29/05/2026
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাবের শ্রদ্ধাঞ্জলি ও
সাংবাদিক দিবস উদযাপন
বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক, প্রবাসী ও মডার্ন রিভিউ পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের ১৬২ তম জন্মদিন যথোচিত মর্যাদা সহকারে পালন করা হল। বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে প্রতি বছর ২৯ মে সাংবাদিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এদিন সকালে শহরের পোদ্দারপাড়া মোড়ে রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ ভট্টাচার্য। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তিতে ফুল মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় পৌর সদস্য রাজিব দে, প্রাক্তন পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত, প্রাক্তন পৌরসদস্য রাধারানী ব্যানার্জি, বাঁকুড়া জেলা জাতীয় ক্রীড়া ও শক্তি সংঘের সম্পাদক সৌরভ বসু, ভলেন্টারি ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির সম্পাদক বিপ্রদাস মিদ্যা, রামকিঙ্কর বেইজ স্মৃতি কমিটর সম্পাদক অরূপ দত্ত, বাঁকুড়া অনুশীলন সমিতির সম্পাদক প্রদীপ নাগ, শিক্ষাবিদ মৌসুমী কুণ্ডু, কবি আলোক মণ্ডল, কবি অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়, দিলীপ দত্ত, যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী কমিটির সভাপতি গৌতম দত্ত, বাঁকুড়া তাম্বুলি সমাজের পক্ষে বিকাশ কুণ্ডু, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সাংবাদিকবৃন্দ ও স্থানীয় নাগরিকরা।
পরে তাঁরা দেশাত্মবোধক সংগীত সহকারে একটি বর্ণাঢ্য পদযাত্রা করে পাঠকপাড়ায় রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভিটায় গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সেখান থেকে পদযাত্রাটি প্রেস ক্লাবের কার্যালয় রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি ভবনে পৌঁছায় । সেখানে রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদানের পর কর্মসূচি শেষ হয়। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে প্রেস ক্লাবের সম্পাদক সন্তোষ ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্পাদক ও একজন প্রকৃত সমাজ সংস্কারক হিসেবে রামানন্দ বাবুর আদর্শ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন এক্সক্লুসিভ খবর করার নামে বর্তমানে সত্যাসত্য যাচাই না করে এমন কিছু অসত্য এবং অর্ধসত্য সংবাদ ছড়িয়ে পড়ছে তাতে সমাজের ক্ষতি হচ্ছে। মেইন স্ট্রিম মিডিয়াতেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন এটা সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আচরণের পরিপন্থী। রামানন্দ বাবু বলেছিলেন সাংবাদিকতা করতে হলে দেশের ইতিহাস ভূগোল সংস্কৃতি সবকিছু ভালোভাবে জানা জরুরি। শাসকের বিরুদ্ধে সত্য সংবাদ কোন শাসকের পছন্দ নয়। ভয়মুক্ত হয়ে কলমকে চালনা করতে গেলে শাসকের রোষানলে পড়তে হবে। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষকের কাজের থেকে সম্পাদকের কাজকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন না। তিনি অধ্যাপকের নিশ্চিন্ত জীবন ছেড়ে সংবাদপত্র সম্পাদনা ও প্রকাশনাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন সারা দেশে সাংবাদিক দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি নিয়ে প্রেস ক্লাব নতুন সরকারের নিকট আবেদন করবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও রামানন্দের নামাঙ্কিত একটি ডাকটিকিট প্রকাশের এবং তাঁর জন্মভিটেকে হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণার আর্জি জানান । অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত, গঙ্গাধর সরকার ও উত্তম চট্টোপাধ্যায়। হরসুন্দর মল্লিক ও মহাদেব মুখোপাধ্যায় অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন।