15/08/2025
ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের জাতির উদ্দেশ্যে ঘোষণা-
"আমার রক্তের রক্ত বাঙালি জাতির ভাইয়েরা ও বোনেরা,
ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে ভারতে বাঙালি জাতির একমাত্র কণ্ঠস্বর বাংলা পক্ষর রক্তজবা শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। বাঙালির রক্তে রাঙা স্বাধীনতা সংগ্রামের ফল ১৫ই আগষ্ট। এই দিনের বাবা আমরা, মা আমরা। এই ভারতবর্ষ আমাদের পূর্বপ্রজন্মের বাঙালি শহীদদের, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের, বাঙালি রাষ্ট্রনেতাদের, বাঙালি সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক ও দার্শনিকদের সন্তান। আজ বাঙালি জাতির মানস-সন্তান ভারতবর্ষের জন্মদিন। আজ আনন্দের দিন।
শুধু আনন্দ নয়, আজ ভারতে বাঙালির অতীত বুঝে, বর্তমান দেখে ভবিষ্যত বুঝে নেওয়ার দিন। তাই ভারতের সব বাঙালি ভারতের প্রথম ও সর্বোৎকৃষ্ট ভারতীয় হিসেবে আমরা কয়েকটা কথা সোচ্চারে বলব। কারণ আজ আমাদের বলার দিন। আজ স্বাধীনতা দিবস। তাই কয়েকটা কথা বুঝে নাও।
১। ভারত রাষ্ট্র বাঙালির দ্বারা কল্পিত। ভারতমাতা হল বঙ্গমাতার সংস্করণ - বাকিদের অনুপ্রাণিত করতে কারণ এই বিশাল কল্পনা বাঙালি মেধার দ্বারাই সম্ভব। বন্দেমাতরম হল বঙ্গমাতার গান (১৮৮২-তে রচিত বন্দেমাতরমে বলা আছে দেশমাতার ৭ কোটি সন্তান, ১৮৮১তে অবিভক্ত বাংলার জনসংখ্যা ৭ কোটি) যা বাকিদের অনুপ্রাণিত করার জন্য কারণ অনুপ্রেরণার এমন মন্ত্রবীজ বাঙালি ছাড়া কারুর পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। ৯০% স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ বাঙালি। এই ভারত বাঙালির সৃষ্টি, এই সংবিধান, এই স্বাধীনতা বাকিদের বাঙালির দান।
২। ব্রিটিশ এসে বাঙালির উপর, হিন্দুস্তানির উপর, তামিলের উপর চড়ে বসেছিল। স্বাধীনতা মানে ব্রিটিশ তাড়ানো, ব্রিটিশ তাড়িয়ে বাঙালির উপর গুজরাট রাজস্থান ইউপি বিহারের চড়ে বসা নয়। বাংলা ও বাঙালির উপর মারোয়াড়ি বা গুজরাটি বা ইউপি বিহারের দাপট ও শাসন নয়। এই জন্য সুভাষচন্দ্র বসু, বাঘাযতীন, সূর্য সেন, মাতঙ্গিনী হাজরা লড়েননি।
৩। ১৫ই আগষ্ট ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা মানে ব্রিটিশরা বাংলা ও বাঙালির থেকে যেসব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, বাংলায় বাঙালির সেইসব অধিকার ফেরত পাওয়া। এক কথা প্রযোজ্য পাঞ্জাব ও পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে, তামিল নাড়ু ও তামিলদের ক্ষেত্রে ইত্যাদি এবং এই সকল জাতি একসাথে এই স্বাধীনতা পেয়ে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে ভারত-রূপে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। স্বাধীনতার মানে বাংলার মাটিতে লন্ডন থেকে ইংরেজ শাসন সরিয়ে দিল্লী থেকে হিন্দি শাসন নয়।
৪। যেহেতু ভারত স্বাধীন করেছে বাঙালি, তাই স্বাধীনতার মানে বাঙালির থেকে বেশি কেউ বোঝেনা। যেহেতু বাঙালির রক্তে ভারত স্বাধীন, ভারতপ্রেম বাঙালির বেশি কারোর নেই। কিন্তু ভারতপ্রেম মানে হিন্দিপ্রেম নয়। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা স্বাধীনতা বেহাত হয়েছে। বাঙালি জাতি ১৫ই আগষ্ট ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায়।
৫। সকল হিন্দিভাষী রাজ্য স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে। রাজস্থানের ভূমিপুত্ররা ভারতের স্বাধীনতা উপভোগ করছে। রাজস্থানের পুঁজি রাজস্থানিদের দখলে, ওদের রাজ্যভাষা ভারতের দাপ্তরিক ভাষা, সব অধিকার ও পরিষেবা ওদের ভাষায় পাওয়া যায়, সব কেন্দ্রীয় চাকরি পরীক্ষা ওদের রাজ্যভাষায় হয়, রাজস্থানের চাকরি, বাজার, দোকান, জমি, টেন্ডার সব রাজস্থানের দখলে। রাজস্থানের রাজ্যভাষায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক, সব কেন্দ্রীয় সরকারি দস্তাবেজ, ওয়েবসাইট, অ্যাপ, পরিষেবা পাওয়া যায়। সেনাবাহিনী, বিএসএফ, সিআরপি, সবকিছুতে ওদের ভাষা চলে। আচ্ছা, রাজস্থানী বা মারোয়াড়ি কোন স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদের নাম বলতে পারবেন? রাজস্থানে যত বালির কণা আছে, বাঙালির তার চেয়ে বেশি শহীদ আছে। এই ব্রিটিশ শাসনে ১৭৭০-এ বাংলার ১/৩ জনসংখ্যা ও ১৯৪৩-এ ৬০ লাখ বাঙালিকে খুন করা হয়েছিল। অতয়েব ভারতীয় সংবিধানের অধীন রাজস্থানিরা রাজস্থানে তথা ভারতে স্বাধীনতার ফলে যে যে অধিকার ভোগ করছে, বাঙালির বাংলায় ও ভারতে স্বাধীনতার সেই সব সুফল ভোগ করতে চায়। বাংলা পক্ষ ১৫ই আগষ্ট ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একমাত্র সংগঠন।
আমরা ভারতের সকল জাতির সমান অধিকারের পূর্বশর্তে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যে বিশ্বাসী।
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, সংগ্রামে থাকুন।
বন্দেমাতরম
জয় বাংলা"