The Freethinking Humanists -Adra

The Freethinking Humanists -Adra uplift cultural reform . complete seculer & spread human rights movement

লেখক-গীতিকার-গায়ক-সাংবাদিক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় যখন 'ওপেন টি বায়স্কোপ' সিনেমাটি বানিয়েছিলেন, দুটি দৃশ্য রেখেছিলেন তাতে।...
28/05/2026

লেখক-গীতিকার-গায়ক-সাংবাদিক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় যখন 'ওপেন টি বায়স্কোপ' সিনেমাটি বানিয়েছিলেন, দুটি দৃশ্য রেখেছিলেন তাতে।
এক, স্কুল থেকে ফিরে মারামারির কথা মায়ের কাছে জানায় কিশোর নায়ক। মারমুখী ভঙ্গিতে বলে 'থোপনা বিলা' করে দেওয়ার কথা।

দুই, কিশোর বন্ধুদের কাছ থেকে মৈথুন ও মানুষের যৌনতার প্রক্রিয়া জানার পরে বয়ঃসন্ধিতে পা দেওয়া আরও একটি ছেলে বার বার বলতে থাকে, না না এভাবে হয় না। হতে পারে না। কীভাবে সম্ভব? আমার বাবা যে খুব রাগী!

অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে পড়ার অভ্যেস যাঁদের আছে, এই দুটো দৃশ্যে নিশ্চয় লাফিয়ে উঠেছিলেন তাঁরা। কারণ, এই দুটো সংলাপ নিজের রসরচনায় আগেই লিখে গিয়েছিলেন অনিন্দ্য। সিনেমাকে যদি নিজের সৃষ্টিশীলতা দেখানোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম বা জায়গা বলে তাঁর মনে হয়, তাহলে সেই ভাবনা থেকেই হয়তো নিজের লেখা অন্যতম সেরা পুরনো লাইন নতুন ভাবে ব্যবহার করেছিলেন।

রোয়ান অ্যাটকিনসনের মি. বিন সিরিজের প্লেন ও বমি করার টুকরো এপিসোডটা বিনের ভক্তমাত্রেরই প্রিয়। সেই মি. বিনকে নিয়েই যখন পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি তৈরি করা হয়, বিমানে বমনের দৃশ্যটি কিন্তু ব্যবহার করা হয়েছিল নতুনভাবেই।

সত্যজিৎ রায়ের 'বাক্স রহস্য' নিয়ে সব্যসাচী-শাশ্বত-রবি ঘোষকে কাস্ট করে টেলিফিল্ম বানিয়েছিলেন সন্দীপ রায়। এরোপ্লেন আকাশে ওঠার সময় লালমোহনবাবুর মুখ যখন বেঁকে যায়, তিনি অজুহাত দেন মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে লড়াই চলার কারণে নাকি অমনটা হয়ে থাকে! টেলিছবির তপেশ প্রশ্ন করে, তাহলে অন্যান্য যাত্রীর হল না কেন! ফেলুদা সরস উত্তর দেয়, আসলে আর সবার হয়ে উনি মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে একাই লড়াই করছিলেন! এটা কিন্তু মূল উপন্যাসে নেই।

পরে যখন সব্যসাচী-পরমব্রত-বিভূকে নিয়ে 'বোম্বাইয়ের বোম্বেটে' বানালেন সন্দীপ, একই দৃশ্য আবারও রাখলেন। হয়তো ভেবেছিলেন, স্কেল যখন আরও বাড়ল, পুরনো ভাল জিনিসগুলোকে আবারও ফেরানো যাক!

আমার বিশ্বাস, 'ভূতের ভবিষ্যৎ' দেখতে গিয়েও দর্শক একইভাবে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। আহ্লাদিতও হয়েছিলেন নিশ্চয়ই। কারণ সেই ছবিতে ছিল দুটো দৃশ্য। সঙ্গে শব্দের খেলা।

প্রথম দৃশ্য, ডাকাতদল বলছে 'সোনাদানা সব চাই, নইলে... জবাই!'

দ্বিতীয় দৃশ্য, স্বস্তিকা কদলীবালা মুখার্জি লিপ দিচ্ছিলেন 'দেব না দেব না রে' গানে।

দর্শক কেন আহ্লাদিত হয়েছিলেন? কারণ তুমুল জনপ্রিয় হওয়া টেলিভিশনের দুটো বিজ্ঞাপন ওরকমই ছিল। কিন্তু ঘরে ঘরে সেই বিজ্ঞাপন দুটো পৌঁছলেও বিজ্ঞাপন নির্মাতা অনীক দত্তকে নিয়ে ক'টা আলোচনাই বা হত তখন? অনীক তাই যখনই আরও বড় স্কেলে খেলার সুযোগ, বৃহত্তর ময়দান পেয়েছিলেন, নিজেকে উদযাপন করেছিলেন নিজেই।

সেই সময় বাংলা ছবি যখন বেশি করে শহর-ঘেঁষা হয়ে পড়েছিল, তখন প্যারালাল সিনেমা হিট করিয়ে চমকে দিয়েছিলেন সৃজিত মুখার্জি, মৈনাক ভৌমিক, শিবপ্রসাদ-নন্দিতা এবং অবশ্যই অনীক দত্ত। এই পথ অবশ্য আগেই দেখিয়ে গিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ।
'ভূতের ভবিষ্যৎ' কেন হিট হল, সেটা বলা কঠিন। এই মুহূর্তে রিলিজ করলে হয়তো তা না-ও হতে পারত। কিন্তু 'ওয়ান বুক অথার'-এর মতো ওই একটি ছবি বানিয়েই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নিজের নামটি পাকা করে নেন অনীক। পপুলার কালচারে একেবারে স্থায়ী আসন করে নেয় হাতকাটা কার্তিক, পোঁদ প্রধান চরিত্রগুলো। একটা ইন্টারভিউতে অনীক বলেছিলেন, এক ভদ্রলোক তাঁকে নাকি রীতিমতো থ্রেট দেন, 'ভূতের ভবিষ্যৎ আমি বাষট্টি বার দেখেছি। পরের ছবিতে ঝোলালে বাড়ি গিয়ে পেঁদিয়ে আসব।'

পানিং-কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন অনীক। আমি নিজে পানপ্রিয় বলে তাঁর ছবির ডায়লগ এখনও মুখস্থ।

অনীক দত্ত বিজ্ঞাপন জগতের মানুষ বলে বিস্তর ক্যাচলাইন তাঁকে তৈরি করতে হয়েছে। শব্দ নিয়ে কায়দাবাজিতে তাই তিনি রীতিমতো দড়। 'আশ্চর্য প্রদীপ' সিনেমায় মৃৎশিল্পী খরাজ মুখোপাধ্যায় ডায়লগ দেন, 'মাত্র পাঁচ কেজির মূর্তি হবে? তাহলে তো কুচযুগ কুঁচো সাইজের করতে হবে।'

অথবা, 'আইভি নাম শুনলেই এইচআইভির কথা মনে পড়ে।

কিংবা, 'অনিলদা, আপনি রুম নাম্বার ফোর জিরো জিরোতে গিয়ে একটু জিরোন।'

অথবা, 'কুমোরটুলিতে যারাই ঠাকুর বানায়, তাদের পদবি প্রায় সবারই পাল কেন বলুন তো?'

'কুমোরটুলিতে পালেদের কেমন যেন একটা মনোPaulই। এজন্যই বোধহয় রবি ঠাকুর প্রতিবাদ করে লিখেছিলেন পাল তুলে দাও, দাও দাও দাও।'

সত্যি বলতে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের ক্যারিয়ার মোটেই ভাল যাচ্ছিল না তখন। কিন্তু একই বছরে মুক্তি পাওয়া দুটো ছবি তাঁর ক্যারিয়ারের পালে তুফান তুলে দিয়েছিল- 'কাহানি' আর 'ভূতের ভবিষ্যৎ'। হাতকাটা কার্তিক চরিত্রের 'তুই কে রে শান্তিগোপাল' কিংবা 'দুটো পেটো সব পাতলা' ডায়লগও অমরত্ব পেয়েছে।

সত্যজিৎ রায়ের কট্টর ভক্ত ছিলেন অনীক। সত্যজিৎকে ধারণ করেছিলেন নিজের মধ্যে। যেভাবে পেরেছেন নিজের ছবির সাহায্যে ট্রিবিউট দিয়েছেন রায় সাহেবকে। 'ভূতের ভবিষ্যতে' হাজির করেছিলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় আর বিভূ ভট্টাচার্যকে। পানিংয়ে দড় ছিলেন রায়সাহেবও।

প্রশ্ন উঠতে পারে, পরিচালক অনীক কি ক্রমশ ফুরিয়ে আসছিলেন? না-ও হতে পারে, আবার হতেও পারে। কারণ শেষ দিকে তিনি যা যা ছবি বানিয়েছেন, সেগুলো যে দুর্দান্ত কিছু, তা বোধহয় তাঁর অতি বড় ভক্তও বলবে না।

অনেকেই আছেন, সারা জীবন ধরে সৃষ্টি করে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না তাঁদের।

অনেক লেখকই আছেন, যাঁরা হয়তো ফুলটাইমার হওয়ার জন্য আসেনওনি। গোড়ার দিককার সৃষ্টিতে নিজের সর্বস্ব ঢেলে দেওয়ার পরে সেই একই পৃথিবীতে ঘুরপাক খেয়েছেন তাঁরা। মানুষের প্রত্যাশা বড্ড বেশি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যে!

'ওয়ান বুক অথার'- এর তকমা লেগে যাওয়ার কারণেই হয়তো অনীকের অন্যতম সেরা সৃষ্টি 'বরুণবাবু বন্ধু' অতটা হাইপ পায়নি। আবার 'অপরাজিত' ব্লকবাস্টার হয়েছিল যতটা রায়বাবুর প্রতি ভালবাসা আর অত্যাশ্চর্য ভাল মেক আপের কারণে, ততটা হয়তো পরিচালক অনীকের জন্য নয়।

আবার অত্যন্ত দুর্বল ছবি হলেও 'যত কাণ্ড কলকাতাতেই' কিন্তু ভাল ব্যবসা করেছিল অনীক দত্তের নামের জোরেই। একইসঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল আরও সব হেভিওয়েট সিনেমা। সেগুলোকেও কিন্তু রীতিমতো টক্কর দিয়েছিল 'যত কাণ্ড কলকাতাতেই'।

আসলে পরিচালক অনীক দত্তের সাফল্যের পিছনে অন্যতম বড় কারণ ছিল তাঁর ছবির নিখাদ বাঙালিয়ানা। বাঙালির সঙ্কট, বাঙালির দ্বিধাদ্বন্দ্বকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন একগাদা খাঁটি বাঙালি চরিত্র আর বাঙালির হারিয়ে যাওয়া খাঁটি রসবোধের মেলা বসিয়ে।
তাঁর তৈরি থ্রিলার 'মেঘনাদবধ রহস্য' সিনেমা হিসেবে খুব উচ্চমানের নয়। কিন্তু এই সিনেমায় ব্যবহার করেছিলেন গণসঙ্গীতের মেজাজকে। নিকিতা গান্ধির গাওয়া 'তোমরা এখনও কি' গানটা শুনলে গায়ে কাঁটা দেয় রীতিমতো। জীবনে একবারের জন্যও মেরুদণ্ড না নোয়ানো, স্পষ্টবাদী, মেজাজি অনীকও যেন ফুটে ওঠেন এই গানে। গানের কথা লিখেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র। কথাগুলো এরকম :--

'তোমরা এখনও কি ঘুমের মধ্যে জেগে
তারার মিছিল দেখো আকাশের গায়ে,
গানের সঙ্গে হাঁটো বহুদূর, দূর পথ,
সময়ের ঝড় ঠেলে শ্রান্ত পায়ে।

ভাঙা ছাদ-কার্নিশে, পুরনো বার্নিশে
যে ব্যথা লেগে আছে, তাকে কি ফেরাও?
যে ডাক শুনেছিলে, পথেই পথ চেনা
সে কবি ঘুমিয়ে গেলে, তাকে কি জাগাও?
তোমরা এখনও কি …
ঘুমের মধ্যে জেগে?

বারুদ গন্ধের সেই সে গলিপথ
যেখানে ছেড়ে গেছে বন্ধুটির হাত,
যেখানে রক্তের শুকনো দাগ আজও
আবছা লেগে থাকে অন্তহীন রাত।

বারুদ পুড়েছিল, সেই যে গলিপথ
যেখানে ছেড়ে গেছে ভীরু সে হাত,
তাকে কি মনে পড়ে বেলা ও অবেলায়?
হয়তো জেগে থাকা শূন্যরাত।
এখন কালবেলা..
নদীরা পুড়ছে আজও,
তবুও আগুন নাকি উষ্ণ নয়,
কেউ তো রাখেনি কথা,
রাখার কথা কি ছিল,
কথারা প্রলাপ গায় শহরময়,
তোমরা এখনও কি পলাশ ফুটলে পথে
চমকে দাঁড়িয়ে ভাবো দিনবদল..
আবছা অক্ষর পুরনো ডায়েরিতে,
হন্যে হয়ে খোঁজো কার আদল?

তোমরা আজও কি পথে?
তোমরা আজও কি গাও?
তোমরা আজও কি ভাবো?
তোমরা আজও কি জাগো?
তোমরা আজও কি চাও?'

ভালোবাসা, চেরি ফুলের মাঝের ছোট্ট লাল বিন্দুটা। সুগভীর, প্রজ্জ্বল। চেরি ফুলের মতোই গোলাপী আদরে তাকে আগলে রাখতে হয়। সে ভাল...
20/05/2026

ভালোবাসা, চেরি ফুলের মাঝের ছোট্ট লাল বিন্দুটা। সুগভীর, প্রজ্জ্বল। চেরি ফুলের মতোই গোলাপী আদরে তাকে আগলে রাখতে হয়। সে ভালবাসার খোঁজ জানে প্রজাপতিরা। রাকেশ ছোট বয়সে যে চেরি গাছ লাগিয়েছিল, বর্ষার শেষে তাতে নতুন পাতা ধরেছে। ভালোবাসা সেই কিশলয়ের মতোই নরম। সেই চেরি গাছ যখন বড় হয়ে ওঠে, পাখালিরা তাতেই খোঁজে ভালোবাসার আশ্রয়। শীতের শুরুতে ঠাকুমা ভালোবাসা বোনেন। সেই ভালোবাসা গায়ে চাপিয়েই নাতি-নাতনীরা যখন শোনে রাজপুত্র-রাজকন্যার ভালোবাসার গল্প, বেলা শেষের রোদ্দুর তাদের চোখে, গায়ে, হাতে বুলিয়ে দেয় আদরের স্পর্শ। ভালোবাসা, বাবার পাঠানো শেষ চিঠিতে বিকেল শেষের উত্তাপের মতোই উষ্ণ। ভালোবাসা, হঠাৎ খুঁজে পাওয়া পুরনো কোনো ফটোগ্রাফ। ছোট্ট এক পাহাড়ী ষ্টেশন কিংবা পিপলনগরের মেহনতি মানুষজনের দিনগুজরানের গল্প। ভালোবাসা পাহাড়ীয়া বারিষের মেঘমল্লার। ভালোবাসা সুরেশের মতোই সর্বাঙ্গীন সুন্দর। পাহাড়ের ঢালে মালবেরি লজে যে অশিতীপর বৃদ্ধা থাকেন, ভালোবাসা তাঁর হাত দুটির মতো কবোষ্ণ স্নেহময়। ভালোবাসা মুসৌরি বাজারের বাদাম ভাজা কিংবা মেলা রামের দোকানের লস্যি। ভালোবাসা, দৃষ্টিহীন মেয়েটির অনুভবের মতোই নিবিড়। ভালোবাসা, অকিঞ্চিৎকর কোনও এক রেল স্টেশনে ফাগুনরাঙা বিকেলে দেখা সেই মেয়েটির ডাগর চোখদুটির মতোই চঞ্চল, প্রগলভ।
ভালোবাসা, পাশের বাড়ির মেয়েটির এক চিলতে হাসি। ভালোবাসাকে আঁকড়ে বেড়ে ওঠে বগনভেলিয়ার লতা। সে বসন্তে বগনভেলিয়া ভালোবাসে এক প্রজাপতিকে। পাহাড়ে গ্রীষ্ম আসে। ভালোবাসা, গ্রীষ্ম সন্ধ্যায় হানিসাকলের বুনো গন্ধে তার কথা মনে পড়া। পাহাড়ে বর্ষা নামে বিরহকে সাথ করে। পাইনের গা বেয়ে টুপ টাপ ঝরে পড়ছে বিরহ। ম্রিয়মাণ ফার্নেরা একটু একটু করে জেগে উঠছে পাহাড়িয়া প্রেমের দানে। ভালোবসা, বর্ষা শেষের ফার্নের মতোই চিরসবুজ।
এমনি করেই আবার বসন্ত আসে। রডোডেন্ড্রনের চুমুতে ঘুম ভাঙে অর্কিডের। ওদের প্রেমালাপ দেখে লজ্জায় আরক্তিম হয়ে ওঠে ক্রিসেন্থিমাম। যে কাঠবিড়ালীটি চিরকুমার থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিল, বসন্ত আসলে তারও মনটা আজকাল আনচান করে। হুইস্লিং থ্রাস সারাটা বছর গান গেয়েছে একাকী। এ বসন্তে সে খুঁজে পায় তার গানের দোসর। দুজনায় ঘর বাঁধে ওয়ালনাট গাছে। দুজনায় বাঁধে সুর। পাহাড়িয়া বাতাসে সে সুর ভেসে আসে এক বৃদ্ধের কাছে। ভালোবাসারা একে একে মিশছে তার সত্তায়। পরম যত্নে সে বৃদ্ধ ভালোবাসা মাখিয়ে দিচ্ছেন শব্দদের গায়ে। জন্ম নিচ্ছে ভালোবাসার গল্পরা।
আজ ভালোবাসার জন্মদিন।
শুভ জন্মদিন রাস্কিন বন্ড

ভারতের প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন তারকা জোয়ালা গুট্টা সম্প্রতি মা হওয়ার পরবর্তী এক বছরে প্রায় ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করে এক ন...
17/05/2026

ভারতের প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন তারকা জোয়ালা গুট্টা সম্প্রতি মা হওয়ার পরবর্তী এক বছরে প্রায় ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হায়দ্রাবাদ ও চেন্নাইয়ের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (NICU) চিকিৎসাধীন অপরিনত শিশুদের জীবন বাঁচাতে তাঁর এই উদ্যোগ এখন দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে জোয়ালা সবসময়ই সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, কিন্তু मातৃত্বের এই পর্যায়ে এসে তিনি যে লড়াই লড়লেন, তা বহু শিশুর প্রাণদায়ী সঞ্জীবনী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাডমিন্টন কোর্টে তাঁর জয়গান তো অনেক হয়েছে, কিন্তু মাতৃত্বের প্রথম এক বছর তিনি যে নিভৃত যুদ্ধ চালিয়েছেন, তার সুফল পেয়েছে সমাজের সবচেয়ে অসহায় নবজাতকেরা।

২০২৫ সালের এপ্রিলে জোয়ালার কন্যা মীরার জন্মের পর থেকেই তিনি লক্ষ্য করেন যে তাঁর শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি স্তনদুগ্ধ উৎপন্ন হচ্ছে। এই অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান নষ্ট না করে তিনি তা অভাবী শিশুদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। মাতৃত্বের প্রথম বছরে একজন নতুন মায়ের জন্য শরীর এবং মনের ওপর দিয়ে যে ধকল যায়, তার মাঝে নিয়ম করে পাম্প করে তা সংগ্রহ করা, যথাযথভাবে লেবেলিং করা এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। জোয়ালা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি প্রায় প্রতিদিন নিয়ম করে এই কাজ করেছেন। প্রতিটি ব্যাগে সময় এবং তারিখ লিখে রাখা থেকে শুরু করে ডিপ-ফ্রিজে তা সুরক্ষিত রাখা—সবটাই ছিল এক নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। হায়দ্রাবাদ ও চেন্নাইয়ের সরকারি হাসপাতালগুলিতে যেখানে অভাবী পরিবারের প্রিম্যাচিউর শিশুরা ভর্তি থাকে, সেখানেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে তাঁর এই অমূল্য দান।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এই অবদানের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। জোয়ালা জানিয়েছেন, একটি ১ কেজি ওজনের প্রিম্যাচিউর শিশুর পুষ্টির জন্য মাত্র ১০০ মিলি ডোনার মিল্ক কয়েক দিন পর্যন্ত যথেষ্ট হতে পারে। সেই হিসেবে তাঁর দান করা ৬০ লিটার বা ৬০,০০০ মিলিলিটার তরল সোনা কয়েকশ শিশুর প্রাণ বাঁচাতে বা সুস্থ করতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে যে সমস্ত মায়েরা প্রসব পরবর্তী জটিলতার কারণে সরাসরি স্তন্যপান করাতে পারেন না, তাদের শিশুদের কাছে এই পাস্তুরাইজড মানব দুগ্ধ আশীর্বাদের মতো। জোয়ালা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন 'নেক্রোটাইজিং এন্টারোকোলাইটিস' (NEC) নামক এক ভয়াবহ অন্ত্রের রোগের কথা। অপরিনত শিশুদের ক্ষেত্রে কৃত্রিম ফর্মুলা দুধের চেয়ে প্রাকৃতিক মাতৃদুগ্ধ এই রোগের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। তাঁর এই সংগৃহীত উৎস সরকারিভাবে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে শিশুদের দেওয়া হয়েছে, যা নিওনেটাল কেয়ারের ক্ষেত্রে একটি নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।

জোয়ালা গুট্টার এই পদক্ষেপ ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক অন্ধকার দিককেও আলোকবর্তিকা দেখিয়েছে। আমাদের দেশে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিশু নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভূমিষ্ঠ হয়, যাদের জন্য মায়ের দুধ ওষুধের মতো কাজ করে। অথচ সচেতনতার অভাবে ভারতের হিউম্যান মিল্ক ব্যাঙ্কগুলিতে চাহিদার তুলনায় যোগান অত্যন্ত নগণ্য। জোয়ালা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, রক্তদানের মতোই এই দানকেও একটি সাধারণ ও সামাজিক कर्तव्य হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। ৪১ বছর বয়সে আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে মা হওয়ার পর নিজের শারীরিক কষ্টের কথা লুকিয়ে না রেখে তিনি যেভাবে মাতৃত্বের বাস্তবতাকে তুলেด้าน এনেছেন, তা অন্যান্য মায়েদেরও অনুপ্রাণিত করছে। তাঁর এই নীরব বিপ্লব কেবল পুষ্টির জোগান নয়, বরং মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য এবং নবজাতকদের জীবন রক্ষায় এক নতুন সামাজিক চেতনার জন্ম দিয়েছে যা আগামী দিনে ভারতের শিশু মৃত্যুহার রোধে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা পালন করবে।

 #কে এই গুলিয়া দা?তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণের বাংলায় থমকে যান ক্রেতা। বালুরঘাটে একশো পেরোনো মারোয়াড়ি পরিবারের সন্তান গুলিয়া ওর...
15/05/2026

#কে এই গুলিয়া দা?
তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণের বাংলায় থমকে যান ক্রেতা। বালুরঘাটে একশো পেরোনো মারোয়াড়ি পরিবারের সন্তান গুলিয়া ওরফে নির্মল। গান্ধীজীর ব‍্যবহৃত চশমা,অমর্ত‍্য সেনের বিয়ের কার্ড থেকে কেরোসিনে চলা ফ্রিজ,তাঁর দেরাজের স্বপ্নসুখ। ক‍্যামেরার বিবর্তন দেখতে ছুটে আসেন বহু মানুষ,এই আগরওয়াল হাউজে। ব‍্যক্তিগত সংগ্রহে বিরাট জাদুঘরের প্রাণপুরুষ গুলিয়াদা। এ গেল নেশার কথা। আর পেশা বা প‍্যাশন হল কাপড়ের রেশন ডিলার।স্পষ্ট কথায় সাবসিডিতে সর্বহারাকে কাপড় বেচেন এই কালপুরুষ।
যে দোকানে দিনরাত সব সাবলটার্ন মানুষের ভিড়।রিকশাওয়ালা থেকে দিনমজুর।কেন আসবে না?গুলিয়াদা যে এ শহরের মধুসূদন দাদা।অগতির গতি,অকূলের কূল,অনাথের নাথ। এক বিপদভঞ্জন অবাঙালি। মেয়ের বিয়ে,চোখে জল। হাজারটাকায় বেণারসী মেলে এ দোকানে। হলুদকোটার ছাপাশাড়ি? হাসতে হাসতে দিয়ে দেন একশোতে। সাথে পরিস্থিতি খারাপ মনে হলে বরের দুটো ধুতি ফ্রি। সেবার এক চাষীকে প্রণামীর চারখানা জামদানি জলের দরে দিয়েই বললেন,আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ। তাই রৌদ্রছায়ায় কন‍্যাদায়গ্রস্ত অসংখ‍্য বাবামায়ের ভরসাস্থল বুড়াকালীবাড়ি লাগোয়া এ জমিন। আত্রেয়ীপাড়ের লোক বলেন মিথ। যেখানে দয়ার আশমান দিনেরাতে মিশে একাকার। শীতের জ‍্যাকেট? ঈশ্বরের মত দুশো।সে তো দোকান নয়,একটা মন্দির! মাঘের শীতে লাইন পড়লে" মৃতসাহেবের" বদনাম জুটেছিল তবু অনড় গুলিয়াদা। সব কথা সমীপেষু করে পানতাফুরনো মানুষকে সাজিয়ে তোলাই যে ওনার প‍্যাশন। চুনসুড়কির দোকানছাদ হালে মেরামত করেছেন। বলতেন,ওটাই নাকি গরীবের স্টাইলস্টেটমেন্ট। এ শ্রেণি আলো,পারফিউমে ভয় পায়। তাই আধুনিকতার মাঝেও ক্ষয়ে যাওয়া ধ্বস্ত ক্রেতাকে মনে রেখে,বাতানুকূল মেশিনের পাশে এখনও এখানে লুকোচুরি খেলে কড়িবরগার ছাদ। জীর্ণ পুরাতন গ্লাসের আলমারি ভেসে যায়নি। বরং গরীবের স্মৃতিদাগ ছড়িয়ে আছে দোকানময়। আশ্চর্য একতলায় দরদাম করে শুকনো মুখের ক্রেতা আর সিঁড়ি ভেঙে দোতলায়, ব্র‍্যান্ডের বড়লোকি হাট।অফুরান আলো । এভাবেই শহরের হতদরিদ্র মানুষের সুখ,হাসিকেও মণিমুক্তোর মত আরকাইভে ধরে রেখেছেন আজীবন। নির্মাণ করেছেন হতভাগ‍্যের এক বিপুল জাদুঘর। প্রত‍্যহ প্রিজার্ভ করে চলেছেন গরীবের চাঁদের হাসি,ডেলেবারের আনমল স্মৃতিসুধা। ছেলেদের হাতে ধরে শিখিয়েছেন ,পকেটখালি ক্রেতা চিনবে কি করে?কোন ভাষায় পড়তে হবে তাদের দুর্যোগলিপি ? এটাই গুলিয়াদা। শেষ হয়েও যেন হইল না শেষের মত চরিত্র। কি বলা যায়? অন্তেবাসী শালরজঙ! মফস্বলের নিঃসঙ্গ নিজাম! নাকি ভবসাগরে ভাসমান মনোস্তাত্ত্বিক মিউজিয়ামের সারেঙ! নাকি সকল নিয়ে বসে থাকা এক দীনদয়াল!আদতে তিনি ব‍্যক্তির ঘনায়মান র্সবনাশে রুখে দাঁড়ানো এক পথিক। ভাবতে ভাবতেই নিকটের কালিবাড়িতে সন্ধ‍্যারতি শুরু হয়। ঢাক বাজে অদূরে।দোকানঘরের মাঙ্গলিক ধূপের ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে গুলিয়াদার মুখ। মনে হয় যেন আস্ত দেবাংশী। আত্রেয়ী পাড়ের প্রথম অবাঙালি দেবাংশী। যাঁর কথা কোন পুরাণে লেখা ছিলনা কোনদিন।

'ভুবন সোম'-এর নেপথ্যে অজানা কাহিনি..."খাজা আহমেদ আব্বাস ছিলেন মৃণালদার কাছের বন্ধু। 'ভুবন সোম' মুক্তি পাচ্ছে ১৯৬৯। এটা ও...
14/05/2026

'ভুবন সোম'-এর নেপথ্যে অজানা কাহিনি...

"খাজা আহমেদ আব্বাস ছিলেন মৃণালদার কাছের বন্ধু। 'ভুবন সোম' মুক্তি পাচ্ছে ১৯৬৯। এটা ওই সময়ের কথা। আব্বাস সাহেব তখন 'সাত হিন্দুস্থানি' বানাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি উৎপল দত্তকে চান এই সিনেমার জন্য, কিন্তু উৎপল দত্ত 'ডেট' দিতে চাইছেন না। কেন? না, সেই সময় উৎপল দত্ত শুটিং করছিলেন 'ভুবন সোম'-এর। সময় না-দেওয়ার এটিই রিজন।
এর সমাধান করতেই খাজা আহমেদ আব্বাস দ্বারস্থ হলেন মৃণালদার। ওঁর বক্তব্য: তুমি একটু বুঝিয়ে বলে দাও না। তাহলেই আমার কাজ মিটে যায়। মৃণালদা সব শুনে বললেন, বেশ, তা বলে দেব। তবে আমি একটি ভাল কণ্ঠস্বরের ছেলেকে খুঁজছি। তোমাকে সেই কাজটি করে দিতে হবে। আব্বাস সাহেব প্রতিশ্রুত হলেন।
এককথায়, দু'জন পরিচালকের মধ্যে এক ধরনের মৌখিক চুক্তি হল, যার বুনিয়াদ বন্ধুত্ব।
মৃণালদার কথায় শেষ পর্যন্ত উৎপল দত্ত রাজি হয়ে 'ডেট' দিয়ে দেন। আর, খাজা আহমেদ আব্বাস পাঠিয়ে দেন একটি তরুণ ছেলেকে, মৃণালদার কাছে। পরে যখন মৃণালদার মুখে গল্পটি শুনেছি, সেই সময় উনি বলেছিলেন-
ছেলেটি অল্পবয়সি। তালঢ্যাঙা আর রোগা। তবে কণ্ঠস্বর ভাল। ভরাট ভয়েস। তাকে দিয়ে কার্যোদ্ধার হল। এবার তিনি ছেলেটিকে একদিন ডেকে পাঠালেন। সে এল। তখন মৃণালদা তাকে একটি 'চেক' দেন। ছেলেটি অবাক! কেন, চেক? এই কথা শুনে মৃণালদা অবাক। বললেন-বাঃ, কাজ করলে যে, পারিশ্রমিক নেবে না? ছেলেটি বলে, সে টুকটাক কাজ করেছে বটে, তবে এখনও অবধি পারিশ্রমিক পায়নি। এটি পেয়ে সে তাই অবাক এবং আপ্লুত।
এই ছেলেটি আর কেউ নন-
অমিতাভ বচ্চন। সাতের দশক থেকে তাঁর স্টারডমের অশ্বমেধীয় ঘোড়া ছুটতে শুরু করবে। তিনি কালক্রমে হয়ে উঠবেন 'লিভিং লেজেন্ড', ভারতীয় সিনেমার কালজয়ী নক্ষত্র। অথচ, প্রথম পেমেন্ট পেয়েছেন মৃণালদার সিনেমায় জড়িত থেকে।"

একটি পত্রিকায় জহর সরকারের লেখা থেকে পাওয়া।

আজ মৃণাল সেন-এর জন্মদিনে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম জানালাম।

শিমা কারমানি। পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ভয়ানক অপরাধ করেছেন। এত বড় অপরাধ আর কিছুই হয় না। কারণ তিনি মৌলবাদকে তুড়ি মেরে ...
14/05/2026

শিমা কারমানি। পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ভয়ানক অপরাধ করেছেন। এত বড় অপরাধ আর কিছুই হয় না। কারণ তিনি মৌলবাদকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে নাচ শিখেছেন। হারামের তোয়াক্কা করেন নি কোনোদিন। তাই হিজাব না শাড়ি পরেছেন। পরেই চলেছেন। বিন্দি হারাম, তারা বলেছে। কিন্তু ওঁর পোশাকের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বিন্দি বা টিপ। Pasoori গানে যে শাড়ি পরে নৃত্যশিল্পী নাচ করছেন তিনিই শিমা কারমানি। অপূর্ব নৃত্যশিল্পী শুধু নন, শক্তিশালী মানসিকতার অধিকারী, যে মৌলাবাদীদের চোখে চোখ রেখে নিজের মাটি ছিনিয়ে নেন।

হয়ত ইরানের মত হিজাব না পরার অপরাধে উনিও মৌলবাদীদের কট্টরতার শিকার হবেন। হয়ত ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে যারপরনাই অত্যাচার করা হবে। কারণ হারামের কাজ করেছেন। কিন্তু তাঁর লড়াইয়ের কাছে সারা বিশ্বের মাথা নত হবে শ্রদ্ধায়। মৌলবাদীরা ভয় পাবে এরপরে এই নামটা শুনলে। ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধার চোখের সেই আগুন দেখে যা চোখে চোখ রেখে লড়াই করে। মেয়েদের বন্দী করে রাখার মানসিকতা সম্পন্ন মানুষেরা হয়ত এই নামটা শুনে ভয় পাবে এরপরে। যেমনটা মাশা আমিনির নাম শুনলে মৌলবাদীরা ভয় পায়। ভয় পায় এই ভেবে যে আরেকটা মাশা আমিনী যেন না হয়।

নারীবাদ বড্ড কঠিন বিষয়। তারচেয়েও কঠিন সংগ্রাম করে চলা নারীবাদীরা। স্বাভাবিক কিছু অধিকার, মানুষ হওয়ার অধিকার পেতে তারা শহীদ হতেও প্রস্তুত থাকে। মাশা আমিনি, শিমা কারমানির মত নারীরা সেই উদাহরণই বয়ে নিয়ে চলে। এরপরে যদি মনে হয় ফেমিনিজম নিয়ে খিল্লি বা বিদ্রুপ করবেন, এই নামগুলো মাথায় রাখবেন। সামান্য শাড়ি পরার অধিকার চেয়ে গ্রেপ্তার হওয়া নাম। হিজাব না পরতে চেয়ে, চুল খোলার অপরাধে মৃত্যুদন্ড পাওয়া নাম। নারীবাদ, নারীবাদী, পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন বিষয়। মাথায় রাখবেন।

শুধুমাত্র স্বাভাবিক মানুষের মত বাঁচতে চেয়ে, স্বাভাবিক পোশাক পরার অপরাধে আজ অব্দি কোনো পুরুষ গ্রেপ্তার হয় নি, তার কপালে মৃত্যুদন্ড জোটে নি। কারণ এই সব নিয়ম মেয়েদের জন্যেই। তাই পরের বার ফেমিনিজম বা নারীবাদ নিয়ে বিদ্রুপ করার আগে এই নামগুলো ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নেবেন। দেখবেন হাসি পাবে না, চোখে জল আসবে।

#সংগৃহীত

মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান আন্দোলনের পথিকৃৎ ব্রজ রায়। জন্ম ৩০ নভেম্বর  ১৯৩৬  - মৃত্যু ১৩ মে ২০২১। ব্রজ রায় ছিলেন ভারতে, বিশে...
13/05/2026

মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান আন্দোলনের পথিকৃৎ ব্রজ রায়। জন্ম ৩০ নভেম্বর ১৯৩৬ - মৃত্যু ১৩ মে ২০২১। ব্রজ রায় ছিলেন ভারতে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারতে, মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান আন্দোলনের প্রধান পথিকৃৎ এবং সমাজকর্মী। সনাতন ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের প্রাচীর ভেঙে মানুষের মৃতদেহকে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণার কাজে উৎসর্গ করার এক বৈপ্লবিক সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন তিনি।
গণদর্পণ প্রতিষ্ঠা: সামাজিক অন্ধত্ব দূর করার লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে গণদর্পণ (Ganadarpan) প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে এই সংগঠনটি মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান আন্দোলনের মূল কাণ্ডারীতে পরিণত হয়।
আন্দোলনের অনুপ্রেরণা: ১৯৬৪ সালে বামপন্থী বিজ্ঞানী জে.বি.এস. হ্যালডেনের মরণোত্তর দেহদানের সিদ্ধান্ত ব্রজ রায় ও তাঁর সতীর্থদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। ১৯৮৬ সালের ৫ নভেম্বর হ্যালডেনের জন্মদিবসে ব্রজ রায় সহ ৩৪ জন ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেন।
সামাজিক প্রচার: পশ্চিমবঙ্গের শহর থেকে সুদূর গ্রামে ঘুরে ঘুরে সেমিনার, কর্মশালা ও প্রচারের মাধ্যমে তিনি মানুষকে বোঝাতেন—"মৃত্যুর পর দেহ পুড়িয়ে ছাই বা মাটিতে কবর না দিয়ে, তা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় উৎসর্গ করা অনেক বেশি মানবিক ও যুক্তিবাদী কাজ"।
উল্লেখযোগ্য সাফল্য: তাঁর আন্দোলনের ফলেই পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বরা মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত গণদর্পণ (Ganadarpan) এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ দেহদানের অঙ্গীকার কার্ড সংগ্রহ করেছেন।
গণদর্পণ নামে সংগঠনের প্রধান ব্রজ রায় ছিলেন বাংলায় দেহদান, অঙ্গদান আন্দোলনের পুরোধা। পাশাপাশি দীর্ঘ বাম আন্দোলনের ইতিহাস জড়িয়ে ছিল ব্রজ রায়ের সঙ্গে। বিপ্লবী কমিউনিস্ট ধারার একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন তিনি। অনন্ত সিংহদের বাম গোষ্ঠী ‘ম্যান-মানি-গান’ বা এনএমজি-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। জেলে বন্দি ছিলেন বেশ কিছুকাল। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এ অনেকদিন কাজ করেছেন ব্রজবাবু। এ সবের পাশাপাশি তাঁর পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল দেহ, অঙ্গদানের মতো কর্মসূচিকে মানুষের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আজীবন সশস্ত্র বাম আন্দোলনে বিশ্বাসী ব্রজ রায় হয়ে উঠেছিলেন দেহ ও অঙ্গদান আন্দোলনের প্রথম সারির মানুষ।

নাট্যকার বাদল সরকারের ‘তৃতীয় থিয়েটার’ (Third Theatre) ভারতীয় নাট্যমঞ্চে এক বৈপ্লবিক সংযোজন। এটি কেবল নাটকের ধারা নয়, ব...
13/05/2026

নাট্যকার বাদল সরকারের ‘তৃতীয় থিয়েটার’ (Third Theatre) ভারতীয় নাট্যমঞ্চে এক বৈপ্লবিক সংযোজন। এটি কেবল নাটকের ধারা নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট নাট্যদর্শন, যা প্রথাগত প্রসেনিয়াম থিয়েটারের (প্রথম থিয়েটার) যান্ত্রিকতা এবং লোকনাট্যের (দ্বিতীয় থিয়েটার) সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর এক প্রচেষ্টা।
বাদল সরকারের তৃতীয় থিয়েটারের নাট্যদর্শন ও বর্তমানে তার প্রাসঙ্গিকতা :
• বাদল সরকারের তৃতীয় থিয়েটারের নাট্যদর্শন (Philosophy)বাদল সরকার থিয়েটারকে কেবল বিনোদন হিসেবে দেখেননি, বরং একে সামাজিক যোগাযোগের ও পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁর দর্শন ছিল— থিয়েটার হবে নমনীয়, বহনীয় ও সুলভ।
•প্রসেনিয়াম বিরোধী:
প্রথাগত উঁচু মঞ্চ, আলোর কারসাজি, দামি সেট এবং দর্শক-অভিনেতার মধ্যবর্তী দূরত্বের প্রসেনিয়াম থিয়েটারকে তিনি বর্জন করেছিলেন।অঙ্গন মঞ্চ (Intimate Theatre): তৃতীয় থিয়েটারে অভিনেতা ও দর্শকের মধ্যে কোনো অদৃশ্য দেওয়াল থাকে না। একই সমতলে, খুব কাছের দূরত্বের মধ্যে নাটক অভিনীত হয়, যেখানে দর্শকদেরও নাটকের অংশ করে নেওয়া যায়।
•শরীরের ভাষা (Physical Acting):
বাচিক অভিনয়ের চেয়ে শরীরের ভাষা (Physical Expression), অঙ্গভঙ্গি এবং দলীয় অভিনয় (Chorus) এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংলাপের চেয়ে শরীরের ভাষায় অনেক গভীর ভাব প্রকাশ করা হয়।
•বিকল্প মঞ্চ:
মাঠ, প্রাঙ্গণ, ড্রয়িংরুম, বা রাস্তার মোড়—যেকোনো জায়গায় এই নাটক করা সম্ভব। কোনো বিশেষ মঞ্চসজ্জার প্রয়োজন নেই, শুধু প্রয়োজন অভিনেতা এবং দর্শক।
•সামাজিক দায়বদ্ধতা:
তৃতীয় থিয়েটারের মূল লক্ষ্য হলো শোষিত মানুষের কথা বলা, প্রতিবাদ করা এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা।
আজকের দিনে তৃতীয় থিয়েটারের প্রাসঙ্গিকতা (Relevance Today)
•একবিংশ শতাব্দীর এই দ্রুতগতির ও যান্ত্রিক যুগে, বিশেষ করে করপোরেট সংস্কৃতির দাপটে বাদল সরকারের এই দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
★ নাট্যকার, অভিনেতা, নাট্যপরিচালক বাদল সরকারের জন্ম ১৫ জুলাই, ১৯২৫ - মৃত্যু ১৩ মে, ২০১১। তার নাটক দল শতাব্দী গঠিত হয় ১৯৭৬ সালে। ভারতে আধুনিক নাট্যকার হিসেবে হাবিব তানভীর, বিজয় তেন্ডুলকর, মোহন রাকেশ এবং গিরিশ কারনাডের পাশাপাশি বাংলায় বাদল সরকারের নাম উচ্চারিত হয়।
------------------------------
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য ও বিপ্লবী কণ্ঠস্বর, যিনি মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করলেও, তাঁর কাব্যকর্ম বাংলা সাহিত্য ও রাজনৈতিক প্রতিবাদে এক অসামান্য প্রভাব রেখে গেছে। তাঁর কবিতায় শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, অন্যায়, ক্ষুধা ও অসাম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে।
•সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার রাজনৈতিক প্রতিবাদী দর্শন:
১. মার্কসবাদী ও প্রগতিশীল চেতনা:
সুকান্ত ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী। তাঁর কবিতায় পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ফুটে ওঠে। তিনি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক ও শ্রমিকদের পক্ষে কলম ধরেছিলেন।
২. ক্ষুধার রাজ্যে প্রতিবাদের ভাষা:
''ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় / পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি'—এই পংক্তির মাধ্যমে তিনি ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে রোমান্টিকতার চেয়ে অস্তিত্বের সংগ্রাম কতটা বাস্তব তা তুলে ধরেছেন। ক্ষুধা যে একটি রাজনৈতিক সমস্যা, তা তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
৩. ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ৪৩-এর মন্বন্তর, দাঙ্গা ও ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন।
৪. তারুণ্যের বিদ্রোহ:
সুকান্তের কবিতা তরুণ প্রজন্মকে অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে উন্নত শিরে দাঁড়াতে শেখায়। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তিনি তারুণ্যের শক্তি ও সাহসের জয়গান গেয়েছেন।
৫. শ্রেণি সংগ্রাম ও নবজাগরণ:
তাঁর কবিতার মূলমন্ত্র হলো জীর্ণ পুরনো সমাজকে ভেঙে নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। 'ছাড়পত্র' কবিতায় তিনি নতুন শিশুর মাধ্যমে এক নতুন বিশ্বের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।
•আজকের দিনে সুকান্তের কবিতার প্রাসঙ্গিকতা:
সুকান্তের কবিতা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও সমান প্রাসঙ্গিক, কারণ যে শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি লিখেছিলেন, তা আজও সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল হয়নি:
•সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য:
বর্তমানের পুঁজিবাদী বিশ্বে ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান এখনও সুকান্তের সময়ের মতোই তীব্র। শোষিতের পক্ষে তাঁর কবিতা আজও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি তোলে।
•প্রতিবাদ ও আন্দোলনের উৎস:
যে কোনো রাজনৈতিক অনাচার, দুর্নীতি ও দাঙ্গার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সুকান্তের পংক্তি (যেমন—"রানার," "চারাগাছ," "আঠারো বছর বয়স") আজও স্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
•তারুণ্যের অনুপ্রেরণা:
ছাত্র ও যুবসমাজকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং নৈতিকতা রক্ষায় উজ্জীবিত করতে সুকান্তের কবিতা এখনো প্রধান হাতিয়ার।
•মানবাধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তা:
বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা, যুদ্ধ ও উদ্বাস্তু সমস্যার এই যুগে "ঝলসানো রুটি"র চিত্রটি আজও মানুষের হাহাকার ও অধিকারের প্রতীক।সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন এক লড়াকু কবি, যিনি তরুণ বয়সেই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা অন্যায়কে চিনেছিলেন এবং তাঁর কবিতার "বিদ্যুৎশক্তি" দিয়ে মানুষকে সচেতন করেছিলেন।
★ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯২৬ – মৃত্যু ১৩ মে ১৯৪৭।

সুপ্রভাত... আজ মান্টো স্মরনে কয়েকটি কথা বলতে চাই।উর্দু কথাসাহিত্যের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সাদাত হাসান মান্টো। জন্ম ১৯১২ সাল...
11/05/2026

সুপ্রভাত... আজ মান্টো স্মরনে কয়েকটি কথা বলতে চাই।

উর্দু কথাসাহিত্যের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সাদাত হাসান মান্টো। জন্ম ১৯১২ সালের ১১ই মে পাঞ্জাবের লুধিয়ানার সোমরালা গ্রামে। দেশ বিভাগের দাঙ্গা ও পতিতাদের নিয়ে লিখেছেন কিছু অসাধারণ গল্প। বুর্জোয়া সমাজের সকল ভণ্ডামি এবং অপকর্মের বিরুদ্ধে মান্টো সারা জীবন লড়াই করেছেন, অশ্লীলতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু নতি স্বীকার করেননি।

মান্টো ব্রিটিশ আমলে ‘বু’, ‘কাল সালোয়ার’ প্রভৃতি গল্পের জন্য যেমন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন তেমনি পাকিস্তান আমলেও ‘ঠান্ডা গোশত’, ‘খোল দো’, ‘উপর, নিচ ঔর বীচ’ গল্পগুলির জন্য দেশের মূল্যবোধের বিরোধী হিসেবে অভিযুক্ত হন। দুই আমলেই আইনের ধারা ২৯২।

মান্টোর ইংরেজি অনুবাদক খালিদ হাসান বলেছেন, ‘মান্টো শুধু আমাদের দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশের নয়, সারা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় লেখকদের একজন।’ একথা ষোল আনা সত্য।

মান্টোর লেখালেখির জীবন দুই দশকের। এসময় লিখেছেন ২২টি গল্পগ্রন্থ, ৫টি বেতার নাটক ও একটি উপন্যাস। তাঁর লেখালেখির জীবন ও সমকালীন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ক্রমপঞ্জি মিলিয়ে দেখা যাবে, তিনি ব্রিটিশ শাসনের চূড়ান্ত পর্যায়, দেশভাগ ও উপনিবেশ-উত্তর পাকিস্তানের মূলধারার ইতিহাসের এক অস্বস্তিকর সাক্ষী। তাঁর নির্মম সমালোচনায় ঝুড় ঝুড় করে ভেঙ্গে পড়ে সমাজের কৃত্রিম জাঁকজমক।

১৯৩৪ সালের আগস্টে লাহোর থেকে প্রকাশিত ‘খালক’ নামক সাহিত্য পত্রিকায় মান্টোর প্রথম গল্প ‘তামাশা’ ছাপা হয়। গল্পের বিষয়বস্তু সাত বছরের এক বালকের চোখে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড।

জালিয়ানওয়ালাবাগের সভাকে কেন্দ্র করে যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল তার কারণ জিজ্ঞাসিলে খালেদ নামক বালকের পিতা বলেন একটা তামাশা হতে যাচ্ছে। খালেদ আকাশে দেখে চিল চক্রাকারে উড়ছে, প্লেনের পেট থেকে বোমের ডিম পারার গল্প শুনে রোমাঞ্চিত হয়। বাবা খালেদকে তামাশা দেখতে নিয়ে যাবেন এই আশ্বাস দেন। যথারীতি ঘটনার দিন খালেদের উৎসাহ নিবৃত্তিতে বাবা বারবার বলেন তামাশার এখনো অনেক বাকি, সবুর কর বেটা। খালেদ দোতলার জানলা থেকে মাঠের দিকে তাকিয়ে থেকে, আর গুলির শব্দে চমকিত হয়, ভাবে তামাশা শুরু হয়ে গেছে, বাবা কেন এখনো রওনা দেন না! একটা তীক্ষ্ণ ক্ষীণ আর্তচিৎকার ক্রমশ দ্রুতলয়ে বিকট হয়ে ওঠে। সে দেখে একটি ছেলে দৌড়ে পালাচ্ছে। তার পায়ের জখম থেকে ঝড় ঝড় করে রক্ত ঝড়ছে। ছেলেটি খালেদের বাড়ির সামনে লুটিয়ে পড়ে, জ্ঞান হারায়। খালেদ দৌড়ে বাবার কাছে গিয়ে বলে ছেলেটিকে বাঁচাতে। বাবা অজানা এক গম্ভীরতায় নিশ্চুপ থাকেন। খালেদ মার কাছে ছুটে যায়। মা, ছেলেটির কি হয়েছে? মা বলেন, দুষ্টুমি করায় শিক্ষক মেরেছেন। খালেদের পাল্টা প্রশ্ন, কই শিক্ষক মারলে তো রক্ত ঝড়ে না! ছেলেটির বাবার উচিত শিক্ষককে ভাল করে বকে দেওয়া। মা বলেন এই শিক্ষক ছেলের বাবার চেয়ে অনেক বড়, কিছু বলা যাবে না। আল্লাহর চেয়েও কি বড়? খালেদের মা বলেন, না তা নয়। তবে আল্লাহর কাছেই ছেলের বাবার নালিশ জানানো উচিত বলে খালেদ সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

তার মনে একটি প্রশ্ন রয়েই যায়, মানুষকে গ্রেপ্তারের জন্য এত পুলিশ ভ্যান আছে কিন্তু এই মৃতপ্রায় ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় জন্য কোন যানবাহন নেই কেন? সাত বছরের এই বালকের প্রশ্নের মুখে আমাদের চুপ করে থাকতে বাধ্য করেন মাণ্টো তার আরো অনেকানেক কাজের মত যথা খোল দো, ঠান্ডা গোস্ত, বু, নয়া কানুন, কালা সালওয়ার ইত্যাদি।

কৃষণ চন্দর মান্টোর সাথে আড্ডার স্মৃতি নিয়ে বলেছিলেন, আপনি যদি জিন্নাহ বা গান্ধির প্রশংসা করেন তাহলে সে পাড়ার মুচির ব্যক্তিত্বের মহিমা গাইবে।

মান্টো ১৯৫১-৫২ সালে দুবার পাগলা গারদে ছিলেন।

১৯৫৫ সালের ১৮ জানুয়ারি। আগেরদিন এক বীভৎস গল্প শুনে সারাদিন মদ খেয়ে কাটিয়েছেন মান্টো।সকাল দশটার দিকে হঠাৎ তীব্র খিচুনি শুরু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স আসে। দরজায় অ্যাম্বুলেন্স দাড়িয়ে, ব্যথায় কোঁকড়ানো, তবু একটু মদ চাইলেন। তার মুখে এক চামচ হুইস্কি ঢেলে দেওয়া হয়। এক বিন্দু অতি কষ্টে গলার ভিতর প্রবেশ করেছে। অবশিষ্ট মদ মুখের বাইরে পড়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মান্টো অ্যাম্বুলেন্সে মারা যান। ৪২ বছরের এক চামচ জীবন ফুরিয়ে যায়।

ঋণ - খালিদ হোসেন, আয়েশা জালাল

প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি নট, নাট্য পরিচালক এবং থিয়েটার ব্যক্তিত্ব জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায় (৮মে)জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায় ছিলেন...
08/05/2026

প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি
নট, নাট্য পরিচালক এবং থিয়েটার ব্যক্তিত্ব জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায় (৮মে)

জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি নট, নাট্য পরিচালক এবং থিয়েটার ব্যক্তিত্ব।

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলা নাট্যজগতে অবদানের জন্য দীনবন্ধু পুরস্কার লাভ করেন।

তিনি পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সভাপতিও ছিলেন।

জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ জুলাই ব্রিটিশ ভারতের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারে। পিতা জগদীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। তাঁদের আদি নিবাস ছিল ঢাকার বিক্রমপুরে।

১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে বিক্রমপুরের কামারখাড়া হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। কৈশোরেই তিনি অভিনয়ের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। তাঁর আগ্রহ দেখে অজিত মিত্র নিয়ে আসেন ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনে।

একরকম বাড়ির অমতেই তিনি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে আইপিটিএ তথা ভারতীয় গণনাট্য সংঘে যোগ দেন। গণনাট্য সংঘে তাঁর অভিনীত প্রথম নাটক ছিল ঢেউ ।

শুধু বাংলা রঙ্গমঞ্চ নয় যাত্রাজগৎ ও ছায়াছবিতে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে তিনি মাস থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।

তবে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে গণনাট্য সংঘ ছেড়ে আসার পর সক্রিয় হন এবং "কাঁচঘর" মঞ্চস্থ করেন।

মাস থিয়েটার নিয়ে গ্রাম-গঞ্জ শহরে নাটক করেছেন। তবে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় সুধীর মুখোপাধ্যায় পরিচালিত পাশের বাড়ী ছবিতে।

চলচ্চিত্রে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন 'জোসেফ'-এর চরিত্রে সত্যজিৎ রায়ের ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত অভিযান ছবিতে।

তিনি ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন এবং তপন সিনহার মতো বিখ্যাত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

তিনি দীর্ঘ পঞ্চাশ বৎসরের অভিনয় জীবনে ১১২ টি ছায়াছবিতে ঋত্বিক ঘটক , মৃণাল সেন, রাজেন তরফদার, তপন সিনহা, তরুণ মজুমদার প্রমুখ বিখ্যাত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

বিশ্বরূপা, কাশী বিশ্বনাথ মঞ্চসহ বাংলার রঙ্গমঞ্চ ছাড়াও যাত্রাজগতেও অংশ নেন। ভারতী অপেরায় "মাস্টারদা সূর্য সেন" যাত্রাপালায় অভিনয় করেন।

চলচ্চিত্রে, রঙ্গমঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি ছবির পরিচালনা, নাটক রচনা নাট্যনির্দেশনার কাজ করেছেন।

সুখেন দাসের সঙ্গে যৌথ পরিচালনার দায়িত্ব ছিল ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত অচেনা অতিথি ছবিটির। ছবিটি ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে হিন্দিতে অনজানে মেহমান নামে প্রদর্শিত হয়েছিল।

তাঁর একার দায়িত্বে নির্মিত হয়েছিল স্বীকারোক্তি (১৯৭৬) ও বনশ্রী (১৯৮৩)।

চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবে তিনি সেভাবে প্রশংসিত না হলেও নাট্য নির্দেশক হিসাবে তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছেন। 'চরৈবতি', মুক্তির উপায়', 'মল্লিকা' সহ দশটিরও বেশি নাটক রচনার পাশাপাশি প্রায় তিরিশটি নাটক পরিচালনা করেছেন।

পেশাদার মঞ্চ, যাত্রাজগৎ ছাড়াও তিনি বেতার নাটক, দূরদর্শন ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন।

জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায় ২০০০ খ্রিস্টাব্দ হতে আমৃত্যু পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে দীনবন্ধু পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ৮ মে কলকাতায় প্রয়াত হন।

১৯৫২ পাশের বাড়ি
১৯৫৩ বাঁশের কেল্লা
১৯৫৪ আজ সন্ধ্যায়
১৯৫৫ শাপ মোচন
১৯৫৮ অযাত্রিক
১৯৫৮ বাড়ি থেকে পালিয়ে
১৯৬০ মেঘে ঢাকা তারা
১৯৬০ বাইশে শ্রাবণ
১৯৬০ উত্তর মেঘ
১৯৬০ গঙ্গা
১৯৬১ অর্থ
১৯৬১ মেঘ
১৯৬১ আজ কাল পরশু
১৯৬২ অগ্নিশিখা
১৯৬২ অভিযান
১৯৬২ কাজল
১৯৬২ কুমারী মন
১৯৬২ বেনারসী
১৯৬৩ দুই নারী
১৯৬৩ পলাতক
১৯৬৩ ছায়াসূর্য
১৯৬৪ সপ্তর্ষি
১৯৬৪ বিভাস
১৯৬৫ আকাশ কুসুম
১৯৬৫ প্রথম প্রেম
১৯৬৬ সুশান্ত সা
১৯৬৬ অশ্রু দিয়ে লেখা
১৯৬৭ খেয়া রূপক
১৯৬৮ ছোট্ট জিজ্ঞাসা
১৯৬৮ রক্তলেখা
১৯৬৯ তেরো নদীর পারে
১৯৭০ শান্তি
১৯৭০ এই করেছো ভালো
১৯৭০ নল দয়মন্তী
১৯৭১ নিশাচর
১৯৭১ এখানে পিঞ্জর
১৯৭১ সোনা বৌদি
১৯৭১ নিমন্ত্রণ
১৯৭১ অন্য মাটি অন্য রং
১৯৭২ অর্চনা
১৯৭২ মা ও মাটি
১৯৭২ আজকের নায়ক
১৯৭২ বহুরূপী
১৯৭২ অচেনা অতিথি
১৯৭৪ সাধু যুধিষ্ঠিরের কড়চা
১৯৭৪ জীবন রহস্য
১৯৭৫ নতুন সূর্য
১৯৭৫ প্রিয় বান্ধবী
১৯৭৬ ছুটির ঘন্টা
১৯৭৬ স্বীকারোক্তি
১৯৭৭ প্রাণের ঠাকুর রামকৃষ্ণ
১৯৭৭ যুক্তি তক্কো আর গপ্পো
১৯৭৭ হাতে রইল তিন
১৯৭৭ ফুলশয্যা
১৯৭৮ রজনী
১৯৭৮ঈ টুসি
১৯৭৮ করুণাময়ী
১৯৭৮ মা ছিন্নমস্তা
১৯৭৮ বেঞ্জার সাহেব
১৯৭৮ বালক শরৎচন্দ্র
১৯৭৯ যত মত তত পথ
১৯৭৯ অরুণ বরুণ কিরণমালা
১৯৭৯ সমাধান
১৯৭৯ পম্পা
১৯৮০ সন্ধি
১৯৮০ অভি
১৯৮০ রাজাসাহেব
১৯৮১ সৎমা
১৯৮১ খনাবরাহ
১৯৮১ মা বিপত্তারাণী চণ্ডী
১৯৮১ প্রতিশোধ
১৯৮১ স্বামী স্ত্রী
১৯৮২ মেঘের পরে মেঘ
১৯৮২ সমর্পণ
১৯৮২ ছুটি
১৯৮৩ বনশ্রী
১৯৮৩ মুক্তির দিন
১৯৮৪ রাজেশ্বরী
১৯৮৪ বাগদী পাড়া দিয়ে
১৯৮৫ অজান্তে
১৯৮৬ পরিণতি
১৯৮৬ বসুন্ধরা
১৯৮৭ তানিয়া
১৯৮৭ দোলনচাঁপা
১৯৮৮ আঘাত
১৯৮৮ পুনর্মিলন
১৯৮৯ শত্রুপক্ষ
১৯৮৯ জজ সাহেব
১৯৯০ ব্যবধান
১৯৯০ একটি জীবন
১৯৯০ সংক্রান্তি
১৯৯০ স্বর্ণা
১৯৯০ শেষ আঘাত
১৯৯২ অধিকার
১৯৯৩ প্রেমপূজা
১৯৯৩ ঈশ্বর পরমেশ্বর
১৯৯৩ পাষণ্ড পণ্ডিত
১৯৯৪ গজমুক্তা
১৯৯৫ বৌমণি
১৯৯৫ দাগী
১৯৯৬ মিস মৈত্রেয়ী
১৯৯৭ অভিশপ্ত প্রেম
১৯৯৭ দামু
১৯৯৭ প্রতিরোধ
১৯৯৭ তারিণী তারা মা
১৯৯৮ মায়ের অধিকার
১৯৯৮ মানুষের জন্য
১৯৯৯ নিয়তি
২০০১ দুর্গা
২০০১ জয় বাবা লোকনাথ
২০০৩ দেবীপূজা
২০০৩ আলো

Address

24 Khuli
Adra
723121

Telephone

+918145135445

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Freethinking Humanists -Adra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to The Freethinking Humanists -Adra:

Share