29/04/2026
পাঁচ আগস্টের পর ছাত্রলীগের বিতাড়নের মাধ্যমে যে র্যাগিং কালচার ক্যাম্পাসগুলো থেকে বিদায় হয়েছিল— নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে সেই সংস্কৃতিই আবার ফিরিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
সিনিয়রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখাকে কেন্দ্র করে সদ্য দ্বিতীয় বর্ষে ওঠা ২৬ শিক্ষার্থীকে রাতভর র্যাগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের অধিকাংশই শাখা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
গত ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে কলেজটির ছাত্রাবাসের ছাদে ঘটে এই ঘটনা। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ প্রশাসন।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২৩ এপ্রিল রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত তাদের ছাদে দাঁড় করিয়ে রেখে শারীরিক ও মানসিক নি/র্যাতন করা হয়।
এমনকি অসুস্থ শিক্ষার্থীদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি— একজনকে জোর করে ঘুম থেকে তুলে এনে র্যাগ দেওয়া হয়, আরেকজন নি/র্যাতনের সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে উপহাস করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি গু/রুতর অসুস্থ হয়ে একাধিকবার বমি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পুরো সময়জুড়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায়ও কাউকে বসতে বা বিশ্রাম নিতে দেওয়া হয়নি, বরং জোর করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়, যা তাদের শারীরিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তোলে।
এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে ৫ম ব্যাচের মুহতাসিম আহমেদ ও ৬ষ্ঠ ব্যাচের আওয়াব বিন আজহারের নাম।
এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ৪র্থ ব্যাচের সাফওয়ান বিন সাজ্জাদ জুন্নুন, ৬ষ্ঠ ব্যাচের মোমিনুল ইসলাম রিয়াদ, লাবিব মুশফিক, রাতুল হাসান বিশ্বাস ও বিশাল সাহা।
এর মধ্যে সাফওয়ান বিন সাজ্জাদ জুন্নুন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মুহতাসিম আহমেদ ও আওয়াব বিন আজহার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
ঘটনার দুই দিন পর, ২৫ এপ্রিল, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন, যেখানে ২৬ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর রয়েছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এনাটমি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুনতাসির আহমেদ পললকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুহতাসিম আহমেদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আওয়াব বিন আজহার সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “ঘটনাটি অনেক দিন আগের,” এরপর বিস্তারিত জানতে চাইলে কথা বলতে অপারগতা জানান।
সাফওয়ান বিন সাজ্জাদ জুন্নুনের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।