17/08/2026
একজন ড্রাইভার অত্যন্ত দক্ষ। তিনি কখনো ওভার স্পিডে গাড়ি চালান না, ওভারটেক করেন না। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, ধৈর্য ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে তিনি গাড়ি চালান। কিন্তু এত কিছুর পরও কি তিনি পুরোপুরি নিরাপদ? উত্তর হলো- না।
অনভিজ্ঞ বা বেপরোয়া অন্য কোনো ড্রাইভার ওভার স্পিডে এসে তাকে ধাক্কা দিতে পারে, রং সাইড থেকে এসে আছড়ে পড়তে পারে কিংবা ভুল ওভারটেক করে তার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিতে পারে। যতক্ষণ না পর্যন্ত রাস্তার প্রতিটি ড্রাইভার ধৈর্যশীল ও নিয়মানুবর্তী হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত "আমি নিজে ভালো গাড়ি চালাই" ভেবে নিশ্চিন্তে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
জীবনের প্রথমভাগে আমরা বেশিরভাগ মানুষই শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবি- আমাদের ক্যারিয়ার সুন্দর হোক, আমরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হই। এরপর যখন অভিভাবক হই, তখন আমাদের সমস্ত ভাবনা গিয়ে থামে সন্তানের ওপর- সন্তানের ক্যারিয়ার ভালো হোক, তারা প্রতিষ্ঠিত হোক। খুব বেশি হলে আমরা ভাবি, "আমার সন্তান যেন সৎ হয়, কারো ক্ষতি বা অনিষ্ট না করে।"
এরপরই আমরা এক ধরণের আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলি। ভাবি—আমার তো কোনো দুশ্চিন্তা নেই! আমি তো ভালো, আমি তো কারো ক্ষতি করছি না। নিজের সন্তানকেও সুশিক্ষা দিয়েছি, সে-ও কারো অনিষ্ট করবে না। আমার পরিবার সাজানো-গোছানো, আমাদের আর কীসের ভয়?
কিন্তু আমরা ভুলে যাই, সমাজ নামক রাস্তায় আমরা একাই গাড়ি চালাচ্ছি না।
আমরা বা আমাদের সন্তানরা কারো ক্ষতি না করলেও, কোনো দোষ না থাকলেও- অন্যদের ভুল, অসচেতনতা কিংবা অন্যায় সিদ্ধান্তের কারণে যেকোনো দিন আমাদের সাজানো-গোছানো জীবন উজাড় হয়ে যেতে পারে। নিজের চারদেওয়াল যত মজবুতই হোক না কেন, চারপাশের পরিবেশ যদি ধ্বংসাত্মক হয়, তবে ঝড়ে সেই চারদেওয়ালও একদিন ভেঙে পড়বে।
তাই শুধু নিজের এবং নিজের পরিবারের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। "আমি ভালো তো সব ভালো"- এই ধারণা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।
নিরাপত্তা কখনো একা অর্জন করা যায় না, নিরাপত্তা একটি সমষ্টিগত অর্জন। নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে সত্যি সত্যি সুরক্ষিত রাখতে চাইলে আমাদের চিন্তার পরিধি বাড়াতে হবে:
প্রথমে দায়িত্ব নিতে হবে নিজের পরিবারের।
এরপর নজর দিতে হবে পাশের প্রতিবেশীর দিকে।
তারপর পাড়া, মহল্লা এবং ধীরে ধীরে পুরো সমাজের মঙ্গলের কথা ভাবতে হবে।
আমাদের সন্তানকে শুধু "কারো ক্ষতি না করা ভালো মানুষ" বানিয়ে ছেড়ে দিলে হবে না; বরং একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ, চারপাশের সমাজটা ভালো না থাকলে, আমাদের সন্তানেরাও কখনো নিরাপদ থাকতে পারবে না।
আসুন, শুধু নিজের সুখের বৃত্তে বন্দি না থেকে, চারপাশের সমাজটাকে সুন্দর করার ছোট ছোট চেষ্টায় শামিল হই। কারণ আপনার-আমার সবার নিরাপত্তা ওই সমষ্টিগত সুরক্ষার ভেতরেই লুকিয়ে আছে।
মুনিরুল্লাহ ফাউন্ডেশন এই সমষ্টিগত সুরক্ষায় বিশ্বাসী। আমাদের সকল প্রয়াস আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য। সে গরীব হোক বা ধনী, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, হিন্দু বা মুসলিম... সবাইকে নিয়েই আমাদের সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয়। মহান রব আমাদের তাওফিক দান করুন (আমিন)।