31/05/2026
ধর্মনিরপেক্ষতা নাকি হিন্দুবিরোধিতা?
২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী তারাপীঠে গিয়ে মা তারার পূজা করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন— “আমি প্রথমে হিন্দু, তার পর ব্রাহ্মণ, তারও পরে কমিউনিস্ট।”
এর ফল কী হয়েছিল?
আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ক্ষুব্ধ হয়েছিল। শোকজ নোটিশ, তিরস্কার, অপমান— সবকিছুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। কারণ একজন কমিউনিস্টের মন্দিরে যাওয়া নাকি মার্ক্সবাদী আদর্শের পরিপন্থী!
কিন্তু প্রশ্ন হলো, একই সময়ে আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা প্রকাশ্যে ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেছেন, হজে গিয়েছেন, নামাজ পড়েছেন, ইফতার আয়োজন করেছেন। তাঁকে কি কখনও শোকজ করা হয়েছিল? তাঁকে কি কখনও বলা হয়েছিল যে তিনি কমিউনিস্ট আদর্শ ভঙ্গ করছেন?
উত্তর হলো— না।
কারণ তখন আদর্শের চেয়ে বড় ছিল ভোটব্যাংক। হিন্দু নেতার ধর্মীয় পরিচয় ছিল অপরাধ, কিন্তু মুসলিম নেতার ধর্মীয় পরিচয় ছিল রাজনৈতিক প্রয়োজন।
যখন হিন্দু নিজের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করে, তখন বলা হয় "ধর্ম আফিম"। কিন্তু সংখ্যালঘু তোষণের প্রশ্নে সেই তত্ত্ব কোথায় হারিয়ে যায়?
এই দ্বিচারিতা নতুন নয়। বহু বছর ধরে বাংলার রাজনীতিতে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার নামে হিন্দু সমাজের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়কে আঘাত করা হয়েছে। হিন্দুদের ক্ষেত্রে আদর্শ, অন্যদের ক্ষেত্রে ভোট— এটাই ছিল বাম রাজনীতির বাস্তব চেহারা।
ধর্মনিরপেক্ষতা যদি সত্যিই সবার জন্য হয়, তাহলে নিয়মও সবার জন্য সমান হতে হবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, সেই সমতা কখনও দেখা যায়নি।
আজ সময় এসেছে এই ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দেওয়ার।
ধর্ম আফিম হলে সবার জন্য আফিম।
আর যদি ধর্ম পালনের অধিকার মৌলিক অধিকার হয়, তাহলে সেটাও সবার জন্য সমান।
দ্বিচারিতা নয়, সমান ন্যায় চাই।
#হিন্দু_বিরোধিতা
#দ্বিচারিতা
#ধর্মনিরপেক্ষতার_মুখোশ
#সুভাষ_চক্রবর্তী
#বাংলার_রাজনীতি
#হিন্দু_সমাজ