02/10/2025
া_কৈলাশে_ফিরলেন....
মায়ের আগমন থেকে বিদায় এই কটা দিন যে কিভাবে চলে গেলো বুঝতেই পারলাম না। অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে তাই সেটা আজ ব্যক্ত করি।
বন্ধুসম কয়েকজন মিলে প্রাথমিক আলোচনা যে এবার পাড়ায় প্রথম দুর্গাপূজা করতেই হবে। কিন্তু ভয় ছিলো তোরা ছোটোরা কথা শুনবি কিনা? সঠিকভাবে দায়িত্বও পালন করবি কিনা? তবুও ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে ঝুঁকিটা কয়েকজন মিলে নিয়েই নিলাম। শুরু হলো তৎপরতা, মিটিং মিটিং খেলা। কিন্তু মিটিং ডাকলেই সবার অন্য কাজে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এসব দেখে প্রেসার বাড়ে আমারও। ভাব কিছুটা বেগতিক বুঝে বন্ধুসম বড়দের সাহায্য চাইলাম। তারা মহানন্দে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন। সাহস বাড়ল গ্রামের মা, কাকিমা, মামি, বৌদি ও বোনেদের আশ্চর্য উৎসাহ দেখে। আত্মবিশ্বাস বাড়লো। মনে হলো এই যাত্রায় আমাদের কেউ ঠেকাতে পারবে না। শুরু হলো বায়না দেবার প্রক্রিয়া। কিন্তু পূঁজি শূন্য!! কি করা যায়?? টেনশন শুরু পুনরায়। মা বোধহয় সব পরিকল্পনা করেই রেখেছিলেন। হঠাৎ একজন ১০০০০/- টাকা চাঁদা দিলেন। ব্যস আমাদের রেলগাড়ি টুকটুক করে চলতে শুরু করলো। এবার প্রশাসনিক অনুমোদন আদায়ের পালা। ঝুড়ি ভর্তি কাগজ তৈরি ও রাতে থানায় যাওয়া প্রায় একপ্রকার রুটিন হয়ে গেলো। সাগরপাড়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সকলেই যথাযথ সাহায্য করলেন। তবে নতুন পুজো বলে একটু এস.ডি.ও অফিসও বেড়াতে যেতে হলো। সেখানেও পূর্ণ সহযোগিতা পেলাম। তারপর আবার আকাশে কালো মেঘ। তবে মায়ের কৃপায় সব উদ্ধার হলো। আমরা পুজোর সরকারী অনুমতি পেলাম। #লক্ষ্মীনারায়ণপুর_সার্ব্বজনীন_দুর্গাপূজা_কমিটি নামটি সরকারী খাতায় নথিভুক্ত হলো। ততদিনে এদিকের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পঞ্চমী থেকে দশমী কিভাবে কাটলো বুঝতেই পারলাম না। তবে মায়ের বিদায় বেলায় হঠাৎ চোখের কোনে জল চলে আসলো!! বুঝলাম আবার অপেক্ষায় থাকতে হবে। ৩৮০ দিনের অপেক্ষা। এই অনুষ্ঠানে শুরু থেকে শেষ করতে গ্রামের ছোটো থেকে বড়ো সকলের পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সবচেয়ে তোদের(ছোটোদের) বকাঝকা থেকে আদেশ, যখন যা দিয়েছি তোরা সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিস। তাই আজ সবচেয়ে বেশি গর্ব তোদের নিয়ে হচ্ছে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় ও তার পরেও পূজা মন্ডপ ভর্ত্তি মানুষ। গ্রামের সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এটাই তো চেয়েছিলাম। আমি এটা দেখে আপ্লুত। পরিশেষে একটা কথা বলি #আসছে_বছর_আবার_হবে।
সম্পাদক
লক্ষ্মীনারায়ণপুর পল্লীশ্রী ক্লাব।