02/05/2022
*মে দিবস উপলক্ষে ভারতীয় রেল এর সকল TRACK MAINTAINERS শ্রমিক দের কে জানাই শ্রমিক দিবসের শুভেচ্ছা ও কষ্টদায়ক অভিনন্দন। চাকরি পাওয়ার আগেও জানতাম না আসলে TRACK MAINTAINERS দের কাজ টা কি আর ঠিক কত টা আরামদায়ক ।*
*যখন সূর্যমামা 45℃ এ বিরাজ করে তখন TRACK এ গরু ছাগল কুকুর রা থাকে না কিন্তু TRACK MAINTAINERS নামক মানুষরূপী শ্রমিকদের এই কঠিন কাজ গুলো করে যেতে হয় । আর NIGHT DUTY এর পালা পড়লে জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রায় 15 -18 KM পথ অতিক্রম করতে হয় রেল লাইনের পাথরের উপর দিয়ে, সেটা কঠিন শীত হোক বা বর্ষা সঙ্গে 15 কিলো ওজন নিয়ে এবং এটা চলে টানা 8 - 12 দিন ধরে। এর পর ও যদি কোনো অফিসার ট্রেন এ করে যায় এবং কোনো TRACK MAINTAINERS কে জল খেতে বা টয়লেট করতে দেখে বা ড্রাইভার কে দেখে বাঁশি না বাজাতে পারে তাহলে তার শাস্তি হয় এবং ওইদিন কাজে আসেনি বলে ধরে নেওয়া হয় সঙ্গে শাস্তি হিসাবে 1 বছর বা 2 বছরের ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।*
*তার পর আসি ব্যাবস্থা পনার উপর । সকলের মুখে শুনি এটা নাকি কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার বেশ ঘটা করে সচ্ছ ভারত অভিযান মিশন চালু করে জনগণের বাড়িতে টয়লেট বানিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন কিন্তু ভারতীয় রেল এর মোট কর্মচারী বর্তমানে 12 লক্ষ হলেও তার প্রায় 5 লক্ষ এই TRACK MAINTAINERS এ কর্মরত হলেও দুঃখের বিষয় রেল থেকে তাদের কোনো থাকার ব্যবস্থা করা হয়নি ও চেষ্টাও করা হয়নি আরো অবাক করা বিষয় এই সকল কর্মচারী গণ তাদের প্রাকৃতিক কর্ম মানে টয়লেট ঝোপে ঝাড়েই সারেন এর মধ্যে শুধু পুরুষরা নন প্রচুর মহিলা কর্মীরাও তাই করেন।*
*রেল এর অফিসার দের কে জানানোর পর তারা জানান আমাদের থাকার ব্যবস্থা করলে নাকি আমরা কাজ করবো না ফাঁকি মারবো তাই তারা আমাদের থাকার ব্যবস্থা করেন না অথচ ডিভিশনের এক একটা অফিসারের ঘর রাজ প্রাসাদের চাইতে কম কিছু নয় সঙ্গে এয়ার কন্ডিশন মেশিন। অথচ কঠোর ঠান্ডার সময় রাতে গাছের নিচে আশ্রয় নিতে হয় , বর্ষায় অন্য বিভাগের রুম এ ঢুকে কোনো রকম বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে হয় আর গরমে তো প্রতি দিনের ব্যাপার অতিরিক্ত গরমের জন্য খাবার নষ্ট হয়ে যায় , আর খাবার জলের ও কোনো রকম সুবিধা নেই , ORS এর কোনো ব্যবস্থা নাই।*
*ভারতীয় রেল এ আর অন্যসব বিভাগের এই রকম কোনো সমস্যা নেই আর দুর্ভাগ্য এতো টাই যে দিনের পর দিন যে LDCE পরীক্ষা গুলির নোটিফিকেশন বের হয় তাতে ট্র্যাকমেনটেনারদের কোনো ঠাঁই নাই এবং *GDCE সে তো বের হবার কোনো প্রশ্নই নাই। তাও আমরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী। ধিক্কার জানাই রেল এর এই ইংরেজ দের আমলের নিয়ম কানুন কে । আর স্যালুট করি সেই সকল TRACK MAINTAINERS দের কে যারা এতো বাধা অতিক্রম করে নিজের কাজ গুলো কে করে চলেছেন । রেল এর সব কর্মচারীরা কাজের ফাঁকে রেস্টের সুযোগ পেলেও আমরা পাই না কারণ পর্যাপ্ত কাজ শেষ হয়ে গেলেও আমাদের লাইনের ওই 5 ফুট ধরে বসে থাকতে হয় এই 53° গরমে , কখন কোন অফিসার যাবে তাকে স্যালুট জানানোর জন্য ! কারণ আমাদের পেছনে স্টিকার লাগানো আছে আমরা নাকি SAFTY DEPERTMENT , অথচ বিগত 9 -10 বছরে পর্যাপ্ত সেফ্টি মেটেরিয়াল কেউ পেলাম না , না না আলাদা কিছু চাইছি না , রেলবোর্ডের সার্কুলারে যা আছে সেগুলিই পাচ্ছি না (সেফটি সু, উইন্টার জ্যাকেট, লুমিইনাস জ্যাকেট, রেন কোর্ট) ইত্যাদি ! স্যালুট করি সেই সকল মহিলা কর্মচারীদেরকে যারা ওপেন লাইনে এই সকল বাধা কে অতিক্রম করে কাজ করে চলেছেন । এই বারের শ্রমিক দিবস সেই সকল শ্রমিক ও বাহিনীর জন্য উৎসর্গ করা হল।* * া_কথা_বলা_খুবই_দরকার_যে_গোটা_ভারতে_প্রতিদিন_গড়ে_2_জন_করে_track_maintainers তাদের জীবন বলিদান করেন তার পর ও তাদেরকে শহীদ ঘোষণা করা হয় না এবং এটার কোনো খবর ই বের হয় না কেউ জানতে পারেন না।*😢😢😢😢😢
*আসুন আজকের এই মহান মে দিবসে এই শপথ গ্রহণ করি, লড়াই করেই প্রতিটি ট্র্যাক মেইন্টেনারের অধিকার আদায় করব।*
*আন্তর্জাতিক মে দিবস জিন্দাবাদ*
*শ্রমিক ঐক্য জিন্দাবাদ*
*দুনিয়ার মজদুর এক হও*