Gokarna Vivekananda Yuva Pathachakra

Gokarna Vivekananda Yuva Pathachakra Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Gokarna Vivekananda Yuva Pathachakra, Youth Organization, Gokarna.

আমাদের গোকর্ণ পাঠচক্রের পুরোনো দিনের সাথী... বিশ্বজিৎ রাজবংশী।ভালো থেকো না ফেরার দেশে....🙏🏻ঠাকুর, মা ও স্বামীজীর চরণে 🌺🌼
30/11/2024

আমাদের গোকর্ণ পাঠচক্রের পুরোনো দিনের সাথী... বিশ্বজিৎ রাজবংশী।
ভালো থেকো না ফেরার দেশে....🙏🏻
ঠাকুর, মা ও স্বামীজীর চরণে 🌺🌼

17/08/2024
*ঠিক আজকের দিনেই ( ৪ঠা জুলাই, ১৯০২ ) স্বামী বিবেকানন্দ আমাদের কে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন* 🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏 সেই ৪ঠা জুলাই ১৯০২ এর স্বা...
04/07/2024

*ঠিক আজকের দিনেই ( ৪ঠা জুলাই, ১৯০২ ) স্বামী বিবেকানন্দ আমাদের কে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
সেই ৪ঠা জুলাই ১৯০২ এর স্বামীজীর শেষ দিনটা কেমন ছিল জানুন
**************************
*৪ঠা জুলাই ১৯০২ ভোর*
====≠= ============
ভোরবেলা ঘুম ভাঙল বিবেকানন্দের। তাকালেন ক্যালেন্ডারের দিকে। আজই তো সেই দিন। আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস। আর আমার দেহত্যাগের দিন। মা ভুবনেশ্বরী দেবীর মুখটি মনে পড়ল তাঁর। ধ্যান করলেন সেই দয়াময় প্রসন্ন মুখটি। বুকের মধ্যে অনুভব করলেন নিবিড় বেদনা।

তারপর সেই বিচ্ছেদবেদনার সব ছায়া সরে গেল।
ভারী উৎফুল্ল বোধ করলেন বিবেকানন্দ। মনে নতুন আনন্দ, শরীরে নতুন শক্তি। তিনি অনুভব করলেন, তাঁর সব অসুখ সেরে গিয়েছে। শরীর ঝরঝর করছে। শরীরে আর কোনো কষ্ট নেই।

মন্দিরে গেলেন স্বামীজি। ধ্যানমগ্ন উপাসনায় কাটালেন অনেকক্ষন। আজ সকাল থেকেই তাঁর মনের মধ্যে গুণ গুণ করছে গান। অসুস্থতার লক্ষণ নেই বলেই ফিরে এসেছে গান, সুর, আনন্দ। তাঁর মনে আর কোনও অশান্তি নেই। শান্ত , স্নিগ্ধ হয়ে আছে তাঁর অন্তর।

উপাসনার পরে গুরুভাইদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করতে করতে সামান্য ফল আর গরম দুধ খেলেন।

*৪ঠা জুলাই সকাল সাড়ে আটটা*
===============
প্রেমানন্দকে ডাকলেন তিনি। বললেন, আমার পুজোর আসন কর ঠাকুরের পূজাগৃহে। সকাল সাড়ে নটায় স্বামী প্রেমানন্দও সেখানে এলেন পূজা করতে। বিবেকানন্দ একা হতে চান।

প্রেমানন্দকে বললেন‚ আমার ধ্যানের আসনটা ঠাকুরের শয়নঘরে পেতে দে।
এখন আমি সেখানে বসেই ধ্যান করব।

অন্যদিন বিবেকানন্দ পুজোর ঘরে বসেই ধ্যান করেন।
আজ ঠাকুরের শয়নঘরে প্রেমানন্দ পেতে দিলেন তাঁর ধ্যানের আসন। চারদিকের দরজা জানালা সব বন্ধ করে দিতে বললেন স্বামীজি।

*৪ঠা জুলাই বেলা এগারোটা*
=============
ধ্যান ভাঙলে ঠাকুরের বিছানা ছেড়ে গান গাইতে গাইতে বেরিয়ে এলেন তিনি --

"মা কি আমার কালো,
কালোরূপা এলোকেশী
হৃদিপদ্ম করে আলো।"

তরুন সন্ন্যাসীর রূপের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে গুরুভাইরা।

বেলা সাড়ে এগারোটার মধ্যেই দুপুরের খাওয়া সারতে বললেন বিবেকানন্দ। আজ নিজে একলা খাচ্ছেন না। খেতে বসলেন সবার সঙ্গে।

*সকালবেলা বেলুড়ঘাটে জেলেদের নৌকো ভিড়েছিল। নৌকোভর্তি গঙ্গার ইলিশ। স্বামীজির কানে খবর আসতেই তিনি মহোত্‍সাহে ইলিশ কিনিয়েছেন। তাঁরই আদেশে রান্না হয়েছে ইলিশের অনেকরকম পদ।*

গুরুভাইদের সঙ্গে মহানন্দে ইলিশ ভক্ষনে বসলেন বিবেকানন্দ।

*তিনি জানেন, আর মাত্র কয়েকঘন্টার পথ তাঁকে পেরোতে হবে। ডাক্তারের উপদেশ মেনে চলার আর প্রয়োজন নেই। জীবনের শেষ দিনটা তো আনন্দেই কাটানো উচিত।*

'একাদশী করে খিদেটা খুব বেড়েছে। ঘটিবাটিগুলোও খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে।' বললেন স্বামীজি । *পেট ভরে খেলেন ইলিশের ঝোল, ইলিশের অম্বল, ইলিশ ভাজা।*

দুপুরে মিনিট পনেরো বিছানায় গড়িয়ে নিয়ে প্রেমানন্দকে বললেন, সন্ন্যাসীর দিবানিদ্রা পাপ। চল, একটু লেখাপড়া করা যাক। বিবেকানন্দ শুদ্ধানন্দকে বললেন‚ লাইব্রেরি থেকে শুক্ল যজুর্বেদটি নিয়ে আয়।
তারপর হঠাৎ বললেন‚ এই বেদের মহীধরকৃতভাষ্য আমার মনে লাগে না।

আমাদের দেহের অভ্যন্তরে মেরুদণ্ডের মধ্যস্থ শিরাগুচ্ছে‚ ইড়া ও পিঙ্গলার মধ্যবর্তী যে সুষুন্মা নাড়িটি রয়েছে‚ তার বর্ণনা ও ব্যাখ্যা আছে তন্ত্রশাস্ত্রে। আর এই ব্যাখ্যা ও বর্ণনার প্রাথমিক বীজটি নিহিত আছে বৈদিক মন্ত্রের গভীর সংকেতে। মহীধর সেটি ধরতে পারেননি।
বিবেকানন্দ এইটুকু বলেই থামলেন।

*৪ঠা জুলাই দুপুর একটা থেকে চারটে*
==================
এই তিনঘন্টা স্বামীজী লাইব্রেরী ঘরে ব্যাকরণ চর্চা করলেন ব্রহ্মচারীদের সঙ্গে।
তিনি পাণিনির ব্যাকরণের সূত্রগুলি নানারকম মজার গল্পের সঙ্গে জুড়ে দিতে লাগলেন।

ব্যাকরণশাস্ত্রের ক্লাস হাসি হুল্লোড়ে পরিণত হল।
ব্যাকরনের ক্লাস শেষ হতেই এক কাপ গরম দুধ খেয়ে প্রেমানন্দকে সঙ্গে নিয়ে বেলুড় বাজার পর্যন্ত প্রায় দু মাইল পথ হাঁটলেন।

এতটা হাঁটা তাঁর শরীর ইদানিং নিতে পারছে না। কিন্তু ১৯০২ এর ৪ ঠা জুলাইয়ের গল্প অন্যরকম। কোনও কষ্টই আজ আর অনুভব করলেন না।

বুকে এতটুকু হাঁফ ধরল না। আজ তিনি অক্লেশে হাঁটলেন।

*৪ঠা জুলাই বিকেল পাঁচটা*
==============
মঠে ফিরলেন বিবেকানন্দ। সেখানে আমগাছের তলায় একটা বেঞ্চি পাতা। গঙ্গার ধারে মনোরম আড্ডার জায়গা। স্বামীজির শরীর ভাল থাকে না বলে এখানে বসেন না। আজ শরীর-মন একেবারে সুস্থ। তামাক খেতে খেতে আড্ডায় বসলেন বিবেকানন্দ।

*৪ঠা জুলাই সন্ধে ছটা*
=================
আড্ডা দিতে দিতে সন্ধ্যে সাড়ে ছ'টা হলো । সন্ন্যাসীরা কজন মিলে চা খাচ্ছেন। স্বামীজি এক কাপ চা চাইলেন।

*৪ঠা জুলাই সন্ধ্যে ঠিক সাতটা।*
===============
শুরু হলো সন্ধ্যারতি। স্বামীজি জানেন আর দেরি করা চলবে না। শরীরটাকে জীর্ন বস্ত্রের মতো ত্যাগ করার পরমলগ্ন এগিয়ে আসছে।

তিনি বাঙাল ব্রজেন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলেন। ব্রজেন্দ্রকে বললেন, 'আমাকে দুছড়া মালা দিয়ে তুই বাইরে বসে জপ কর। আমি না ডাকলে আসবি না।'

স্বামীজি হয়তো বুঝতে পারছেন যে এটাই তাঁর শেষ ধ্যান।

*৪ঠা জুলাই ঠিক সন্ধ্যে সাতটা পঁয়তাল্লিশ।*
=================
স্বামীজি যা চেয়েছিলেন তা ঘটিয়ে দিয়েছেন। ব্রজেন্দ্রকে ডাকলেন তিনি। বললেন , জানলা খুলে দে। গরম লাগছে।
মেঝেতে বিছানা পাতা। সেখানে শুয়ে পড়লেন স্বামীজি। হাতে তাঁর জপের মালা।

ব্রজেন্দ্র বাতাস করছেন স্বামীজিকে। স্বামীজি ঘামছেন। বললেন , আর বাতাস করিসনে। একটু পা টিপে দে।

*৪ঠা জুলাই রাত ন'টা দশ মিনিট*
================
স্বামীজি বাঁপাশে ফিরলেন। তাঁর ডান হাতটা থরথর করে কেঁপে উঠল। কুন্ডলিনীর শেষ ছোবল। বুঝতে পারলেন বিবেকানন্দ। শিশুর মতো কাঁদতে লাগলেন তিনি। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। গভীর সেই শ্বাস। মাথাটা নড়ে উঠেই বালিশ থেকে পড়ে গেল। ঠোঁট আর নাকের কোনে রক্তের ফোঁটা। দিব্যজ্যোতিতে উজ্জ্বল তাঁর মুখ। ঠোঁটে হাসি,
*চলে গেলেন ঠিক রাত নটা দশ মিনিট এ*

ঠাকুর তাঁকে বলেছিলেন , 'তুই যেদিন নিজেকে চিনতে পারবি সেদিন তোর এই দেহ আর থাকবে না।'

*স্বামীজি বলেছিলেন , 'তাঁর চল্লিশ পেরোবে না।' বয়েস ঠিক উনচল্লিশ বছর পাঁচ মাস, চব্বিশ দিন।**

*পরের দিন ৫ই জুলাই ভোরবেলা।*
================
একটি সুন্দর গালিচার ওপর শায়িত দিব্যভাবদীপ্ত‚ বিভূতি-বিভূষিত‚ বিবেকানন্দ।
তাঁর মাথায় ফুলের মুকুট।
তাঁর পরনে নবরঞ্জিত গৈরিক বসন।

তাঁর প্রসারিত ডান হাতের আঙুলে জড়িয়ে আছে রুদ্রাক্ষের জপমালাটি।
তাঁর চোখদুটি যেন ধ্যানমগ্ন শিবের চোখ‚ অর্ধনিমীলিত‚
অন্তর্মুখী‚ অক্ষি-তারা।
নিবেদিতা ভোরবেলাতেই চলে এসেছেন।

স্বামীজির পাশে বসে হাতপাখা দিয়ে অনবরত বাতাস করছেন।
তাঁর দুটি গাল বেয়ে নামছে নীরব অজস্র অশ্রুধারা।
স্বামীজির মাথা পশ্চিমদিকে।
পা-দুখানি পুবে‚ গঙ্গার দিকে।

শায়িত বিবেকানন্দের পাশেই নিবেদিতাকে দেখে বোঝা যাচ্ছে সেই গুরুগতপ্রাণা‚
ত্যাগতিতিক্ষানুরাগিণী বিদেশিনী তপস্বিনীর হৃদয় যেন গলে পড়ছে সহস্রধারে।আজকের ভোরবেলাটি তাঁর কাছে বহন করে এনেছে বিশুদ্ধ বেদনা।
অসীম ব্যথার পবিত্র পাবকে জ্বলছেন‚ পুড়ছেন তিনি।
এই বেদনার সমুদ্রে তিনি একা।

নির্জনবাসিনী নিবেদিতা।
বিবেকানন্দের দেহ স্থাপন করা হল চন্দন কাঠের চিতায়।

*আর তখুনি সেখানে এসে পৌঁছলেন জননী ভুবনেশ্বরী।*

চিৎকার করে কাঁদতে- কাঁদতে লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে।*

কী হল আমার নরেনের ?
হঠাৎ চলে গেল কেন ?
ফিরে আয় নরেন‚ ফিরে আয়।
আমাকে ছেড়ে যাসনি বাবা।
আমি কী নিয়ে থাকব নরেন ?
ফিরে আয়। ফিরে আয়।

সন্ন্যাসীরা তাঁকে কী যেন বোঝালেন।

তারপর তাঁকে তুলে দিলেন নৌকায়। জ্বলে উঠল বিবেকানন্দের চিতা।
মাঝগঙ্গা থেকে তখনো ভেসে আসছে ভুবনেশ্বরীর বুকফাটা কান্না। ফিরে আয় নরেন ফিরে আয়। ভুবনেশ্বরীর নৌকো ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।

তাঁর কান্না‚ ফিরে আয় নরেন‚ ফিরে আয়‚ ভেসে থাকল গঙ্গার বুকে।
নিবেদিতা মনে মনে ভাবলেন‚ প্রভুর ওই জ্বলন্ত বস্ত্রখণ্ডের এক টুকরো যদি পেতাম!

*৫ই জুলাই সন্ধে ছটা।*
================
দাহকার্য সম্পন্ন হল। আর নিবেদিতা অনুভব করলেন‚ কে যেন তাঁর জামার হাতায় টান দিল। তিনি চোখ নামিয়ে দেখলেন‚ অগ্নি ও অঙ্গার থেকে অনেক দূরে‚ ঠিক যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি‚ সেখানেই উড়ে এসে পড়ল ততটুকু জ্বলন্ত বস্ত্রখণ্ড যতটুকু তিনি প্রার্থনা করেছিলেন।

নিবেদিতার মনে হল‚ মহাসমাধির ওপার থেকে উড়ে আসা এই বহ্নিমান পবিত্র বস্ত্রখণ্ড তাঁর প্রভুর‚ তাঁর প্রাণসখার শেষ চিঠি।
🙏🏼🙏🏼🙏🏼🙏🏼

12/01/2024
 #স্বামীজীর_১৬২তম_জন্মজয়ন্তীকোটি-সূর্যের আলোর ন্যায় ভাস্বর যে মুক্তপুরুষ সমগ্র জগতের মধ্যে হিন্দুধর্ম তথা মানবধর্মের মহ...
12/01/2024

#স্বামীজীর_১৬২তম_জন্মজয়ন্তী

কোটি-সূর্যের আলোর ন্যায় ভাস্বর যে মুক্তপুরুষ সমগ্র জগতের মধ্যে হিন্দুধর্ম তথা মানবধর্মের মহিমা প্রচার করেছিলেন, তিনিই স্বামী বিবেকানন্দ। একমাত্র স্বামী বিবেকানন্দই সহজ ও সুন্দর উপায়ে বেদান্তের ফলিত রূপের প্রচার ও প্রসার ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় যে, তৎকালীন সন্ন্যাসীদের মধ্যে তিনি কতটা যুগোপযুগী ছিলেন।

আজকের এই দিনে ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জানুয়ারী কলিকাতার শিমুলিয়া অঞ্চলে এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন স্বামী বিবেকানন্দ। দত্ত কুলোদ্ভব বিবেকানন্দের পিতার নাম বিশ্বনাথ দত্ত এবং মাতার নাম ভুবনেশ্বরী দেবী। ছেলেবেলায় তার নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। বাল্য কালেই স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে আধ্যাত্মিকতার স্ফুরণ ঘটে। ছেলেবেলায় তিনি শিব, রাম, সীতা ও হনুমানের মূর্তির সামনে ধ্যানে বসতেন। তিনি ধর্মশাস্ত্র, সঙ্গীত, সাহিত্য ও শিল্পকলায় বিশেষ পাণ্ডিত্ব অর্জন করেছিলেন। স্বামী বিবেকান্দ ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

প্রথম জীবনে স্বামী বিবেকানন্দ চরম যুক্তিবাদী। থাকলেও শ্রীরামকৃষ্ণের সহচার্যে এসে তাঁর মধ্যে আধ্যাত্মিকতার নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে বিবেকানন্দ প্রতিবেশী সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের বাড়িতে প্রথম শ্রীরামকৃষ্ণদেবের সাক্ষাৎ পান এবং তখন তিনি তাঁকে গেয়ে শোনান সেই বিখ্যাত গান-মন চল নিজ নিকেতনে। ঈশ্বরের দর্শন লাভ সম্ভব কিনা-এই প্রশ্নের উত্তর খুজে বেড়াতেন যুক্তিবাদী নরেন্দ্রনাথ। কিন্তু ঋষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ অনেকের নিকট ঐ প্রশ্নের সদোত্তর না পেয়ে তিনি চলে যান শ্রীরামকৃষ্ণদেবের নিকট। তাঁকেও করলেন ঐ সহজ প্রশ্ন-আপনি কি ঈশ্বর দেখেছেন? শ্রীরামকৃষ্ণও সহজ ভাষায় উত্তর দিলেন- ‘‘হ্যা, আমি তোমাকে যেমন আমার সামনে দেখছি তাঁকেও ঠিক সে রকম দেখি’’। উত্তন শুনে বিবেকানন্দের এত বৎসরের সঞ্চিত জ্ঞান-ক্ষুধা নিবৃত্ত হয়।

কিছুকাল পরে স্বামী বিবেকানন্দ একবার দক্ষিণেশ্বরে গেলে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে পাশে বসিয়ে দক্ষিণ চরণ তাঁর দেহে স্পর্শ করেন। তখন তাঁর মধ্যে যেন বিদ্যুৎ তরঙ্গ প্রবাহিত হতে থাকে। নরেন্দ্রনাথ উপলব্ধি করলেন যেন বিশ্বব্রহ্মান্ডের সব কিছু তাঁর মধ্যে লয়প্রাপ্ত হচ্ছে যেমনটি অর্জুনের হয়েছিল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের প্রাক্কালে শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক বিশ্বরূপ দর্শনের পর।

পিতার মৃত্যুর পর নরেন্দ্রনাথের সাংসারিক দুঃখ বৃদ্ধি পায় এবং সেই সাথে তাঁর আধ্যাত্মিকতাও বৃদ্ধি পায়। সংসারের কোন কিছুই তাঁকে সাধনার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। সংসারের নানা অভাব-অনটনের মধ্যেও চলতে থাকে তাঁর আধ্যাত্ম-সাধনা। গুরুর কৃপায় কাশীপুরে স্বামী বিবেকানন্দ নির্বিকল্প সমাধী লাভ করেন। তারপর তিনি শ্রীরামকৃষ্ণদেবের নিকট গৈরিক বস্ত্র ও সন্ন্যাস লাভ করেন।

শ্রীরামকৃষ্ণদেবের দেহত্যাগের পর তিনিই ভক্তদের মধ্যমণি হয়ে উঠেন। ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে ভক্তরা চাঁদা তুলে অর্থ সংগ্রহ করে স্বামী বিবেকানন্দকে অ্যামেরিকায় পাঠান শিকাগো বিশ্বধর্ম-মহাসম্মেলনে অংশ নিতে। তিনি ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউট হলে অনুষ্ঠিত বিশ্বধর্ম-মহাসম্মেলনে হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করেন। স্বামী বিবেকানন্দ বক্তৃতার শুরুতেই ‘‘আমার প্রিয় অ্যামেরিকার ভ্রাতা ও ভগিনীগণ’’ বলে সম্বোধন করলে উপস্থিত জনতার করতালী ও হর্ষধ্বনীতে মুখরিত হয়ে উঠে সভাস্থল।

বৃটিশ শাসনামলে হিন্দুধর্ম সম্পর্কে বিশ্ববাসীর অস্পষ্ট ও নেতিবাচক ধারণা ছিল। তাছাড়া ঐ ধর্ম-মহাসম্মেলনের উদ্দেশ্যই ছিল বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক আলোচনা করে খ্রীস্টধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা। স্বামীজীর বক্তৃতার পর তা আর সম্ভব হয়নি বরং হিন্দুধর্মেরই জয়ধ্বনি হয়েছে। তিনি উক্ত ধর্ম-মহাসম্মেলনে বক্তৃতা ছাড়াও অ্যামেরিকার ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা দিয়ে বিশ্ববাসীর নিকট হিন্দুধর্মের মহিমা প্রচার করেছিলেন।

তিনি বেদান্ত চর্চা ও প্রচারের জন্য ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কে বেদান্ত সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। মিসেস ওলিবুল, জোসেফিন ম্যাকলিয়োড, ম্যাডাম মেরী লুই, মিস ডেট্রয়েটেড ক্রিস্টিনা। ড. লিয়োন ল্যান্ডস্-বার্গ, উইলিয়াম জেমস, জোসাই রয়েস, রবার্ট ডি ইঙ্গারসোল, নিকোলা টেসলা, লর্ড কেলভিন, হ্যারিয়েট মনরো, এলা হুইলার উইলকক্স, মি. ওয়াল্ডো গুডউইল, মি. লিগেট, মেরী ফিলিপ, মিসেস আর্থার, মিসেস গুডইয়ার, সারাহ বার্নহার্ডট, এমা কেলডি, হারম্যান লুডউইক, মি. স্ট্যাডি, সোভিয়ার দম্পত্তি প্রমুখ অ্যামেরিকা ও ইংল্যান্ডের ব্যক্তিবর্গ স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি অনুরক্ত হয়ে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

বিদেশী শিষ্যদের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের মিস মার্গারেট নোবেল (ভগিনী নিবেদিতা) স্বামী বিবেকানন্দের খুব প্রিয়ভাজন ছিলেন যিনি ভারতবর্ষে এসে আধ্যত্ম-সাধনা ও জীবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। স্বামীজী শুধু বেদান্ত প্রচারই নয়, বেদান্ত-দর্শনের ব্যবহারিক প্রয়োগ করতেও সক্ষম হয়েছিলেন। তবে তিনি বেদান্তবাদী হলেও মা কালীর প্রতি তাঁর অচলা ভক্তি অটুট ছিল। তিনি ভক্তদের বোঝাতেন, শুধু আচার-অনুষ্ঠানের দ্বারাই নয় জীবসেবার দ্বারাও ঈশ্বরকে লাভ করা যায়। সর্বজীবেই ঈশ্বর বিরাজ করেন বলে জীবকে সেবা করলে ঈশ্বরকেই সেবা করা হয়। তাইতো তিনি সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে দিয়েছেন সে অমর বাণী-‘‘বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুজিছ ঈশ্বর, জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুবাস চন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ ঘোষ, বাল গঙ্গাধর তিলক, স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, রোম্যারোলা প্রমুখ মনীশীগণ স্বামী বিবেকানন্দ কর্তৃক প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন। তিনি জীবসেবা ও ধর্মচর্চার নিমিত্তে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের পহেলা মে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা করেন যা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় স্থাপিত বেলুড় মঠ কর্তৃক পরিচালিত হয়। স্বামীজী সংক্ষিপ্ত জীবনের বৃহৎ কর্মযজ্ঞ শেষে ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা জুলাই মাত্র ৩৯ বচ্ছর বয়সে মহাসমাধীযোগে ইহলীলা সংবরণ করেন

সংগৃহীত


#স্বামীজী

Address

Gokarna
742136

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Gokarna Vivekananda Yuva Pathachakra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Gokarna Vivekananda Yuva Pathachakra:

Share