Swami Sarvapriyananda : Unofficial

Swami Sarvapriyananda : Unofficial West Bengal Parliament of Sanatandharma

30/11/2020

ধর্ম রক্ষতি: রক্ষিত: 🙏

22/11/2020
13/11/2020

্রীশ্রীকালী_ধ্যানম

ওঁ সদ্দ্যশ্চিন্নশিরঃ কৃপাণমভয়ং হস্তৈবরং বিভ্রতীং ।
ঘোরাস্যাং শিরসাংস্রজাসুরুচিরামূন্মূক্তকেশাবলীম ।।
সৃক্ক্যসৃক প্রবহাং শ্মশাননিলয়াং শ্রুত্যৌঃ শবালংকৃতিং ।
শ্যামাঙ্গীং কৃতমেখলাং শবকরৈদেবীং ভজে কালিকাং ।।

্রীশ্রীকালী_স্তোত্রম

নমামি কৃষ্ণরুপিণীং কৃশাঙ্গযষ্ঠিধারিণীম ।
সমগ্রতত্ত্ব-সাগরামপারপার-গহ্র্যরাম ।।
শিবাং প্রভাসমূজ্জ্বলাং স্ফুরচ্ছশাঙ্কশেখরাম ।
ললাটরত্নভাস্করাং জগৎপ্রদীপ্তি-ভাস্করাম ।।
মহেন্দ্রকশ্যপার্চিতাং সনৎকুমার-সংস্তুতাম ।
সুরাসুরেন্দ্র-বন্দিতাং যদার্থ নির্ম্মলাদ ভুতাম ।।
অতর্ক্যরোচিরুর্জিতাং বিকারদোষবর্জিতাং ।
মুমুক্ষুভির্বিচিন্তিতাং বিকারদোষবর্জিতাং ।।
মৃতাস্থিনির্ম্মিতস্রজাং মৃগেন্দ্রবাহনাগ্রজাম ।
সুশুদ্ধতত্ত্বতোষণাং ত্রিবেদসারভূষণাম ।।
ভূজঙ্গহারহারিণীং কপালষণ্ডধারিণীং ।
সুধার্মিকোপকারিণীং সুরেন্দ্রবৈরীদ্দাতিনীম ।।
কুঠারপাশচাপিনীং কৃতান্তকামমেদিনীম ।
শুভ্রাং কপাল-মালিনীং সুবর্ণকল্প-শাখিণীম ।।
শ্মশানভূমিবাসিনীং দ্বিজেন্দ্রমৌলীভাবিনীম ।
তমোন্ধকারযামিনীং শিবস্বভাবকামিনীম ।।
সহস্রসুর্য্যরাজিকাং ধনঞ্জয়োপকারিকাম ।
সুশুদ্ধকাল-কন্দলাং সুভৃঙ্গবৃন্দমঞ্জুলাম ।।
প্রজায়িনীং প্রজাবতীং নমামি মাতরং সতীম ।
স্বকর্ম্মকারণো গতিং হরপ্রিয়াং চ পার্ব্বতীম ।।
অনন্তশক্তি-কান্তিদাং যশোর্থ-ভুক্তি-মুক্তিদাম ।
পুনঃ পুনর্জগদ্ধিতাং নমাম্যহং সুরার্চিতাম ।।
জয়েশ্বরী! ত্রিলোচনে! প্রসীদ দেবী! পাহি মাম ।
জয়ন্তি তে স্তুবন্তি য়ে শুভং লভন্ত্যভীক্ষ্যশঃ ।।

😊😊শুভ কালীপূজা ও দীপাবলি😊😊

13/11/2020

♦️ #স্বামী_প্রণবানন্দের_শ্রীশ্রীকালীপূজা♦️

♦️নৃমুণ্ডমালিনী, অসিপাশধারিণী, রক্তনয়না, রক্তবসনা, দিগম্বরী শ্রীশ্রীকালীপ্রতিমার বামপার্শ্বে কে উনি দণ্ডায়মান??
-- জটাজুটধারী, ত্রিশূলপাণি, রুদ্রাক্ষধর, গৈরিকভূষিত, ব্রহ্মবিভূতিমণ্ডিত সন্ন্যাসী দাঁড়িয়ে;
যেন সাক্ষাৎ মহাদেব!
মনে হয় শিব যেন অধুনা আর শ্রীশ্রীকালীর পদতলে নিষ্পিষ্ট নন-- তিনি রুখে দাঁড়িয়েছেন রুদ্রগর্জ্জনে।
তিনি জাগাতে চাইছেন শ্রীশ্রীচামুণ্ডাশক্তিকে-- নূতন তন্ত্রে, নূতন মন্ত্রে।

♦️শ্রীশ্রীকালী কি আজ চৈতন্যময়ী?
তাই যদি হবে তবে চতুর্দ্দিকে কেন এতো দানবীয় উল্লাস?
কেন সতীনারী লাঞ্চিতা, অপহৃতা, ধর্ষিতা?
কেন স্থানে স্থানে খোদ শ্রীশ্রীকালীমুর্ত্তিরই মুণ্ড-ভাঙ্গার দুসংবাদ?
কেন দেববিগ্রহ চূর্ণিত, দেবস্থান কলুষিত?
কেন সনাতন ধর্ম্মের উপর এতো আঘাত-আক্রমণ?
কেন নিরীহ মানুষের নৃশংস নিধন ঘটে?
কোথায় চামুণ্ডারুপিণী, দৈত্যদলনী শ্রীমহাকালী?
তোর খড়গের ঝণৎকার কোথায়?
কোথায় সেই তাথৈ তাথৈ রণতাণ্ডব নৃত্য?
সেই শক্তিমান মাতৃপূজারী সাধকই বা কই, যিনি মৃন্ময়ী প্রতিমায় চিন্ময়ী মহাশক্তি সঞ্চারে সমর্থ?
বর্ষে বর্ষে পূজা হয় কি তবে মাটির পুতুলের?
না, এ বিড়ম্বনা আর নয়।

♦️আজ মহারুদ্রাণীর মহাশক্তি হুঙ্কৃত হয়ে উঠেছে এক যুগান্তকারী মহাপুরুষের তপঃসিদ্ধ দিব্য যোগশরীরে।
তাঁরই প্রত্যক্ষ আদেশ, নির্দ্দেশ ও ব্যবস্থাপনায় সংঘের কলিকাতা আশ্রমে শ্রীশ্রীকালীপূজার বিশেষ আয়োজন।
স্বয়ং তিনি পূজামণ্ডপে আবির্ভূত, পুরোহিত শাস্ত্রবিহিত পদ্ধতিতে মন্ত্রোচ্চারণ পূর্ব্বক প্রাণপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াবলী সম্পাদন করে চলেছেন।
মহাপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন আত্মমহিমায় স্থিরভাবে, অপলক দৃষ্টিতে।
দৃষ্টি তাঁর প্রতিমার হৃদকেন্দ্রে, ওইখানে যেন তিনি আজ দিব্য-স্পন্দন সঞ্চার করবেন।
মহাপুরুষ আপন যোগশক্তির স্ফুলিঙ্গ উপস্থাপনে প্রতিমায় প্রাণপ্রতিষ্ঠায় সঙ্কল্পারূঢ়া।
হে করালিনী শ্রীমহাকালী! জেগে ওঠ, জেগে ওঠ!
তোর করধৃত শাণিত খড়গ আবার ঝলসিয়ে উঠুক!
নাচো আজ দিগম্বরী শ্যামা তাথৈ তাথৈ!
লক্ষ রক্তবীজের যাবনিক তপ্ত শোণিতে তোর তৃষ্ণার তর্পণ হোক!

♦️বাং 1346 সনের সংঘানুষ্ঠিত এই শ্রীশ্রীমহাকালী পূজার পশ্চাতে আছে এক মহত্তর পটভূমি!
দেশের এক মহাসঙ্কট মুহুর্ত্তে এই পূজার প্রবর্ত্তন করেছিলেন সংঘপ্রতিষ্ঠাতা যুগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দ।
সাম্প্রদায়িক দৌরাত্ম্যে খিন্ন, ভিন্ন, নিপীড়িত, নিষ্পেষিত হিন্দুর ভিতরে শক্তি ও সংহতির চেতনার উদ্বোধনের জন্য আচার্য্যের এই মহাপ্রয়াস।
যে ভয়ঙ্কর বিপর্য্যয় আসছে তা ঠেকাতে হবে, অহিংসার পথে তা সম্ভব নয়।
চাই-- শক্তি;
চাই-- সংহতি;
চাই-- প্রতিরোধের মহাবীর্য্য;
এতদুদ্দেশ্যেই সংঘের হিন্দুমিলন-মন্দির ও রক্ষীদল সংগঠনের ব্যাপক আয়োজন, এই কার্য্যের সুশৃঙ্খলিত ও সুনিয়ন্ত্রিত করতে কলকাতায় নির্ম্মিত হয়েছে বঙ্গীয় হিন্দুমিলন-মন্দিরের কেন্দ্রীয় ভবন।
ভবনটি নির্ম্মাণের ব্যয় বহন করেছেন ধর্ম্মপ্রাণ নাগরিক শ্রীঅবনী কুমার বসু তদীয় অনুজ ধরণী বসুর স্মৃতিকল্পে।

♦️সংঘনেতা আচার্য্যের নির্দ্দেশ-- আর বিলম্ব নয়, এই আসন্ন শ্রীশ্রীকালীপূজার মহাতিথিটিই উপযুক্ত সময়।
এই অমান্ধ রজনীতেই জ্বালাতে হবে আশার আলোকদীপালী, খুলে দিতে হবে কেন্দ্রীয় মিলন-মন্দির ভবনের জাতীয় দুর্গদ্বার-- শ্রীশ্রীমহাকালীর শুভাশীর্ব্বাদ শিরে নিয়ে।
24শে কার্ত্তিক, পূজার বেদীতে দেবীপ্রতিমা অধিষ্ঠিতা;
সন্মেলন-মণ্ডপ সাজানো হয়েছে বিবিধ উপচারে, নব-নির্ম্মিত বঙ্গীয় হিন্দুমিলন-মন্দির ভবনটিও মাঙ্গলিক সজ্জায় সজ্জিত।
প্রসিদ্ধ হিন্দুনেতা বি.সি. চ্যাটার্জি (বার-এট-ল) ভবনের দ্বার উদ্ঘাটন করেন।
আশ্রমের সন্মুখস্থ ময়দানে হিন্দু সন্মেলনের অধিবেশের সভাপতিত্ব করেন প্রসিদ্ধ ব্যারিষ্টার শ্রীশৈলেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলিকাতা পৌরসভার মেয়র শ্রী এন.সি. সেন (বার-এট-ল) সহ কলিকাতার সর্ব্বস্তরের বহু বিশিষ্ট নাগরিক উপস্থিত হয়েছেন-- সংঘের আমন্ত্রণে।
মহাশক্তির পূজার নব ঋক উদঘোষিত হয় যুগাচার্য্যের লিখিত বিবৃতিতে, আজ চাই-- শক্তি।
হিন্দুধর্ম্ম-- মহাশক্তির সাধনা;
মহাশক্তির বিদ্যুদ্বীর্য্য জাগাতে হবে হিন্দুর শিরায় শিরায়-- ধমনীতে ধমনীতে-- তনু-মন-প্রাণে।
প্রাণ-সঞ্চার করতে হবে হিন্দুর জাতীয়তার মহাপ্রতিমায়, আজ শুধু ফুল-বিল্বপত্র-চন্দনের পূজায় হিন্দুর দেবদেবী পরিতুষ্ট নন।
হিন্দুর প্রতিটি দেবতা বীর্য্যঘনমুর্ত্তি, বিবিধ বিচিত্র আয়ুধধারী;
শ্রীশ্রীদুর্গার হাতে দশপ্রহরণ, শ্রীশ্রীকালীর হাতে রক্তাক্ত খড়গ, শিবের হাতে ত্রিশূল, শ্রীরামের হাতে ধনুর্ব্বাণ, শ্রীকৃষ্ণের হাতে সুদর্শন-- এসকল দেবদেবীর উপাসনা করে সাধক দুর্ব্বল হয় কি?

♦️ওই যে শ্রীশ্রীকালী ভয়ঙ্করী! মৃত্যুরুপা মা!
সর্ব্বদা যে মৃত্যুভয়ে ভীত, এমন কাপুরুষের শ্রীমহাকালীর উপাসনার অধিকার কোথায়?
মৃত্যুতে যে অকুতোভয়, স্বধর্ম্ম ও স্বজাতি রক্ষায় যে সোল্লাসে জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত, জীবন-সংগ্রামে যে অপরাঙ্মুখ, শ্রীশ্রীকালীপূজার যথার্থ আশীর্ব্বাদ তারই প্রাপ্য।
জাতির এ দুর্দ্দিনে এমন মৃত্যুঞ্জয়ী মহাবীরদলের আবির্ভাবই চাই, শ্রীশ্রীকালীর পূজা করে যদি কালভয় না ঘুচে তবে তা পূজাই বৃথা।
শ্রীশ্রীকালীপ্রতিমায় নূতনভাবে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে আচার্য্য স্বামী প্রণবানন্দ সেই শিক্ষাই আজ দিলেন-- নিপীড়িত হিন্দুজাতিকে; দিলেন শক্তিসাধনায় নবদীক্ষা।
সংঘকবির অমর লেখনীতে ফুটে উঠলো দীপক ছন্দের অগ্নিবীর্য্য--

যত পূজা তুমি করেছো হিন্দু,
পড়ে নাই মোর পায়
হীনবীর্য্যের ক্লীবতার পূজা
স্বীকার করি না তায় ।
অত্যাচারের প্রতিরোধে যবে,
ভীম প্রতিজ্ঞা লও যদি সবে,
সেই দিনে তব প্রার্থনা-ধ্বনি
পশিবে আমার কানে,
শুধু ফুল পূজা নেব না এবার
কাতর কাকুতি গানে ।।

12/11/2020

ভূতচতুর্দশী কি ?

কেন এই দিন ১৪ রকম শাক খেতে হয় ?
জেনে নিন ১৪ শাকের উপকারিতাএবং কেন এদিন ১৪ প্রদীপ জ্বালানো হয় ?

কার্তিক মাসের অমাবস্যায় হয় কালী পুজো। আর তার আগের দিন যে চতুর্দশী‚ তাকে বলে ভূত চতুর্দশী। আগে বাঙালি বাড়িতে দুটো রীতি খুব মানা হতো। ভূত চতুর্দশী রাতে জ্বালানো হতো ১৪ প্রদীপ। তার আগে এদিন দুপুরে ভাতের সঙ্গে থাকতই ১৪ রকম শাক ভাজা |

রামচন্দ্রের ১৪ বছর বনবাসের কাহিনি এর সঙ্গে যুক্ত হলেও মূল বিষয় কিন্তু চতুর্দশী তিথি |

দীপ জ্বালানো হতো রাতের অন্ধকার দূর করতে, বলা হয় ঠিক এক মাস আগে মহালয়ার অমাবস্যার সময় আমাদের মৃত-মৃতা পূর্বপুরুষগণ মর্ত্যে নেমে আসেন উত্তরপুরুষের থেকে জল পান করার জন্যে। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মহালয়ার অমাবস্যায় তর্পণ করি (জল পানে তাঁরা তুষ্ট হন)। এরপর একমাস যাবৎ আমাদের সান্নিধ্যে থেকে আমাদের আশীর্ব্বাদ প্রদান করেন। এর পর আমরা দীপান্বিতা অমাবস্যার আগের দিন সন্ধ্যায় আকাশ প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁদের অমৃতলোকে যাওয়ার রাস্তা আলোকোজ্জ্বল করে থাকি। মনে করা হয়, সেই সব মৃতাত্মারা আমাদের আশীর্ব্বাদ করতে করতে অমৃতলোকে ফিরে যান। এইভাবে চোদ্দ পুরুষকে আলোদান করে বর্তমান প্রজন্ম |

বহু বাড়ির ছাদে কার্তিক মাস জুড়ে আকাশপ্রদীপ জ্বালানোর রীতি এখনও দেখা যায়। ১৪ শাক ভক্ষণের বিষয়টি স্বাস্থ্য সম্বন্ধীয়। এই সময়ে মরসুম পাল্টায়। বাতাসে জায়গা করে নেয় হিমেল পরশ। তাই শরীর ভাল রাখতে ১৪ রকম শাক খাওয়ার বিধি আছে।

কালীপুজো এলেই আমরা যেন আমাদের কৈশোরে ফিরে যাই, মনে পড়ে যায় সেই সব ফেলে আসা দিনের কথা। সেই সময় হাওয়া বদল টের পাইয়ে দিত কালীপুজো আসছে। সেই সময় অনেক বাড়িতে আকাশ প্রদীপ দেওয়া হতো। অদ্ভুদ এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি হতো চারিদিকে।

কালীপূজার সাথে ভূত চতুর্দশীর যেন একটা বিশেষ সম্পর্ক আছে। দুপুরে মায়ের হাতের চোদ্দশাক ভাজা, গরম ভাতের সাথে ঘি দিয়ে অপূর্ব লাগতো। বাজার থেকে খুঁজে পেতে নিয়ে আসা হতো - কিন্তু তথাকথিত চোদ্দশাকের মধ্যে সব ঠিক ঠিক থাকতো কিনা "দেবা ন জানন্তি।"

শাস্ত্রমতে এই শাকগুলি হল যথাক্রমে - ওল, কেঁউ, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, নিম, জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, পলতা, শৌলফ, গুলঞ্চ, ভাটপাতা এবং শুষণী।
আজকের প্রজন্ম হয়তো জানেই না এই চোদ্দশাকের কথা। তাঁরা হয়তো হেসে উড়িয়ে দেবে এসব গ্ৰাম্য প্রথা বলে।

কিন্তু এর পিছনেও বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যা আছে -

এই সময় যেহেতু ঠান্ডার আমেজ এসে যায়, হাওয়ায় ভাসে হিম যা থেকে নানারকম রোগ সৃষ্টি হয়, তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ানোর জন্যে এই চোদ্দশাক খাওয়ার প্রথা। তাই এগুলো খাওয়াই ভালো। আর যাই হোক এতে ক্ষতি তো কিছুই নেই। তবে এইসমস্ত শাক এখন সব জায়গায় ঠিকমত জোগাড় করা সম্ভব নয়।

বাজারে প্রচলিত যে শাকগুলো খেলেও সমান উপকৃত হবেন এমন ১৪ টি শাকও খেতে পারেন। শাক গুলো হলো :

পালং শাক, লাল শাক, সুষণি শাক, বেতো শাক, কালকাসুন্দা, পুঁই শাক, কুমড়ো শাক, গুলঞ্চ শাক, মূলো শাক, কলমি শাক, সরষে শাক, নোটে শাক, মেথি শাক, লাউ শাক অথবা হিঞ্চে শাক৷

আয়ুর্বেদ এবং কবিরাজি শাস্ত্রে এই ১৪ শাকের গুণ অসীম। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, আজকের দিনের যে "ধন-তেরাস" তা কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সোনা, বাসন বা গহনা কেনার উৎসব ঠিক নয়। কার্তিক কৃষ্ণা-ত্রয়োদশী হলো আমাদের প্রাচীন আয়ুরভেদাচাৰ্য্য ধন্বতরির জন্মতিথি। তাঁর কথা স্মরণ করেই ওইদিন নিজেদের রোগমুক্ত রাখার জন্যে আয়ুর্বেদিক পথ্য বা ওষুধ কিনে তাঁকে সন্মান জানানো হয়। বলা যেতে পারে, তার অনুলিপি হিসাবে চৌদ্দ-শাক খাওয়া হয়। ত্রয়োদশী ও চতুর্দশী তিথির দিনই এই ভেষজ চোদ্দ-শাক খাওয়ার রীতি।

কোন শাক কী রোগ প্রতিরোধ করে আপনাদের জন্য রইল সেই তথ্য:

💠১. বেতো শাক: কৃমিনাশক, কোষ্ঠবদ্ধতা ও অম্বল প্রতিরোধক।

💠২. কালকাসুন্দা: অ্যান্টি-অ্যালার্জিক, কোষ্ঠবদ্ধতা, অর্শ, ফিসচুলা, হুপিং কাশি, দাদ ইত্যাদির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়৷

💠৩. নিমের উপকারিতা বলে শেষ হওয়ার মতো নয়৷ ম্যালেরিয়া, জন্ডিস, এইএডস, কুষ্ঠর মতো রোগ প্রতিরোগ করে৷ এছাড়া, কৃমি, খোস-পাঁচরা, ক্ষত, স্বপ্নদোষ নির্মূল করে৷

💠৪. জয়ন্তী শাক: বহুমূত্র, শ্বেতী , জ্বর এবং কৃমি নাশকের কাজ করে৷ সদ্য প্রসূতিদের জন্য খুব উপকারী৷

💠৫. গুলঞ্চপাতার: রস সেবনে কুষ্ঠ, বাতিরক্ত, জ্বর, পিত্তদোষজনিত বিকৃতি ও কৃমিরোগ নষ্ট হয়৷

💠৬. সুষনি শাক: হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ এবং মানসিক অস্থিরতা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

💠৭. পলতা পাতা: এই শাক যে কোন শ্বাসের রোগে কার্যকরী। এরা রক্তবর্ধক এবং লিভার ও চামড়ার রোগ সরাতে এদের প্রভূতভাবে ব্যবহার করা হয়।

💠৮. হিঞ্চে শাক: ফাইটোস্টেরল সহ বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ থাকে। হিঞ্চে খেলে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ে। শুধুমাত্র পিত্তনাশক হিসাবেই নয়, রক্তশোধক হিসাবে, ক্ষুধাবর্ধক এবং জ্বর নির্মূলকারী হিসাবে এর ব্যবহার অপরিসীম৷

💠৯. পালং শাক: জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এই শাক বিশেষ উপকারী। পোড়াঘায়ে, ক্ষতস্থানে, ব্রণে বা কোথাও ব্যথায় কালচে হয়ে গেলে টাটকা পালং পাতার রসের প্রলেপ লাগালে উপকার পাওয়া যায়। পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি, ই এবং আয়রন। এজন্য পালং শাক খেলে রক্তে আয়রনের মাত্রা বেড়ে যায়।

💠১০. লালশাক: ভিটামিন ‘এ’-তে ভরপুর। লালশাক নিয়মিত খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে এবং অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করা যায়। এটি শরীরের ওজন হ্রাস করে।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

💠১১. পুঁইশাকে: রয়েছে প্রচুর ভিটামিন। তবে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’ ও ‘এ’-এর পরিমাণই বেশি। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে আছে ক্যালসিয়াম এবং আয়রণ। এই শাক কিছুটা গুরুপাক। তাই আমাশার রোগীদের তা না খাওয়া উচিত। রক্তে ইউরিক এসিড বেশি থাকলে বাতজনিত সমস্যা দেখা যায়। মাছের এ সমস্যা আছে তাদেরও বর্জন করা উচিত পুঁইশাক। এতে প্রচুর আঁশ আছে বলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে।

💠১২. কলমি শাকে: ক্যালসিয়াম থেকে বলে এই শাক হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও কলমি শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি,পর্যাপ্ত পরিমানে লৌহ, থাকায় এই শাক রক্ত শূন্যতার রোগীদের জন্য দারুন উপকারি।

💠১৩. নোটে শাক: পিত্তনাশক, রক্ত পরিষ্কার করে ও মেদ কমায়৷

💠১৪. মেথি শাকের: গুরুত্ব অপরিসীম৷ এই শাক তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে৷ হতাশা কাটাতে ও ডায়বেটিসের জন্য মেথি শাক খুব উপকারি৷ এছাড়া, যৌনক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এই শাক৷

এবার ফিরে আসা যাক প্রসঙ্গে,

ভূত চতুর্দশী বা নরক চতুর্দশীর দিন বাড়ীর আনাচে কানাচে ১৪ টি প্রদীপ জ্বেলে দেওয়া হতো। অনেকের ধারণা এই দিনে প্রেতলোক থেকে আত্মারা পৃথিবীতে নেমে আসে। যে সব আত্মারা প্রেতলোক প্রাপ্ত হয়, যারা স্বর্গ/নরক কোনটাতেই যেতে পারে না, তারা এই দিনে জেগে ওঠে। এই একদিন তাঁদের আলো দেখানো হয়, এতে তারা খুশি হয়।

এটা হিন্দুদের "হ্যালুইন উৎসব"। বিদেশে "হ্যালুইন উৎসব" পালন করা হয় মিষ্টি কুমড়োর ওপরের অংশ কেটে সমস্ত বের করে মিষ্টি কুমড়োর মধ্যে চোখ মুখ আঁকিয়ে তার মধ্যে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়। মনে হয় এতে প্রেতাত্মারা খুশী হন। এছাড়া এদিন ভূতের সাজসজ্জা সেজে আনন্দ উৎসব করা হয়।

হিন্দুদের উৎসব একেবারেই অন্য নিয়মে। এদিন চোদ্দশাক খেয়ে দিনটি পবিত্র ভাবে পালন করে সন্ধ্যায় মৃত পূর্ব পুরুষের উদ্দেশ্যে চোদ্দটি প্রদীপ দেওয়া হয়। এতে যমরাজ প্রসন্ন হয়ে মৃত ব্যক্তির আত্মাকে মুক্ত করেন। সমস্ত পৃথিবীর মানুষের মতো হিন্দুরাও বিশ্বাস করে এই দিনটিতে মৃত আত্মারা পৃথিবীতে নেমে আসেন। যাই হোক ভূত চতুর্দশীর একটি অন্য রকম অর্থ দাঁড়ায়, ভূত চতুর্দশীর পরদিন দীপান্বিতা অমাবস্যা। মহাশক্তি মা কালীর পূজার দিন। আমাদের এই দেহ পঞ্চভূতের সমষ্টি। আকাশ, ভূমি, জল, অনল, পবন।

দেহান্তে শ্মশানে দেহ দাহ হলে এই শরীর পঞ্চভূতে বিলীন হয়। সুতরাং এই পঞ্চভূতের শরীরকে নশ্বর জ্ঞানে এই দিনটি পবিত্র ভাবে থেকে চোদ্দশাক ভক্ষন করে, সন্ধ্যায় ধর্মরাজের নামে প্রদীপ উৎসর্গ করে পর দিবস মা কালীর উপাসনায় ব্রতী হবার শিক্ষা দেয়। তাই এদিন ভূতচতুর্দশী নামে খ্যাত। প্রেতাত্মার কথা বলতে এখানে দেহের নশ্বর মূর্ত্তির কথাই তুলে ধরা হয়েছে।

আরও যেটা - এই নরক চতুর্দশীর দিনই সত্যভামা কতৃক আঘাত প্রাপ্ত হবার পরেই শ্রীকৃষ্ণের হস্তে নরকাসুরের বধ হয়।

প্রত্যেকটি সার্বজনীন উৎসব মন্দের বিরুদ্ধে ভালোর জয়কে উদযাপন করে হয়ে থাকে। দীপাবলীর এই উৎসবও অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলো জ্বালানোর উৎসব, নিজের অন্তরের সকল অজ্ঞতা, অন্ধকারকে মুছে ফেলে আলোর উত্তরণের উৎসব। হয়তো অঞ্চল বিশেষে দীপাবলীর মাহাত্ম‍্য ভিন্ন ভিন্ন, কিন্তু মূল কথা এক - আত্মাকে প্রজ্বলিত করে পরিশুদ্ধ করে সেই পরম ব্রহ্মে লীন হওয়ার পথই দেখায় এই উৎসব।

সবার ভালো হোক। সবাই ভালো থাকুন। 🙏

✍ রবীন রায়

05/11/2020

শিব লিঙ্গের উপর পা দিয়ে একটি মডেল মা কালী সেজে ফটোশুট করছে। এটা সনাতন ধর্মের অবমাননা নয়?? এটা নোংরামি নয়?? ইস.লামের সাথে রসিকতা করলে কী ফল হতে পারে সেটা পুরো দুনিয়া দেখছে। হিন্দুরা সহিষ্ণু বলে এই নোংরামী কতদিন চলবে?? আর কতদিন??

26/10/2020

আজ শুভ বিজয়া দশমী।

বিসর্জনের দিনে বিজয় উৎসব বা বিজয়া পালন! কেন? বিজয়া কথার তাৎপর্য কি?

অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে মহিষরূপী মহিষাসুরকে বধ করলেন মা দুর্গা। সেখান থেকে দৈত্য রূপ নিয়ে বেরিয়ে এল ঐ অসুর। আর নবমীর দিন মা দুর্গা যুদ্ধ শেষে তাঁকে বধ করেছিলেন। আর মায়ের যুদ্ধে জয়লাভ উপলক্ষে আজ 'বিজয় উৎসব' পালন করা হয়। সেই জন্যেই বলা হয় 'বিজয়া দশমী' এবং সেই বিজয় উদযাপন করতে বিজয়া পালন করাই রীতি।

এছাড়া এই ভক্তি ও শাস্ত্রবিধির বিরোধে শ্রীরামকৃষ্ণদেব মথুরকে যা বলেছিলেন, বিসর্জনের তাৎপর্যার্থে তা স্মরণীয়। মথুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবকে যখন বলেন তিনি মা দুর্গা কে বিসর্জন করতে পারবেন না অর্থাৎ মাকে ছেড়ে তিনি থাকতে পারবেন না। উত্তরে শ্রী রামকৃষ্ণদেব ঈষৎ হেসে জবাব দেন "মাকে ছেড়ে থাকতে হবে কে বলল আর বিসর্জন দিলেই বা তিনি যাবেন কোথায় কারণ ছেলেকে ছেড়ে মা কি কখন থাকতে পারে? এ তিন দিন বাইরে দালানে বসে তোমার পূজা নিয়েছেন, আজ থেকে তোমার আরও নিকটে থেকে- সর্বদা তোমার হৃদয়ে বসে তোমার পূজা নেবেন। মাকে বিসর্জন দেবে কোথায়? বিসর্জন দেবে নিজের হৃদয়ে।" তাই দুর্গা মা কৈলাসে ফিরে যাচ্ছেন তাতে তাঁকে দুঃখে নয়, তাঁকে হাসিমুখে 'বিদায়' জানান।

শুভ বিজয়া সবাইকে।🔱🔱🔱

বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রণাম, ছোটদের ভালোবাসা ও আদর ও সমবয়সীদের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাই।

সবার জীবন শান্তি, সৌভাগ্য, আরোগ্য, আনন্দ ও সাফল্যে ভরে উঠুক। আমাদের পৃথিবী, আমাদের দেশ, আমাদের সমাজ খুব তাড়াতাড়ি এই দুর্যোগ, দুরাবস্থা কাটিয়ে পূর্ব ছন্দে ফিরতে পারে সেই কামনা করি।

25/10/2020
22/10/2020
13/10/2020

শ্রীশ্রীদুর্গা :
মদ্ভয়াদ সর্বং বাতি পবন: সর্ব্বং দহতি হব্যভুক ।
সর্ব্বং লোকপালা বরুণেন্দ্র ধনেশ সূর্য্যসোম : প্রকুর্বন্তি জগৎকার্য্যং বিষ্ণুবিরিঞ্চিরুদ্রেনঃ স্বস্বকর্মাণ্যনারতম ।।
................ শ্রীদুর্গা সংহিতা
সমস্ত শক্তির একমাত্র মূলভূতা আধার আমিই সর্বশক্তিসমন্বিতা ! আমিই পুত্তলিকার ন্যায় সকলকে চালনা করে থাকি l আমার ভয়েই পবনদেব কার্য করেন ; আমার আজ্ঞায় অগ্নি সমস্ত কিছু দহন করেন ; আমার আদেশেই সমস্ত লোকসমূহ প্রজাপতিগন দ্বারা পালিত হয়ে থাকে ; আমার ভয়েই বরুনদেব জল বর্ষণ করেন, ইন্দ্র-ধনেশ নিজ নিজ কর্ম করেন আমার শক্তির পরাক্রমে ;আমার ভয়েই সূর্য এবং চন্দ্র গগন মধ্যে সময়ে সময়ে পরিদৃশ্যমান হয় ! জগৎ কার্যস্বরূপ তিন সনাতন সগুন পুরুষ আমার আজ্ঞাতেই স্ব স্ব কার্য করে থাকেন l সকল দেবী দেবতা এবং তাদের তিন অধিপতি সমূহও আমার আজ্ঞা এবং শক্তি ব্যাতিত কোনো কার্যই করেন না !

Address

Calcutta

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Swami Sarvapriyananda : Unofficial posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share