Mission Green Universe Foundation

Mission Green Universe Foundation Mission Green Universe is working for Creating a Sustainable way of life or Global Green Culture

Caring Nature, Caring Future  World Nature Conservation Day
28/07/2026

Caring Nature, Caring Future
World Nature Conservation Day

সবার উপরে প্রকৃতি সত্য: এক বিংশ শতাব্দীর সহনশীল বিশ্ব পরিবারের দর্শন

প্রকৃতির হাত ধরেই পৃথিবীতে মানব সভ্যতার সূচনা। মানুষ প্রকৃতিরই সন্তান। প্রকৃতির অকৃপণ দানে পরিপুষ্ট ছিল মানবজীবন। ঝর্ণার জল তৃষ্ণা মিটিয়েছে, গাছের পাতা দিয়েই মানুষ লজ্জা নিবারণ করেছে, আর ক্ষুধা মিটিয়েছে বনের ফলমূল খেয়ে। অর্থাৎ প্রকৃতি ছিল মানুষের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও আশ্রয়দাতা।

সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের দ্বারা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অর্জন করল। আগুনের আবিষ্কার, কৃষির উদ্ভব, নদীর তীরে বসতি স্থাপন—এসবই সভ্যতার প্রথম ধাপ। পরে মানুষ প্রকৃতির উপকরণ ব্যবহার করে যন্ত্র তৈরি করল, ঘরবাড়ি গড়ল, শহর নির্মাণ করল। এই অগ্রগতির পথে মানুষ ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে দূরে সরে গেল। তার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে লোভও বাড়তে লাগল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শক্তিতে বলীয়ান হয়ে মানুষ শুরু করল প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা। ভুলতে লাগল যে মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানই সভ্যতার প্রকৃত ভিত্তি।

এই অন্ধ প্রতিযোগিতার ফলে মানুষ নিজের সৃষ্টিকারী প্রকৃতিকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করল। শুরু হলো প্রকৃতির ওপর ধ্বংসযজ্ঞ। দেশ-দেশান্তরে যুদ্ধের অজুহাতে মানুষ তৈরি করল পারমাণবিক বোমার মতো মারণাস্ত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে সেই বোমা নিক্ষেপের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, অগণিত মানুষ বিকলাঙ্গ হয়েছিল।
প্রশ্ন জাগে—এইসব অস্ত্র কি কেবল মানুষের ক্ষতি করছে? প্রকৃতি তথা পৃথিবীও কি এতে আক্রান্ত হচ্ছে না? যদি হয়, তবে এই দায় কার?

দর্শনের তাৎপর্য:
“সবার উপরে প্রকৃতি সত্য”—এই উক্তিটি কেবল একটি বাক্য নয়, বরং একটি গভীর পরিবেশ-দর্শনের মূল কথা। আধুনিক যুগে, যেখানে মানুষের কর্মকাণ্ড প্রকৃতিকে ছাপিয়ে যেতে চাইছে, সেখানে এই দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মধ্যযুগের কবি বড়ু চণ্ডীদাস বলেছেন, “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।” এটি মানবতাবাদের চূড়ান্ত প্রকাশ। কিন্তু “সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” দর্শনটি মানবকেন্দ্রিক এই ধারণার পরিপূরক হিসেবে প্রকৃতিকে সর্বোচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করে।

এই ভাবধারা ‘প্রকৃতিবাদ’ (Naturalism) দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রকৃতিবাদ অনুসারে, মহাবিশ্ব কেবল প্রাকৃতিক নিয়ম ও শক্তির দ্বারাই পরিচালিত হয়; এখানে অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তির ভূমিকা নেই। এই মতবাদ মানুষকে পৃথিবীর শাসক নয়, বরং প্রকৃতির এক অতিথি হিসেবে দেখে। দার্শনিক রুশোও বলেছিলেন, মানুষের শিক্ষা ও বিকাশে প্রকৃতির ভূমিকা অপরিহার্য।

প্রকৃতির সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অবস্থান:
প্রকৃতির সার্বভৌমত্ব বলতে বোঝায়—প্রকৃতিই সর্বশক্তিমান এবং মানুষের সমস্ত কার্যকলাপ তার সীমার মধ্যেই আবদ্ধ। মানুষ যতই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত তাকে প্রকৃতির নিয়মেরই অধীন হতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প—সবই প্রকৃতির শক্তির প্রতিফলন, যা প্রমাণ করে মানুষের ক্ষমতা প্রকৃতির তুলনায় কত ক্ষুদ্র।

পশ্চিমা দর্শনে দীর্ঘদিন মানুষকে সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়েছে, যেখানে ঈশ্বর তাকে জগতের উপর আধিপত্য দিয়েছেন। এই মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই আজকের পরিবেশ সংকটের মূল কারণ। “সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” এই অহংকারকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—সে প্রকৃতিরই অংশ, শাসক নয়।

পরিবেশ নীতিবিদ্যা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা:
পরিবেশ নীতিবিদ্যা দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যা মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে নৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। এটি মানুষকে প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধ হতে শেখায়।

দুটি দৃষ্টিভঙ্গি এখানে গুরুত্বপূর্ণ—নৃকেন্দ্রিক (মানবকেন্দ্রিক) ও প্রকৃতিকেন্দ্রিক (নিবিড় প্রতিবেশবাদ)। “সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” মূলত প্রকৃতিকেন্দ্রিক দর্শনকে সমর্থন করে। নিবিড় প্রতিবেশবাদ (Deep Ecology) মনে করে, মানুষসহ সব জীবেরই অন্তর্নিহিত মূল্য আছে—শুধু মানুষের উপকারের জন্য নয়, বরং তাদের নিজস্ব অস্তিত্বের কারণে।

একবিংশ শতকে এই দর্শনের প্রয়োজনীয়তা-
আজ যখন গোটা পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও উদ্বাস্তু সমস্যায় ভুগছে, তখন “সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” দর্শন আবার নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়েছে।

মানুষের উচিত প্রকৃতির ভারসাম্যকে সম্মান করা। প্রকৃতির ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপের ফল মানুষকেই ভোগ করতে হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর মতো ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির প্রতিশোধের মুখে মানুষ কত অসহায়।

আমরা আমাদের সন্তানদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী বানাতে চাই; কিন্তু তারা যে পৃথিবীতে বাস করবে, যদি সেই পৃথিবীই অসুস্থ হয়, তবে তারা কেমন সুস্থ নাগরিক হবে?

কবি বলেছিলেন—“সবার উপরে মানুষ সত্য।” কিন্তু মানুষ আজ “সত্য” নয়, “শক্তি” প্রমাণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। সেই প্রতিযোগিতাই প্রকৃতিকে বিপন্ন করছে। অপরদিকে, “সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” দর্শন মানুষকে আবার প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার, সহাবস্থানের পথে চালিত করে।

“সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” দর্শনটি একটি টেকসই, সহনশীল ও সুস্থ পৃথিবী গঠনের মূল চাবিকাঠি। এটি মানুষকে তার সীমা ও দায় সম্পর্কে সচেতন করে, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।
প্রকৃতি আমাদের জীবনের উৎস—তাই প্রকৃতিকে ভালোবাসা, রক্ষা করা ও তার সঙ্গে সুরে সুর মিলিয়ে চলাই মানুষের সত্যিকার মানবধর্ম।

লেখক - অর্ধেন্দু বিশ্বাস ( পেশায় শিক্ষক, নেশায় পরিবেশ কর্মী) বিবেক বৃক্ষ নামে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠাতা - মিশন গ্রিন ইউনিভার্স ফাউন্ডেশন
বিবেক পাঠাগার, ক্লাইমেট স্কুল,
বহরমপুর স্ট্রিট লাইব্রেরী
যোগাযোগ -৮৯২৬০৩৪৩১৮/
তাঁর কাজের সাথে যুক্ত হতে
www.missiongreenuniverse.org
[email protected]
https://share.google/K18aBcONRBQlTRCvx

#সবার_উপরে_প্রকৃতি_সত্য #বিবেক_বৃক্ষ #সবুজ_সংস্কৃতি_অভিযান

22/07/2026
🌳 গাছ লাগান, হটনগর বাঁচান 🌿বাঁধ বাঁচাতে মুর্শিদাবাদ জেলায় মেগা বৃক্ষরোপণ অভিযানএকটি গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না—একটি গ্রা...
16/07/2026

🌳 গাছ লাগান, হটনগর বাঁচান 🌿
বাঁধ বাঁচাতে মুর্শিদাবাদ জেলায় মেগা বৃক্ষরোপণ অভিযান
একটি গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না—একটি গ্রামকে বাঁচাতেও পারে।
মুর্শিদাবাদ জেলার ছোট্ট গ্রাম হটনগর আজ নদীভাঙনের ভয়াবহ সংকটের মুখে। পূর্বে অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ এবং পশ্চিমে ভাগীরথী নদী দ্বারা বেষ্টিত এই গ্রামটি গত কয়েক বছরে নদীভাঙনের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
গ্রামবাসীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং ভারত সরকারের সেচ দপ্তরের উদ্যোগে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন সেই বাঁধকে দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হটনগরকে রক্ষা করতে আমরা শুরু করেছি এক মেগা বৃক্ষরোপণ অভিযান।
🎯 আমাদের লক্ষ্য
🌱 বাঁধকে আরও টেকসই ও শক্তিশালী করা।
🌱 হটনগর গ্রামকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা।
🌱 দেশীয় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা।
🌱 নমামি গঙ্গা প্রকল্পের উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করা।
🌱 জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা।
🌱 তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত করা।
🌱 সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলা।
🌳 যে গাছগুলি রোপণ করা হবে
বট, পাকুড়, কদম, অশ্বত্থ, অর্জুন, শিরিষ এবং অন্যান্য দেশীয় বৃক্ষ।
🤝 আপনি কীভাবে সহযোগিতা করতে পারেন?
✅ ৭ ফুট বা তার বেশি উচ্চতার দেশীয় চারাগাছ দান করে।
✅ বৃক্ষরোপণের দিন স্বশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রমদান করে।
✅ সামাজিক মাধ্যমে এই উদ্যোগের প্রচার করে।
✅ আর্থিক বা অন্যান্য যেকোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে।
📅 কর্মসূচির দিন
🗓️ ১৯শে জুলাই (রবিবার)
🕤 সময়: সকাল ৯:৩০ মিনিট
📍 পথ নির্দেশ:
মহুলা মোড় (১২ নম্বর জাতীয় সড়ক) থেকে মহুলা–রাজাপুর গঙ্গার ধার দিয়ে ৪ কিলোমিটার।
💚 সমস্ত পরিবেশপ্রেমী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী এবং সচেতন নাগরিকদের আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।
উদ্যোগে:
🌿 মিশন গ্রিন ইউনিভার্স ফাউন্ডেশন
🌍 ক্লাইমেট স্কুল
📞 সহযোগিতা / কোলাবোরেশন:
8926034318 / 7029115813
https://share.google/0soBV8IhuiDXoOTdW
🌐 আমাদের কাজ সম্পর্কে জানতে:
www.missiongreenuniverse.org
আসুন, একটি গাছ লাগিয়ে শুধু একটি বাঁধ নয়—একটি গ্রাম, একটি নদী, একটি ভবিষ্যৎকে রক্ষা করি। 🌳💚

#সবার_উপরে_প্রকৃতি_সত্য

07/06/2026
সবার উপরে প্রকৃতি সত্য:  এক বিংশ শতাব্দীর সহনশীল বিশ্ব পরিবারের দর্শনপ্রকৃতির হাত ধরেই পৃথিবীতে মানব সভ্যতার সূচনা। মানু...
04/06/2026

সবার উপরে প্রকৃতি সত্য: এক বিংশ শতাব্দীর সহনশীল বিশ্ব পরিবারের দর্শন

প্রকৃতির হাত ধরেই পৃথিবীতে মানব সভ্যতার সূচনা। মানুষ প্রকৃতিরই সন্তান। প্রকৃতির অকৃপণ দানে পরিপুষ্ট ছিল মানবজীবন। ঝর্ণার জল তৃষ্ণা মিটিয়েছে, গাছের পাতা দিয়েই মানুষ লজ্জা নিবারণ করেছে, আর ক্ষুধা মিটিয়েছে বনের ফলমূল খেয়ে। অর্থাৎ প্রকৃতি ছিল মানুষের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও আশ্রয়দাতা।

সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের দ্বারা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অর্জন করল। আগুনের আবিষ্কার, কৃষির উদ্ভব, নদীর তীরে বসতি স্থাপন—এসবই সভ্যতার প্রথম ধাপ। পরে মানুষ প্রকৃতির উপকরণ ব্যবহার করে যন্ত্র তৈরি করল, ঘরবাড়ি গড়ল, শহর নির্মাণ করল। এই অগ্রগতির পথে মানুষ ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে দূরে সরে গেল। তার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে লোভও বাড়তে লাগল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শক্তিতে বলীয়ান হয়ে মানুষ শুরু করল প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা। ভুলতে লাগল যে মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানই সভ্যতার প্রকৃত ভিত্তি।

এই অন্ধ প্রতিযোগিতার ফলে মানুষ নিজের সৃষ্টিকারী প্রকৃতিকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করল। শুরু হলো প্রকৃতির ওপর ধ্বংসযজ্ঞ। দেশ-দেশান্তরে যুদ্ধের অজুহাতে মানুষ তৈরি করল পারমাণবিক বোমার মতো মারণাস্ত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে সেই বোমা নিক্ষেপের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, অগণিত মানুষ বিকলাঙ্গ হয়েছিল।
প্রশ্ন জাগে—এইসব অস্ত্র কি কেবল মানুষের ক্ষতি করছে? প্রকৃতি তথা পৃথিবীও কি এতে আক্রান্ত হচ্ছে না? যদি হয়, তবে এই দায় কার?

দর্শনের তাৎপর্য:
“সবার উপরে প্রকৃতি সত্য”—এই উক্তিটি কেবল একটি বাক্য নয়, বরং একটি গভীর পরিবেশ-দর্শনের মূল কথা। আধুনিক যুগে, যেখানে মানুষের কর্মকাণ্ড প্রকৃতিকে ছাপিয়ে যেতে চাইছে, সেখানে এই দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মধ্যযুগের কবি বড়ু চণ্ডীদাস বলেছেন, “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।” এটি মানবতাবাদের চূড়ান্ত প্রকাশ। কিন্তু “সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” দর্শনটি মানবকেন্দ্রিক এই ধারণার পরিপূরক হিসেবে প্রকৃতিকে সর্বোচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করে।

এই ভাবধারা ‘প্রকৃতিবাদ’ (Naturalism) দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রকৃতিবাদ অনুসারে, মহাবিশ্ব কেবল প্রাকৃতিক নিয়ম ও শক্তির দ্বারাই পরিচালিত হয়; এখানে অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তির ভূমিকা নেই। এই মতবাদ মানুষকে পৃথিবীর শাসক নয়, বরং প্রকৃতির এক অতিথি হিসেবে দেখে। দার্শনিক রুশোও বলেছিলেন, মানুষের শিক্ষা ও বিকাশে প্রকৃতির ভূমিকা অপরিহার্য।

প্রকৃতির সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অবস্থান:
প্রকৃতির সার্বভৌমত্ব বলতে বোঝায়—প্রকৃতিই সর্বশক্তিমান এবং মানুষের সমস্ত কার্যকলাপ তার সীমার মধ্যেই আবদ্ধ। মানুষ যতই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত তাকে প্রকৃতির নিয়মেরই অধীন হতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প—সবই প্রকৃতির শক্তির প্রতিফলন, যা প্রমাণ করে মানুষের ক্ষমতা প্রকৃতির তুলনায় কত ক্ষুদ্র।

পশ্চিমা দর্শনে দীর্ঘদিন মানুষকে সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়েছে, যেখানে ঈশ্বর তাকে জগতের উপর আধিপত্য দিয়েছেন। এই মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই আজকের পরিবেশ সংকটের মূল কারণ। “সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” এই অহংকারকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—সে প্রকৃতিরই অংশ, শাসক নয়।

পরিবেশ নীতিবিদ্যা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা:
পরিবেশ নীতিবিদ্যা দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যা মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে নৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। এটি মানুষকে প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধ হতে শেখায়।

দুটি দৃষ্টিভঙ্গি এখানে গুরুত্বপূর্ণ—নৃকেন্দ্রিক (মানবকেন্দ্রিক) ও প্রকৃতিকেন্দ্রিক (নিবিড় প্রতিবেশবাদ)। “সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” মূলত প্রকৃতিকেন্দ্রিক দর্শনকে সমর্থন করে। নিবিড় প্রতিবেশবাদ (Deep Ecology) মনে করে, মানুষসহ সব জীবেরই অন্তর্নিহিত মূল্য আছে—শুধু মানুষের উপকারের জন্য নয়, বরং তাদের নিজস্ব অস্তিত্বের কারণে।

একবিংশ শতকে এই দর্শনের প্রয়োজনীয়তা-
আজ যখন গোটা পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও উদ্বাস্তু সমস্যায় ভুগছে, তখন “সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” দর্শন আবার নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়েছে।

মানুষের উচিত প্রকৃতির ভারসাম্যকে সম্মান করা। প্রকৃতির ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপের ফল মানুষকেই ভোগ করতে হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর মতো ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির প্রতিশোধের মুখে মানুষ কত অসহায়।

আমরা আমাদের সন্তানদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী বানাতে চাই; কিন্তু তারা যে পৃথিবীতে বাস করবে, যদি সেই পৃথিবীই অসুস্থ হয়, তবে তারা কেমন সুস্থ নাগরিক হবে?

কবি বলেছিলেন—“সবার উপরে মানুষ সত্য।” কিন্তু মানুষ আজ “সত্য” নয়, “শক্তি” প্রমাণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। সেই প্রতিযোগিতাই প্রকৃতিকে বিপন্ন করছে। অপরদিকে, “সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” দর্শন মানুষকে আবার প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার, সহাবস্থানের পথে চালিত করে।

“সবার উপরে প্রকৃতি সত্য” দর্শনটি একটি টেকসই, সহনশীল ও সুস্থ পৃথিবী গঠনের মূল চাবিকাঠি। এটি মানুষকে তার সীমা ও দায় সম্পর্কে সচেতন করে, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।
প্রকৃতি আমাদের জীবনের উৎস—তাই প্রকৃতিকে ভালোবাসা, রক্ষা করা ও তার সঙ্গে সুরে সুর মিলিয়ে চলাই মানুষের সত্যিকার মানবধর্ম।

লেখক - অর্ধেন্দু বিশ্বাস ( পেশায় শিক্ষক, নেশায় পরিবেশ কর্মী) বিবেক বৃক্ষ নামে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠাতা - মিশন গ্রিন ইউনিভার্স ফাউন্ডেশন
বিবেক পাঠাগার, ক্লাইমেট স্কুল,
বহরমপুর স্ট্রিট লাইব্রেরী
যোগাযোগ -৮৯২৬০৩৪৩১৮/
তাঁর কাজের সাথে যুক্ত হতে
www.missiongreenuniverse.org
[email protected]
https://share.google/K18aBcONRBQlTRCvx

#সবার_উপরে_প্রকৃতি_সত্য #বিবেক_বৃক্ষ #সবুজ_সংস্কৃতি_অভিযান

🌍 সবার উপরে প্রকৃতি সত্য 🌱👶 সুস্থ ও সহনশীল পৃথিবী প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার।আসুন, আগামী প্রজন্মের জন্য গড়ে তুলি একটি ...
03/06/2026

🌍 সবার উপরে প্রকৃতি সত্য 🌱

👶 সুস্থ ও সহনশীল পৃথিবী প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার।
আসুন, আগামী প্রজন্মের জন্য গড়ে তুলি একটি সুস্থ পৃথিবী 🌏 এবং সহনশীল বিশ্ব পরিবার 🤝

💚 সামিল হোন “সবুজ সংস্কৃতি অভিযানে” 🌿

🌳 বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে
একটি দেশীয় বৃক্ষ রোপণ করুন 🌱 অথবা একটি গাছ দত্তক গ্রহণ করুন 🌳

🙏 যারা সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, তাঁরা প্রতি গাছ মাত্র ১০০/- টাকা অনুদান প্রদান করে আপনার শিশুর জন্য একটি সুস্থ পৃথিবী গঠনের মহৎ উদ্যোগে অংশ নিন। 🌍💚

💳 সহযোগিতা / Donate করুন এখানে:
👉 https://share.google/QuHt97QQD85Jg1sbW

🌱 দেশীয় গাছের চারা সংগ্রহ
📚 পরিবেশ বিষয়ক পরামর্শ ও সহযোগিতা
🌐 পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে সদস্য হতে যোগাযোগ করুন—

মিশন গ্রিন ইউনিভার্স ফাউন্ডেশন
🌍 সবুজ সংস্কৃতি, সুস্থ পৃথিবীর অঙ্গীকার

🌐 www.missiongreenuniverse.org
📧 [email protected]
📞 8926034318 / 70291 15813

🤝 আজ একটি গাছ, আগামীর সুস্থ পৃথিবীর বিশ্বাস 🌳

#বিশ্ব_পরিবেশ_দিবস #সবুজ_সংস্কৃতি_অভিযান #সবার_উপরে_প্রকৃতি_সত্য

Address

Mission Green Universe Foundation, Village Nowda, Post Office Debpur, P. S. Beldanga, Murshidabad
Berhampore
742134

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mission Green Universe Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Mission Green Universe Foundation:

Shortcuts

Share