The Freethinking Humanists -Adra

The Freethinking Humanists -Adra uplift cultural reform . complete seculer & spread human rights movement

রাসায়নিক নয়, প্রকৃতির পথেই কৃষি! কাশীপুরের কৃষক আঘানি মুর্মুর উদ্যোগ নজর কাড়ছে এলাকাজুড়ে!  পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর ব্...
26/08/2026

রাসায়নিক নয়, প্রকৃতির পথেই কৃষি! কাশীপুরের কৃষক আঘানি মুর্মুর উদ্যোগ নজর কাড়ছে এলাকাজুড়ে!

পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর ব্লকের এক সাধারণ কৃষক আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর নাম আঘানি মুর্মু। আধুনিক কৃষিতে যেখানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ক্রমশ বেড়েই চলেছে, সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছেন তিনি। নিজের সমস্ত জমিতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে দেখিয়ে দিচ্ছেন, প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করেও সফল কৃষি সম্ভব।

আঘানি মুর্মুর বিশ্বাস, মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেই কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাই তিনি নিজের জমিতে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করেন না। শুধু তাই নয়, ফসলকে রোগ-পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় জৈব ওষুধও তিনি নিজেই তৈরি করেন। সম্প্রতি তিনি সেই ওষুধ তৈরির বিভিন্ন উপকরণও তুলে ধরেছেন, যা দেখে অনেকেই উৎসাহিত হয়েছেন।

বর্তমান সময়ে যখন কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস, খাদ্যে রাসায়নিকের প্রভাব এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন আঘানি মুর্মুর মতো কৃষকদের উদ্যোগ নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রকৃতির দেওয়া উপাদান ব্যবহার করে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব, যদি কৃষকরা ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে কাজ করেন।

স্থানীয় মানুষদের একাংশ মনে করছেন, এমন উদ্যোগ শুধু কৃষির ক্ষেত্রেই নয়, আগামী প্রজন্মের সুস্থ জীবন ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আঘানি মুর্মুর মতো কৃষকেরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন, কৃষি শুধু জীবিকা নয়, এটি প্রকৃতি ও সমাজের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতাও।

আঘানি বাবু, আপনার এই অঙ্গীকার ও পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আপনার মতো মানুষের হাত ধরেই হয়তো ভবিষ্যতের টেকসই ও নিরাপদ কৃষির পথ আরও সুদৃঢ় হবে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। সমাজের এমন মানুষদের আজ সত্যিই খুব প্রয়োজন।

✍️ কলমে - |

ঝাড়খণ্ডের এক ছোট্ট গ্রাম। চারদিকে ঘন জঙ্গল, আর সেই জঙ্গলের ভিতর চলছিল নির্বিচারে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার। অনেকেই দেখেছিলেন,...
26/08/2026

ঝাড়খণ্ডের এক ছোট্ট গ্রাম। চারদিকে ঘন জঙ্গল, আর সেই জঙ্গলের ভিতর চলছিল নির্বিচারে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার। অনেকেই দেখেছিলেন, কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস করেননি। তখনই সামনে এগিয়ে আসেন এক সাধারণ আদিবাসী নারী—যমুনা টুডু। হাতে আধুনিক কোনো অস্ত্র ছিল না, ছিল তীর-ধনুক আর জঙ্গলকে বাঁচানোর অদম্য জেদ। হাতে গোনা কয়েকজন মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর লড়াই।

কাঠ মাফিয়াদের হুমকি, হামলা এবং সমাজের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ—কোনো কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি। ধীরে ধীরে তাঁর সেই ছোট্ট উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ে শত শত দলে, যুক্ত হন হাজার হাজার নারী। রক্ষা পায় প্রায় ৫০ হেক্টর বনভূমি। আজ তাঁকে অনেকে চেনেন ঝাড়খণ্ডের ‘লেডি টারজান’ নামে। ২০১৯ সালে পরিবেশ রক্ষায় অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি পান পদ্মশ্রী। যমুনা টুডুর গল্প শুধু একজন নারীর সাহসের নয়, প্রকৃতির জন্য লড়ে যাওয়ার গল্প।

লেখা - সৃষ্টি

----

ভারতের ঝাড়খণ্ডের ঘন জঙ্গলে একসময় অবাধে চলত গাছ কাটা ও কাঠ পাচার। সেই কাঠ মাফিয়াদের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এক সাধারণ আদিবাসী নারী। হাতে ছিল না আধুনিক অস্ত্র, ছিল তীর-ধনুক, আর ছিল জঙ্গলকে বাঁচানোর অদম্য জেদ। হাতে গোনা কয়েকজন স্থানীয় মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হওয়া সেই ছোট্ট লড়াই একদিন বিশাল গণআন্দোলনে পরিণত হয়। শত শত বন সুরক্ষা দল এবং হাজার হাজার নারী যুক্ত হন সেই আন্দোলনের সঙ্গে। রক্ষা পায় প্রায় ৫০ হেক্টর বনভূমি। আর সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া নারী একদিন সম্মানিত হন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সম্মান পদ্মশ্রীতে। তাঁর নাম—যমুনা টুডু।

তাঁকে আজ ঝাড়খণ্ডের ‘লেডি টারজান’ নামে চেনে বহু মানুষ। কিন্তু এই নামের পিছনে শুধু সাহসের গল্প নেই, রয়েছে জঙ্গল ও প্রকৃতিকে রক্ষা করার এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৮০ সালের ১৯ ডিসেম্বর ওড়িশার ময়ূরভঞ্জে জন্ম যমুনা টুডুর। বিয়ের পর ১৯৯৮ সালে তিনি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার মুতুরখাম গ্রামে চলে আসেন। সেখানেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়।

শ্বশুরবাড়িতে এসে যমুনা দেখেছিলেন, গ্রামের আশপাশের জঙ্গলে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। কাঠ পাচারের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের দাপটে ধীরে ধীরে কমছিল জঙ্গলের বিস্তার। কিন্তু অন্য অনেকের মতো সেই দৃশ্য দেখে চুপ করে থাকেননি তিনি। অল্প বয়স থেকেই অরণ্য ও প্রকৃতির প্রতি তাঁর গভীর টান ছিল। মুতুরখামে এসে সেই ভালোবাসাই পরিণত হয় এক কঠিন লড়াইয়ে।

শুরুর পথ মোটেও সহজ ছিল না। পরিবারের অনেকের কাছ থেকেই আপত্তি ও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সমাজের একাংশও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছিল। কিন্তু যমুনা থামেননি। হাতে গোনা কয়েকজন স্থানীয় মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘বন সুরক্ষা সমিতি’। কোনো বড় সরকারি সহায়তা বা আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শুরু হয় জঙ্গল পাহারা দেওয়ার কাজ।

সংসারের কাজ শেষ করে এই নারীরা জঙ্গলে বেরিয়ে পড়তেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই—আর একটি গাছও যেন বেআইনিভাবে কাটা না হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁরা সরাসরি কাঠ মাফিয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। যমুনা টুডু ও তাঁর পরিবার একাধিকবার হুমকি এবং হামলার মুখে পড়েন। ২০০৮ সালে তাঁর ও তাঁর স্বামীর উপর হামলার ঘটনাও সামনে আসে। কিন্তু ভয়, আঘাত বা প্রাণনাশের আশঙ্কা তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি।

ধীরে ধীরে যমুনার এই লড়াই অন্য নারীদেরও অনুপ্রাণিত করতে শুরু করে। ছোট্ট একটি দল থেকে তাঁর উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ে একের পর এক গ্রামে। গড়ে ওঠে শত শত বন সুরক্ষা দল। হাজার হাজার নারী জঙ্গল ও বন্যপ্রাণী রক্ষার কাজে যুক্ত হন। কোথাও সন্দেহজনকভাবে গাছ কাটার চেষ্টা হলে খবর পৌঁছে যেত অন্যদের কাছে, আর গ্রামের মানুষ একত্র হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন।

এই দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতিও একে একে আসে। ২০১৩ সালে যমুনা টুডু ‘গডফ্রে ফিলিপস ন্যাশনাল ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড’-এ সম্মানিত হন। ২০১৭ সালে পান ‘উইমেন ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া অ্যাওয়ার্ড’। আর ২০১৯ সালে পরিবেশ ও সমাজসেবায় তাঁর অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার তাঁকে প্রদান করে পদ্মশ্রী।

তাই ‘লেডি টারজান’ নামটি শুধুমাত্র একটি উপাধি নয়। এটি এমন একজন নারীর পরিচয়, যিনি বুঝেছিলেন—প্রকৃতিকে রক্ষা করার জন্য সবসময় বড় কোনো প্রতিষ্ঠান, বিপুল অর্থ বা ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও কয়েকজন মানুষের সাহস, তীর-ধনুক হাতে জঙ্গলের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং হার না মানার জেদই বদলে দিতে পারে একটি পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ।

যমুনা টুডুর গল্প সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়—একজন সাধারণ মানুষও কখনও কখনও একটি জঙ্গলকে বাঁচানোর আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ হয়ে উঠতে পারেন।

সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবন থেকে রাজ্যের সমস্ত রক্তকেন্দ্রে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে যার মূল ভাবনাগুলি হলো রক্তের জন্য রোগ...
23/08/2026

সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবন থেকে রাজ্যের সমস্ত রক্তকেন্দ্রে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে যার মূল ভাবনাগুলি হলো
রক্তের জন্য রোগী বা তাঁর পরিবারকে অযথা হয়রানি করা যাবে না।

১) রক্তকেন্দ্রে রক্ত থাকলে → দ্রুত দিতে হবে।
২) রক্তকেন্দ্রে ওই গ্রূপের রক্ত না থাকলে → ব্লাড সেন্টার নিজে উদ্যোগ নিয়ে অন্য নিকটবর্তী সেন্টার থেকে ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবে।
৩) রোগীর পরিবারকে → এক সেন্টার থেকে আরেক সেন্টারে অযথা ঘোরানো যাবে না।
৪) থ্যালাসেমিয়া রোগীদের → বিশেষ অগ্রাধিকার ও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দিতে হবে।
৫) ব্লাড সেন্টারের কর্মীদের → ভদ্র ও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে।
৬) বিলম্ব, প্রত্যাখ্যান, হয়রানি বা দুর্ব্যবহার → গুরুতরভাবে বিবেচনা করতে হবে।

অর্থাৎ, এই নির্দেশিকাটি মূলত “রক্তের প্রয়োজনে রোগী ও তাঁর পরিবারকে হয়রানি নয়—ব্লাড সেন্টারকেই সমন্বয় করে রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে”—এই নীতিকে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে যা আমাদের মতো বহু রক্তদান শিবির আয়োজকদের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যেই ছিল।

রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য আরো কিছু পরিকল্পনা দাবি আকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো আছে। আশা করবো সেই দাবিগুলির যৌক্তিকতাও বিচার করে সেগুলিও ধীরে ধীরে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করা হবে।

উৎপল দত্তমেয়ে বিষ্ণুপ্রিয়াকে তিনি একবার বলেছিলেন - “আমি শিল্পী নই। নাট্যকার বা অন্য যে কোনো আখ্যা লোকে আমাকে দিতে পারে। ...
19/08/2026

উৎপল দত্ত
মেয়ে বিষ্ণুপ্রিয়াকে তিনি একবার বলেছিলেন - “আমি শিল্পী নই। নাট্যকার বা অন্য যে কোনো আখ্যা লোকে আমাকে দিতে পারে। তবে আমি মনে করি আমি প্রপাগান্ডিস্ট। এটাই আমার মূল পরিচয়।”
উৎপল দত্তের বর্ণময় প্রতিভা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। নাট্যকার, পরিচালক, অভিনেতা, আচার্য - এই চতুর্মুখ সৃজনে উৎপল বারবার সৃষ্টিকর্তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গেছেন। বাংলা থিয়েটারের ইতিহাস বিচার করলে উৎপলের নাট্যসৃষ্টির ব্যাপ্তি বিস্ময়কর। উৎপল দত্ত রচিত মৌলিক পূর্ণাঙ্গ ও একাঙ্ক নাটক, অনুবাদনাট্য, যাত্রাপালা ও পথনাটক বহু মৌলিক গ্রন্থের রচয়িতা। একাধারে তিনি কবি ও ছোটগল্প লেখক।
পুরো নাম উৎপলরঞ্জন দত্ত। জন্ম ১৯২৯ সালের ২৯শে মার্চ, বাংলাদেশের বরিশাল জেলার কীর্তনখোলায়। যদিও তাঁর পরিবারের আদি বাসস্থান ছিল কুমিল্লা জেলায়। কিন্তু তিনি নিজে তাঁর জন্মস্থান শিলংয়ে তাঁর মামার বাড়িতে বলে উল্লেখ করে গিয়েছেন। উৎপলের বাবা গিরিজারঞ্জন দত্ত ও মা শৈলবালা রায়ের (দত্ত) পাঁচ পুত্র, তিন কন্যার মধ্যে উৎপল ছিলেন চতুর্থ সন্তান। পারিবারিক ডাকনাম ছিল শঙ্কর। বাবা গিরিজারঞ্জন ছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ প্রভাবিত সমাজের উচ্চশ্রেণির মানুষ। তিনি পরবর্তী কালে জেলার হিসেবে ইংরেজ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক (কমান্ড্যান্ট) নিযুক্ত হন। উৎপলের স্কুলজীবন শুরু হয়েছিল শিলং শহরের সেন্ট এডমন্ডস স্কুলে। পরে গিরিজাশঙ্কর বদলি হয়ে আসেন বহরমপুর শহরে। এখানেই উৎপলের ছেলেবেলার দিনগুলো কেটেছিল। ছোট ভাই নীলিন ও তিনি বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র ছিলেন।
মেজদা মিহিররঞ্জন কিশোর উৎপলকে শেক্সপিয়রের নাটকের গল্প পড়ে শোনাতেন। বাড়িতে রেকর্ড চালিয়ে নাটক শোনার চল ছিল। উৎপল সে সব নাটক মন দিয়ে শুনতেন। তাই তিনি মাত্র ছ’বছর বয়সেই শেক্সপিয়রের নাটকের সংলাপ মুখস্থ বলতে পারতেন। পরে কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ার সময়ে পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীতের সংস্পর্শে আসেন। তিনি চেয়েছিলেন কনসার্ট পিয়ানিস্ট হতে। ১৯৩৯ সালে গিরিজাশঙ্কর কলকাতায় বদলি হলে দত্ত পরিবার দক্ষিণ কলকাতার রয় স্ট্রিটে থাকতে শুরু করেন। কলকাতায় আসার পরেই উৎপল বাবা-মায়ের সঙ্গে কলকাতার পেশাদার থিয়েটার দেখতে শুরু করেন।
কিংবদন্তি অভিনেতা শ্রী রবি ঘোষের মতে, উৎপল দত্তর জীবন জুড়ে আছে আরও এক বিশেষ অধ্যায়, তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপালা। ১৯৬৮ থেকে ১৯৮৮ অবধি সফল পালাকার ও পরিচালক উৎপল দত্ত ছিলেন চিৎপুরের যাত্রাপাড়ার একচ্ছত্র অধিপতি। ‘‘নাটক ও যাত্রা আমাকে সৃষ্টির আনন্দ দিলেও চলচ্চিত্র দিয়েছিল বেঁচে থাকার রসদ, মানে টাকা। হিন্দি চলচ্চিত্র আমাকে সর্বভারতীয় অভিনেতা হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছিল।” মধু বসুর ‘মাইকেল’ ছবিতে মাইকেল মধুসূদনের ভূমিকায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে উৎপল দত্তর চলচ্চিত্র জীবনের সূচনা।
তিনি একজন বড় কৌতুকাভিনেতা, তার পরিচয় ছড়িয়ে আছে কিছু ছবিতে। আবার মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, গৌতম ঘোষের ছবিতে তাঁর অভিনয় একেবারে অন্য গোত্রের। মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ তাঁকে চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল। ‘পথের পাঁচালি’ বা ‘জন অরণ্য’ দেখে সত্যজিৎকে লেখা তাঁর আবেগরুদ্ধ চিঠি রয়েছে। সত্যজিৎকে তিনি ডাকতেন ‘স্যর’ বলে। সত্যজিৎও মুগ্ধ ছিলেন উৎপলের প্রতিভায়। বলেছিলেন, ‘উৎপল যদি রাজি না হত, তবে হয়তো আমি ‘আগন্তুক’ বানাতামই না।’
বাংলা নাটকে যেমন মাইকেলকে নতুন ভাবে এনেছিলেন গিরীশ ঘোষ, তেমনই বার্টোল্ড ব্রেখটকে যুক্ত করেছিলেন উৎপল দত্ত।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সিনেমা নয়, তাঁর আসল জাত চিনিয়েছে নাটক। উৎপল দত্তের সঙ্গে নাটকে কাজ করতে চেয়ে তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন সৌমিত্র। আন্তন শেফারের ‘স্লিউথ’ নাটকটি তাঁকে অনুবাদ করতে দেন উৎপল। কথা ছিল, ওই নাটকে দু’জনে অভিনয় করবেন। কিন্তু তা আর হয়নি। উৎপল দত্তের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে নাটক, চলচ্চিত্র ও যাত্রার অনেক অভিনেতা ও পরিচালকের মনে। কন্যা বিষ্ণুপ্রিয়ার মনে হত, “মহলার সময় বাবা যেন এক যুদ্ধের সেনানায়ক।” তরুণ মজুমদার একবার তাঁর স্মৃতিচারণে জানিয়েছিলেন, “ওঁর ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’ ছবির রায় সাহেবের চরিত্রটা এত পছন্দ হয়েছিল যে, এগ্রিমেন্ট পেপারে সই করে পারিশ্রমিকের জায়গাটা ফাঁকা রেখে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। ফ্লোরে মেকআপ নিয়ে পাঁচ মিনিট আগেই উপস্থিত হতেন। হাতে থাকত মোটা মোটা বই। শটের ফাঁকে পড়তেন। ডাক পড়লেই উঠে দাঁড়িয়ে বলতেন, ‘ইয়েস স্যর’।”
১৯৯৩ সালের ১৯শে আগস্ট ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মাত্র ৬৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। উৎপল দত্ত চলচ্চিত্রের ও মঞ্চের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন তাঁর সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে।
তথ্যসুত্র: গুগল।

গণধর্ষণের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের শক্তিতে বদলে দিয়েছেন সুনীতা কৃষ্ণান। মাত্র ১৫ বছর বয়সে আটজ...
17/08/2026

গণধর্ষণের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের শক্তিতে বদলে দিয়েছেন সুনীতা কৃষ্ণান। মাত্র ১৫ বছর বয়সে আটজন ব্যক্তির হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন তিনি। সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তাঁকে ভেঙে ফেলেনি, বরং জন্ম দিয়েছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ পাচার-বিরোধী সংগঠন "প্রজ্জ্বলা"-র।

১৯৯৬ সালে ক্যাথলিক মিশনারি ব্রাদার জোস ভেট্টিকাটিলের সঙ্গে হায়দরাবাদে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন সুনীতা। শুরুটা হয়েছিল যৌনকর্মীদের সন্তানদের জন্য একটা স্কুল দিয়ে, যাতে দ্বিতীয় প্রজন্ম আর একই চক্রে জড়িয়ে না পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংগঠনটি বিস্তৃত হয়ে ওঠে—আজ পর্যন্ত ২৪ হাজারেরও বেশি নারী ও শিশুকে যৌন পাচারের কবল থেকে উদ্ধার করেছে প্রজ্জ্বলা, তাদের পুনর্বাসনে সাহায্য করেছে কাউন্সেলিং, শিক্ষা, কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে।

এই পথ সহজ ছিল না। পাচারকারীদের হাত থেকে সুনীতাকে অন্তত ১৭ বার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে, একাধিকবার শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি, এমনকি একবার মারধরের ফলে একটি কানে শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন। তাঁর সহকর্মীও পাচারকারীদের হাতে খুন হয়েছেন। তবু থেমে থাকেননি তিনি—পুলিশের সঙ্গে মিলে সরাসরি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া, "মেন এগেইনস্ট ডিমান্ড" ও "শেইম দ্য রেপিস্ট"-এর মতো প্রচারাভিযান চালানো, এমনকি ভারতের প্রথম পাচার-বিরোধী নীতি প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রীতে ভূষিত করা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্তরেও একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। সুনীতা কৃষ্ণানের জীবন প্রমাণ করে, ভয়াবহতম অভিজ্ঞতাও কখনো কখনো হয়ে উঠতে পারে হাজারো মানুষের জীবন বাঁচানোর শক্তি।

তিনবার চলচ্চিত্রে জাতীয় পুরস্কার জয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক রাজা সেন প্রয়াত। তাঁর স্মৃতির প্রতি চিন্তনের গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য-পর...
17/08/2026

তিনবার চলচ্চিত্রে জাতীয় পুরস্কার জয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক রাজা সেন প্রয়াত। তাঁর স্মৃতির প্রতি চিন্তনের গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য-

পরিচালক রাজা সেন মোট ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন।
১৯৯৩ সালে সুচিত্রা মিত্র- এটি বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্রের জীবন ও সৃষ্টির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি চমৎকার তথ্যচিত্র। এটি 'সেরা শিল্প/সাংস্কৃতিক চলচ্চিত্র' বিভাগে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।
১৯৯৬ সালে দামু - এটি ছিল পরিচালক হিসেবে রাজা সেনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র। এক দাদু ও নাতির মিষ্টি সম্পর্কের গল্প নিয়ে তৈরি রঘুবীর যাদব ও সব্যসাচী চক্রবর্তী অভিনীত এই ছবিটি 'সেরা শিশু চলচ্চিত্র' বিভাগে জাতীয় পুরস্কার জেতে।
১৯৯৯ সালে আত্মীয় স্বজন- সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া দেবী, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত অভিনীত এই পারিবারিক টানাপোড়েনের ছবিটি 'পরিবার কল্যাণের ওপর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র' বিভাগে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে।

এছাড়াও তিনি টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক সুবর্ণলতা এবং আদর্শ হিন্দু হোটেলের মতো ধারাবাহিক পরিচালনা করেছিলেন।

অবিশ্বাস্য কাহিনী১২ বছর বয়সে অ্যাসিডে পুড়েছিল শরীর… কিন্তু হার মানেনি স্বপ্ন! ❤️‍🔥কখনও কখনও জীবন এমন পরীক্ষা নেয়, যার সা...
14/08/2026

অবিশ্বাস্য কাহিনী
১২ বছর বয়সে অ্যাসিডে পুড়েছিল শরীর… কিন্তু হার মানেনি স্বপ্ন! ❤️‍🔥কখনও কখনও জীবন এমন পরীক্ষা নেয়, যার সামনে দাঁড়িয়ে একজন মানুষ ভেঙে পড়াই স্বাভাবিক।
কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা ভেঙে পড়ার বদলে নিজের ক্ষতকেই শক্তিতে পরিণত করেন।

বারাণসীর ড. মঙ্গলা কাপুর তাঁদেরই একজন।

মাত্র ১২ বছর বয়সে ভয়াবহ অ্যাসিড হামলার শিকার হন তিনি। সেই আঘাতে বদলে যায় তাঁর শৈশব, শরীর ও জীবন। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর হাসপাতালের বিছানায় কাটাতে হয় তাঁকে। একের পর এক অস্ত্রোপচার—তবুও তাঁর স্বপ্নকে অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া যায়নি।

সমাজের কটূক্তি, শারীরিক যন্ত্রণা, আর্থিক প্রতিকূলতা—সবকিছুকে পিছনে ফেলে মঙ্গলা কাপুর আঁকড়ে ধরেছিলেন শিক্ষা ও সঙ্গীতকে।

আর সেই সঙ্গীতই একদিন হয়ে উঠল তাঁর পরিচয়।

তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (BHU) থেকে সঙ্গীতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৮৯ সালে BHU-র সঙ্গীত বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে শিক্ষার্থীদের ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিক্ষা দেন। তিনি গোয়ালিয়ার ঘরানার বিশিষ্ট শিল্পী হিসেবেও পরিচিত।

তাঁর কণ্ঠ ও সঙ্গীতচর্চার জন্য তিনি পেয়েছেন ‘কাশীর লতা’ উপাধিও। ১৯৮২ সালে এই সম্মানে তাঁকে ভূষিত করা হয়েছিল।

কিন্তু এখানেই গল্প শেষ নয়।

অবসর নেওয়ার পরও তিনি থেমে থাকেননি। শিশুদের বিনামূল্যে সঙ্গীত শেখানো এবং প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে কাজ করার মতো সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। ব্যক্তিগত যন্ত্রণাকে তিনি পরিণত করেছেন অন্যের জীবনে আলো জ্বালানোর শক্তিতে।

আর ২০২৬ সালে সেই দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছে—‘সাহিত্য ও শিক্ষা’ ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য।

ভাবুন তো…

যে বয়সে একটি শিশুর হাতে থাকার কথা ছিল বই আর খেলনা, সেই বয়সে মঙ্গলা কাপুরকে লড়তে হয়েছিল অ্যাসিডের যন্ত্রণার সঙ্গে।

কিন্তু অ্যাসিড তাঁর শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করতে পেরেছিল,
তাঁর স্বপ্নকে নয়।

আজ তাঁর জীবন আমাদের একটা কথাই শেখায়—

চেহারার দাগ একজন মানুষের পরিচয় নয়।
পরিচয় তৈরি হয় তার সাহস, শিক্ষা, প্রতিভা আর কর্ম দিয়ে।

🔥 মঙ্গলা কাপুরের গল্প তাই শুধু পদ্মশ্রী পাওয়ার গল্প নয়—এটি হার না মানা এক নারীর গল্প।

জীবন যতবারই ভেঙে দিতে চায়,
ততবারই উঠে দাঁড়ানোর নাম—মঙ্গলা কাপুর। 🙏❤️

প্রথাবিরোধী লেখক। ড. হুমায়ুন আজাদ। "ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো/ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো/ভালো থ...
12/08/2026

প্রথাবিরোধী লেখক। ড. হুমায়ুন আজাদ।
"ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো/ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো/ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা/ভালো থেকো পাখি, সবুজ পাতারা...।" এভাবেই বাংলার প্রকৃতি আর প্রাণের প্রতি ভালোবাসা জানিয়েছিলেন হুমায়ুন আজাদ।
সেই আকাঙ্ক্ষায় ছিল শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ। সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানো মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সোচ্চার ছিল তার কলম। বাংলা সাহিত্যের বহুমাত্রিক লেখক অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ ১৯৪৭সালের ২৮ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জের রাঢ়িখাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবদুর রাশেদ এবং মাতা ছিলেন জোবেদা খাতুন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন অধ্যাপনা পেশায়। গবেষক ও প্রাবন্ধিক হুমায়ুন আজাদ নব্বইয়ের দশকে প্রতিভাবান ঔপন্যাসিক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক ও কিশোর সাহিত্যিক। ৭০টির বেশি বই লিখেছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সৃষ্টি করেছেন ভিন্ন এক ধারা।
১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয় তার আলোচিত বই 'নারী' (নিষিদ্ধ ১৯৯৫)। এ গ্রন্থ প্রকাশের পর ধর্মীয় মৌলবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের রোষানলে পড়েন তিনি। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার' প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। ছাত্রজীবনে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ১৯৬২ সালে রাঢ়িখাল স্যার জে সি বোস ইনস্টিটিউশন থেকে পাকিস্তানের মধ্যে ১৮তম স্থান অধিকার করে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। উভয় ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থানলাভ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো-জ্বলো চিতাবাঘ, সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল, আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে। হুমায়ুন আজাদের অন্যান্য বইয়ের মধ্যে অলৌকিক ইস্টিমার, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল, সবকিছু ভেঙে পড়ে, রাজনীতিবিদগণ, একটি খুনের স্বপ্ন, পাক সার জমিন সাদ বাদ, রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা, প্রতিক্রিয়াশীলতার দীর্ঘ ছায়ার নিচে, আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র, বাঙলা ভাষা (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড), লাল নীল দীপাবলি, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না অন্যতম। বাংলা সাহিত্যে প্রথাবিরোধী লেখক হিসেবে হুমায়ুন আজাদ যোগ করেন এক ভিন্ন মাত্রা। তার সব বই, প্রবন্ধ, কবিতা সৃষ্টি হয়েছে প্রথাকে অস্বীকার করে। তার প্রবচনগুচ্ছ এ দেশের যুক্তিবাদী পাঠকসমাজকে আরও সচেতন হতে অনুপ্রেরণা দেয়। সমাজের কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং প্রতিষ্ঠিত প্রায় সবকিছু নিয়ে যুক্তিনির্ভর বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যার ফলে তিনি যেমন নন্দিত হয়েছেন, আবার হয়েছেন নিন্দিত।
'পাক সার জমিন সাদ বাদ' নামে উপন্যাস লিখে রোষানলে পড়েন কট্টরপন্থি ও মৌলবাদীদের। শিকার হন নৃশংস হামলার। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী শিশু-সাহিত্য পুরস্কার ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার। ২০১২ সালে পান মরণোত্তর একুশে পদক। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি হুমায়ুন আজাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। একই বছরের ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখ শহরে তিনি মারা যান।

জন্ম ২৮ এপ্রিল ১৯৪৭ - প্রয়াণ ১২ আগস্ট ২০০৪) তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিক লেখক ছিলেন। ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক, রাজনীতিক ভাষ্যকার, কিশোরসাহিত্যিক, গবেষক, এবং অধ্যাপক ছিলেন।

বাঙলা ভাষা : কবি হুমায়ুন আজাদ

শেকলে বাঁধা শ্যামল রূপসী, তুমি-আমি, দুর্বিনীত দাসদাসী-
একই শেকলে বাঁধা প’ড়ে আছি শতাব্দীর পর শতাব্দী।
আমাদের ঘিরে শাঁইশাঁই চাবুকের শব্দ, স্তরে স্তরে শেকলের ঝংকার।
তুমি আর আমি সে-গোত্রের যারা চিরদিন উৎপীড়নের মধ্যে গান গায়-
হাহাকার রূপান্তরিত হয় সঙ্গীতে-শোভায়।
লকলকে চাবুকের আক্রোশ আর অজগরের মতো অন্ধ শেকলের
মুখোমুখি আমরা তুলে ধরি আমাদের উদ্ধত দর্পিত সৌন্দর্য:
আদিম ঝরনার মতো অজস্র ধারায় ফিনকি দেয়া টকটকে লাল রক্ত,
চাবুকের থাবায় সুর্যের টুকরোর মতো ছেঁড়া মাংস
আর আকাশের দিকে হাতুড়ির মতো উদ্যত মুষ্টি।
শাঁইশাঁই চাবুকে আমার মিশ্র মাংসপেশি পাথরের চেয়ে শক্ত হয়ে ওঠে
তুমি হয়ে ওঠো তপ্ত কাঞ্চনের চেয়েও সুন্দর।
সভ্যতার সমস্ত শিল্পকলার চেয়ে রহস্যময় তোমার দু-চোখ
যেখানে তাকাও সেখানেই ফুটে ওঠে কুমুদকহ্লার
হরিণের দ্রুত ধাবমান গতির চেয়ে সুন্দর ওই ভ্রূযুগল
তোমার পিঠে চাবুকের দাগ চুনির জড়োয়ার চেয়েও দামি আর রঙিন
তোমার দুই স্তন ঘিরে ঘাতকের কামড়ের দাগ মুক্তোমালার চেয়েও ঝলোমলো
তোমার ‘অ, আ’ –চিৎকার সমস্ত আর্যশ্লোকের চেয়েও পবিত্র অজর
তোমার দীর্ঘশ্বাসের নাম চন্ডীদাস
শতাব্দী কাঁপানো উল্লাসের নাম মধুসূদন
তোমার থরোথরো প্রেমের নাম রবীন্দ্রনাথ
বিজন অশ্রুবিন্দুর নাম জীবনানন্দ
তোমার বিদ্রোহের নাম নজরুল ইসলাম
শাঁইশাঁই চাবুকের আক্রোশে যখন তুমি আর আমি
আকাশের দিকে ছুঁড়ি আমাদের উদ্ধত সুন্দর বাহু, রক্তাক্ত আঙুল,
তখনি সৃষ্টি হয় নাচের নতুন মুদ্রা;
ফিনকি দেয়া লাল রক্ত সমস্ত শরীরে মেখে যখন আমরা গড়িয়ে পড়ি
ধূসর মাটিতে এবং আবার দাঁড়াই পৃথিবীর সমস্ত চাবুকের মুখোমুখি,
তখনি জন্ম নেয় অভাবিত সৌন্দর্যমন্ডিত বিশুদ্ধ নাচ;
এবং যখন শেকলের পর শেকল চুরমার ক’রে ঝনঝন ক’রে বেজে উঠি
আমরা দুজন, তখনি প্রথম জন্মে গভীর-ব্যাপক-শিল্পসম্মত ঐকতান-
আমাদের আদিগন্ত আর্তনাদ বিশশতকের দ্বিতীয়ার্ধের
একমাত্র গান।

দীপক কুমার মিত্র

12/08/2026
এম পি পরমেশ্বন, সারা ভারত জনবিজ্ঞান আন্দোলনের অবিসংবাদী নেতৃত্ব, কেরল শস্ত্র সাহিত্য পরিষদের মুখ্য চিন্তক, সামাজিক অবস্থ...
12/08/2026

এম পি পরমেশ্বন, সারা ভারত জনবিজ্ঞান আন্দোলনের অবিসংবাদী নেতৃত্ব, কেরল শস্ত্র সাহিত্য পরিষদের মুখ্য চিন্তক, সামাজিক অবস্থার আমূল বদলের জন্য বিজ্ঞানকে কাজে লাগানোর প্রধান পরিকল্পনাকারী, আজ বেলা ১২.৪৫ মিনিটে ত্রিচুরে তাঁর বাসভবনে মারা গেছেন। এম পি পরমেশ্বরন তাঁর চিন্তাধারা ও তাঁর তৈরি সংগঠনগুলির মধ্যে বেঁচে থাকবেন।

মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী ভবানী এবং দুই পুত্র অরুণ ও বিপিন ছিলেন।

এম পি ছিলেন একজন নিউক্লিয় বিজ্ঞানী। ভারতের নিউক্লিয়ার প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন তিনি। সারা ভারতবর্ষের মধ্যে তিনিই নিউক্লিয় বিজ্ঞানে ডক্টরেট পাওয়া প্রথম বিজ্ঞানী।

সারা জীবনে প্রায় ২৯ টি বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ বই লিখেছেন তিনি।

তাঁর স্মৃতিতে আমার শ্রদ্ধা।

Address

24 Khuli
Adra
723121

Telephone

+918145135445

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Freethinking Humanists -Adra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to The Freethinking Humanists -Adra:

Shortcuts

Share