Earth Aid

Earth Aid Earth Aid

Earth Aid is an International not for profit organisation which is going to work on some of the key issues that the world is currently facing – climate change, inequality, poverty and human rights.

16/02/2025

2017- Group of of Baintala village participating in a disaster preparedness training at night after long day domestic works. Are you elder than 18 & willing to be rewarded internationally? Submit your photos here: https://goo.gl/HuwbaS

ভারতের ত্রিপুরায় ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গেট ৩১ বছর পর খুলে দেওয়ার এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ছয়টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়...
22/08/2024

ভারতের ত্রিপুরায় ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গেট ৩১ বছর পর খুলে দেওয়ার এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ছয়টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী ও মৌলভীবাজার যেখানে ৪৩টি উপজেলা তলিয়ে গেছে। এই ছয় জেলায় মোট ১৮৯,৬৬৩টি পরিবার বন্যার পানিতে আটকা পড়েছে।

নতুন দিল্লি থেকে ২২ আগস্ট, ২০২৪ এ প্রকাশিত সরকারি বিবৃতি অনুসারে, ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে বাংলাদেশের চলমান বন্যা ত্রিপুরার গুমতি নদীর উপর ডুম্বুর বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার কারণে হয়নি। বরং, এই বন্যা ভারত ও বাংলাদেশের গুমতি নদীর অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে হয়েছে। ডুম্বুর বাঁধটি বাংলাদেশের ১২০ কিমি উজানে অবস্থিত, এবং পানি ছাড়ার প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিক তথ্যের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করা হয়। ভারত সরকার সীমান্তবর্তী নদী সমস্যার সমাধানে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

আসলেই কি এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ? এটা ভালভাবে যাচাই করার জন্য ভারতের আবহাওয়া বিভাগ, ভূ বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের তথ্য একটু গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। বার্ষিক বৃষ্টিপাত মিলিমিটার (মিমি) এককে মাপা হয় কারণ এটি বোঝায় যে একটি সমতল পৃষ্ঠে যদি সমস্ত বৃষ্টি জমা হয় এবং কোথাও না বয়ে যায়, তবে পৃষ্ঠে কত গভীর পানি জমা হবে। উদাহরণস্বরূপ, বার্ষিক বৃষ্টিপাত যদি ১০০০ মিমি হয়, তাহলে এর মানে হলো এক বছরে ১ মিটার (১০০০ মিমি) পানি জমা হবে। ২০১২ থেকে ২০২৪(জানু-জুলাই) পর্যন্ত এক যুগের ভারতের ত্রিপুরার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের রেকর্ড নিচে দেখুন:

বছর - বার্ষিক বৃষ্টিপাত (মিমি)
২০১২ - ১৮৮২.২
২০১৩ - ২০৪৩.৫
২০১৪ - ২০১৫.৭
২০১৫ - ২৩৩৪.৪
২০১৬ - ২৩৮১.৯
২০১৭ - ৩৩২৬.৮
২০১৮ - ২১৯১.৪
২০১৯ - ২২৫২.৮
২০২০ - ২১৬৯.১
২০২১ - ১৭৬১.১
২০২২ - ১৮১০.৫
২০২৩ - ১৭৩৫.৬
২০২৪ - জুলাই পর্যন্ত ১২৭৬.১

ত্রিপুরায় সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয় জুন-সেপ্টেম্বর এই ৪ মাসে। আর মার্চ-মে এই ৩ মাস বছরের ২য় বৃহত্তর ভাগ বৃষ্টি হয়। সেই ডাটার দিকে লক্ষ্য করলেও এ বছর মার্চ-মে এই ৩ মাসে বৃষ্টি হয়েছে ৫০৮.১ মি.মি যেটা ২০১৩, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯, ২০২০ এর চেয়ে কম। এখন যদি গত ১১ সপ্তাহের বৃষ্টির ডাটার দিকে তাকাই তবে এর মাঝে বৃষ্টিপাত মাত্র ২ সপ্তাহ স্বাভবিক এর চেয়ে বেশি ছিল, ১ সপ্তাহ স্বাভাবিক ছিল। অন্য দিকে ৭ সপ্তাহেই বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক এর চেয়ে কম ছিল, ১ সপ্তাহে স্বাভাবিক এর চেয়ে অনেক কম ছিল। ২০১৭ সালে ৩৩২৬.৮ (মিমি) বৃষ্টিপাতের পরেও কিন্তু ডুম্বুর বাঁধটি খোলা হয়নি। ২০২৪ সালে আরও অতিরিক্ত ২০০০ মি.মি এর মত বৃষ্টি লাগতো ঐ ২০১৭ সালের মাত্রার কাছে পৌঁছাতে। আর ঐ মাত্রা পার করার পর সম্ভাব্য বন্যার বিষয়ে উদ্বেগের কারনে যৌক্তিকভাবে ভারত আসতে পারতো বাঁধ খোলার সিদ্ধান্তে এবং সেটা সরকারিভাবে বাংলাদেশকে জানিয়ে সতর্ক করতে পারতো।কিন্তু এরকম কিছুই করা হয়নি।ভারতীয় সরকার আর ভারতীয় মিডিয়া যারা কয়েকদিন আগেও বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য হা-হুতাশ করছিলো তারা একদম চুপ থাকলো এই পুরোটা সময়। ভাবটা এমন যে বন্যা দুর্গত এলাকা গুলোতে কোন হিন্দু পরিবারের অস্তিত্ব নেই। এরকম খামখেয়ালিপূর্ণ আচরণের জন্য আমাদের অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে এটা কি আসলেই
ভারতের একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ না। আমার মনে হয় বাংলাদেশে ভারতের সমর্থিত সরকারের পতনের পর এরকম খামখেয়ালির উদ্দেশ্যই হল বাংলাদেশেকে উস্কানি দিয়ে দেশে অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আমাদের জাতীয় অগ্রগতিকে অস্থিতিশীল করা।

এই ঘটনাটি ভারতের বিচ্ছিন্ন কোনো কাজ নয়, ভারত ১৯৭০-এর দশকে আন্তর্জাতিক পানি আইনের বাধ্যবাধকতাকে উপেক্ষা করে গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশের মারাত্মক পরিবেশগত ক্ষতি করেছে এবং বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করেছে। বহু বছর ধরে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য চেষ্টা করছে, কিন্তু ভারত তা এড়িয়ে
আলোচনায় বসতে অস্বীকার করে আসছে।আর এই সাথে অব্যাহত রেখেছে পানি সরিয়ে নেওয়া, যার ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর অংশ খরার মুখে পড়েছে। এই কর্মকাণ্ডগুলো আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদের ন্যায্য এবং যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক আইনের নীতিগুলির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বাংলাদেশের সাথে পরামর্শ ছাড়াই, আগে থেকে বাংলাদেশকে না জানিয়ে একতরফাভাবে ডুম্বুর গেট খুলে পানি ছেড়ে দিয়ে ভারত তার প্রতিবেশীর অধিকার এবং কল্যাণের প্রতি সম্পূর্ণ অবহেলা প্রদর্শন করেছে। এটি কোনোভাবেই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশ এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর প্রভাব বিস্তারের একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এই কৌশলে আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে ভারত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে করে লক্ষ লক্ষ মানুষের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি করবে। যেহেতু ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪ টি অভিন্ন আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক পানি আইন লঙ্ঘন করা এই কাজটি ভবিষ্যতেও ভারত কিভাবে তার শক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখে তার বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রী আর জনসাধারণ যেভাবে এই ভারতের করা দুর্যোগের মোকাবেলা করতে নেমেছে তা প্রশংসনীয়। কিন্তু এমন আগ্রাসনের মুখে বাংলাদেশ উদাসীন থাকতে পারে না। বাংলাদেশকে শুধু ভারতের আগ্রাসনের সরকারিভাবে নিন্দা জানালেই চলবে না, বরং তার স্বার্থ রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপও নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে জোটকে শক্তিশালী করা, যা ভারতের পররাষ্ট্রনীতির জন্য নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের মাধ্যমে, এই দেশগুলো আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদের আরও ন্যায্য বণ্টনের জন্য চাপ দিতে পারে এবং নিশ্চিত করতে পারে যে ভারতের কর্মকাণ্ডের যথাযথ জবাবদিহিতা থাকবে। এটি শুধু বেঁচে থাকার প্রশ্ন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার ও মর্যাদার প্রশ্ন।

কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ Fahmid Ahmed (Data) এবং Imran Nazir (Narrative)

Address

41 Macbean Street
Woolwich
SE186LW

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Earth Aid posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share