13/08/2024
গতকাল ছিল World Elephant Day বা বিশ্ব হাতি দিবস। এই হাতি দিবসের চলটা খুব বেশী দিনের নয় কিন্তু। ২০১২ সাল নাগাদ এলিফ্যান্ট রিইন্ট্রোডাকসন ফাউন্ডেশন এবং কানাডিয়ান ফিল্মমেকার প্যার্টিসিয়া সিমস এর যৌথ উদ্যোগে এর শুরু হয়। সারাবিশ্ব জুড়ে হাতির বাসস্থান ও অন্যান্য সমস্যাজনিত সংকটের দিকে নজর টানার জন্যই মূলত এর সুত্রপাত। তখন থেকেই ১২ আগষ্ট দিনটিকে রাখা হয়েছে হাতি দিবস হিসেবে। তারপর বারো বছর সফলভাবে প্রতিবছর এই দিনটি উৎযাপিত হয় হাতির ওপর বিভিন্ন ওয়াইল্ডলাইফ মুভি শো, ছবির প্রতিযোগিতা, সেমিনার, ওয়েবিনার, জার্নালের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে।
এবার আসি আমাদের পশ্চিমবঙ্গের কথায়। আমাদের লালমাটি অঞ্চলে বসবাসকারীদের জীবনের সাথে এই প্রাণীটির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গবেষণামূলক কাজের মধ্য দিয়ে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম এই চারটি জেলার মানুষের সাথে কথাবার্তা বলে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় জঙ্গল কেটে রাস্তা, রেললাইন,খনি খননের ফলে বাসস্থান সংকটই এদের মাইগ্রেশনের অন্যতম কারণ। তাই জঙ্গল পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি শহরাঞ্চলের তুলনায়। আবার যে গ্রামের গা ঘেঁষে নদী বয়ে গেছে বা বড় কোনো জলাশয় আছে সেখানে হাতি জল খাওয়া, স্নান করতে নামা বা বিশ্রাম করে তাই এইসব যায়গায় দীর্ঘদিন হাতির দল থেকে যায়। এছাড়া খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও এরজন্য অনেকাংশেই দায়ী। জঙ্গল পাতলা হয়ে আসছে। বনবিভাগ থেকে কাঠের উদ্দেশ্যে শাল, সেগুন এমনকি এক্সোটিক ইউক্যালিপটাস লাগানো হচ্ছে। ইউক্যালিপটাস থেকে কেমিক্যাল টক্সিন ক্ষরন হয়ে অন্য স্থানীয় গাছেদের বৃদ্ধি রোধ করছে। হাতির দলও জঙ্গলে খাবার না পেয়ে লোকালয়ে এসে খাদ্যগ্রহণের সহজ পন্থা খুঁজে নিয়েছে ফলে কখোনো বিঘার পর বিঘা ফসল নষ্ট হচ্ছে, কখোনো আবার ট্রাক আটকিয়ে চালের বস্তা টেনে নামানোর ভিডিও ভাইরাল হতে দেখা গেছে। আর মানুষজন জমির ফসল, ধানের গোলা বাঁচাতে গেলে তাদের ফল হচ্ছে মর্মান্তিক। তাছাড়া সরকারি প্রকল্পে গ্রামের ঘরে ঘরে শৌচাগার থাকলেও তার ভগ্নদশা। যথোপযুক্ত নিকাশি ব্যাবস্থার অভাবের কারণে জঙ্গলে যাতায়াতের প্রয়োজন, বেআইনি ভাবে জঙ্গলের জমি অধিগ্রহণ করে চাষাবাদ, উৎসাহী জনগনের হাতিকে উত্তক্ত করার ভিডিও সেল্ফি তোলার প্রবনতার ফল নিজের কবর নিজেই খোঁড়া। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট তাই হাতিকে কেন্দ্র করে সেল্ফি ভিডিওগ্রাফি বা ফোটো তোলা নিশিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় এনেছে। এইভাবে আরো সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এবং গোড়ার ছোট ছোট সমস্যা গুলিকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করলে শুধু হাতি নয় বিশ্বের সমস্ত প্রানীর সাথে হাতির সহাবস্থান দেখা যাবে বলে আশা রাখি।
Caption by Aritri Chatterjee, ছবি © Sùmàñ Poulick