#জয়দেব_কেন্দুলির_বনায়ণ #
#এলাকার_মানুষের_রোজগারের_উৎস_হতে_পারে #
কোভিডের কারণে থমকে যাওয়া পৃথিবীতে নতুন করে বাঁচার প্রয়াসী আমরা সকলেই। কোভিড ১৯ নামের একটি ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে সারা পৃথিবী আজ জবুথবু। বিশ্বময় প্রতিদিন অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, নিজেদের ভবিষ্যৎ ভেবে আমরাও আতঙ্কগ্রস্ত।
আবার অন্যদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোরম হয়ে উঠছে। যেন প্রকৃতি নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নিচ্ছে। বীরভূমে এতো সম
য়োপযোগী বৃষ্টি কে কবে দেখেছেন, মনে করে বলতে পারবেন না! মনে হয়, বদ হাওয়ার প্রভাবে অসুস্থ পৃথিবী আবার সুস্থ হয়ে উঠছে। প্রকৃত অর্থে পৃথিবীর এই অসুখ আমাদের মতো মানুষের সৃষ্টি। অপরিমিত পরিবেশ দূষণ যেমন চলছে, তেমনি প্রতিনিয়ত চলছে বৃক্ষনিধন। আর তার প্রভাবে অতিদ্রুত হিমবাহ গলছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে লক্ষ লক্ষ বছর বরফের তলায় থাকা কোভিড ১৯ এর মতো অসংখ্য ভাইরাস আবার সজীব হয়ে উঠছে। তাছাড়া, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে অপরিমিত সার বিষ ও ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার, মানুষের জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনছে। এইরকম চলতে থাকলে, আগামীদিনে আরো নতুনতর মর্মান্তিক জীবন ধ্বংসকারী রোগ অনিবার্যভাবে আসবে। অথচ আমরাই পারি পৃথিবীর এই অসুখ সারাতে। যাতে আমরা ও আমাদের প্রিয়জন, সন্তান সন্ততিরা সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বাঁচতে পারে।
করোনা পরবর্তী সময়ে পরিবহন ও মাত্রাতিরিক্ত দূষণকারী কলকারখানা বন্ধ থাকায়, অতিদ্রুত পরিবেশের এক বিরাট পরিবর্তন ঘটেছে, ঋতুর বৈচিত্র আমরা সম্যক ভাবে উপলব্ধি করছি। যা জীববৈচিত্র সংরক্ষণের জন্য অতি প্রয়োজনীয়।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বনদপ্তরের উদ্যোগে শ্যামসখা আশ্রম সংলগ্ন বনদপ্তরের জমিতে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। প্রায় দুই সহস্রাধিক গাছ, যেমন: শাল সেগুন জারুল আমলকী বহরা আম জাম ও আরো অনেক দেশীয় গাছ।
এই অঞ্চলে বৃক্ষরোপণের এতো দিনের অভিজ্ঞতা ও ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে প্রাকৃতিক ভাবেই প্রত্যেকটি গাছ বেড়ে উঠছে।
এই বনায়ণের ফলে জয়দেব কেন্দুলি অঞ্চলের আবহাওয়া সুখকর হবে, যা খুবই আনন্দের বিষয়।
আন্তর্জাতিক মানচিত্রে জয়দেব কেন্দুলি অতি পরিচিত নাম হলেও, শুধুমাত্র প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে, মেলা ছাড়া পর্যটকদের আকর্ষণ খুবই কম। অথচ গীতগোবিন্দম্ এর জয়দেবের ভূমি এমনিতেই স্বনামধন্য। তার উপর অজয় নদের দু'পাড় জুড়ে পদে পদে রয়েছে, অনেক জানা অজানা ইতিহাসের আলেখ্য।
বোলপুরের সোনাঝুড়ি হাট, অনেক অনেক মানুষের জীবন জীবিকার উৎস। উপযুক্ত পরিকল্পনা করলে, জয়দেব প্রকৃতি উদ্যান ও হাট জয়দেব কেন্দুলির মানুষের দৈনন্দিন আয়ের উৎস হতে পারে। প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোরম হলে এবং থাকার মতো সু্যোগ সুবিধা পেলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে। এলাকার মানুষের রোজগার বাড়বে। তাছাড়া জঙ্গলনির্ভর স্বনির্ভর প্রকল্পঃ যেমন, জঙ্গলের দু'টি গাছের মধ্যে ডাল জাতীয় চাষ, ছোট ছোট স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করে শাল পাতার থালা ও বাটি, মাটির ভাড়, পর্যটকদের আকর্ষণ সৃষ্টির জন্য হস্তশিল্পের বিভিন্ন সামগ্রী বানানো। তাছাড়া ইকোট্যুরিজম্ প্রকল্প সৃষ্টি করে, অনেক মানুষ উপকৃত হবেন। এতে বোলপুরের পর্যটকদের ঢেউ কিছুটা হলেও জয়দেব এ আসবে।
আপনাদের শুভ কামনায় এই চারা গাছগুলো মহীরুহ হয়ে উঠুক। আর বন্যপ্রাণীদের মনোরম আশ্রয়স্থল হয়ে উঠুক। সকলের মঙ্গল হোক।
সকলেই সুস্থ থাকুন। শুভকামনা রইল।
জয়দেব প্রকৃতি উদ্যানJFMC পক্ষে
৭ই নভেম্বর ২০২০
রামপুর, জয়দেব কেন্দুলি।