13/08/2025
এক বছর আগে, কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ঘটে গিয়েছিল এক বিভীষিকাময় ঘটনা। তরুণী চিকিৎসক “অভয়া”র ধর্ষণ ও হত্যার খবর আমাদের শিহরিত করেছিল, ক্ষুব্ধ করেছিল, আর সেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা রাজ্যে ও রাজ্যের বাইরে। আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম, মোমবাতি জ্বালিয়েছিলাম, সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ ছড়িয়েছিলাম—শুধু একটাই চাওয়ায়, ন্যায়বিচার।
এক বছর পর, প্রশ্ন একটাই—আমরা কি কিছু বদলাতে পেরেছি?
মামলার বর্তমান অবস্থা
এই মামলায় একজন অভিযুক্ত শাস্তি পেলেও, পরিবারের অভিযোগ—সে একাই দায়ী নয়। তদন্ত যেন বারবার ধীর গতিতে এগিয়েছে, বারবার নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এক বছর পার হয়ে গেলেও, অভয়ার পরিবার এখনও পূর্ণ ন্যায়বিচার পায়নি। তাদের ক্ষত শুধু রক্ত নয়, সিস্টেমের অবহেলায় আরও গভীর হয়েছে।
সিস্টেম কি বদলেছে?
দুঃখজনকভাবে, আমাদের সিস্টেমে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো দুর্বল, অনেক জায়গায় সিসিটিভি নেই, রাতের শিফটে কর্মরত নারী ডাক্তার বা নার্সরা ভয় নিয়ে কাজ করেন। নতুন আইন ও প্রতিশ্রুতির কথা বলা হলেও, বাস্তবে তার প্রভাব তেমন দেখা যাচ্ছে না।
নারীর নিরাপত্তার চিত্র
আজকের দিনে পশ্চিমবঙ্গ হোক বা ভারতের অন্য রাজ্য, নারীর নিরাপত্তা এক বড় উদ্বেগের জায়গা। কর্মজীবী নারীকে নিজের কাজের জায়গা বা যাতায়াতের পথ নিয়ে প্রতিদিন চিন্তা করতে হয়। কখনও গাড়িতে, কখনও অফিসে, কখনও হাসপাতালে—অসুরক্ষার ছায়া সব জায়গায়। আমরা বারবার শুনি, “নারীরা আজ অনেক এগিয়েছে”—কিন্তু নিরাপত্তার দিক থেকে আমরা এখনো শুরুর লাইনেই দাঁড়িয়ে আছি।
কী করা উচিত?
প্রথমত, তদন্তে গাফিলতি বরদাস্ত করা যাবে না। প্রতিটি অপরাধী, যত ক্ষমতাশালী হোক না কেন, আইনের আওতায় আসতে হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে—সিসিটিভি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী, জরুরি হেল্পলাইন। তৃতীয়ত, নতুন আইন কেবল কাগজে নয়—দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে হবে আমাদের সামাজিক মানসিকতায়। নারীকে স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়ার, কাজ করার, নিজের মতো বাঁচার অধিকার কেবল কথায় নয়—কাজে দেখাতে হবে।
এক বছর আগে আমরা অভয়ার জন্য ন্যায়বিচারের শপথ নিয়েছিলাম। আজও সেই শপথ পূর্ণ হয়নি। যদি আমরা এই ব্যর্থতা মেনে নেই, তবে শুধু অভয়া নয়, প্রতিটি মেয়ের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা হারিয়ে যাবে। সময় এসেছে, প্রতিশ্রুতি নয়—কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার।