10/10/2026
প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী শিবপ্রসাদ ধরকে সম্মাননা ও কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমির ‘সামাজিক বন্ধন’ কর্মসূচি
আগরতলা, ১০ অক্টোবর: মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করা এবং ত্রিপুরার বিশিষ্ট গুণীজনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমি অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ কর্মসূচি ‘সামাজিক বন্ধন’। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে আগরতলার নাগেরজলা, বিবেকানন্দ ক্লাব সংলগ্ন ত্রিপুরার প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী শ্রী শিবপ্রসাদ ধরের বাসভবনে উপস্থিত হন একাডেমির সদস্যরা। শিল্পীর সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা আন্তরিক সময় অতিবাহিত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় সংগীত, সাহিত্য, স্মৃতিচারণ ও মানবিক সম্পর্কের এক সুন্দর মিলনপর্বে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিত। শিল্পী শিবপ্রসাদ ধরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া, তাঁর সঙ্গে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া এবং তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ শোনাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে একাডেমির পক্ষ থেকে শিল্পী শিবপ্রসাদ ধরের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে তাঁর সংগীতসাধনা ও সাংস্কৃতিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী শিবপ্রসাদ ধরের সংগীত পরিবেশনা। তিনি নজরুলগীতি, আগমনী সংগীত ও মান্না দে-এর গানসহ একাধিক গান পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন। তাঁর পরিবেশনায় উঠে আসে বাংলা গানের ঐতিহ্য, ভক্তি, আবেগ এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের চিরন্তন অনুভব। সংগীতের পাশাপাশি তিনি তাঁর দীর্ঘ সাংস্কৃতিক পরিক্রমার নানা অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি উপস্থিত সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। নজরুলসংগীত, বাংলা সাহিত্য এবং ত্রিপুরার সংগীত ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানটিকে বিশেষ তাৎপর্য প্রদান করে।
এই সাংস্কৃতিক মিলনপর্বে ত্রিপুরা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিত মহোদয়ও নজরুলসংগীত ও আগমনী সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত সংগীত নিবেদন অনুষ্ঠানের পরিবেশকে আরও সুরময় ও প্রাণবন্ত করে তোলে। একদিকে শিবপ্রসাদ ধরের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ সংগীত পরিবেশনা, অন্যদিকে বিচারপতি মহোদয়ের নজরুলসংগীত ও আগমনী সংগীত নিবেদন—সব মিলিয়ে ‘সামাজিক বন্ধন’ কর্মসূচি এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ লাভ করে। অনুষ্ঠানে সংগীত ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি ত্রিপুরার সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা ও স্মৃতিচারণ হয়। কাজী নজরুল ইসলামের মানবতাবাদী ভাবনা, তাঁর সংগীতের সর্বজনীন আবেদন এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় সংস্কৃতির ভূমিকা আলোচনায় বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।
কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমি অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো—এটি কেবল আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন বিশিষ্ট শিল্পীর পাশে দাঁড়ানো, তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া, তাঁর সঙ্গে সময় কাটানো এবং তাঁর জীবনব্যাপী সাধনার অভিজ্ঞতা থেকে সমৃদ্ধ হওয়ার একটি আন্তরিক প্রয়াস। বর্তমান সময়ে ব্যস্ততা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার মধ্যে প্রবীণ গুণীজনদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সামাজিক দায়বদ্ধতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত। একাডেমির ‘সামাজিক বন্ধন’ কর্মসূচি এই বার্তাই তুলে ধরে যে, প্রকৃত সাংস্কৃতিক চর্চা শুধু মঞ্চের আলোয় সীমাবদ্ধ থাকে না; মানুষের সুখ-দুঃখের পাশে দাঁড়ানো, গুণীজনদের সম্মান জানানো এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার মধ্য দিয়েও সংস্কৃতির প্রকৃত সার্থকতা প্রকাশ পায়।
সংগীতশিল্পী শিবপ্রসাদ ধরের বাসভবনে আয়োজিত এই আন্তরিক অনুষ্ঠান তাই কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ বা সম্মাননা প্রদান নয়, বরং সংগীত, সাহিত্য, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক স্মরণীয় সম্মিলন। কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমি অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এই প্রয়াস ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গুণীজনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
🙏
ধন্যবাদান্তে,
কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমি অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন