The Freethinking Humanists -Adra

Call Directions Contact the organization

The Freethinking Humanists -Adra uplift cultural reform . complete seculer & spread human rights movement

29/09/2026
সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। জন্ম সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ মৃত্যু ৩০ জানুয়ারি ২০০৬) ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রঙ্গমঞ্চ ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ...
25/09/2026

সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। জন্ম সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ মৃত্যু ৩০ জানুয়ারি ২০০৬) ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রঙ্গমঞ্চ ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা। তিনি তিনশো নাটকে অভিনয় করেছেন।
সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ২৫ সেপ্টেম্বর বিহারের পাটনায়। পিতা অতুলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা অমিয়া দেবী।তাঁর স্কুল জীবনের পড়াশোনা উত্তর প্রদেশের লখনউ-এ। সেখানকার অ্যাংলো-বেঙ্গলী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ পর কলকাতায় আসেন। আশুতোষ কলেজ থেকে অনার্স নিয়ে বি. এ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজীতে এম.এ পাশ করেন।
সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে অভিনয় জীবন শুরু করেন উৎপল দত্তের লিটিল থিয়েটার গ্রুপে পরবর্তীতে যেটি পিপলস্ থিয়েটার গ্রুপে পরিবর্তিত হয়। তিনি উৎপল দত্তের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তিনি পিপলস্ থিয়েটার গ্রুপের 'কল্লোল', 'অঙ্গার', 'নীচের মহল' , মহাবিদ্রোহ এবং তিতুমীর সহ ১৫০ টি নাটকে মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করেন। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জার্মানির 'বার্লিনার এনসেম্বল'-এ প্রশিক্ষণ নেন। তিনি বাংলা ও ইংরাজী নিয়ে প্রায় চল্লিশটি নাটক পরিচালনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের তালিকা-
বাজি (আন্তন চেখভের ছোটগল্প অবলম্বনে উৎপল দত্তের প্রযোজনা ও পরিচালনায়)
ফোর্টিনথ অফ জুলাই (উৎপল দত্তের প্রযোজনা)
দাঁতোঁ (উৎপল দত্তের প্রযোজনা)
লেলিনের ডাক (উৎপল দত্তের রচনা ও পরিচালনা)
অন্যান্য নাটক ও চরিত্র হল -
টোটো, বিষণ্ণ জোলা/হিরা সিং
বিকাশ ,ড.আনিসুজ্জামান
টিনের তলোয়ার ,হরবল্লভ
সূর্যশেখর ,হয়গ্রীব
ব্যারিকেড , অটো বিরখোলৎস
একলা চলো রে ,গান্ধী
তিনি সত্যজিৎ রায় এবং মৃণাল সেন পরিচালিত কিছু ছবিতে অভিনয়ও করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য ছায়াছবিগুলি হল - মৃণাল সেনের' 'একদিন প্রতিদিন' ১৯৮০) এবং সত্যজিৎ রায়ের 'জয়বাবা ফেলুনাথ' (১৯৭৯)
বছর ফিল্ম পরিচালক ভূমিকা
১৯৭৯ জয় বাবা ফেলুনাথ —সত্যজিৎ রায় । ১৯৮০ একদিন প্রতিদিন —মৃণাল সেন । ১৯৮৬ তিন পুরুষ—উমানাথ ভট্টাচার্য
সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় রঙ্গমঞ্চ ও ছায়াছবিতে অভিনয়ের জন্য বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
১৯৮২ সালে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি পুরস্কার
১৯৮৯ সালে ঋত্বিক ঘটক পুরস্কার
সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার ১৯৯৬
বিএফজেএ পুরস্কার
“একদিন প্রতিদিন” ছবিতে অভিনয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সিনেমা পুরস্কার।

বিমল কর (জন্ম : ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২১ মৃত্যু : ২৬ আগস্ট ২০০৩) তিনি উত্তর ২৪ পরগণার টাকিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জ্য...
19/09/2026

বিমল কর (জন্ম : ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২১ মৃত্যু : ২৬ আগস্ট ২০০৩) তিনি উত্তর ২৪ পরগণার টাকিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জ্যোতিষচন্দ্র কর এবং মাতা নিশিবালা কর। বিমল কর জব্বলপুর, হাজারিবাগ, ধানবাদ, আসানসোল প্রভৃতি জায়গায় ছোটবেলা কাটিয়েছেন।
ছাত্র হিসেবে ছিলেন মেধাবী। স্কুল জীবন শেষ করে বাড়ির ইচ্ছেয় বিমল কলকাতায় ডাক্তারি পড়তে আসেন। চোখের সামনে বদলে যায় জগৎ। নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় হয়। দেখতে শুরু করেন প্রমথেশ বড়ুয়া, অহীন্দ্র চৌধুরী, ছবি বিশ্বাস, কাননবালা, যমুনা দেবীর অভিনয়। পড়তে শুরু করেন বুদ্ধদেব বসু, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, জীবনানন্দ দাশ, আনাতোল ফ্রাঁস, লরেন্স। পেতেন হাতখরচ। সেই পয়সা বাঁচিয়ে কিনতেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত ‘পরিচয়’, বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকা। সাহিত্য সংস্কৃতির মধ্যে ডুবে থাকার কারণে মন বসাতে পারতেন না পড়াশোনায়। ডাক্তারি পরীক্ষার ফল হল খারাপ। তখন ডাক্তারি ছেড়ে ভর্তি হলেন শ্রীরামপুর টেক্সটাইল কলেজে। কিন্তু সাহিত্যচর্চার কারণে সেখানেও সফল হলেন না। অবশেষে বিএ পড়ার জন্য ভর্তি হলেন বিদ্যাসাগর কলেজে। সাহিত্য তাঁর পিছু ছাড়ল না। বন্ধুদের সঙ্গে প্রকাশ করলেন ‘পূর্বমেঘ’ পত্রিকা। যদিও সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন কলেজ থেকে।
তিনি বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। তারপর আসানসোল অ্যামিউনেশন প্রোডাকশন ডিপোয় এআরপি হিসাবে কর্মজীবনের শুরু হয়।
১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে তার রচিত প্রথম ছোটগল্প 'অম্বিকানাথের মুক্তি 'প্রবর্তক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত পরাগ পত্রিকায় সহ সম্পাদকের কাজ পান। সহ সম্পাদক হিসাবে তিনি পশ্চিমবঙ্গ ও সত্যযুগ পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে তার রচিত প্রথম ছোটগল্প সংকলন বরফ সাহেবের মেয়ে প্রকাশিত হয় । সেই বছরেই দেশ পত্রিকার বিভাগীয় প্রধান হিসাবে যোগ দেন । এই পদে তিনি ১৯৮২ সাল অবধি ছিলেন। এছাড়া তিনি শিলাদিত্য এবং গল্পপত্র পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
ছোটদের জন্য তার রচিত একটি চরিত্র অবসরপ্রাপ্ত ম্যাজিসিয়ান কিঙ্কর কিশোর রায় বা কিকিরা । কিকিরার উপন্যাস পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলায় প্রকাশিত হত।
তার রচিত বেশ কয়েকটি কাহিনিতে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে । যেমন বসন্ত বিলাপ, হ্রদ ( চলচ্চিত্র), বালিকা বধূ, (যেটি হিন্দিতেও নির্মিত হয়েছিল) যদুবংশ, ছুটি (এটি তৈরি হয়েছিল তার খড়কুটো উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে)।
সাহিত্যের জন্য ছেড়েছিলেন রেলের চাকরি। লেখনী ছিল ক্ষুরধার। তাঁর বিভিন্ন গল্প-উপন্যাসে ফুটে উঠেছে সমকালীন সময়, সমাজ, রাজনীতি।
বিমল কর অসময় উপন্যাসের জন্য ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। এছাড়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎচন্দ্র পুরস্কার, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নরসিংহ দাস পুরস্কার পান। তিনি দুবার আনন্দ পুরস্কার লাভ করেছিলেন। তিনি বহু ছোটগল্প এবং কিশোর উপন্যাসও লিখেছিলেন।
বিমল কর ৮২ বছর বয়েসে ২৬ আগষ্ট ২০০৩ সালে তার বিধাননগরের বাসভবনে মারা যান। তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী তিন মেয়ে এবং এক ছেলে রেখে গিয়েছেন।

তার সাহিত্যের চলচ্চিত্ররূপ
বালিকা বধূ ১৯৬৭ বসন্ত বিলাপ, বালিকা বধূ (হিন্দি ) ১৯৭৬ যদুবংশ এবং ছুটি ( খড়কুটো ) ১৯৬৭, দিল্লাগি ১৯৭৮, বনভূমি।

এক মুহূর্তের জন্য ভাবুন…আপনার হাতে স্টিয়ারিং, গাড়ির ভিতরে প্রায় ২০টি শিশু। হঠাৎ নিজের বুকে শুরু হলো তী/ব্র ব্য/থা। চোখের...
14/09/2026

এক মুহূর্তের জন্য ভাবুন…

আপনার হাতে স্টিয়ারিং, গাড়ির ভিতরে প্রায় ২০টি শিশু। হঠাৎ নিজের বুকে শুরু হলো তী/ব্র ব্য/থা। চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসছে সবকিছু। এমন মুহূর্তে অধিকাংশ মানুষ হয়তো নিজের জীবন বাঁচানোর কথাই ভাববেন।

কিন্তু তামিলনাড়ুর ৪৯ বছর বয়সী স্কুল ভ্যানচালক সেমালাইয়াপ্পান তখন অন্য কিছু করলেন।

২৪ জুলাই ২০২৪। তিরুপুর জেলার ভেল্লাকোয়েলের কাছে ANV Matric School-এর শিশুদের বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছিলেন তিনি। আচমকা গুরুতর শারীরিক সং/ক/ট শুরু হয়। তবুও শেষ শক্তিটুকু দিয়ে তিনি ভ্যানটি রাস্তার পাশে নিরাপদ জায়গায় থামান। শিশুদের নিরাপদ করার পরই তিনি স্টিয়ারিংয়ের উপর ঢলে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে আর ফেরানো যায়নি। 🕊️

ভাবুন, নিজের জীবন তখন সং/ক/টে। তবুও তাঁর শেষ সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আরও একটি হৃদয়ছোঁয়া বিষয় হলো, তাঁর স্ত্রীও ওই স্কুলে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন এবং ঘটনার সময় ভ্যানেই ছিলেন।

এই ঘটনার পর তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন তাঁর কর্তব্যবোধ ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন এবং পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেন। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। 🙏

সেমালাইয়াপ্পান কোনো সেনা অফিসার ছিলেন না।
কোনো পদকও তাঁর হাতে ছিল না।
তিনি ছিলেন একজন সাধারণ স্কুল ভ্যানচালক।

কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটিই তাঁকে অসাধারণ করে তুলেছে।

বীরত্ব সবসময় যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা যায় না।
কখনও কখনও একটি স্টিয়ারিং ঘোরানোর সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে বহু পরিবারের অমূল্য আশার কারণ।

সেমালাইয়াপ্পান হয়তো আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু প্রায় ২০টি শিশুকে নিরাপদে রেখে যাওয়ার সেই শেষ দায়িত্ববোধ তাঁকে মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে। ❤️🇮🇳

তাঁর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা। 🫡🕊️

সূত্র:
India Today
The New Indian Express
Livemint
Outlook India

"প্রয়াত" স্বপ্ন ও জাগরণের কবি কেতকী কুশারী ডাইসন।  কেতকী কুশারী ডাইসন (জন্ম: ২৬ জুন ১৯৪০, মৃত্যু ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভার...
12/09/2026

"প্রয়াত" স্বপ্ন ও জাগরণের কবি কেতকী কুশারী ডাইসন। কেতকী কুশারী ডাইসন (জন্ম: ২৬ জুন ১৯৪০, মৃত্যু ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভারতীয় বংশোদ্ভূত কবি, লেখিকা, অনুবাদক ও গবেষক যিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করতেন। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই তিনি লিখতেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের চিত্রকর্ম বিষয়ে তার গবেষণার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। পৈত্রিকসূত্রে তার নাম কেতকী কুশারী বোস। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে রেকর্ড নম্বর পেয়ে তিনি বি.এ পাস করেন। ১৯৬৩-তে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। ইতোমধ্যে রবার্ট ডাইসনের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন এবং ডাইসন পদবী ব্যবহার করতে শুরু করেন।
কবি, গবেষক ও অনুবাদক কেতকী কুশারী ডাইসনের জন্ম মহানগর কলকাতায় হলেও শৈশব কেটেছে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের মেহেরপুরে। বড় হয়েছেন সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে; বুদ্ধদেব বসু, অজিত দত্ত , সুধীন্দ্রনাথ, বিষ্ণু দে ছিলেন তার বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাবা অবনী মোহন কুশারী ছিলেন অবিভক্ত নদীয়া জেলার মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক ছিলেন। তিনি ১৯৪২-১৯৪৫ মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন,পরবর্তীতে স্বল্প সময়ের জন্য নীলফামারীতে।
‘কবিসত্তাই হলো আমার সব লেখার মূল চালিকাশক্তি’ এ কথা এক সাক্ষাৎকারে কেতকী দৃঢ়তা ও আন্তরিকতার সাথে বলেছিলেন। তিনি আরোও বলেছিলেন, আমি উপন্যাস বা নাটক যা-ই লিখি না কেন, কিংবা গবেষণায় নিয়োজিত থাকিনা কেন, সব সময়ই আমার ভেতরে কবিসত্তা কাজ করে। সাহিত্যের একাধিক শাখায় কাজ করার পরও তার কবি-পরিচয়টি যে নিষ্প্রভ হয়ে যায়নি, তার প্রমাণ তিনি বারবার দিয়েছেন। তিন-চার বছর বয়স থেকেই তিনি কবিতা লেখেন। তিনি মনে করেন, লেখক হিসেবেই তার জন্ম, তাই তাকে লিখতে হবেই। লেখাই তার কাজ, লেখাই তার জীবন। তাই ক্রমাগতভাবে তিনি লিখে চলেছিলেন। নতুন অভিজ্ঞতাকে কীভাবে বাংলা ভাষায় মেলে ধরা যায়, সেটাকে তিনি নিজের ভেতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করছিলেন অনেক আগে থেকে এবং সেই চ্যালেঞ্জেই মগ্ন ছিলেন দীর্ঘ দিবস-রজনী। তার বল্কল, জলের করিডর ধরে, সবীজ পৃথিবী কবিতাগুলো পাঠ করলে বোঝা যাবে যে, এসব কবিতায় তিনি ভিন্ন ভূগোল ও ঋতুচক্র বয়ানের জন্য নতুন ভাষাশৈলী নির্মাণ করেছেন পরমনিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে। হয়তো সাহিত্যের সমালোচকরা এটা সেইভাবে খেয়াল করেনি। তার ‘শীতের শরৎ’ কবিতায় রয়েছে শীতের মধ্যে শরৎ খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি। ‘ব্রাইটনে গ্রীস্মশেষ’ কবিতাটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। কেতকী কুশারী ডাইসন ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী হিসেবে বিদ্যা ও বৈদগ্ধে ছিলেন অনন্য। কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন প্রথম যৌবনেই। সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় যখন তার কবিতা প্রকাশিত হতো,তরুণ পাঠকরা আগ্রহ ভরে তা পড়তো। দীর্ঘকাল ভারতবর্ষের বাইরে যুক্তরাজ্যে বসবাসের ফলে তার কবিতায় লেগেছে বিশ্বমুখীন ভাব-ভাবুকতার ছাপ। তিনি প্রাচ্য-প্রতীচ্য দুটোই নিয়েছেন, কোনটাই উপেক্ষা করেননি, তা সে যতই তুচ্ছ হোক। বাঙালির গ্রামীণ গানে-পালায়,সুফি-সহজিয়া-মরমি দর্শনে যে বিশ্বমুখীনতা রয়েছে, তার অনেক কিছুই তিনি নিয়েছেন অকাতরে। লালনের গানের সহজিয়া ভাবধারা তাকে মুগ্ধ করেছে নানাভাবে। তিনি মনে করেন, শাক্ত, বৈষ্ণব, সহজিয়া ভাবধারা- এসব তত্ত্ব যদি আমরা সঠিকভাবে আমাদের চিন্তন-মনন ও জীবনচর্যায় ব্যবহার করতে পারতাম , তাহলে হয়তো আমরা অনেক দূর যেতে পারতাম। কিন্তু ফান্ডামেন্টালিজম সব বিগড়ে দিয়েছে, আগে বাঙালির নিজস্ব মানবতন্ত্র ছিল, এখন আর সেটা নেই বললেই চলে।
কেতকীর শৈশব কেটেছে বর্তমান বাংলাদেশের মেহেরপুর শহরে। সেই কবে তিনি মেহেরপুর ছেড়েছেন কিন্তু তার স্মৃতির শহরটিকেনবুকের মধ্যে আগলে রেখেছিলেন। মহকুমা প্রশাসকের বাংলোয় খুব ভোরে তার ঘুম ভাঙতো। পাখির ডাক শুনতে শুনতে জেগে উঠে দেখতেন, ‘প্রতি সকালে উঠে আমার মনে হতো যে জগৎটা পুনর্জন্ম লাভ করেছে।’ সম্প্রতি প্রকাশিত প্রবন্ধ সংকলন ‘কাছে দূরের কক্ষপথে’র বিভিন্ন নিবন্ধেও তিনি মেহেরপুরের স্মৃতিচারণ করেছেন। সব কবিই নিজস্ব স্বপ্ন, কল্পনা, আবেগ, চৈতন্য, মনের মাধুরী মিশিয়ে কবিতার শরীর নির্মাণ করেন, কেতকীও তাই করেছেন। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত প্রথম কবিতা গ্রন্থ ‘বল্কল’ এ তিনি পরিশীলিত রুচি, বোধের সঙ্গে আবেগের মিলন ঘটিয়েছেন দক্ষতার সঙ্গে। বলা বাহুল্য হবে না যে, তিরিশি কবিদের আধুনিকতাকে মর্মমূলে ধারণ করে আধুনিক বাংলা কবিতার যাত্রা শুরু। পঞ্চকবিদের মধ্যে জীবনানন্দের পর সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বহুমাত্রিকতার অধিকারী ছিলেন বুদ্ধদেব বসু। এরপর যার নাম আসে , তিনি হলেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। বুদ্ধদেবের সচ্ছল, স্মার্ট কাব্যভাষা এবং সুধীনের ভারি শব্দের নিরাবেগ প্রকাশ,মিথকথন আধুনিক কবিদের টেনেছিল দারুণভাবে। কেতকীর কবিতা পাঠ করলে বুদ্ধদেব ও সুধীন্দ্রনাথের সঙ্গে বিস্ময়কর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তার কবিতায় হৃদয় নয়,উদ্দীপ্ত হয় বোধ। ‘অ্যাকসিলরেশন’ কবিতায় কেতকী লিখেছেন, ‘আজ চক্রবৃদ্ধিহারে পূর্ণতম হলো জাগরণ / শ্বেত ময়ূরের মতো জ্যোৎস্না নেমে এসেছে মাটিতে।’ এ কবিতায় তিনি আধুনিক মানুষের আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গি, দুটোই নিয়েছেন। অক্সফোর্ড কিংবা কিডলিংটনের কোনো এক বাংলোয় বসে দিবস-রজনী তিনি স্মৃতির যমুনায় হাবুডুবু খান। বকুলের গন্ধেভরা ঋতুতে তিনি দেখতে পান, তুষারকণা জানালার কাচে জ্যামিতিক চিত্র আঁকছে। ‘নববর্ষ’ কবিতায় তার হৃদয় উৎসারিত প্রেমের তুলিতে আঁকা প্রেমিকের মনোহরণ রূপটি বড় মধুর, বড় আকর্ষণীয়।‘ মদের মতো পাগল করা ছেলে, / পদাবলীর সখার মতো কালো’, সব উজাড় করে দিয়ে কেতকী কুশারী তাঁকে ভালবেসেছিলেন। ১৯৮০সালে প্রকাশিত ‘ সবীজ পৃথিবী’তে কবির ভাবোচ্ছ্বাস আর আবেগময়তার সঙ্গে বিদেশের গাছপালা, পত্র-পুষ্প-পল্লবের রূপ-রঙ-গন্ধ ও গঠন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। ‘হানিসাকল’ কবিতায় কবি ছেলেবেলার মতো মিষ্টি ছড়া কেটে বলেছেন,‘ বাপের বাড়ি লেবুপাতা, / শ্বশুরবাড়ির দই, / আমের বনে হাওয়ার আমেজ, / গন্ধ-আতপ কই ?’ চাঁদের আলোয় আকাশ, নদী, সমুদ্রসৈকত মোহনীয় হয়ে ওঠে সব কবির কাছে, একদিন সমুদ্রসৈকত অপরূপ রূপে ধরা দেয় কেতকীর কাছে, তিনি লেখেন, ‘ দেখেছি ভাস্বর / অনন্তশয়নে বিষ্ণু, ব্রহ্মা--আংটির একটি নীলা।’ ( শীতে শরৎ)।
কেম্পটাউনে হেরিং মাছ কিনতে গিয়ে কবির মনে পড়ে যায় বাঙালির চিরায়ত রন্ধন ঐতিহ্যের কথা, তার মায়ের রান্নাঘরের স্মৃতি। স্মৃতিকাতর কবি লেখেন : ‘ মা গো , তোমার শিলনোড়া বেয়ে এখনও হলুদজল পড়ে, / উনুনে উথলে-উঠা ডালের ছোপ, / খুরিতে পাঁফোড়ন, কালো জিরে’। কবিতায় আঁকা ছবিটি শিলনোড়া, খুরিতে পাঁচফোড়ন, ডালের ছোপের মতো একবারেই আটপৌরে, সাদামাটা কিংবা সদ্য গাছ থেকে তোলা কাঁচামরিচের মতোই সতেজ ও সজীব। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয় কেতকী কুশারী ডাইসনের তৃতীয় কবিতা-গ্রন্থ ‘জলের করিডর ধরে’। ‘ যদি হাজার কিলোমিটার হাঁটতে হয়, কবিতায় কবি গভীর অরণ্যে দীর্ঘপথ হাঁটবার জন্য সহযাত্রী বন্ধুদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি লিখেছেন : ‘ লাল ফুটবলের মতো যে-অস্তসূর্যটাকে / লাফাতে লাফাতে তালবনে নেমে যেতে দেখেছি, / উলটো দিকের মাঠে দৌড়তে দৌড়তে / আবার বর্তুল তাকেই খপ করে ধরে ফেলবো’। তার বিশ্বাস অরণ্যের শেষপ্রান্তে পৌছুতে পারলে আছে সব প্রতিকারহীন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। কবি মাঝে মাঝে চিরচেনা প্রতিবেশেও খুঁজে পেয়েছেন অচেনা-অজানা দেশের খনি, অজ্ঞাত ভাবনার সূত্র। তারপর অনেক পথ হেঁটে সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের কোন এক ছায়াঢাঁকা গ্রামের কাছে তিনি ও তার সঙ্গীরা পৌঁছলেন। হঠাৎ তার খেয়াল হলো জলের বোতল খালি। সে গ্রামে তিনি দেখলেন শৈবদের আড্ডার পাশাপাশি বৈষ্ণবদের আশ্রম। সেই আশ্রমে এক শীর্ণ, হাস্যোজ্জ্বল , তাম্বুলরাঙা এক বৈষ্ণবীর সাক্ষাৎ পেলেন তারা। নদীর জল পানযোগ্য নয় জেনে, তিনি বৈষ্ণবীকে জল ফুটিয়ে দিতে বললেন। বৈষ্ণবী শুকনো ডালপালা জ্বেলে জল ফুটিয়ে দিলেন এবং ব্যাখ্যা করে শোনালেন দেহাত্মবাদের নিগূঢ় তত্ত্ব যা রসিকচিত্তে ভাবরসের জন্ম দেয়। বোষ্টমির ভাষায় কেতকী বলছেন, ‘এতক্ষণে জীবগুলো নাশ হইলো, /চক্ষে যাদের যায় না দেখন, / জলের দেহে বিলীন ছিলেন আত্মাগুলি, / ভবে যেমন অরূপরতন।’ (অরূপরতন) এ কবিতাটি কবি বৈরাগ্যের ধূপছায়ায় মগ্ন, প্রান্তিক ও সামাজিকভাবে দীর্ণ মানুষগুলির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত ‘ কথা বলতে দাও’ কবিতা-গ্রন্থে কেতকী কুশারীর যাপিতজীবনের প্রসন্নতা ও হার্দিক অনুভূতি মিশে আছে গভীরভাবে। ‘গল্প নয়’ কবিতায় কবি বারাণসীর এক মাতৃহারা কিশোরীর জীবনচিত্র এঁকেছেন গভীর মমতায় ও ¯স্নিগ্ধ দরদে। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কেতকীর মা বেড়ে ওঠেন বারাণসীতে এবং সেখানে তিনি তাঁন বোনেদের সঙ্গে হিন্দি মিডিয়াম শিক্ষায়তনে পড়াশুনা করেন। সেতার, ভজন ও গান্ধীবাদ ভালবাসতে শিখেছিলেন তারা বারাণসীতেই।
১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় কেতকী কুশারীর ‘ জাদুকর প্রেম, জাদুকর মৃত্যু’, এ কবিতাগ্রন্থে এমন এক কবিকে আমরা পাই যিনি নিরন্তর সাধনা, অধ্যবসায়, নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আয়ত্ত করে নেন মহৎ কবির অভিধা। সবল, সতেজ ও স্বতন্ত্র কাব্যভাষায় নির্মাণ করেন গ্রন্থভুক্ত কবিতাসমূহের শরীর। এ কাব্যে তার যে-স্বাতন্ত্র্য তা কোনো আকস্মিক নয়, ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত ‘বল্কলেই সেই বার্তা পৌছে দিয়েছেন প্রবলভাবে। কবিমাত্রই এক নিঃসঙ্গ পরিব্রাজক, যাকে একলব্যের মতোই দৃঢ় সংকল্প ও গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিঃসঙ্গতার শরে রক্তাক্ত হয়ে পথ চলতে হয়। শুরু থেকেই কেতকী একলব্যের মতো কঠিন পথটিই বেছে নিয়েছেন। ‘জাদুকর প্রেম, জাদুকর মৃত্যু’তে বহতা নদীর মতোই স্বচ্ছন্দ, স্বতঃস্ফূর্ত ও অকুণ্ঠ কবির চেতনা, ভাব-ভাষা, বিশ্বাস, আবেগের গতিবেগ। জ্যোৎ¯œায় ভেসে যাওয়া রাতে এক গায়কের গান শুনে কবি চাঁদকে বলছেন,‘ সুরের জাল পাতো, নামাও, নাচাও। / মানুষের জালে যারা মরতে বসেছে তোমার জালে তারা দুদ- বাচুক।’ তার মনে হয়েছে, গানের সুরে পাথর গলে,গান শুনে বর্বর ঘাসে ধরে বীজ। ‘সূর্য চলেছে দক্ষিণায়নে’ কবিতায় সূর্যদেব কবিকে পরামর্শ দিয়ে বলছেন, ‘ থতমত খাবিনা, ভয় পাবি না পৃথিবীতে কাউকে, / যে কটা দিন পারিস স্রেফ জ্বলে যাবি।’ কবির প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তিন-চার বছর বয়স থেকে তিনি কবিতা লিখছেন। সেই হিসেবে ধরে নেয়া যায় যে, কেতকী কুশারীর কাব্যযাত্রা শুরু গত শতকের চল্লিশের দশকের শেষার্ধ থেকে। তারপর থেকে সারাক্ষণ লিখছেন আর লিখছেন। সাত দশকের সাহিত্য-পরিক্রমায় বহুমাত্রিক সৃজন কুশলতা দিয়ে সাহিত্যের সব শাখা ঋদ্ধ করেছেন তিনি,তারপরও কবিতার সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক।
বিলেতে এস্টাবলিশমেন্টের জন্য লেখালেখি তিনি করেন না, পেশা ও ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছেন লেখকজীবন। কেবলমাত্র বই লেখার জন্য তিনি ১৯৮৫ সালে আর্জেন্টিনায় গিয়েছেন, গবেষণা করেছেন এবং ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর ওপর দুটো বই লিখেছেন। তার লেখা ‘ইন ইয়োর ব্লোসোমিং ফ্লাওয়ার- গার্ডেন: রবীন্দ্রনাথ টেগোর এন্ড ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো’ ল্যাটিন আমেরিকার প্রচুর পাঠক পড়েছে। এটি স্পেনিশ ভাষায় অনূদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি সারাক্ষণ কেবল লিখছেন আর লিখছেন, লেখার শেষ নেই তার, কাজেরও শেষ নেই। ভেবে বিস্মিত হতে হয় যে, এত বড়মাপের লেখক হয়েও তিনি কী-না কোলকাতার লিটলম্যাগের জন্যও লেখা পাঠাচ্ছেন। বিভিন্ন ভাষার কবিতা অনুবাদের কাজও করছেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব বসুর কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন, আবার অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিতা বাংলায় রূপান্তর করেছেন। অনুবাদ করেছেন বাংলা থেকে ইংরেজিতে, ইংরেজি থেকে বাংলায় এবং স্পেনিশ থেকেও কিছু করেছেন। ব্রিটিশ কবিদের মধ্যে ডি এম টোমাস, ডেভিড কন্সটান্টাইন, আর্জেন্টাইন কবি কিম ট্যাপলিন ,রাফায়েল ফেলিপে ওতেরিনিয়োসহ বেশ কজন কবির কবিতা।স্লোভেনিয়ায় এক পোয়েট্রি ওয়ার্কশপে ফিনল্যান্ডের কবিদের ইংরেজিতে অনুবাদ করা কবিতা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বুঝে নিয়ে কেতকী পুনরায় ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
১৯৬০ সালে মাত্র কুড়ি বছর বয়সে দেশ ছাড়ার সময় বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির বুনিয়াদটা সঙ্গে করে নিয়ে যান তিনি, আর এ কারণে ব্যস্ততার মধ্যেও ভুলে যাননি বাঙালি, বাংলাদেশ ও বাংলা সাহিত্য । তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি লেখকদের যেমন জেনেছন ও পড়েছেন, তেমনই বাংলাদেশের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, শওকত আলীও পড়েছেন। গভীর সম্পর্ক ও যোগাযোগ ছিল শামসুর রাহমান, রফিক আজাদের সঙ্গে, নিবিড় যোগাযোগ ছিল বদরুদ্দীন উমর, হাসান আজিজুল হক, গোলাম মুরশিদ, নির্মলেন্দু গুণ, সেলিনা হোসেন, মহাদেব সাহা, বেলাল চৌধুরী, দিলারা হাসেম, তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে। বাংলাদেশের আধুনিক কবিতা সম্পর্কেও তার বেশ জানাশুনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের কবিতায় দেশপ্রেম ও আবেগের প্রাবল্য বেশি, এ প্রবণতাকে তিনি কবিতার কিছুটা বিপজ্জনক মনে করেছেন। কেতকী কুশারী ডাইসনের শেকড় দুটো সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত, একারণে তিনি বাংলার মাটি ও জলহাওয়া যেমন বোঝেন, তেমনই উপলব্ধি করতে পারেন বিলেতের হিম-তুষার আবহাওয়া। তিনি মনে করেন সংস্কৃতির আদান-প্রদান ও মিশ্রণের মধ্য দিয়ে একজন লেখকের লেখা সমৃদ্ধ হয়, ভাষার মধ্যে শেকড় না থাকলে কবিতা লেখা হয়না, তিনি নিজেকে একজন শেকড়বদ্ধ লেখক বলে মনে করেন।

•মেয়েলি
—কেতকী কুশারী ডাইসন

ও মেয়ে,
তোমার হাঁড়িটা বড্ড উথলে উঠছে,
আঁচটা একটু কমিয়ে দাও না।

ও মেয়ে,
তোমার আনাজের কড়াইয়ে ঢাকনা নেই কেন?
গুন-ঘ্রাণ-রস উড়ে যাবে যে।

ও মেয়ে,
তোমার মাছের এ পিঠ ভাজা হয়ে গেছে,
এবার উল্টে ও পিঠ ভাজো।

নুন দিতে ভুলো না,
মসলা পুড়িও না।

তেল-ঝোল-আঁচল-বাচ্চা
সামলে সুমলে
রান্না নামাবে।

খেতে বসবে কখন?

•নীরবতা

যন্ত্রের তার নিংড়ে শিল্পী বার করেন ঝংকার,
আমাদের মনে হয় আমাদেরই ব্যথা ওখানে বাজছে।

অবাক আমরা ভাবি,
আমাদের না জেনেও তিনি কেমন ক’রে জেনে গেলেন
আমাদের নিভৃত অনুভবকে ।

ধ্বনি রূপ দেয় ব্যথাকে,
সেই ব্যথা নিবিড়,
কিন্তু তার চেয়োও নিবিড়
নীরব তারের ব্যথা—

যাকে শিল্পীর আঙুল একদিন বাজাতো
কিন্তু এখন আর বাজায় না।

ধুলো জমে।
কেবল সেই ধুলোই
তার ব্যথার সাক্ষী।.............
#সম্মাননা

সম্পাদনা
আনন্দ পুরস্কার : ১৯৮৬ এবং ১৯৯৭
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুবনমোহিনী দাসী স্বর্ণপদক: ১৯৮৬
স্টার আনন্দ পুরস্কার বাংলা সাহিত্যে
#রচনা
বাংলা কাব্য গ্রন্থ: "বল্কল (১৯৭৭)", "সজীব পৃথিবী" (১৯৮০), "জলের করিডোর ধরে" (১৯৮১), "কথা বলতে দাও" (১৯৯২), "যাদুকর প্রেম" (১৯৯৯), "দোলনচাঁপায় ফুল ফুটেছে" (২০০০) প্রভৃতি।
উপন্যাস: "নারী, নগরী" (১৯৮১), "নোটন নোটন পায়রাগুলি" (১৯৮৩), জল ফুঁড়ে আগুন (২০০৩), "এই পৃথিবীর তিন কাহিনী" (২০০৬)।
#গবেষণা গ্রন্থ:
"রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে" (১৯৮৫)।
প্রবন্ধগ্রন্থ: "ভাবনার ভাস্কর্য" (১৯৮৮), "শিকড় বাকড়" (১৯৯০), "রঙের রবীন্দ্রনাথ" (১৯৯৭), "চলন্ত নির্মাণ" (২০০৫), ''কাছে-দূরের কক্ষপথে'' (২০১৫)।
নাটক: "রাতের রোদ" (১৯৯৪), "মোত্সার্ট চকোলেট" (১৯৯৮), "সুপর্ণরেখা" (২০০২)।

#ইংরেজি সাহিত্যকর্ম

Sap Wood (১৯৭৮)
A Various Universe (১৯৭৮),
Hibiscus in the North (১৯৭৯),
Spaces I inhabit (১৯৮৩),
In Your Blossoming Flower-Garden: Rabindranath Tagore and Victoria Ocampo (১৯৮৮),
Bilingual Women (১৯৯৪),
Memories of Argentina and Other Poems (১৯৯৯),
In That Sense You Touched It (২০০৫)

"আংলোস্যক্সন কবিতা" (১৯৮৭),
বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ Kobirul Islam, Poems (১৯৭৯), The Home-Coming by Kabirul Islam (১৯৮২)
I Won’t Let You Go: Selected Poems of Rabindranath Tagore (১৯৯১)
Night's Sunlight (২০০০)
The Selected Poems of Buddhadeva Bose (২০০৩)
"ভারতীয় নারীত্বের আদর্শ" (১৯৮৮) - মানবেন্দ্র নাথ রায়ের ইংরেজি রচনার বাংলায় অনুবাদ।

দেশ বিভাগের ফলে 'উদ্বাস্তু জীবনের দলিল' উপন্যাসের স্রষ্টা প্রফুল্ল রায় হলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক...
11/09/2026

দেশ বিভাগের ফলে 'উদ্বাস্তু জীবনের দলিল' উপন্যাসের স্রষ্টা প্রফুল্ল রায় হলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, যিনি দেশভাগের যন্ত্রণা এবং উদ্বাস্তু জীবনের নির্মম দলিল তাঁর একাধিক উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন। দেশ বিভাগের প্রেক্ষাপটে লেখা তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ও কালজয়ী উপন্যাসটি হলো ‘কেয়া পাতার নৌকা’। উদ্বাস্তু জীবনকে কেন্দ্র করে লেখা তাঁর প্রধান সৃষ্টিগুলো হলো: "কেয়া পাতার নৌকা" : এটি প্রফুল্ল রায়ের একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস। দেশভাগের ফলে পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে অগণিত মানুষের পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসার যে মর্মান্তিক সংগ্রাম, তা এই উপন্যাসে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিত্রিত হয়েছে।অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা: ‘কেয়া পাতার নৌকা’ ছাড়াও তাঁর ‘শতকিয়া’, ‘নোনা জল মিঠে মাটি’ এবং ‘সিন্ধুপারের পাখি’-র মতো বহু উপন্যাসে দেশভাগ, দাঙ্গা, শিকড় ছেঁড়ার বেদনা এবং উদ্বাস্তু শিবিরের (রিফিউজি ক্যাম্প) মানবেতর জীবনযাত্রার বাস্তব ছবি ফুটে উঠেছে।প্রফুল্ল রায়ের লেখার মূল বৈশিষ্ট্যই ছিল অত্যন্ত সহজ ভাষায় বাস্তবের কঠোর রূপটিকে পাঠকের সামনে তুলে ধরা। নিজে দেশভাগের প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী হওয়ার কারণে তাঁর উপন্যাসে উদ্বাস্তু জীবনের এই দলিল এতখানি জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
#সংযোজন–
প্রফুল্ল রায় - তিনি বাংলাদেশের ঢাকা জেলায়, বিক্রমপুরের আটপাড়া গ্রামে ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন, স্বাধীনতার পর ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে চলে আসেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পূর্ব পার্বতী' (১৯৫৭)। উপন্যাস রচনার জন্য তিনি সারা জীবন অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। 'সিন্ধু পারের পাখি'র জন্য ১৯৫৮ সালে পেয়েছেন পুরস্কার, 'ক্রান্তিকাল' এর জন্য ২০০৪ এ আকাদেমি পুরস্কার। প্রফুল্ল রায়ের উদ্বাস্তু জীবনকেন্দ্রিক যে সমস্ত উপন্যাস রচিত সেগুলি হল ‘কেয়াপাতার নৌকা’, ‘শতধারায় বয়ে যায়’, ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’, ‘নোনা জল মিঠে মাটি’। প্রথম তিনটি উপন্যাস আকারে ও নামে আলাদা হলেও আসলে তিনটি উপন্যাস মিলেই একটি উপন্যাস। ‘কেয়াপাতার নৌকো’র পরবর্তী খণ্ড ‘শতধারায় বয়ে যায়’ এবং তারও পরবর্তী খণ্ড ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’। তিনটি উপন্যাসই আকারে মহাকাব্যিক। অসামান্য ক্ষমতাসম্পন্ন এই ঔপন্যাসিক সারা জীবন জুড়ে পুরস্কারও পেয়েছেন প্রচুর। 'সিন্ধু পারের পাখি'র জন্য ১৯৮৫ তে 'বঙ্কিম পুরস্কার', 'ক্রান্তিকাল' উপন্যাসের জন্য ২০০৪ এ পেয়েছেন 'সাহিত্য অকাদেমি' পুরস্কার। এ ছাড়াও 'রামকুমার ভুয়ালকা', পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের 'লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট', 'শরৎস্মৃতি', 'বি কে জে এ' ইত্যাদি সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর গল্প উপন্যাস অবলম্বনে রচিত হয়েছে ৪৫টির মতো টেলিফিল্ম, টেলি ধারাবাহিক ও ফিচার ফিল্ম --- মোহনার দিকে (১৯৮৪), আদমি আউর আউরত (১৯৮৪), একান্ত আপন (১৯৮৭), চরাচর (১৯৯৪), টার্গেট (১৯৯৭), মন্দ মেয়ের উপাখ্যান (২০০৩), ক্রান্তিকাল (২০০৫) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 'মন্দ মেয়ের উপাখ্যান 'Best ASEAN film Award', 'Netpac Award', ও 'Golden Lotus Award' পায়। 'ক্রান্তিকাল' পায় 'Indian compitional Special Mention' পুরস্কার।

📮 পাহাড়ের চূড়ায় ভারতের উচ্চতম ডাকঘর! 📮🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏔️ হিমাচল প্রদেশের লাহুল ও স্পিতি জেলার হিক্কিম...
10/09/2026

📮 পাহাড়ের চূড়ায় ভারতের উচ্চতম ডাকঘর! 📮

🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️🏵️

🏔️ হিমাচল প্রদেশের লাহুল ও স্পিতি জেলার হিক্কিম গ্রামে রয়েছে ভারতের উচ্চতম ডাকঘর হিসেবে পরিচিত এক অসাধারণ ডাকঘর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪,৫৬৭ ফুট বা ৪,৪৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই ডাকঘরটি দুর্গম হিমালয়ের কোলে মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার এক অনন্য নিদর্শন। এত উঁচু ও প্রত্যন্ত স্থানে ডাক পরিষেবা চালু থাকা নিজেই অত্যন্ত বিস্ময়কর। 🏔️

📬 ১৯৮৩ সালের ৫ নভেম্বর এই ডাকঘরটি চালু হয়। পরবর্তীকালে পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য ২০২২ সালে এর ভবনটিকে বড় আকারের লাল ডাকবাক্সের আদলে সাজানো হয়। ফলে ডাকঘরটি শুধু স্থানীয় মানুষের যোগাযোগের জায়গা নয়, দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছেও একটি বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে চিঠি পাঠানোর অভিজ্ঞতা অনেক পর্যটকের কাছেই স্মরণীয় হয়ে থাকে। 📬

🥾 দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের কারণে এখানকার ডাক পরিষেবা পরিচালনা করা সহজ নয়। দীর্ঘদিন ধরে ডাক বহনকারীরা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দূরের কাজা এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। শীতকালে অতিরিক্ত তুষারপাত ও প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রকৃতির এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা হিক্কিম ডাকঘরকে করে তুলেছে সত্যিই অনন্য। 🥾

✴️✳️✴️✳️✴️✳️স্থিরচিত্র সৌজন্যে::-- AI Generated (প্রতীকী চিত্র)

স্বনামধন্য কিংবদন্তি 'পদ্মশ্রী' কন্ঠ শিল্পী, সংগীত নির্মাতা ও বিশ্বশিল্পী "ভূপেন হাজারিকা"র শুভ জন্মবার্ষিকীতে আন্তরিক শ...
08/09/2026

স্বনামধন্য কিংবদন্তি 'পদ্মশ্রী' কন্ঠ শিল্পী, সংগীত নির্মাতা ও বিশ্বশিল্পী "ভূপেন হাজারিকা"র শুভ জন্মবার্ষিকীতে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই।
🙏🌹🙏🌻🙏🍁🙏🎂🙏🌼🙏🏵️🙏🌷🙏

ভূপেন হাজারিকা (৮ সেপ্টেম্বর ১৯২৬ - ৫ নভেম্বর ২০১১) ছিলেন একজন স্বনামধন্য কন্ঠ শিল্পী ও ভারতীয় সঙ্গীত জগতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বশিল্পী। এই কিংবদন্তিতুল্য কণ্ঠশিল্পীর জন্ম ভারতের আসামে। অত্যন্ত দরাজ গলার অধিকারী এই কণ্ঠশিল্পীর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। অসমীয়া চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে গানের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। পরবর্তীকালে বাংলা ও হিন্দি ভাষায় গান গেয়ে ভারত এবং বাংলাদেশে অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০০৬ সালে বিবিসি বাংলার শ্রোতা জরিপে তার "মানুষ মানুষের জন্যে" গানটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কুড়িটি বাংলা গানের তালিকায় দ্বিতীয় লাভ করে।

তিনি মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই গান লিখে সুর দিতে থাকেন। আসামের চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের সূচনা হয় এক শিশুশিল্পী হিসেবে। ১৯৩৯ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি অসমীয়া ভাষায় নির্মিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা পরিচালিত ইন্দুমালতী ছবিতে "বিশ্ববিজয় নওজোয়ান" শিরোনামের একটি গান গেয়েছিলেন। পরে তিনি অসমীয়া চলচ্চিত্রের একজন নামজাদা পরিচালক হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশ, আসাম ও তার প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে তার জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক ও বিশাল। অসমীয়া ভাষা ছাড়াও বাংলা ও হিন্দি ভাষাতেও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন এবং অনেক গান গেয়েছেন। অবশ্য এসব গানের অনেকগুলোই মূল অসমীয়া থেকে বাংলায় অনূদিত।

ভূপেন হাজারিকার গানগুলোতে মানবপ্রেম, প্রকৃতি, ভারতীয় সমাজবাদের, জীবন-ধর্মীয় বক্তব্য বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এছাড়াও, শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদী সুরও উচ্চারিত হয়েছে বহুবার।

তাঁর উল্লেখযোগ্যবাংলা গান:-

আজ জীবন খুঁজে পাবি,
আমি এক যাযাবর,
আমায় ভুল বুঝিস না,
একটি রঙ্গীন চাদর,
ও মালিক সারা জীবন,
গঙ্গা আমার মা,
প্রতিধ্বনি শুনি,
বিস্তীর্ণ দুপারে,
মানুষ মানুষের জন্যে,
সাগর সঙ্গমে,
হে দোলা হে দোলা,
চোখ ছলছল করে।

প্রথিতযশা বাঙালী গীতিকার ও কবি শ্রদ্ধেয়"পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের" প্রয়াণ দিবসে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই।🙏🌹🙏🌼🙏🍁🙏🥀🙏🌻...
07/09/2026

প্রথিতযশা বাঙালী গীতিকার ও কবি শ্রদ্ধেয়
"পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের" প্রয়াণ দিবসে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই।
🙏🌹🙏🌼🙏🍁🙏🥀🙏🌻🙏🏵️🙏🌷🙏

পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (২ মে ১৯৩১ – ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯) ছিলেন একজন বাঙালি গীতিকবি যিনি সুরের সাথে রঙ মিশিয়েছেন খুব সাবলীলভাবে। তিনি হাওড়ার সালকিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈল্পিক সংবেদনশীলতা এসেছে এমন এক পরিবার থেকে যার প্রায় সবাই নাটক, সাহিত্য এবং সঙ্গীতের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তার কথাগুলো অসংখ্য বাংলা চলচ্চিত্রের গানে প্রাণ ঢেলেছে এবং সঙ্গীত প্রেমীদের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছে। তার লেখা গান হচ্ছে সহজ ভাষায় গভীর অনুভূতির এক টেপেষ্ট্রি। তিনি প্রেম, বেদনা এবং সমাজ ও জীবনের সারকথা অবলম্বনে গানের পঙক্তি রচনা করেছেন, যা কিনা প্রতিটি আত্মার মাঝে প্রতিধ্বনিত হয়। "আমি কলকাতার রসগোল্লা," "তুমি আমার আশা," এবং "তোমাকে চিরে আমি" এর মতো হিট গান তাঁর সাধারণ শব্দের জাদু দিয়ে বোনা।

বাংলা গানের প্রায় সব প্রতিষ্ঠিত শিল্পীই তার লেখা গান গেয়েছেন । এইচ.এম.ভি. এবং আকাশবাণীর গীতিকারদের নিয়ে বিতর্কের সময় তিনি কিছুদিন প্রিয়ব্রত ছদ্মনামটি ব্যবহার করেন। আধুনিক গানের ক্ষেত্রে একটা সময়ের পর থেকে মান্না দে এবং পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় এক সফল জুটি হয়ে ওঠেন। মান্না দের গাওয়া প্রেমের গান অধিকাংশই তার রচনা। পঞ্চাশ বছরের উপর তিনি যা গান লিখেছেন তার সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি। সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন। ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত বাংলা চলচ্চিত্র জগতে সঙ্গীতের সুরমূর্ছনায় সমৃদ্ধি আনয়ণে স্বকীয় ভূমিকা রাখেন। হেমন্ত, মান্না দে, গীতা দত্ত, লতা, আশা, হৈমন্তী, শ্যামল, ভূপেন, প্রতিমা, উৎপলা, অরুন্ধতী, সতীনাথ, অনুপ, আরতী মুখোপাধ্যায়সহ অনেক জ্ঞানী-গুণী শিল্পী তার সুরোরোপে গান গেয়েছেন। ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শঙ্খবেলা’ চলচ্চিত্রে তার সুরোরোপিত গান আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। লতা ও মান্নাদে’র দ্বৈত গান ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ এবং লতা’র কণ্ঠে ‘আজ মন চেয়েছে’ চলচ্চিত্রটিকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়। এছাড়াও, ১৯৬৯ সালের ‘প্রথম কদম ফুল’ চলচ্চিত্রের জন্য ‘আমি শ্রী শ্রী ভজ হরি মান্না’ গান রচনা করেন। এছাড়া "সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল","গাছের পাতায় রোদের ঝিকিমিকি",নিঝুম সন্ধ্যায় ক্লান্ত পাখীরা","খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার" বাংলা ছবির এরকম বহু স্মরণীয় গানের গীতিকার তিনি । আধুনিক বাংলা গানের কথাও তার রচনাশৈলীর গুণে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। মান্না দের গাওয়া তার লেখা "মা" গানগুলিও বিশেষ উল্লেখযোগ্য । গান লেখার পাশাপাশি তিনি উপন্যাস,চিত্রনাট্য ও ছড়া লিখেছেন । তার লেখা গানের সংকলন 'আমার প্রিয় গান', ছড়ার সংকলন 'বাহাত্তুরে',গল্প সংকলন 'শেষ সংলাপ'। 'কথায় কথায় রাত হয়ে যায়' তার আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গান:-

"কে জানে ক ঘণ্টা"
"বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি"
"তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে"
"যা রে যা উড়ে রাজার কুমার"
"জানি না কখন তুমি"
"যখন কেউ আমকে পাগল বলে"
"আমি আগন্তুক"
"আমি গান শোনাবো ঐক্য আশা"
"কে প্রথম কথা এমনি"
"যাতো ভাবনা ছিলো"
"খোপার ওই গোলাপ দিয়ে"
"এই ছন্দ এ আনন্দ"
"অমর ভালোবাসার রাজপ্রসাদে"
"তুমি শতদল হয় ফুটে"
"টাপুর টুপুর বৃষ্টি ঝোরে"
"ফুলেশ্বরী"
"যেয়ো না দাড়াও বন্ধু"
আমি শ্রী শ্রী ভোজহোরি মান্না
আগুন লেগেছে
দাউ দাউ দাউ জ্বলে দুরন্ত
লাজবতী নুপুরের রিনি ঝিনি ঝিনি
কতদিন পরে এলে
সেদিন তোমায় দেখেছিলাম
ওগো কাজল নয়না হরিণী
সেই তো আবার কাছে এলে
ও লোলিতা, ওকে আজ চলে যেতে বলনা
জানি তোমার প্রেমে যোগায় ও আমি তো নয়ই
আবর হবে তো দেখা
কথায় কথাই যো রাত হয় জয়
আমার বলার কিছু ছিলোনা
আজ মন চেয়েছে
দ্বীপ জ্বেলে ওই তারা
আমি তোমার কাছেই ফিরে আসবো
সবুজ পাহাড় ডাকে
এসো প্রাণ ভরোনো দিনও হারানো সে
তোমায় কেনো লাগচে ইতো চেনা
মেঘলা ভাঙ্গা রড উঠছে
তোমার দু চোখে আমার স্বপ্ন আঁকা
বড়ো সাধ জাগে গে একবার তোমাই দেখি
তুমি অনেক যত্ন করে আমায় দুঃখ দিতে চেয়েছ
"বাসরাই গোলাপ হাতে দিলম"
"তোমার ভুবনে ফুলের মেলা আমি কাঁদি শরয়ে"

Address

24 Khuli
Adra
723121

Telephone

+918145135445

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Freethinking Humanists -Adra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to The Freethinking Humanists -Adra:

Shortcuts

Share