14/06/2025
১৪ই জুন বিশ্বরক্তদাতা দিবস ও রক্তের গ্রুপ (এ, বি, ও) আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ডাঃ কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের জন্ম দিবস ।।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী শহর ভিয়েনায় ১৮৬৮ সালের ১৪ জুন এক সম্ভ্রান্ত ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার। তার বাবা লিওপোল্ড ল্যান্ডস্টাইনার। তার মায়ের নাম ছিল ফ্যানি নি হ্যাস।
তৎকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞানে রক্ত সঞ্চালন ছিল অনেকটা মুদ্রা নিক্ষেপের মতো ধোঁয়াশা। নানা রোগে-শোকে এবং দুর্ঘটনায় মানবদেহে রক্তের ঘাটতি দেখা দিত। এই ঘাটতি পূরণের জন্য আরেক মানবদেহ থেকে রক্ত সঞ্চালন খুব একটা সুবিধাজনক প্রক্রিয়া ছিল না। হাতেগোনা কিছু ক্ষেত্র বাদে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই রক্ত সঞ্চালনের পর রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তো। কিন্তু কেন এমন হতো, সেটা কারো জানা ছিল না। রক্ত সঞ্চালনের বিজ্ঞান স্বীকৃত কোনো পদ্ধতিও ছিল না।
রক্ত সঞ্চালনের এই সমস্যা নিয়ে পরিচিত ছিলেন কার্ল ল্যান্ডস্টাইনারও। ১৯০০ সালে তিনি এই রহস্য উদ্ঘাটনের উদ্দেশ্যে গবেষণা শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন মানুষের রক্ত সংগ্রহ করে গবেষণাগারে এক রক্তের সাথে আরেক রক্ত মিশিয়ে এর পরীক্ষার মাধ্যমে উপলব্ধি করেন যে, কিছু রক্তের মিশ্রণে রক্ত জমাট বেঁধে যেত। অপরদিকে, কিছু ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধতো না। এবং এই জমাট বাঁধার ধরন একরকম ছিল না। এক রক্ত আরেক রক্তের সাথে জমাট বাঁধলেও সেটা অন্য আরেক রক্তের সাথে কোনো জমাট সৃষ্টি করতো না। কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার প্রায় এক বছর নিরলস গবেষণার মাধ্যমে রক্তের অ্যান্টিবডি-এ, অ্যান্টিবডি-বি আবিষ্কার করেন। এরপর এর উপস্থিতি অনুসারে রক্তকে A,B,O এই তিন শ্রেণীতে বিন্যাস করেন।
১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’-এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে প্রথম পালিত হয়েছিল বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই দিবস পালনের জন্য নির্দেশ দিয়ে আসছে।
প্রতিবছর ৮ কোটি ইউনিট রক্ত স্বেচ্ছায় দান হয়, অথচ এর মাত্র ৩৮ শতাংশ সংগ্রহ হয় উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে, যেখানে বাস করে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৮২ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া এখনো বিশ্বের অনেক দেশে মানুষের রক্তের চাহিদা হলে নির্ভর করতে হয় নিজের পরিবারের সদস্য বা নিজের বন্ধুদের রক্তদানের ওপর, আর অনেক দেশে পেশাদারি রক্তদাতা অর্থের বিনিময়ে রক্ত দান করে আসছে রোগীদের। অথচ বিশ্বের নানা দেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে জানা যায়, ‘নিরাপদ রক্ত সরবরাহের’ মূল ভিত্তি হলো স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দান করা রক্ত। কারণ তাদের রক্ত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং এসব রক্তের মধ্য দিয়ে গ্রহীতার মধ্যে জীবনসংশয়ী সংক্রমণ, যেমন এইচআইভি ও হেপাটাইটিস সংক্রমণের আশঙ্কা খুবই কম।
স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকারী আড়ালে থাকা অজানা বীরের উদ্দেশে, উৎসর্গীকৃত ১৪ জুনের বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। রক্তদান মহৎ দান। রক্তদান করলে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না। এমনিতেই রক্ত কণিকা নির্দিষ্ট সময় পর নষ্ট হয়ে যায়। তাই রক্ত দান করুন, রোগীর প্রাণ বাঁচান।
বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের স্লোগান ও থিম
প্রতি বছর, বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে রক্তদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার জন্য একটি নির্দিষ্ট থিম থাকে। 2025 সালের জন্য, বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের থিম হল "রক্ত দিন, আশা দিন: একসাথে আমরা জীবন বাঁচাই"।
বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের স্লোগান যেমন "রক্ত দিন এবং বিশ্বকে স্পন্দিত রাখুন," বিশ্বের হৃদস্পন্দন বজায় রাখতে রক্তদাতারা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা প্রতিফলিত করে।
#বিশ্ব_রক্তদাতা_দিবস
#মন্তেশ্বর_ভলান্টারী_ব্লাড_ডোনার্স_অ্যাসোসিয়েশন