01/09/2022
দুর্গা কথা
একটি মহিলা সমিতি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পিছিয়ে থাকা মেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে চলেছে,( কেউ কেউ সমালোচনা করতেই পারেন, তবে ভালোদের পাশেতো সবাই থাকে, মুখে তো সবাই বলে সত্যি কারের রাস্তায় নেমে কাজ কত জন করে? তাই সমালোচনা নয় সহযোগিতা করার মনোভাব তৈরি করুন)এই মহিলা গত তিন বছর ধরে শ্রীনিকেতনে একটি মহিলা পরিচালিত দূর্গা পূজা করে আসছে। আমি কাজের সূত্রে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই মহিলা সমিতির সাথে যুক্ত হয়েছি, রক্তদান শিবির, ছোট ছোট অপেক্ষাকৃত শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, বিশেষ বিশেষ দিনে তাদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, নতুন জামা কাপড় প্রদান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে পাশে থেকেছে তারা, আমি অন্তত তাদের সাথে কাজ করেছি। এই মহিলা সমিতির দুর্গা পুজোকে ঘিরে গত বছর থেকেই একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত বছর বিশেষ কারণবশত (জানতে চাইলে বলবেন খুব ,ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করব আপনাদের সাথে) চক্রান্ত করে তাদের পুজোটি করতে দেওয়া হয় নি।। আসলে তা নয়, স্থানীয় মানুষেরা পুজটিকে স্থানীয় পুজোতে রূপান্তরিত করে মহিলা সংগঠন পরিচালিত পুজতির অস্তিত্বকে একবারে ধুলিস্যাৎ করে তুলতে বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠে।
অনেকদূর পর্যন্ত লড়াই করেছিলাম আমরা, জেলার সমস্ত আধিকারিক, সহ নানান মানুষের কাছে এই সমস্ত মেয়েদের নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম সমস্ত ব্যস্ততা কাটিয়ে। কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে পারছি না কয়েকজন মানুষ একদম কয়েকজন মানুষ ক্ষমতা দেখিয়ে এই মহিলা সংগঠনটিকে বিপাকে ফেলার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। মহিলা সমিতির বিরুদ্ধে ১৪৫ জনকে সই করিয়ে তা জমা দেওয়া হয় নির্দিষ্ট কোন এক কর্তৃপক্ষের কাছে। ঘটনাটা সম্পূর্ণ ভুল ছিল,।আমি বরাবরই এই সমস্ত পিছিয়ে থাকা মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। সেদিনও ছিলাম এই মহিলার সংগঠনটির পাশে।যার জন্য চরম হেনস্থার শিকারও হতে হয়েছিল আমাকেও। অনেক চেষ্টা করেও মেয়েরা পুজোটা করতে পারেনি। এটা দুর্ভাগ্য নয় এটা ৭৫ বছর স্বাধীনতার এতটা পথ হাঁটার পরেও আমাদের কাছে লজ্জার,
যথারীতি মেয়েরা ঠিক করেছিল এবারও পুজোটা হবে।
সকলের অনুমতি নিয়েই পূজোটা আমরা অন্য একটি গ্রামে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করেছি,আমাদের কাছে পূজা মানে শুধুমাত্র নতুন পোশাক পড়ে, সেজে গুজে আনন্দ করাটা বড় ব্যাপার নয়, প্রতিবছর পূজো মানে আমরা অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশুর হাতে নতুন জামা কাপড় তুলে দিই, মায়েদেরদিই নতুন শাড়ি। এবারও ভেবেছিলাম মহিলা পরিচালিত এই পুজটি একটি আদিবাসী গ্রামে করতে পারলে আর কিছু না ,হোক সেখানকার পিছিয়ে থাকা মানুষগুলোকে অন্ততপক্ষে চার দিন নিখুঁত আনন্দ খুঁজে দিতে পারব।
তাই এবারও এক বুক আশা নিয়ে এই মহিলা সংগঠনটির পাশে দাঁড়িয়েছি। মেয়েরা চাইছে পুজোটা হোক নতুন ছন্দে ,নতুন আঙ্গিকে একটি আদিবাসী পল্লীতে। অনেকের সহযোগিতা পেয়েছি, স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দারা আনন্দিত ও উৎফুল্ল, বেশ কিছু মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু কিছু মানুষ ,আবারও ক্রমাগত টেনে পিছনে নামিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর হয়ে উঠেছে। জানিনা সমস্যাটা ঠিক কোথায়? অনুমান করতে পারি কিন্তু সমস্যাটাকে এখনো ছুঁতে পারিনি,
তবে আমরা হাল ছাড়তে নারাজ, এবারও চেষ্টা করছি আপ্রাণ, সংগঠনটিকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে। আমার সমস্ত বন্ধু ,বান্ধব শুভানুধ্যায়ীদের অনুরোধ আপনারাও পাশে দাঁড়ান। আমাদের নতুন করে কোন পারমিশন লাগবে না, শুধু মহিলা সংগঠনটির দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পুজোটিকে অনুমোদিত করলেই হবে।
এক বুক আশা নিয়ে কিছু দুস্থ মানুষের সেবা করবার অঙ্গীকারে আমরা প্রতিদিন পথ চলি, জানিনা ওদের ঠিকঠাক পাশে দাঁড়াতে পারবো কিনা, জানিনা সত্যি সত্যি এই সমস্যার কোন সুরাহা আছে কিনা, তবে সকলের কাছে অকান্ত অনুরোধ, আমরা যারা মেয়েরা, মায়েরা, সমাজের হাল ধরতে চাইছি, তাদের অন্ততপক্ষে এভাবে জোর করে সমস্যার সম্মুখীন না করাই ভালো। এতে বোধ হয় সমাজের রুগ্ন দশা বাড়বে বই কমবে না।
জানিনা কি হবে, তবে আরো একবার প্রতিবাদের অপেক্ষায়, মা দুর্গার দিকেই তাকিয়ে রইলাম।