বানকে সংগ্রহ করতে চেষ্টা কর তো? অযোগ্য লোককে যোগ্যস্থানে ও যোগ্য লোকদের অযোগ্যস্থানে নিয়োগ কর না তো? যে-সব অমাত্য উৎকোচ গ্রহণ করেন না, যাদের পিতৃপুরুষ যোগ্যতার সঙ্গে অমাত্যের কাজ করেছেন, যারা ভিতরে-বাইরে পবিত্র--সেই সব শ্রেষ্ঠ অমাত্যকে শ্রেষ্ঠকাজে নিযুক্ত করেছ তো? রাজ্যমধ্যে কোন প্রজা অযথা উৎপীড়িত হয় না তো? শত্রুকে পরাস্ত করতে পটু, সাহসী, বিপৎকালে ধৈর্য্যশালী, বুদ্ধিমান, সৎকুলজাত, শুদ্ধাচারী, অনুরক্ত ব্যক্তিকে সেনাপতি করেছ তো? বিশেষ নৈপুণ্য যাদের আছে তাদের তুমি পুরস্কৃত ও সম্মানিত ক'রে থাক তো? প্রত্যেকের প্রাপ্য বেতন সময়মত দিয়ে থাক তো? রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তিবর্গ তোমার প্রতি অনুরক্ত আছেন তো? তোমার কার্য্যসিদ্ধির জন্য তারা মিলিত হ'য়ে প্রাণ পর্য্যন্ত দিতে প্রস্তুত আছেন তো? বিদ্বান, প্রত্যুৎপন্নমতি, বিচক্ষণ এবং তোমার জনপদের অধিবাসীকেই দৌত্যকার্য্যে নিযুক্ত করেছ তো? স্বরাজ্যে ও পররাজ্যে প্রধান-প্রধান পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য সংবাদ চরগণ-দ্বারা অবগত থাক তো? চরগণ পরস্পর-বিরোধী তথ্য পরিবেষণ করলে তার কারণ নির্ণয় ক'রে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা ক'রে থাক তো? প্রজাগণ সুখে আছে তো? তারা দিন-দিন স্ব-স্ব কৰ্ম্ম ক'রে সমৃদ্ধ হ'চ্ছে তো? তোমার আয় বেশি, ব্যয় কম হ'চ্ছে তো? ধনাগার অর্থশূন্য হ'চ্ছে না তো? অপরাধীদের ধনলোভে ছেড়ে দেওয়া হয় না তো? তুমি সাম, দান, ভেদ ও দণ্ডের প্রয়োগ যথাস্থানে ক'রে থাক তো? তুমি ইন্দ্রিয়গণকে জয় করতে সচেষ্ট থাক তো? অগ্নি, জল, ব্যাধি, দুর্ভিক্ষ ও মড়ক এই পাঁচ রকমের দৈববিপদের প্রতিকারের জন্য তুমি যত্নশীল থাক তো? সন্ধিবিগ্রহাদি যথাস্থানে প্রয়োগ কর তো?--আরো অনেক কথা আছে।
উৎসঃ আঃপ্রঃ ৫ম খন্ড,২০শে চৈত্র, রবিবার, ১৩৫০ (ইং ২/৪/১৯৪৪), পৃ:১৪৩-১৪৪, ৫ম সংস্করণ, সেপ্টেম্বর ২০১২