04/05/2025
“Whose Laws? Whose Lives?”
এই রিপোর্ট নিখুঁত নয়। কেউই তা বলছে না। ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড, ৩০০ নারী এমপি, কিংবা যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি—এসব প্রস্তাব অনেকের কাছে দ্রুত, অপরিকল্পিত বা বাস্তবতা-বিচ্যুত মনে হতে পারে। তবে এখানেই আসল প্রশ্ন: পরিবর্তনের কী কখনও “সঠিক সময়” আসে? নাকি সময়কে সাহসের মাধ্যমে তৈরি করতে হয়?
অসংখ্য মানুষ বলছে, “এই সংস্কারগুলো আমাদের সমাজের জন্য খুব দ্রুত,” “এগুলো পশ্চিমা ধারণা,” “মানুষ প্রস্তুত নয়।” কিন্তু এই কথাগুলো ৫০ বছর ধরেই বলা হচ্ছে। নারীর শিক্ষার সময়, কর্মসংস্থানের সময়, ভোটাধিকার নিয়েও এমনই আপত্তি উঠেছিল। প্রস্তুতি কি কখনও নিঃশব্দে আসে ?
হেফাজতে ইসলাম এরইমধ্যে ২০ হাজার মানুষকে ঢাকার রাস্তায় নামিয়েছে। তারা বলছে, এই সংস্কার ধর্মের বিরুদ্ধে। কিন্তু যেসব নারী প্রতিদিন বাসে যৌন হয়রানির শিকার হন, পৈত্রিক সম্পত্তিতে অধিকার পান না, কোর্টে তালাক নিতে গিয়ে বছরের পর বছর লড়েন—তাদের পক্ষে কে দাঁড়াবে? ২০২৫ সালের Women’s Affairs Reform Commission-র রিপোর্টটিতে থাকা ৪৩৩টি সুপারিশের বেশিরভাগই এসেছে বাস্তব জীবনের সেই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে—গার্মেন্টস কর্মীদের ঘাম, gender diverse student দের নিরব কান্না, আদিবাসী নারীদের ভূমিহীনতা, এবং যৌনকর্মীদের অমানবিক বাস্তবতা থেকে।
দৌলতদিয়া, টানবাজার, কিংবা চট্টগ্রামের বন্দর এলাকাগুলোতে কাজ করা যৌনকর্মীরা কেউই “স্বপ্নের পেশা” বেছে নেননি। বেশিরভাগই এসেছেন প্রতারণা, নির্যাতন, দারিদ্র্য, বা পারিবারিক নিপীড়নের পথ বেয়ে। সমাজ তাদের ফিরতে দেয় না। মৃত্যুর পর তাদের দাফন পর্যন্ত চ্যারিটির মাধ্যমে করতে হয়। অথচ যখন এই বাস্তবতা রেজিস্টার করার প্রস্তাব আসে, তখন সেটা "ধর্মবিরোধী", "অনৈতিক" বা "অবাস্তব" বলে ঝেঁটিয়ে তোলা হয়।
আমরা এমন এক দেশে বাস করি যেখানে ২০১৩ সালে হিজড়াদের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, কিন্তু ২০২4 সালেও সরকারি চাকরিতে আবেদন করলে তাদের শারীরিক পরীক্ষার নামে অপমান সহ্য করতে হয়। যেখানে ইউনিভার্সিটির ভর্তি ফর্মে "লিঙ্গ" বলতে এখনো "পুরুষ/নারী" ছাড়া কিছু লেখা যায় না। যেখানে ২০২৫ সালের পাঠ্যপুস্তকে এক পৃষ্ঠায় ‘জেন্ডার পরিচিতি’ থাকার কারণে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বই ছিঁড়ে ফেলার আহ্বান জানান, আর ছাত্ররা রাস্তায় নামে "ট্রান্স ছাত্রদের বের করে দাও" স্লোগানে। এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন না—এগুলো দেশের এখনকার বাস্তব চেহারা।
আর হ্যাঁ, রিপোর্টে কিছু সুপারিশ বিতর্কিত—যেমন কর্পোরেট বোর্ডে জেন্ডার কোটার প্রস্তাব। এগুলোর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। যৌনকর্মীদের স্বীকৃতিতেও ‘পছন্দ’ ও ‘জবরদস্তি’র জটিলতা আছে। কিন্তু তাই বলে তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা? তাদের আইন ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রাখা কি সমাধান?
আপনি কি দেখেছেন কেউ বলছে, “এগুলো ধীরে করবো?” না। বলা হচ্ছে, “না, এগুলো করবোই না।” এটুকুতেই পার্থক্য।
তাহলে প্রশ্ন উঠছেই — আমরা কাদের জন্য রাষ্ট্র গড়ছি?
শুধু সেই মানুষদের জন্য যাদের পরিচয় সামাজিকভাবে আরামদায়ক?
নাকি সেইসব মানুষের জন্যও, যাদের পরিচয় আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে—but যাদের গল্প, যন্ত্রণা ও জীবন আমাদের রাষ্ট্রেরই অংশ?
আইন সবার জন্য হতে হবে — শুধু "গ্রহণযোগ্য" পরিচয়ের জন্য নয়।
অধিকার মানে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা — খালি প্রতিশ্রুতি নয়।
সংস্কার হোক অংশগ্রহণমূলক — কেবিনেটের কক্ষে চুপিচুপি নয়।
শেষ কথা:
এই রিপোর্ট নিখুঁত নয়। কিন্তু এটিই এমন একটি দলিল যা গার্মেন্টস কর্মী থেকে gender diverse group, আদিবাসী নারী থেকে যৌনকর্মী—সবার কণ্ঠকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে।
আজ আপনি চাইলে ২০ হাজার মানুষ জড়ো করতে পারেন, ব্যানার বানাতে পারেন, ধর্মের নামে ভয় দেখাতে পারেন। কিন্তু আপনার ব্যানারে থাকা মানুষগুলো কি জানেন দৌলতদিয়ার ভিতরে কী ঘটে? তারা কি কখনও একবার হলেও ভেবেছেন সেই নারীদের আর্থিক লড়াইয়ের কথা? না কি তারা কেবল “অপরাধী” হিসেবে চেনেন?
And lastly, What’s in the report?
The Commission, led by Shireen Huq, proposes:
✔️ A Uniform Family Code replacing unequal religious personal laws
✔️ Equal inheritance and guardianship rights
✔️ Recognition of s*x and domestic workers as legal labourers
✔️ A 600-seat Parliament with half elected women MPs
✔️ Legal protection for gender diverse group, indigenous and disabled women
✔️ Free menstrual products, s*x education, maternity leave, and more
📚 It was developed through 39 consultations with garment workers, gender diverse groups, domestic workers, and rural women — voices rarely heard in national policy.
Photo Credit: AP Photo/ Mahmud Hossain Opu