জনতার আদালত

জনতার আদালত Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from জনতার আদালত, Charitable organisation, Lonodn, London.

প্রায় তিন বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় লন্ডন থেকে দু’জন সাংবাদিককে বিমানের টিকিট দিয়ে ঢাকায় আনা হয়েছিল। ঢাকায়...
25/12/2025

প্রায় তিন বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় লন্ডন থেকে দু’জন সাংবাদিককে বিমানের টিকিট দিয়ে ঢাকায় আনা হয়েছিল। ঢাকায় এসে তারা নিজেদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যস্ত ছিলেন। ৫ই আগস্টের আগ পর্যন্ত তারা প্রকাশ্যেই বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি ও সাংবাদিকতা করেছেন, সুবিধা নিয়েছেন, অবস্থান শক্ত করেছেন।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ৫ই আগস্টের পর হঠাৎ করেই তাদের আদর্শ বদলে গেল। এখন তারা নতুন পরিচয়ে, নতুন ব্যানারে নিজেদেরকে “হাদির সৈনিক” প্রমাণ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সময় বদলালে অবস্থান বদলানো নতুন কিছু নয়, কিন্তু আদর্শ বদলের এই নাটক মানুষ এখন খুব সহজেই বুঝে ফেলে।

আদর্শ যদি সত্যিই হৃদয়ে থাকে, তাহলে ক্ষমতা বদলালেই তা পাল্টায় না। ইতিহাস একদিন এসব ভণ্ডামির হিসাব ঠিকই নেবে।

মানবিক ভিসা চালু করতে যাচ্ছে পর্তুগালইউরোপের দেশ পর্তুগাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত বা জীবন ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের...
14/10/2024

মানবিক ভিসা চালু করতে যাচ্ছে পর্তুগাল

ইউরোপের দেশ পর্তুগাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত বা জীবন ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য মানবিক ভিসা নামে একটি নতুন ভিসা চালু করতে যাচ্ছে।

গত শুক্রবার (১১ অক্টোবর) দেশটির জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদন করা হয়।

মানবিক ভিসার আওতায় জন্মসূত্রে নিজ দেশে কেউ নির্যাতিত হলে এবং সেদেশে বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে ওই ব্যক্তি স্থানীয় পর্তুগিজ দূতাবাস অথবা পার্শ্ববর্তী দেশের পর্তুগিজ দূতাবাসে মানবিক ভিসার আবেদন করতে পারবেন।

দেশটিতে বর্তমানে এমন একটি আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ি কোনো বিদেশি নাগরিক বা রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি যদি পর্তুগালে আশ্রয় আবেদন করতে চান তাহলে অবশ্যই তাকে পর্তুগালে আসার পর স্থানীয় অভিবাসন অধিদপ্তরের নিকট আশ্রয় আবেদন করতে হয়।

এই বিধানটিতে আরও একটি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে- তা হলো কোনো ব্যক্তি যদি সোশ্যাল সিকিউরিটিতে ১২টি কন্ট্রিবিউশন প্রদান করেন অর্থাৎ ১২ মাস যদি কোনো বিদেশি নাগরিক পর্তুগালে অভ্যন্তরে কাজ করেন এবং প্রতিমাসে সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশন প্রদান করেন তাহলে তিনি নিয়মিত হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে গত ৩ জুন পর্তুগাল সরকার অভিবাসীদের নিয়মিত হওয়ার ৮৮ এবং ৮৯ আর্টিকেলের সহজ আইনটি বন্ধ করে দেওয়ার পর ওই তারিখের আগে এবং পরে যারা পর্তুগালে এসেছেন তারা কীভাবে নিয়মিত হবেন সে বিষয়ে কোনো কিছু জানা যায়নি।

বর্তমান বিধিমালাটি এখন সাংবিধানিক অধিকার, স্বাধীনতা এবং গ্যারান্টি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা করা হবে এবং সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর এটি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করা হবে।

এরপর রাষ্ট্রপতি অনুমোদন প্রদান করলে গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করার পর তা কার্যকর হবে।

১৪ অক্টোবর ২০২৪

আন্তর্জাতিক নিয়মে কোনো দেশের বানিজ্যিক বিমান অন্য দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে অন্তত পাঁচশত ডলার ফী দিতে হয় ওই দেশকে। দক্...
11/02/2024

আন্তর্জাতিক নিয়মে কোনো দেশের বানিজ্যিক বিমান অন্য দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে অন্তত পাঁচশত ডলার ফী দিতে হয় ওই দেশকে।

দক্ষিন এশিয়ার একমাত্র বাংলাদেশের আকাশ ব্যাবহার করলে অন্তত ৯৫ ভাগ বানিজ্যিক বিমানকে বাংলাদেশকে কোন ডলার দিতে হয় না। বাংলাদেশের আকাশ ব্যাবহার করে কিন্তু চার্জ পায় ভারত। ভারতের রাডার থেকে সিগনাল রেজিস্ট্রার করা হয় তাই এসব বিমান থেকে বাংলাদেশের আকাশ সীমা ব্যাবহারের সকল অর্থ পায় ভারত।

জিয়াউর রহমানের আমলেই (১৯৮০ সালে) শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের একমাত্র বেসামরিক রাডারটি বসানো হয় ও কমিশন করা হয়। এই একটি মাত্র রাডার দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের আকাশ পাহারা দেয়া হচ্ছে ৪৪ বছর ধরে।

কিন্তু ৪৪ বছরের পুরাতন রাডারটি অনেক বছর আগেই এক্সপায়ার হয়ে গেছে, এখনও বারবার মেরামত করে প্রথম প্রজন্মের এই রাডার ব্যবহার করতে হয়। এত পুরাতন রাডার দক্ষিন এশিয়ায় শুধুমাত্র বাংলাদেশই ব্যাবহার করে। যার কার্যক্ষমতা আন্তর্জাতিক মান দন্ডে প্রশ্নের মুখে বহুদিন থেকে।

মজার তথ্য হল হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ২০১৭ সালে মানে সাত বছর আগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের জন্যে নতুন একটি ৪র্থ প্রজন্মের রাডার কেনা হয়। উক্ত রাডারটি ২০১৭ সালে স্থাপন করা হলেও এখন পর্যন্ত চালু করে কমিশন করা সম্ভব হয় নাই।

ভারতের কারনেই এই রাডার সচল করা হচ্ছে না। রাডারটি বসানোর সময়েও ভারত আপত্তি জানায়। অথচ ভারত তাদের রাডার ব্যাবহার করে বাংলাদেশের আকাশ সীমা ভাড়া গুনছে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো থেকে যার বার্ষিক আয়ের পরিমান প্রায় ১০০ কোটি ডলারর উপরে।

এক ভারতকেই প্রতিদিন গড়ে একশোর উপর বিমান বাংলাদেশের আকাশ সীমা ব্যাবহার করে বিভিন্ন প্রদেশে যাতায়ত করতে হয়। অথচ সাত বছর থেকে চট্টগ্রামের রাডারটি পড়ে থেকে মেয়াদ হারাচ্ছে প্রতিদিন।

চট্টগ্রামের রাডারটি চালু হলে ভারতের আয়ে ঘাটতি দেখা দিবে এইটা আগে চিন্তা করলে অন্তত ছয় বছর আগে এত টাকা দিয়ে রাডারটি কেনার প্রয়োজন ছিল না৷ ভারত মন খারাপ করবে বা ভারতের সুই সমতুল্য স্বার্থে লাগে এমন কাজ তো আর আমাদের পক্ষে সম্ভব না। দেশ জাহান্নামে যাক, বান্দে মাতারামই আসল চেতনা বাংলাদেশের।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অপর নাম হল - ভারাত মাতা কি জয় হো। ভারতের এক ডলার ব্যাবসা কম হওয়া মানে ডিজিটাল বাংলাদেশের চেতনা কম হওয়া।।

09/02/2024

🔴🔴 ইউকে ইমিগ্রেশন এর নতুন নিয়ম:

Rule 1: আগামী ১১ মার্চ এর পর থেকে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় কোন ডিপেন্ডেন্টকে ভিসা দেওয়া হবে না। কেয়ার ওয়ার্কার ভিসার এই নিয়মটি ইন কান্ট্রি ভিসা সুইচ এবং কামিং ফ্রম এব্রোড উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

★অর্থাৎ কেউ যদি এখন বাংলাদেশ থেকে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় ইউকে আসে তাহলে কোন ডিপেন্ডেন্ট সাথে নিয়ে আসতে পারবে না এবং উক্ত ভিসায় থাকা অবস্থায় কখনো ডিপেন্ডেন্ট এর জন্য ভিসা এপ্লাই করতে পারবে না।

★এমনকি ইউকেতে অবস্থানরত কোন স্টুডেন্ট যারা গ্রেজুয়েশন কম্পলিট করেছে অথবা PSW তে রয়েছে তারাও ডিপেন্ডেন্টসহ কেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে ভিসা সুইচ করতে পারবে না

★ তবে ১১ মার্চের পূর্বে কেউ যদি কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় সুইচ করে তাহলে একই সাথে অথবা ১১ মার্চের পরে ভিসা বহাল থাকা অবস্থায় যেকোনো সময় ডিপেন্ডেন্ট আনতে পারবে।

Rule 2: আগামী ৪ এপ্রিলের পর কেয়ার ওয়ার্কার ছাড়া অন্য যেকোনো স্কিল ওয়ার্কার ভিসায় সুইচ করলে বাৎসরিক সেলারী মিনিমাম ৩৮৭০০ পাউন্ড দেখাতে হবে। এই ক্ষেত্রে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা পাবে, সমস্যা নেই।

Rule 3: আগামী ১১ এপ্রিলের পর ফ্যামিলি ভিসার ক্ষেত্রে বাৎসরিক সেলারী মিনিমাম ২৯০০০ পাউন্ড দেখাতে হবে।

★পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

[৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে নতুন তথ্য্য ও বিশ্লেষণ যোগ করা হলো। দৈনিক সমকাল এর অংশবিশেষ ভিন্ন শিরোনাম প্রকাশ করেছে।]সাধু ...
31/08/2021

[৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে নতুন তথ্য্য ও বিশ্লেষণ যোগ করা হলো। দৈনিক সমকাল এর অংশবিশেষ ভিন্ন শিরোনাম প্রকাশ করেছে।]
সাধু সাবধান:
১৫ আগস্ট ১৯৭৫ তারিখে হাসানুল হক ইনু কি ট্যাংকে উঠে উল্লাস করেছেন?
— জিয়াউল হক মুক্তা
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জাসদ-এর বর্তমান সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ট্যাংকের উপর ওঠে নেচে উল্লাস করেছিলেন— এরকম একটি প্রচারণার শুরু হয়েছিল জামাত-শিবিরের 'বাঁশেরকেল্লা' নামের ফেইসবুক পেইজ থেকে; এজন্য বাঁশেরকেল্লা ফটোশপে একটি ট্যাংকের উপর কালো শার্ট-প্যান্ট পরিহিত গোঁফওয়ালা একজন সৈনিকের ছবির মুখমণ্ডলে গোল দাগ দিয়ে, তার দিকে একটি তীর চিহ্ন এঁকে, তীরের পেছনে হাসানুল হক ইনুর বর্তমান সময়ের একটি ছবি যোগ করে বাজারে ছেড়েছিল; একই ছবির দ্বিতীয় আরেকটি সংস্করণে তীর চিহ্ন নেই, সৈনিকের মুখমণ্ডল গোল দাগ দিয়ে চিহ্নিত করে উপরের দিকে একটি বক্সে হাসানুল হক ইনুর বর্তমান সময়ের ছবি যোগ করা হয়— এটা এখনও বিএনপি'র ফেইসবুক পেইজ 'টিকটিকির দর্শন'-এ দেখা যায়। বাঁশেরকেল্লা ও টিকটিকির দর্শন প্রকাশিত এ ফটোশপ-ম্যানুফ্যাকচার্ড বা ফটোশপ-ম্যানিপুলেটেড ছবি ও/বা বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রচার করেছিল শত্রুপক্ষের অনেক ইতর ও মিত্রপক্ষের অনেক আহাম্মকের দল। বিষয়টি আলোচনা করা যাক।
এক.
বাঁশেরকেল্লা প্রকাশিত ছবিটির প্রচারকারী গণশত্রুরা ও অন্যদিকে আহাম্মকেরা বঙ্গবন্ধু-হত্যা বিষয়ে একটি বিকৃত অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক ন্যারেটিভ/বিবরণী তৈরি ও প্রকাশ করে চলেছে এখনও পর্যন্ত— আর তা হলো, বঙ্গবন্ধু-হত্যার পর দেশে উল্লাস হয়েছিল। কিন্তু আদতে তা নয়; হত্যাকাণ্ডের পর গণপ্রতিরোধের ভয়ে খুনিরা ছিল ভীতসন্ত্রস্ত; দেশে ছিল থমথমে ভাব; সামরিক আইন জারি ছিল; কারফিউ জারি ছিল; জনগণ নিজ গৃহে অবরুদ্ধ ছিলেন; জনগণের কোন সংগঠিত প্রতিবাদ হয়নি সত্য, কিন্তু জনগণ উল্লাসও করেননি। জাতীয়-আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকায় এরকম কোন উল্লাসের খবর বা ছবিও কোনোদিন প্রকাশিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু-হত্যার মধ্য দিয়ে কোন ধরনের ভীতি তৈরি ও প্রচার করা হয়েছিল তা মেজর ডালিমের বেতার-বক্তব্যে খুব পরিষ্কারভাবে শোনা যায়; বর্তমানে ইউটিউবে সহজলভ্য অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ এ বক্তব্যের এক অংশে ডালিম বলছেন, "বাংলাদেশ পুলিশ, বিডিআর ও রক্ষীবাহিনীর সিপাহী ভাইগণ, আপনারা সবাই সেনা বাহিনীর সঙ্গে যোগদান ও সহযোগিতা করুন। যাহারা অসহযোগিতা করিবেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থের খাতিরে তাহাদের চরম দণ্ড দেওয়া হইবে।" অপরাপর বাহিনীগুলোকে সেনাবাহিনীর দেয়া এ হুমকি সাধারণ নাগরিকদের মনে কী প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে তা খুব সহজেই অনুমেয়।
দুই.
ছবিটি ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু-হত্যা দিনের নয়; এটা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মহান সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবসের ছবি। প্রমাণের জন্য তেমন কিছুই করতে হবে না, শুধু ছবিটিকে টেনে নিয়ে গুগুলের সার্চ বক্সে রাখতে হবে— মুহূর্তেই দেখা যাবে যে বাংলাদেশের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের একটি আইকনিক ছবি হিসেবে এটাকে প্রায় প্রতি বছর প্রকাশ করে থাকে। জামাত-বিএনপি'র নগণ্যসংখ্যক ভুঁইফোড় অনলাইন পত্রিকা আর ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খোলা বিএনপি'র ফেইসবুক পেইজ 'টিকটিকির দর্শন' ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট থেকে এটা প্রচার করছে।
তিন.
খুনি মেজর রশীদ-ফারুকরা ট্যাংক নিয়ে বেরিয়েছিলেন রাতে; বাঁশেরকেল্লা বা টিকটিকির দর্শন প্রকাশিত-প্রচারিত ফটোশপ-ম্যানিপুলেটেড ছবিটি দিনের বেলার।
চার.
১৫ আগস্ট থেকে ট্যাংকগুলো অবস্থান নিয়েছিল ছিল ঢাকার চারটি অঞ্চলে— বঙ্গভবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পুলিশ কন্ট্রোল রুম, শাহবাগের বাংলাদেশ বেতার ও শের-ই-বাংলা নগরের রক্ষীবাহিনীর সদর দপ্তরে। এ চারটি অবস্থানের বাইরে সেদিন বা তৎকালে ঢাকায় ট্যাংকের আর কোন মুভমেন্ট হয়নি।
পাঁচ.
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় ব্যবস্থা বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল ঘোষণার পর থেকে জাসদ ছিল নিষিদ্ধ ও গোপন দল; আর ১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ থেকে জাসদের শীর্ষনেতৃবৃন্দ ছিলেন কারাগারে অন্তরীণ। কাজী আরেফ আহমেদ, মনিরুল ইসলাম [মার্শাল মনি], হাসানুল হক ইনু প্রমুখগণ ছিলেন আত্মগোপনে। ক্যু'র পর ১৫ আগস্ট ভোরে বেতার ভাষণে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আরোপিত পূর্বতন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি বা জাসদকেও প্রকাশ্য করা হয়নি। আত্মগোপনে থাকা জাসদের কারো পক্ষে প্রকাশ্যে আনন্দ-উল্লাস করার কোন প্রশ্ন আসেনা।
ছয়.
আত্মগোপনে থাকা কাজী আরেফ আহমেদ, মনিরুল ইসলাম [মার্শাল মনি], হাসানুল হক ইনু ও অন্যরা ১৬ আগস্ট বৈঠকে ব্যস্ত থাকেন ও মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে দলের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ ও প্রকাশের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেন; মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে জাসদের প্রচারপত্র তৈরি করেন ও তা মুদ্রণ ও প্রকাশের ব্যবস্থা করেন।
সাত.
বঙ্গবন্ধু হত্যার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে খন্দকার মোশতাক আহমাদ বিরোধি ঐক্য গড়ে তুলতে জাসদ, ইউনাইটেড পিপলস পার্টি বা ইউপিপি ও জাতীয় গণমুক্তি ইউনিয়ন বা জাগমুই প্রচারপত্র আকারে একটি 'যৌথ বিবৃতি' প্রকাশ করে ২০ আগস্ট। এতে 'স্বাধীন গণতান্ত্রিক বিকাশের' প্রয়োজনে 'আশু ও জরুরি ব্যবস্থা'র উল্লেখ করে 'গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তি'র প্রতি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। দুর্ভাগ্য, বাংলাদেশের অন্য কোন রাজনৈতিক দল এ বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দেয়নি।
আট.
১৯৭৫ থেকে পরবর্তী প্রায় ৩৫/৪০ বছর পর্যন্ত আর বাঁশেরকেল্লার বা টিকটিকির দর্শন-এর ফটোশপ-ম্যানিপুলেটেড ছবি প্রকাশ হবার আগ পর্যন্ত কোথাও কোনোদিন কারো কোন কথায়-লেখায়-ছবিতে বা পত্রপত্রিকায় এমন কিছু প্রচারিত হয়নি যে জাসদ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর উল্লাস করেছে বা হাসানুল হক ইনু বা জাসদের অন্য কোন নেতা-কর্মী উল্লাস করেছেন।
নয়.
বঙ্গবন্ধু-হত্যার পর তাঁর নিজের দলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ক্ষমতাবান সমস্ত লোকজন মোশতাকের সাথে ছিলেন; আর মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হাজি মোহাম্মদ দানেশ ও আতাউর রহমান খান মোশতাককে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন; ন্যাপের মহিউদ্দিন আহমেদ মোশতাকের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়ন গিয়েছিলেন। জাসদ বা জাসদের কারান্তরীণ নেতৃবৃন্দ বা হাসানুল হক ইনু মোশতাককে অভিনন্দন জানাননি; সমর্থন করেননি।
দশ.
খন্দকার মোশতাকের ৮৩ দিনের শাসনকালে— আওয়ামী লীগ ও বাকশাল সরকার কর্তৃক আটককৃত হাজার হাজার জাসদ নেতা-কর্মীর একজনও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি; বরং মোশতাক বিরোধী অবস্থান নেয়ায় সারাদেশে জাসদের শতাধিক নেতা-কর্মী শহীদ হন ও সহস্রাধিক নেতা-কর্মী নতুন করে কারান্তরীণ হন।
এগারো.
১৯৭৫ সাল থেকে ২০২০ সাল— এ ৪৫ বছরে প্রকাশিত জাসদের অভ্যন্তরীণ বা উন্মুক্ত কোন দলীয় সাহিত্যে বঙ্গবন্ধু-হত্যাকে সমর্থন জানানো হয়নি বা এ ঘটনার পক্ষ নেয়া হয়নি বা মোশতাক সরকারের ৮৩ দিনের কোন কার্যক্রমকে সমর্থন জানানো হয়নি; বরং মোশতাক বিরোধিতার প্রমাণ আছে ভুরি ভুরি।
বারো.
১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে হাসানুল ইনু জাতীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিপ্লবী গণবাহিনীর পলিটিক্যাল কমিসার ছিলেন। একজন জননেতার যে ট্যাংকের উপর ওঠে উল্লাস করা সাজে না তা হাসানুল হক ইনু জানতেন। শত্রুদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত দোদুল্যমান মিত্ররা এসব বিশ্বাস করার মতো কাণ্ডজ্ঞানহীনতা ও বালখিল্যতা প্রদর্শন করলে তাদের প্রতি করুণাবর্ষণ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।
তের.
১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাসদ আওয়ামী লীগ ও বাকশালের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করেছে; কিন্তু রাজনৈতিক সংগ্রামের বিপরীতে ১৯৭৫ সালে ও পরবর্তীতে সামরিক শাসনের আবির্ভাব হলে জাসদ সকল সময় সামরিক শাসকদের বিরোধীতা করেছে। জাসদ ও আওয়ামী লীগ পরস্পরের ব্যাপারে গভীরভাবে খোঁজ খবর নিয়েই সামরিক শাসন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি করেছে— জিয়ার সামরিক শাসনামলে গঠন করেছে ১০ দলীয় ঐক্যজোট, এরশাদের সামরিক শাসনামলে গঠন করেছে ১৫ দল ও খালেদা জিয়ার আমলে গঠন করেছে ১৪ দল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সাথে জাসদের সংশ্লিষ্টতার কণা-পরিমাণ প্রমাণ থাকলে এ ঐক্য হতো না। ন্যাপ-সিপিবিও প্রথম দুটো ঐক্যে ছিল।
চৌদ্দ.
২০০১ সাল থেকে জাসদের বিরতিহীন প্রচেষ্টার ফলে ২০০৪ সালে গঠিত হয় ১৪ দল; কুখ্যাত ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও এ ঐক্য বহাল থাকে; ২০০৯ সালে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ১৪ দল ও মহাজোট সরকার গঠন করে। নির্বাচনের আগে-পরে ও সরকারে থেকে বিএনপি-জামাত-জঙ্গি-তেঁতুলের বিরুদ্ধে জাসদের অনমনীয় ও দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের ফলে— মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিভক্ত করার লক্ষ্যে, আওয়ামী লীগ ও জাসদের ঐক্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে— বাঁশেরকেল্লা ও টিকটিকির দর্শন যে ফটোশপ-ম্যানিপুলেটেড ছবি ও কাহিনী তৈরি করেছে— ডান-বাম নির্বিশেষে জাসদ-বিরোধীগণ ও আওয়ামী লীগের আহাম্মকগণ সে ছবি ও গল্প বিশ্বাস ও প্রচার করেন।
পনের.
ডান-বাম নির্বিশেষে জাসদ-বিরোধীদের কথা না হয় বাদ দেয়া গেল, আওয়ামী লীগের আহাম্মকরাও যখন এ বিষয়ে শেখ হাসিনার মনযোগ আকর্ষণ করেন, তখন তা থেকে মনে হয় এ যেন মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি, যেন শেখ হাসিনার চেয়েও তারা বঙ্গবন্ধুর খাঁটি অনুসারী; এভাবে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন; আহাম্মকেরা মনে করেন দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান শেখ হাসিনার চেয়েও তারা পাওয়ার-পলিটিক্সের ইকুয়েশন ভালো বোঝেন।
ষোল.
আহাম্মকের দলের আচরণ থেকে মনে হয় যে তারা জাসদ ও আওয়ামী লীগের ঐক্য মানতে পারছেন না; মনে হয় যে জাসদ ও বিএনপি মধ্যে ঐক্য হলে যেন এরা খুশি হতেন।
সতের.
আহাম্মকের দল ভুলে যান যে ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টিকে থাকা সামরিক স্বৈরশাসনের অবসানের পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ একবারের জন্যও এককভাবে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারেনি। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ নিশ্চিত ছিলো তারা ক্ষমতায় যাবে; কিন্তু তা হয়নি; বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হলেও সরকার গঠনের মতো সংখ্যাধিক্য ছিলোনা; জাসদের সমর্থনেই সরকার গঠন করতে হয়েছিল। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা না নেয়ায় ২০০১ সালে আবার ক্ষমতায় আসে জামাত-বিএনপির চার দল। ২০০১ সাল থেকে জাসদের নিরলস প্রয়াসে ২০০৪ সালে প্রথমে জাসদ ও আওয়ামী লীগ ঐক্য করে ও পরে ১৪ দল ও মহাজোট গঠন করে; এ ঐক্যের ফলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। এ ঐক্য গত ১২ বছর ধরে দেশ-জনতা-অর্থনীতি-রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনছে।
আঠারো.
শত্রুপক্ষের ইতরগণ ও মিত্রপক্ষের আহাম্মকগণ বলে থাকেন যে আওয়ামী লীগ দয়া করে জাসদকে এমপি ও মন্ত্রি দিয়েছিল। বলে থাকেন যে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে পা দিয়ে জাসদ থেকে এমপি-মন্ত্রি হয়েছেন। না, তা নয়; বরং উল্টোটিই সত্য— জাসদসহ ১৪ দলের ঘাড়ে পা দিয়েই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। জাসদ থেকে মন্ত্রি-এমপি হওয়া কারো বা কোন দলের দয়া নয়; এ ছিল জাসদ ও আওয়ামী লীগ ও অপরাপর দলের ২৩ দফাভিত্তিক রাজনৈতিক চুক্তির অংশ— একসাথে আন্দোলন, একসাথে নির্বাচন ও একসাথে সরকার গঠনের চুক্তির দায়বদ্ধতাজাত। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার প্রথমে জাসদকে মন্ত্রি পরিষদে নেয়া হয়নি, পরে অবশ্য বিবিধ কারণে নেয়া হয়েছে; এ ব্যবস্থা সরকারের শুরু থেকেই নেয়া হওয়া উচিত ছিল। এবং— তা এখনও তা করা উচিত।
উনিশ.
২০০৯ সালের কথা না হয় বাদ দেয়া গেল। কিন্তু ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতৃত্বে ১৪ দল ও মহাজোটের নির্বাচন হলো কেন? আওয়ামী লীগ জোট ভেঙে দিল না কেন? একা নির্বাচন করলো না কেন? কারণ এখনও এ ঐক্যের প্রয়োজন আছে এবং নিকট ভবিষ্যতেও তার প্রয়োজন আছে।
বঙ্গবন্ধুতনয়া জননেত্রী প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা যথেষ্ট প্রজ্ঞাবান। তিনি জানেন কী করতে হবে। টোকাইদের পরামর্শে তিনি চলেন না। সুতরাং— জামাত-বিএনপি-জঙ্গি-তেঁতুলরা জাসদ ও আওয়ামী লীগের ঐক্য ভাঙার জন্য যতোই উস্কানী দিন না কেন, সে উস্কানীর সাথে জাতীয় পার্টির কেউ কেউ যতোই হাউ কাউ করুন না কেন, ন্যাপ-সিপিবি ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেকগণ বঙ্গবন্ধু-প্রেমিক সেজে যতোই চোথা লিখুন না কেন, আর আওয়ামী লীগের আহাম্মকগণ যতোই শত্রুদের ফাঁদে পা দিয়ে গাঁড়লগিরি করুন না কেন— ঐক্য বহাল থাকবে। আহাম্মকদের কথায় কর্ণপাত করেননি শেখ হাসিনা বা হাসানুল হক ইনু; বরং একবার এ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠলে শেখ হাসিনা তাঁর দলের সাধারণ সম্পাদককে ডেকে এসব অহেতুক ও অর্থহীন বিতর্ক বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। জাসদ নেতা-কর্মীগণও দলের সভাপতির নির্দেশে এগুলো নিয়ে সম্মুখসমরে লড়াই করেননি। বাঁশেরকেল্লা বা টিকটিকির দর্শন-এর ষড়যন্ত্র কোন কাজে আসবে না; ক্ষমতায় একবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আর একবার মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি— অপরাজনীতির এ মিউজিক্যাল-চেয়ার খেলা তছনছ করে দিতে হবে। জাসদ আশা করে সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৪ দলের নেতৃত্বে জামাত-বিএনপি-জঙ্গি-তেঁতুলদের রাজনীতি থেকে চিরতরে নির্বাসনে পাঠানো সম্ভব হবে, এবং পাশাপাশি, বঙ্গবন্ধু কথিত 'চাটার দল, চোরের দল ও নরপশুর দল'-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে দেশে সুশাসন কায়েম করা সম্ভব হবে।
বাঁশেরকেল্লা বা টিকটিকির দর্শন বা জঙ্গি-জামাত-বিএনপি-তেঁতুলচক্রের প্রচারণায় বিভ্রান্ত জাসদ-বিরোধিরা 'বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে একটু জাসদ মাখিয়ে রেখে' বঙ্গবন্ধু হত্যা বিষয়ে কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি-ও গত ১৯ আগস্ট ২০২০ তারিখে ১৪ দলের ভার্চুয়াল সভায় বঙ্গবন্ধু-হত্যা বিষয়ে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন। এ সভায় ১৪ দলের সমন্বয়ক জনাব আমির হোসেন আমু এমপি বলেন যে তিনি মনে করেন এ প্রস্তাব গ্রহণ করা যেতে পারে। আমরা জাসদকর্মীরাও, আমাদের দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু'র মতো করে মনে করি যে আর্থরাজনীতিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক-সামাজিক-অন্তঃদলীয়-আন্তঃদলীয়-প্রশাসনিক-গোয়েন্দা-আধাসামরিক-সামরিক-ভূরাজনীতিক প্রেক্ষাপট থেকে একটি 'বঙ্গবন্ধু হত্যা সত্যানুসন্ধান কমিশন' গঠন করা উচিত।
[জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিয়াউল হক মুক্তা রচিত ও শীঘ্র প্রকাশিতব্য “অবরুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও সংশপ্তক জাসদ" রচনার অংশবিশেষ।]

মগবাজার বিস্ফোরণ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭এ ঘটনায় ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়ে...
27/06/2021

মগবাজার বিস্ফোরণ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭

এ ঘটনায় ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন এই ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল

রাজধানীর মগবাজার ওয়ারলেস গেট এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ( ডিএমপির) কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন এই ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল ।

রোববার (২৭ জুন) সন্ধ্যার পর ওয়্যারলেস এলাকায় ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ংয়ের শোরুমের বিপরীতে এ ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয়সূত্র, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সাথে কথা বলে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ভবনের ভেতরে এখনও বেশ কিছু মানুষ আটকে রয়েছে বলে প্রতক্ষ্যদর্শীদের কয়েকজন জানিয়েছেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছুক্ষণ পরই এলাকাটি বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানায়।

৭৯ নম্বর আউটার সার্কুলার রোডের পুরনো একটি তিনতলা ভবন ধসে পড়েছে।

ওই ভবনের নিচতলায় সিঙ্গারের বিক্রয় কেন্দ্র ও খাবারের দোকান শর্মা হাউজ ছিল, যা পুরোপুরি ধসে গেছে।

সড়কের পাশের ওই ভবনের বিপরীত দিকের আড়ংসহ আশপাশের ডজনখানেক ভবনের কাচ চৌচির হয়ে রাস্তায় পড়েছে।

বিস্ফোরণে পথচারী, গাড়িতে থাকা অনেকেই আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের শব্দে সড়কে থাকা গাড়ির গ্লাস ভেঙে গেছে।

পরীমণি মদের জন্য উত্তেজিত হয়ে গ্লাস ছুড়ে মারেন: নাসিরপরীমণির বিষয়ে এবার মুখ খুললেন আবাসন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ। তিনি ...
14/06/2021

পরীমণি মদের জন্য উত্তেজিত হয়ে গ্লাস ছুড়ে মারেন: নাসির

পরীমণির বিষয়ে এবার মুখ খুললেন আবাসন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বোট ক্লাব থেকে দামি ড্রিংস (মদ) জোর করে নেয়ার চেষ্টা করেছিলো পরীমণি ও তার সহযোগীরা। তারা তো আমাদের ক্লাবের মেম্বার না। তাই আমি তাদের নিতে দেইনি। এ কারণে তাকে আমি বাধা দিয়েছি এবং বলেছি যে- এটা নেয়া যাবে না। নিতে হলে অবশ্যই তোমাদেরকে মেম্বার হতে হবে।

ক্লাবের মেম্বার ছাড়া ওই মদ যে কারো কাছে বিক্রয়যোগ্য নয় উল্লেখ করে নাসির বলেন, ‘আমি তাকে (পরীমণিকে) বলেছি- এটা বিক্রয়যোগ্য না। তাছাড়া এতো রাতে আমাদের বার ক্লোজড্। তাই কোনোভাবেই সম্ভব না। তবে তার আগেই কোথা থেকে যেনো পরীমণি মদ পান করে এসেছিলো। ওই অবস্থাতেই আমাদের কাছে দামি মদ না পেয়ে সে উত্তেজিত হয়ে যায়, আমার উপর চড়াও হয় এবং বারের মধ্যেই একটার পর একটা কাঁচের গ্লাস ভাঙচুর করে। ওই সময়ে আমাকে সে গালিগালাজ করে। তখন আমাদের স্টাফরা তাকে থামানো চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে পরীমণির সঙ্গে থাকা ছেলেটা আমাকে চড়-থাপ্পর দেয়। এরমধ্যে পরীমণি আমার দিকে গ্লাস ছুঁড়ে মারলে তা আমার ঘাড়ে এসে লাগে। এমন পরিস্থিতিতে আমি সিকিউরিটিদের নির্দেশ দেই- তাকে সরিয়ে নিতে। তখন সিকিউরিটিরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। তখন পরীমণি অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলো, যে কারণে সে ঠিকমতো গাড়িতে উঠতে পারছিলো না। এ ঘটনার রেকর্ডও আমাদের সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ব্যবসায়ী নাসির আরও বলেন, ‘ঘটনার পরের দিনই আমাদের ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে একটি জাজম্যান্ট রিপোর্ট জমা হয়। যেখানে ক্লাবের স্টাফরা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। মূলত আমার সাথে তার (পরীমণির) কিছুই হয়নি। ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে আমি তার (পরীমণির) উশৃঙ্খল আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি মাত্র। তাছাড়া এই ঘটনার আগে আমি তাকে চিনতাম না।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় পরীমণি তার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেজের একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

পুলিশকে জানিয়ে পাত্তা পাননি উল্লেখ করে ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করেন এই অভিনেত্রী। তার ওই পোস্ট দ্রুত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

এরপরই রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার বিস্তারিত জানান ঢালিউড নায়িকা পরীমণি। তুলে ধরেন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিবরণ।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত বুধবার (৯ জুন) রাতে পারিবারিক বন্ধু ‘অমি’ ও পরীর পোশাক ডিজাইনার ‘জিমির’ সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে অমি তাদের নিয়ে ঢাকা বোট ক্লাবে যান। সেখানে মদ্যপানরত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে পরীর পরিচয় করিয়ে দেন অমি। পরে অমি সেখানে থাকা নাছির ইউ মাহমুদ নামে এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যায়। সে সময় নাছির ইউ মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। সেখানে নাছির ইউ মাহমুদ আমাকে মদ খেতে অফার করেন। আমি রাজি না হলে আমাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আমাকে চড় থাপ্পড় মারেন। তারপর নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা করেন।

এদিকে সোমবার (১৪ জুন) মামলার এজহারে পরীমণি উল্লেখ করেন, গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দুটি গাড়িযোগে তারা উত্তরার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে অমি বলে বেড়িবাঁধস্থ ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে। অমির কথামতো তারা সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করান। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনও এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। অমি ক্লাবের ভেতরে গিয়ে বলে এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর তোমরা নামলে নামতে পারো। তখন আমার ছোটবোন বনি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করে।

টয়লেট হতে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদেরকে ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদ্যপানের জন্য জোর করেন। আমি মদ্যপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এতে আমার সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।

এজাহারে বলা হয়েছে, এক নম্বর আসামি (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে এবং আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুঁড়ে মারেন। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি নাসির মাহমুদকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে জখম করে।

পরীমণি বলেন, আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন দিতে গেলে আমার ফোনটি টান মেরে ফেলে দেওয়া হয়। এসময় দুই নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা চারজন এক নম্বর আসামিকে ঘটনা ঘটাতে সহযোগিতা করে। আমি অজ্ঞাতনামা আসামিদের দেখলে শনাক্ত করতে পারবো। দুই নম্বর আসামি অমি পরিকল্পিতভাবে আমাকে বর্তমান বাসা থেকে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যায়। সে অজ্ঞাতনামা চার জন আসামি ও নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি আমার সঙ্গীদের সহায়তায় ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পাই। রাত আনুমানিক তিনটার সময় আমি আমার গাড়িযোগে প্রায় অচেতন অবস্থায় অপর সঙ্গীদের সহায়তায় বাসায় ফিরে আসি।

পরীমণি অভিযোগ করেন, আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। পরিবার, শিল্পী সমিতি ও অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একের পর এক ১১ শিশু হত্যার নেপথ্যে পরকীয়ার ১১ ঘটনাঅসামাজিক এবং অনৈতিক ভাইরাস ‘পরকীয়ার’ থাবায় কেবল সুখের সংসারই নষ্ট হচ্ছে...
14/06/2021

একের পর এক ১১ শিশু হত্যার নেপথ্যে পরকীয়ার ১১ ঘটনা

অসামাজিক এবং অনৈতিক ভাইরাস ‘পরকীয়ার’ থাবায় কেবল সুখের সংসারই নষ্ট হচ্ছে না, নৃশংসভাবে এর বলি হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরা। অথচ, দাম্পত্য জীবনে চাহিদার সঙ্কটে সঙ্গী পছন্দ না হলে সামাজিকভাবে, আইনগতভাবে এমনকি ধর্মীয়ভাবে ডিভোর্সের মাধ্যমে স্বামী কিংবা স্ত্রী পরিবর্তন করে সুন্দর জীবন যাপন করার বৈধতা রয়েছে। মনো বিজ্ঞানী, সমাজ বিজ্ঞানী, মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন সামাজিক অদক্ষতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে এক শ্রেণির পুরুষ ও নারীরা পরকীয়ার মাধ্যমে নোংরামিতে লিপ্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়া এবং এটি বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যা এই প্রতিবেদনের শেষ দিকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় সদ্য ঘটে যাওয়া গুলি করে ৩ জনকে হত্যার প্রাথমিক তদন্তে এর নেপথ্যে ‘পরকীয়াকেই’ টার্গেট করছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। যে ঘটনাটি ঘটেছে খোদ একজন আইন প্রয়োগকারী সংস্থারই সদস্যের হাতে। তার নাম সৌমেন, তিনি খুলনায় কর্মরত একজন পুলিশ সদস্য।

সার্বিক পরিস্থিতিতে পরকীয়াকে কেন্দ্র করে শিশু হত্যার নেপথ্যে মায়েদের সরাসরি জড়িত থাকা অথবা সম্পৃক্ততার তথ্য বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান চালিয়ে আরটিভি নিউজ কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেছে।

(১) পরকীয়া: প্রকাশ্যে ৩ প্রাণ নিলো এএসআই, চালিয়েছে ১১ গুলি

ঘটনাটি রোববার (১৩ জুন), ২০২১ এর। কুষ্টিয়ায় পরকীয়ার কারণে খুন হন গৃহবধূ আসমা খাতুন (২৫), তার শিশু ছেলে রবিন এবং আসমার অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গী শাকিল। তাদের ৩ জনকেই পিস্তল দিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেন আসমার সাবেক স্বামী পুলিশের এএসআই সৌমেন।

পুলিশ বলছে, হত্যার শিকার শিশু রবিন আসমার আগের সংসারের সন্তান, সৌমেনের নয়। আর শাকিল আসমা খাতুনের বয়ফ্রেন্ড। এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে মোট ১১টি গুলি চালায় ওই এএসআই সৌমেন।

জানা গেছে, এএসআই সৌমেন কুষ্টিয়ার হালশা ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় কুমারখালী উপজেলার সাওতা গ্রামের আসমার সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর আসমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে সোমেন (বর্তমান পোস্টিং) খুলনার ফুলতলায় বদলী হলে আসমা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আসমা তার বর্তমান বয়ফ্রেন্ড বিকাশ কর্মী সাকিলের সঙ্গে সম্পর্কে যুক্ত হলে ক্ষেপে যান সৌমেন। এই বিরোধে সৌমেন ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

(২) শিশু আরাফকে মা নিজেই হত্যা করেন

ঘটনাটি ৩ জুন, ২০২১ এর। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেওগাঁও চেড়াডাঙ্গী গ্রামে পরকীয়ায় বিকারগ্রস্ত মা জান্নাতা আক্তার তারই সন্তান ৬ বছর বয়সী আমির হামজা আরাফকে বালিশ চাপা দিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন! এ ঘটনার দায় স্বীকার করে মা জান্নাতা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

জান্নাত জানান, তার স্বামী খলিলুর রহমানের সাথে ঢাকায় থাকার সময় একই ভবনের ফ্ল্যাটে বসবাসকারী ইমরান নামের এক অবিবাহিত ছেলের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। পরিচয়ের সুবাদে উভয়ের মধ্যে ভালোবাসা এবং গোপন শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এর মধ্যে গত ২ মাস আগে রাষ্ট্রীয় ‘কঠোর বিধিনিষেধের’ আর্থিক সঙ্কটে পড়ে স্ত্রী ও সন্তানদের ঠাকুরগাঁওয়ের দেওগাঁও চেড়াডাঙ্গী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে রেখে যান খলিলুর রহমান।

এদিকে, ইমরান জান্নাত আক্তারকে বিয়ে করার জন্য মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। দুই সন্তান ও স্বামীকে ছেড়ে ইমরানকে বিয়ে করা নিয়ে জান্নাত মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে গত ৩ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আরাফ তার নানার ঘরে দুষ্টামি করছিল, যা মা জান্নাত আক্তার সহ্য করতে পারেনি। একপর্যায়ে তার ছেলে আরাফকে বিছানার উপর থেকে ফেলে দিয়ে মাথা চেপে ধরে গলার দুই পাশ থেকে গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

(৩) বাবা প্রবাসে, স্কুলছাত্র পারভেজ হত্যায় মা ও তার প্রেমিক গ্রেপ্তার

ঘটনাটি ১৫ অক্টোবর, ২০২০ এর। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র পারভেজ মোশাররফকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। যে ঘটনায় শিশুটির মা রোজিনা ও প্রেমিক এমদাদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। একই ঘটনায় নিহতের ২টি মোবাইলসহ আরেক আসামি রবিউলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। নিহতের মায়ের পরকীয়ার কারণেই ভাড়াটে খুনি দিয়ে পারভেজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তবে পিবিআই বলছে, মায়ের সহায়তায় রবিউল একাই হত্যা করেছে পারভেজকে। কারণ একই ‘পরকীয়া’।

র‌্যাব-১৪ এর উপ-অধিনায়ক মেজর ফজলে রাব্বি জানান, মা ও তার প্রেমিক এমদাদের অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় প্রবাসী স্বামী জেনে যেতে পারে এমন আশংকায় পারভেজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

এদিকে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, ‘একাধিক অনৈতিক সম্পর্ক জেনে যাওয়ায় টাকার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী রবিউলকে দিয়ে পারভেজকে হত্যা করায় মা। গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

(৪) বাবা প্রবাসে, বিছানায় শিশু ও সিগারেটের প্যাকেট, মা লাপাত্তা

ঘটনাটি ২৭ মার্চ, ২০২০ এর। নওগাঁয় পরকীয়ার জেরে সুমাইয়া আক্তার নামে ৭ বছরের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠে তার মা তামান্না বেগমের বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমাইয়া আক্তার ওই গ্রামের প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। ঘটনার পর শিশুটির মা প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার রাতে মা তামান্না বেগম ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তার রাতের খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার সকালে তারা ঘুম থেকে না ওঠায় সুমাইয়ার দাদি তাদের ডাকতে যান। ঘরের দরজায় ধাক্কা দেয়ার পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় তিনি জোরে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। এ সময় খাটের ওপর সুমাইয়াকে ঘুমানো অবস্থায় দেখা গেলেও তার মা তামান্না বেগমকে দেখা যায়নি। সুমাইয়াকে ডেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তার গায়ে হাত দিলে কোনো নড়াচড়া না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন দাদি।

এ সময় স্থানীয়রা এসে দেখেন, শিশু সুমাইয়ার নিথর দেহ খাটের ওপর পড়ে আছে এবং তার মা বাড়িতে বা এলাকায় নেই। ঘরের মধ্যে খাটের ওপর অগোছালো বিছানার চাদর, সিগারেটের প্যাকেট।

সুমাইয়ার বাবা দীর্ঘদিন থেকে প্রবাসে রয়েছেন। আর এ সুযোগে তামান্না বেগম গোপনে মোবাইলে অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলতেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

(৫) তাহের ও বিবি ফাতেমাকে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়

ঘটনাটি ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ এর। চট্টগ্রামে বিবি ফাতেমা নামের ৪ বছরের এক শিশু মা বিবি হাছিনার পরকীয়া প্রেমের বলি হয়। এই শিশুকন্যার সঙ্গে তার বাবা আবু তাহেরকেও (৩২) গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছিলো। পরে নিহতের ভাই নুরুল আমিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করলে তাহেরের স্ত্রী বিবি হাছিনাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পরকীয়ার ঘটনা জানতে পারে পুলিশ।

ঘটনায় দায়ের করা মামলা তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর শুরুতে বিবি হাছিনা দাবি করেছিলেন, তিনি অন্যের বাসায় কাজ করতে সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে বাসায় ফিরে মেয়ে ও স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। কিন্তু তার এই তথ্য অসংলগ্ন মনে হয়। পরিস্থিতিতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে মা বিবি হাছিনা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন। এর এক পর্যায়ে তিনি জানান, এক লোকের সঙ্গে তার (হাছিনার) পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। অনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্য দেখে ফেলার কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

(৬) তিন সন্তানকে হত্যাচেষ্টা মা, শেষে এক সন্তানের মৃত্যু নিশ্চিত

ঘটনাটি ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ এর। হবিগঞ্জ পরকীয়া প্রেমের টানে ৩ শিশু সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেন মা ফাহিমা খাতুন ও তার প্রেমিক আক্তার। ভাগ্যক্রমে ২ সন্তান বেঁচে গেলেও মৃত্যুর কাছে হার মানে ছোট মেয়ে ৬ বছর বয়সী সাথী আক্তার। ঘটনার ১ বছর পর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে এ হত্যার রহস্য।

পুলিশ জানায়, এই হত্যার বিষয়ে ফাহিমা খাতুন (২৮) হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, আদালতকে ফাহিমা জানিয়েছেন তার স্বামী অভাব অনটনের কারণে জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ওলিপুরে প্রাণ কোম্পানিতে চাকরি নেন। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে পাশের বাড়ির বিত্তশালী আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ফাহিমার। তাদের এ সম্পর্ককে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন ‘পথের কাটা’ ফাহিমার ৩ সন্তান। তাই আক্তার ও ফাহিমা মিলে ৩ সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর পরকীয়া প্রেমিক আক্তার বিষ কিনে ফাহিমাকে দেন। পরের দিন ১৮ অক্টোবর দুপুরে ফাহিমা জুসের সাথে বিষ মিশিয়ে ৩ শিশু সন্তানকে খাইয়ে দেন। বিষক্রিয়ায় তারা অসুস্থ হয়ে পরলে ওই দিন সন্ধ্যায় তাদেরকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিলে ছোট সন্তান সাথী আক্তার (০৬) মারা যায়।

অপর দুই শিশু সন্তান তোফাজ্জল ইসলাম (১০) ও রবিউল ইসলামকে (৭) দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সৌভাগ্যক্রমে তারা বেঁচে যায়।

পরে ঘটনা রহস্য উদঘাটন হলে ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর অভিযান চালিয়ে ফাহিমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দায় স্বীকার করে একই বছরের ১ ডিসেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ফাহিমা।

(৭) চাচি-ভাতিজার পরকীয়ার বলি শিশু মাহিমা

ঘটনাটি ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ এর। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের হাড়িডাঙ্গা গ্রামে চাচি-ভাতিজার পরকীয়া নিয়ে পারিবারিক কলহে মাহমুদা ইসলাম মাহিমা (২) নামে এক শিশুকে হত্যার ঘটনা ঘটে। হত্যার শিকার মাহিমা হাড়িডাঙ্গা গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মাহমুদ থান্দারের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে মাহিমার মা তাসলিমা বেগমকে (৩০) তার চাচি শাশুড়ি রোজিনা বেগমসহ (৩৫) তাদের লোকজন বেদম মারধর করে।

এক পর্যায়ে রোজিনা বেগম ও তার ছেলে মিথাল থান্দারসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা শিশুকন্যা মাহিমাকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে তাসলিমা বেগমকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে শিশু মাহিমাকে পুকুরে ভাসতে দেখেন প্রতিবেশীরা। এ ঘটনায় কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে রোজিনা বেগমকে আটক করে পুলিশ।

মাহিমার মা তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী মাহমুদ থান্দার প্রায় ১৪ বছর ধরে বিদেশে আছেন। দেশে আসা-যাওয়ার সূত্র ধরে চাচি রোজিনা বেগমের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

ফলে বিদেশ থেকে চাচির (রোজিনা) নামেই টাকা পাঠান। পরকীয়ার কারণে তাসলিমাকে সহ্য করতে পারেন না স্বামী মাহমুদ থান্দার ও চাচি শাশুড়ি রোজিনা। প্রায়ই তাসলিমার সঙ্গে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়েন রোজিনা বেগম। এরই জের ধরে রোববারও তাসলিমার সঙ্গে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হন রোজিনা বেগম। মাহিমাকে কেড়ে নিয়ে ঘাড় মটকে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।

(৮) মায়ের পরকীয়া জেনে ফেলায় স্কুল ছাত্রকে হত্যা

ঘটনাটি ২৫ জানুয়ারি, ২০১৯ এর। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মায়ের পরকীয়া সম্পর্ক জেনে ফেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র নৃশংসভাবে খুন হয়। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য হত্যার বিষয়ে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। নিহত ওই ছাত্রের নাম সিয়াম (১১)। তার বাবার নাম মো. শাহজাহান গাজী। তারা মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের সুলতানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ইউপি সদস্যের নাম সাইদুল ইসলাম ওরফে জামাল। তাকে মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে সিয়ামকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন সাইদুল।

এরপর সাইদুলকে মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসিফ ১৬৪ ধারায় সাইদুলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সাইদুল জানিয়েছেন, প্রতিবেশী হওয়ায় সিয়ামদের বাড়িতে সাইদুলের দীর্ঘদিন আসা-যাওয়া ছিল। একপর্যায়ে শাহজাহানের স্ত্রীর সঙ্গে সাইদুলের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সাইদুলের সঙ্গে মাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে সিয়াম। এরপরই সিয়ামকে হত্যা করেন সাইদুল। এই হত্যাকাণ্ডে সাইদুলকে আরও ৬ জন সাহায্য করেছে বলেন জানায় পুলিশ।

(৯) বাবার পরকীয়ার বলি শিশু সন্তান

ঘটনাটি ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ এর। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পরকীয়ার জেরে আল-আমীন (৬) নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলো- কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার হাত্রাপাড়া এলাকার আব্বাস আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন (১৯), জয়নালের মা নুরেছা বেগম (৪০) ও তার বোন নিশিতা আক্তার (২১)। আটককৃতরা তেলিরচালা এলাকায় ভাড়া থাকেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জয়নাল আবেদীনের বোন নিশিতার সাথে আল-আমিনের বাবা জুয়েল হোসেন এর অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। জুয়েল নিশিতাকে বিয়ের প্রলোভন দেখালেও বিয়ে করেননি। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি জুয়েলের সাথে জয়নালের ঝগড়া হয়। এ ঘটনার জের ধরে জয়নাল মঙ্গলবার দুপুরে আল-আমীনকে ডেকে নিয়ে পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পরে পুলিশ জয়নাল, তার মা এবং বোনকে আটক করে। জয়নালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আল-আমীনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

(১০) পরকীয়ার বলি ১৪ মাসের শিশু

ঘটনাটি ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ এর। নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতনের পর ১৪ মাস বয়সী কন্যা শিশু নুসরাত জাহান নুরীকে গলাটিপে হত্যা করে পাষণ্ড পিতা।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার মুছাপুর ইউপির পিচকামতাল গ্রামের নাজমুল মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের মুসলিমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ে পর তাদের সংসারে নুরতাজ (৫) ও নুসরাত জাহান নুরী (১৪ মাস) দুইটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়।

ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান নুরী জন্ম হওয়ার পর থেকে নাজমুল পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দিতে গিয়ে মুসলিমার সংসার চলে আসে কলহ ও স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া বিবাদ নিত্যদিনের সঙ্গী। পরকীয়া প্রেমিকাকে গোপনে বিয়ে করে রূপগঞ্জ বরপা এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করতো নাজমুল। এ খবর পেয়ে মুসলিমা আক্তার দুই শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে বরপা থেকে নাজমুলকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। পরিস্থিতিতে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় হয়, এক পর্যায়ে নাজমুল ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে মারধর করে ঘুমন্ত শিশু কন্যা নুরসাত জাহান নুরীকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

(১১) আদাবরে চাঞ্চল্যকর শিশু সামিউল হত্যা, মা ও প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

ঘটনাটি ২৩ জুন, ২০১০ এর। রাজধানীর আদাবরে পরকীয়ার বলি হয় শিশু খন্দকার সামিউল আজিম ওয়াফি (০৫)। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ বছর পর ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর শিশুটির মাসহ দুই জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এই রায় দিয়েছিলেন।

মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- শিশু সামিউলের মা আয়েশা হুমায়রা এশা ও এশার প্রেমিক শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কু (৪৩)।

সংশ্লিষ্ট ঘটনায় সামিউলের বাবা কে আর আজম বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলার তথ্য অনুযায়ী, মা হুমায়রা ও শামসুজ্জামানের পরকীয়া দেখে ফেলায় ২০১০ সালের ২৩ জুন সামিউলকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে পরের বছর ২৫ অক্টোবর হুমায়রা ও শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মীর বক্তব্য

সমাজবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার আইনজীবীরা বলছেন, নানা কারণে সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরছে। এ কারণে অবিশ্বাস ও অপ্রীতিকর ঘটনা বাড়ছে, যা অনেক সময় নৃশংস খুনে রূপ নিচ্ছে। যার মধ্যে পড়ে নিষ্পাপ শিশুরাও বলি হয়ে যাচ্ছে!

এ বিষয়ে আরটিভি নিউজের সঙ্গে কথা হয় শিশু, কৈশোর ও পারিবারিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদের। তিনি বলেন, আমি বলবো যে মানুষের সামাজিক দক্ষতার অভাব রয়েছে। যেখানে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের পছন্দের সঙ্গী বেচে নেওয়ার লিগ্যাল পদ্ধতি রয়েছে, সেক্ষেত্রে সামাজিক দক্ষতাকে উপেক্ষা করে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পরকীয়া চালিয়ে যাচ্ছে। বিয়ে যেরকম সামাজিকভাবে বৈধ, তেমনিই ডিভোর্স বা তালাক সামাজিকভাবে বৈধ। তাহলে কেনো পরকীয়া জড়িয়ে যাচ্ছে মানুষ! পরকীয়া এড়াতে অবশ্যই সামাজিক দক্ষতার প্রয়োগ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে পরকীয়াকে নিরুৎসাহিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে পারেন।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন আরটিভি নিউজকে বলেন, পরকীয়া সমাজের একটি ভয়ংকর ব্যাধি। এই সম্পর্কে জড়ানোর পর মানুষ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। তখন নিজের সন্তানকেও শত্রু ভাবতে শুরু করে। এর পরই সন্তানকে খুন করে। তিনি বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে বিচার কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রতা থেকে বের হতে হবে। স্বামী ও স্ত্রীকে একে অপরের সময় দিতে হবে। নৈতিকতার চর্চা বাড়াতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান আরটিভি নিউজকে বলেন, পরকীয় একটি ভয়ংকর প্রতারণা। দেশে পরকীয়ার হার আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি দিন দিন সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। এ কারণেই কেউ কেউ নিজের সন্তানকে খুন করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। এমন ঘটনা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারিভাবে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়াও কিছু কিছু পরিবার মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে বিত্তশালী কিংবা উচ্চ-বিলাসী ভালো চাকরিজীবী পাত্র খুঁজেন। এমন পাত্রদের অধিকাংশই বয়স্ক হয়ে থাকেন। যে কারণে অভিভাবকরা তুলনামূলক বেশি বয়সী পাত্রের সঙ্গে কম বয়সী মেয়ের বিয়ে দেন। এক্ষেত্রে বয়সের তুলনামূলক বিষয়টি বিবেচনা করা হয় না, ভেবে দেখা হয় না যে- স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ কেমন হবে। শারীরিক ও মানসিকভাবে দাম্পত্য জীবনে তারা কতোটা সুখী হতে পারবে। পরকীয়া জড়িয়ে যাওয়া স্ত্রীদের কারো কারো স্বামী প্রবাসে থাকায়, দূরত্বের কারণে তাদের একটি অংশ পরপুরুষে আসক্ত হয়ে পড়ে। এছাড়াও স্বামী তুলনামূলক বেশি বয়সী হলে, ওই স্বামীর সঙ্গে অল্প বয়সী স্ত্রীরা সংসার করলেও অন্য তরুণ বা যুবক বয়সী পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায় নারীরা। তাই, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে অভিভাবকদেরই।

এই আইনজীবী আরও বলেন, আমাদের দেশে পরকীয়ার শাস্তি এবং পরিবারের ভরণপোষণের বিষয়টি অতোটা সুস্পষ্ট নয়। এছাড়াও আইনে পরকীয়ার যে শাস্তির বিধান রয়েছে তার পুরুষের জন্য, নারীদের জন্য না। যে কারণে নারীরা সহজেই পরকীয়ায় জড়িয়ে যাচ্ছে। স্বামী এ কাজে বাধা প্রদান করলে উল্টো নারী নির্যাতনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হুমকি দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও দেশে পরকীয়ার শাস্তির ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের প্রচলন রয়েছে, পক্ষান্তরে অর্থদণ্ডের নেই। আর ক্ষোভের শিকার হয়ে কিংবা অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় পরকীয়ার বলি হচ্ছে নিষ্পাপ ও অসহায় শিশুরা।

Address

Lonodn
London
E11JH

Telephone

+447854436552

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জনতার আদালত posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share