01/10/2026
বিএফআইইউ এর মাধ্যমে তারেক রহমান ও তার পরিবারের লন্ডনে ব্যাঙ্ক ও সম্পদের হিসাব খোঁজ নেয়া হোক। বিদেশে কিছু পাওয়া গেলে মিথ্যা তথ্য দেয়ায় আইন অনুসারে তার সংসদ সদস্য পদ (ও প্রধানমন্ত্রীত্ব) বাতিল হবে।
নির্বাচন কমিশনে তারেক রহমানের দাখিলকৃত হলফনামাতে (লিঙ্ক কমেন্টে) বলা আছে তার, স্ত্রীর, সন্তানের বিদেশে কোনো আয় নেই, বিদেশে কোনো সম্পদ নেই। এই হলফনামা দেখলে বোঝার কোনো উপায় নেই তিনি গত ১৭ বছর বিদেশে থেকে মাত্র ৪ দিন আগে দেশে এসে সাইন করেছেন।
তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর ট্যাক্সের পরে সম্মিলিত মাসিক আয় প্রায় ৩ লাখ টাকা (পুরোটাই দেশে অর্জিত) বা ১৮০০ পাউন্ড মতো। ব্রিটেনে তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের পরিবারের জন্য দারিদ্র্যসীমা মাসে ১৮০০ পাউন্ডের মত। অর্থাৎ, বাংলাদেশের সব আয় তার পরিবার ব্রিটেনে নিয়ে গেলেও, তার দাবি অনুসারে তার পরিবার দারিদ্র্যসীমার কাছে বসবাস করার কথা।
আসলে লন্ডনের কিংসটনে তিনজনের পরিবারের খরচ কত? তারেক রহমান যে বাসায় থাকতেন সেটার ভাড়াই মাসে ৯ লাখ টাকা (লিঙ্ক কমেন্টে)। এছাড়া অন্যান্য মাসিক খরচ কম করেও ৩-৪ লাখ টাকা। বছরে প্রায় ১.৬-১.৭ কোটি, ১৭ বছরে ২৬-২৮ কোটি।
তার সন্তানকে চার বছর পড়িয়েছেন ম্যারিমাউন্ট ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রাইভেট স্কুলে, ফ্রি সরকারি স্কুলে না। সেখানে বছরে খরচ হয়েছে ৩০ লাখ (মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে)। প্রায় একই রকম খরচ হয়েছে ইউনিভার্সিটিতে এবং আইন কোর্সে পড়ার সময়েও। অর্থাৎ, ৯ বছরে প্রায় তিন কোটি টাকা (মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে)।
ফলে, ১৭ বছরে মোট অন্তত ৩০ কোটি খরচ ধরা যায়। ২০০৭ সালে তারেক রহমান ২০০৭ সালে তারেক ও জোবায়দা দুদকে তাদের সম্পদের যে বিবরণ দেন তাতে মোট সম্পত্তি দেড় থেকে দুই কোটি টাকা হবে। যা ইনফ্লেশন এডজাস্ট করলে ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা হয়। আর খালেদা জিয়া সেসময় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা সম্পত্তির হিসাব দাখিল করেন যা ইনফ্লেশন হিসাব করে আট কোটি টাকা মতো হবে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে এই সম্পদ পুরোটাই বাংলাদেশে এবং প্রায় সবটাই জমি, বাড়ি, স্বর্ণ এরকম স্থাবর সম্পত্তি। সম্পত্তি বিক্রির অর্থ লন্ডনে গেছে এমন প্রমাণ নেই।
তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. সায়মুম পারভেজ খালেদ মহিউদ্দিনের শো তে বলেছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডাক্তার হিসেবে এবং সন্তান ব্যারিস্টার হিসেবে ভালো আয় করেন। তারেক রহমানের হলফনামা সত্য হলে তার উপদেষ্টা মিথ্যা বলেছেন।
কিছু ছোট খাটো বিষয়:
ক. তার স্ত্রীর আয়কর রিটার্নের আয় উল্লেখ করা হলেও তার ব্রেকডাউন দেয়া হয় নি, সেখানে লেখা প্রযোজ্য নয় (টেবিল ৬)। ফলে এই আয়ের উৎস বোঝা যাচ্ছে না। তার পেশা চিকিৎসা দেয়া, কিন্তু তিনি বাংলাদেশ বা যুক্তরাজ্য কোথাওই প্রাকটিস করেন না।
খ. তারেক রহমানের জন্মসাল ১৯৬৮ দেয়া, অথচ ব্রিটিশ সরকারের ওয়েবসাইটে কোম্পানি খোলার সময় দিয়েছেন ১৯৬৭। সেই সাইটে তার নাগরিকত্ব ২০১৫ সালে ব্রিটিশ দিয়ে পরে ২০১৬ সালে বাংলাদেশী দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু হলফনামাতে অন্য কোনো নাগরিকত্ব গ্রহণ বা ত্যাগের কথা বলা নেই।
গ. তার কন্যার পেশা হিসেবে ছাত্রী উল্লেখ করেছেন। অথচ তার কন্যা ২০১৯ সালে ব্যারিস্টারি পাশ করেন, কিন্তু ৬ বছরেও পিউপিলাজ না করায় ব্যারিস্টার হিসেবে লাইসেন্স পান নি। তবে, ২০২২ পর্যন্ত বিভিন্ন ল ফার্মে ছিলেন ও তার পরে ফ্রিল্যান্সিং ভিত্তিতে আইন প্রাক্টিসও করেছেন। অন্তত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির তথ্য নেই। তার কন্যার আয় ও সম্পদও দেখানো হয়েছে শুন্য।
সোর্স: H. Akib