21/01/2026
লেবাস মিয়া …
একজন সাধারণ মানুষ, একজন গাড়ি চালক।
দিনের পর দিন স্টিয়ারিং ধরে রেখে যে মানুষটা পরিবারের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিত, সেই মানুষটাই হঠাৎ করে অসহায় হয়ে পড়ে।
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়—এটা দ্বিতীয়বারের মতো হার্টে ব্লক। খবরটা যেন বজ্রপাতের মতো নেমে আসে তার জীবনে। গাড়ি চালিয়ে যে মানুষটা অন্যদের গন্তব্যে পৌঁছে দিত, আজ সে নিজেই জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
ডাক্তাররা স্পষ্ট করে বলেন—
👉 আর দেরি নয়, জরুরি ভিত্তিতে হার্টে রিং (স্টেন্ট) লাগাতে হবে।(ঢাকাতে)
তখন আমি ছিলাম লন্ডন থেকে বাংলাদেশের পথে বিমানে। আকাশের মাঝখানে বসে খবরটা পাওয়ার পর বুকের ভেতরটা হঠাৎ করে ভারী হয়ে গেল। হাজার হাজার ফুট ওপরে থেকেও মনে হচ্ছিল, সময় যেন থেমে গেছে।
বিমানে থেকে ওয়াটসআ্যাপে কথা বলা যায়না ,তাই ভয়েস ম্যাসেজ রাখছিলাম,ঢাকা পিজি হাসাপাতালে আসার জন্য।আবার ভয়েস দিয়ে বলল চাচা গাডী ভাড়া নাই কিভাবে আসব?
প্রশ্ন একটাই—
কিভাবে ঢাকায় আসবে আর একজন গরীব গাড়ি চালক এই চিকিৎসার খরচ পাবে কোথায়?
অর্থের অভাবে থেমে যেতে পারত চিকিৎসা, থেমে যেতে পারত একটি জীবন।
কিন্তু মানবিকতার জায়গা থেকে, একজন মানুষের পাশে আরেকজন মানুষ দাঁড়ানোর দায় থেকেই ঢাকা আসার খরচ সহ লেবাসের মিয়ার হার্টে জরুরি ভিত্তিতে রিং লাগানোর ব্যবস্থা করি।
আল্লাহর অশেষ রহমতে অপারেশন সফল হয়েছে।
আজ লেবাস বেঁচে আছে।
আজ তার সন্তানেরা আবার বাবার হাত ধরতে পারবে,
স্ত্রী আবার ভরসা করে বলতে পারবে—“সে আছে।”
একটা হার্টে রিং শুধু রক্ত চলাচলের পথ খুলে দেয়নি,
এটা খুলে দিয়েছে একটা পরিবারের ভবিষ্যৎ।
দোয়া করবেন লেবাসের মিয়ার জন্য।
যেন সে আবার স্টিয়ারিং ধরতে পারে,
আবার ঘাম ঝরিয়ে হালাল রুজির পথে ফিরতে পারে।
মানবিকতা বেঁচে থাকুক, মানুষ মানুষের পাশে থাকুক। 🤲❤️
Shohag Dreamz