Kamalpur Satsang Kendra

Kamalpur Satsang Kendra Are You A Devotee Of Sree Sree Thakur Anukulchandra. Then Like Our Page.

তিনি 'ত্রিনেত্র' অর্থাৎ তাঁর তিনটি চোখ। দুটি চোখ যথাস্থানে অর একটি চোখ দুই ভ্রুর মাঝখানে। কিন্তু সত্যিই তো কপালের উপরে ক...
08/03/2024

তিনি 'ত্রিনেত্র' অর্থাৎ তাঁর তিনটি চোখ। দুটি চোখ যথাস্থানে অর একটি চোখ দুই ভ্রুর মাঝখানে। কিন্তু সত্যিই তো কপালের উপরে কারো চোখ থাকে না। এটা হ'ল আজ্ঞাচক্র বা প্রজ্ঞানেত্র, সন্তসাধকেরা যাকে বলেন দ্বিদল বা তেসরা তিল। এখানে ইষ্টমূর্তি ধ্যান করতে হয়। নিরন্তর সুকেন্দ্রিক ধ্যান ও তৎপরিপোষণী চলনের ফলে আজ্ঞাচক্রে ইষ্টের ভাব স্থায়ী আসন লাভ করে। জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন হয়। যার এমনতর হয়, ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান তার নখদর্পণে থাকে, বিষয় ও ব্যাপারের কার্য্যকারণ তার অধিগত, চৈতন্য তার উৎস-অভিস্রোতা হয়ে ওঠে। ভুল পদক্ষেপ তার হয় না। প্রবৃত্তি তাকে অভিভূত করতে পারে না। অসৎকে বিনায়িত ক'রে জীবজগতের মঙ্গল-সাধনও তার সহজসাধ্য হয়ে ওঠে। যিনি নিরন্তর ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠায় তৎপর, অতন্দ্রচিত্তে ইষ্ট ধ্যান ও কর্মে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলেন, তাঁরই উন্মীলিত হয় এই তৃতীয় নয়ন।

কথিত আছে, শিবের তৃতীয় নয়ন থেকে ক্রোধবহ্নি নির্গত হয়ে মদনকে (কামদেবকে) ভস্মীভূত করেছিল। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে শিবের কপালে কোন চোখ নেই, আর সেই চোখ থেকে আগুনও ঠিকরে বেরোয় নি। আসল ব্যাপার হ'ল, মদন মানে কামজ মোহের আকর্ষণ। পবাতী অপরূপ সাজে সেজে এসে নিজ রূপজ মোহের দ্বারা মহাযোগী মহাদেবের মন ভুলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যিনি বৃত্তি-অধীশ, আজ্ঞাচক্রে যার চিত্ত দৃঢনিবদ্ধ, তাঁকে কি কামনা দ্বারা অভিভূত করা যায়? মহাদেবের বোধি ও প্রজ্ঞা চিরজাগ্রত। তিনি দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন, পার্ব্বতী কামনার ডালি সাজিয়ে এসেছেন তাঁকে বরণ করতে। তাই, তিনি পার্ব্বতীর ঐ ভাবকে প্রশ্রয় দিলেন না। এর ভিতর দিয়ে আর এক মহাসত্য উদ্‌ঘাটিত হ'ল। বিবাহের প্রধান ঘটক হবে শ্রদ্ধা। শ্রেষ্ঠকে বরণ করতে হয় শ্রদ্ধার ভূমিতে। তার পরিবর্তে যদি সেই বরণের ভূমি হয় আত্মসুখ-উপভোগ, তার ফলে দাম্পত্য প্রেম কলুষিত হ'য়ে যায়। সেখানে সুসন্তানের আগমন সম্ভব হয় না। এই কারণেই মহাদেব গাব্বতীকে প্রত্যাখ্যান করলেন। এই হ'ল তৃতীয় নয়ন থেকে অগ্নি বিনির্গত হ'য়ে মদনকে ভস্মীভূত করা। পরে পার্ব্বতী কিভাবে মহাদেবের মনের মত ক'রে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন এবং মহাদেবকে পতিরূপে লাভ করেছিলেন সে-কাহিনী সবারই জানা।

এ থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, তৃতীয় নয়ন যার সদাজাগ্রত,মন যার আজ্ঞাচক্রে সদানিবন্ধ, প্রবৃত্তির কোন মোহ তাকে কখনও আচ্ছন্ন করতে পারে না। সে প্রবৃত্তিকে প্রবৃত্তি বলে চিনতে পারে। তাই তাকে কখনও দুঃখের কবলে পড়তে হয় না। সে নিজেও আনন্দে থাকে এবং অপরকেও আনন্দ বিলাতে পারে।

22/10/2023

মায়ের দশ হাতে ত্রিশূল, পাশ, পরশু, ধনুর্ব্বাণ প্রভৃতি দশ রকম অস্ত্র। তাই তিনি 'দশপ্রহরণধারিণী'। এ অস্ত্রগুলি কী? এগুলি সবই মাতৃ- ঐশ্বর্য্যের বিভিন্ন শক্তি, যা' দিয়ে মা অসৎ বা অসুরশক্তিকে পরাভূত ও প্রতিহত করেন ; ক'রে স্বীয় সন্তানগণকে রক্ষা করেন। তাঁর এই রূপ সম্বন্ধে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন—

“দুর্গতিনাশিনী হ'য়ে

দশপ্রহরণ ধারণ ক'রে সন্তান-সংরক্ষণায় নিয়োজিতা।”

ক্ষেপণার্থক অস্-ধাতু থেকে অস্ত্র-শব্দটি উৎপন্ন। সেইজন্য অস্ত্র মায়ের অঙ্গভূষণ মাত্র নয়। এগুলি তিনি অসুর-দলনার্থে ক্ষেপণ অর্থাৎ প্রয়োগ করেন। তার মানে, অসুর-প্রকৃতিসম্পন্ন লোকদের প্রতি শক্তিপ্রয়োগ ক'রে মা তাদের অন্তরের অকল্যাণকারী ঝোঁককে রুদ্ধ তথা বিনায়িত করেন। তাই তিনি ‘অসুরদলনী'।

এক একরকম অসুরের বিরুদ্ধে এক এক জাতীয় অস্ত্রের প্রয়োগ হয়। চণ্ড, মুক্ত, শুম্ভ নিশুম্ভ, মহিষাসুর প্রভৃতি অসুরের দলকে দমন করেছেন মা-দুর্গা। এই অসুর কে বা কারা? গীতার ষোড়শ অধ্যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অসুর-প্রকৃতিদের চরিত্র অতি সুন্দরভাবে বিবৃত করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, অসুর-প্রকৃতিদের থাকে দত্ত, দর্প, অভিমান, ক্রোধ, নিষ্ঠুরতা এবং অজ্ঞানতা। তাদের শুচিতা, আচার এবং সত্যনিষ্ঠা নেই। তারা বর্তমানের সুখ-ভোগ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তারা অর্থসঞ্চয় করে কেবল কামনার উপভোগের জন্য। অসুররা নিজদিগকে সকলের প্রভু ও কমবেশী সিদ্ধপুরুষ বলে মনে করে। তারা নিজেদের সব সময় বলবান ও সুখী ভাবে। তারা মনে করে, তাদের সমান আর কেউ নেই। তারা বিভ্রান্তচিত্ত, মোহাচ্ছন্ন এবং ঐশীপুরুষে বিদ্বেষপরায়ণ।

এমনতর অসুরস্বভাবসম্পন্ন মানুষদিগকে মা নিয়ন্ত্রিত করেন, তাদের সত্তাবিরোধী চলনগতিকে নিরুদ্ধ করেন। তাই তিনি 'অসত্দলনী', 'অসুর- নাশিনী'। যেসব মানুষ তাঁর শরণাগত হয়, তাঁকে ভক্তি করে, তাকে ভালবেসে সবাইকে ভালবাসতে পারে, তাদের জীবন শুভে নিয়ন্ত্রিত হয়, অকল্যাণ তাদের স্পর্শ করতে পারে না। আর যারা অহঙ্কার-বশে তাঁকে অবজ্ঞা করে, আত্মস্বার্থ-পরিপূরণে মগ্ন থেকে পরিবেশ সম্বন্ধে কোন চিন্তা করে না, সর্বদা নিজ সুখভোগ নিয়েই ব্যস্ত, তারা বৃত্তির পাশে শৃঙ্খলিত হ'য়ে পড়ে। অবশেষে মহাকালের অমোঘ বিধানে তারা বিধ্বস্ত ও নিহত হয়।

শ্রীশ্রীঠাকুর মা-দুর্গাকে কখনও মাটির প্রতিমা হিসাবে দেখেননি। তিনি বলেন, প্রতিমায় যাঁকে পূজা করা হয়, তিনি প্রতিঘরের দেহ...
20/10/2023

শ্রীশ্রীঠাকুর মা-দুর্গাকে কখনও মাটির প্রতিমা হিসাবে দেখেননি। তিনি বলেন, প্রতিমায় যাঁকে পূজা করা হয়, তিনি প্রতিঘরের দেহধারী মা। তার মানে, নিজের মায়ের উপর ভক্তি ভালবাসা যার যত জীবন্ত, তার কাছে দুর্গাপূজার সার্থকতা তত বেশী। নিজের মাকে খুশী ও তৃপ্ত না ক'রে হাজার ঢাক-ঢোল বাজিয়ে দুর্গাপূজা করলেও কোন ফল হয়। না। দয়াল ঠাকুর শ্রীঅনুকূলচন্দ্র তাই বলেছেন—

“ভগবতীপূজা করি, তার মানে—

নিজের মাকেই উপাসনা করি।” তিনি শুধু পূজার বেদীতে দশভুজা প্রতিমা নন, ঘরে ঘরে জীবন্ত দ্বিভুজা জননী। প্রতিটি ঘরের মা জগতের মায়েরই একটি রূপ।

মা-দুর্গা 'দশভূজা', মানে তাঁর দশ হাত। অথচ ঘরের মা যিনি তাঁর তো দুই হাত। তাহ'লে এই দশ হাতের তাৎপর্য কী? তার মানে, তিনি দুই হাতে দশ হাতের কাজ করেন। যিনি মা, তিনি একাধারে ঘরের বধূ ও গৃহিণী। স্বামী-সন্তান সহ পরিবারের প্রতিটি মানুষের জন্যই তাঁকে সর্বদা তৎপর থাকতে হয়। এদের সোয়াস্তি ও খাদ্যখানার দায়িত্ব তারই হাতে। যার যেমন দরকার, তিনি তার তেমনি আহারের ব্যবস্থা করেন। গুরুজনদের সেবাযত্ন করেন। ছোটদের শিক্ষা, লালন পালন ও ভালোমন্দের দিকে নজর রাখেন। তাছাড়া, বাইরের আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব বাড়িতে এলে তাদের সুখসুবিধা দেখা ও যথাবিহিত পরিচর্যা করা, তাও তাকেই করতে হয়। এই সমস্ত কিছু বজায় রেখেও সংসারে একটু সাশ্রয় কিভাবে করা যায় তারও চেষ্টা তাঁর থাকে। এইভাবে গৃহস্থালীর সব দিকে সমানভাবে লক্ষ্য রেখে সব কাজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ক'রে চলেন যে মা, চলতি কথায় তাঁর সম্বন্ধে বলা হয়, তিনি যেন দুই হাতে দশ হাতের কাজ করছেন। এই হ'ল দশ হাতের তাৎপর্য। সেইজন্য পূর্ণ নারীত্বের প্রতীক মা-দুর্গাকে আমরা দশভুজারূপে দেখতে পাই, যা' কিনা প্রতি ঘরের প্রতিটি মায়েরই স্বরূপ বা প্রকৃতি ।

Address

Kamalpur
Chakdaha
722137

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kamalpur Satsang Kendra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Kamalpur Satsang Kendra:

Share