08/05/2024
ভোটার আইডি অনুযায়ী তথ্য পরিবর্তন ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে দূতাবাসের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যাঃ
গত ২৩ এপ্রিল দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি নোটিশ প্রদান করা হয় যে, ভোটার আইডি অনুযায়ী একজন ব্যক্তির সব ধরণের তথ্য একইসাথে পরিবর্তনের আবেদন দূতাবাসে আর গ্রহণ করা হবে না। যেমন একজন ব্যক্তি যদি স্পেনের রেসিডেন্ট কার্ডে বর্ণিত নাম, পিতা/মাতার নাম, জন্ম তারিখ/ঠিকানা ইত্যাদি একসাথে পরিবর্তন করতে চান, তাহলে সে আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং মিজমা সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে না। তবে ভোটার আইডি অনুযায়ী ছোট খাট পরিবর্তন, যেমন শুধু মাত্র নাম পরিবর্তন, বা শুধুমাত্র জন্ম তারিখ পরিবর্তন, শুধুমাত্র বাবার নাম পরিবর্তন , অথবা নামের বানান ভুল ইত্যাদি বিষয় সংশোধন করা যাবে।
একসাথে সকল তথ্য পরিবর্তন করা যাবে না। কারণ স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করে । তাদের কাছে কোন যৌক্তিক ব্যাখ্যাও প্রদান করা যায় না। যে ব্যক্তি এমন তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করছেন তিনি কি এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের কাছে দিতে পারবেন? এসব ক্ষেত্রে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দূতাবাসের মিজমা সার্টিফিকেট লিগালাইস করতে গেলে তারা আরো নতুন অনেক কাগজ চায়। যেমন তারা ইতিমধ্যে বলেছে যে, মিজমা সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ থেকে ( দূতাবাস থেকে নয়)। আবার এই সার্টিফিকেট ঢাকায় স্প্যানিশ এম্বেসীর সত্যায়ন করে পরে মাদ্রিদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিগালাইজেশনের জন্য জমা দিতে হবে। সকলেই অবগত আছেন, এই কাজটি করা একপ্রকার অসম্ভব। এটা করতে না পেরে বেশ কয়েকজন প্রবাসী মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়েছেন।
যে কোন ব্যক্তি স্পেনে বৈধভাবে কাজ করতে পারলে, পরিবার আনতে পারলে তার সকল তথ্য পরিবর্তন একেবারেই যৌক্তিক নয়। কারণ এ বিষয়টি স্প্যানিশ পুলিশ গভীর অনুসন্ধান করলে আরো অনেক জটিল বিষয় সামনে আসবে এবং সার্বিক ভাবে স্পেনে বর্তমানে বসবাসরত এবং কাগজের জন্য অপেক্ষারত হাজার হাজার প্রবাসীদের ভুক্তভোগী হওয়ার আশংকা রয়েছে। অল্প কিছু ব্যক্তির কাজকর্মের জন্য সকল প্রবাসী ভুক্তভোগী হবেন এটা দূতাবাস প্রত্যাশা করে না। প্রতিবছর স্পেনে ২ হাজারের বেশী বাংলাদেশি নিয়মিত কাগজ করে থাকেন। প্রতিদিনই স্পেনে নতুন অভিবাসী আসছেন, আগামীতে আরো অনেকে আসবেন। স্পেনের সহজ মাইগ্রেশন নীতির সুবিধা সকলেই পাবেন আমরা এই প্রত্যাশা করি। একসময় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে কিছু সংখ্যক প্রবাসীর বে- আইনী কার্যকলাপের ফলে (স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে) তারা বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ছবিসহ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নেয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে, যেটি এখনো বহাল আছে। আবার স্পেনে পরিবার আনার ক্ষেত্রে অতীতে অনেক ধরনের বে-আইনী কার্যকলাপের ফলে বর্তমানে ফ্যামিলি ভিসার জন্য ডিএনএ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে, ভিসা পেতে, পরিবার আনতে প্রবাসীদের অনেক দেরী হচ্ছে। অতীতের কারো কারো অপরাধের ফলে বর্তমানে স্পেন প্রবাসী সকল বাংলাদেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন, এ ধরণের ঘটনা আরো ঘটুক দূতাবাস এটি প্রত্যাশা করে না। তাই দূতাবাসের পরামর্শ হচ্ছে , বর্তমানে যে পরিচয়ে বসবাস করছেন , সেটিই বহাল রাখুন। কারণ ভোটার আইডি দিয়ে বাংলাদেশে জমি ক্রয় বিক্রয়, উত্তরাধিকার সম্পত্তি প্রাপ্তি সহ সকল ধরণের কার্যক্রম করা যায়, এর জন্য পাসপোর্টের তথ্য বাধ্যতামূলক নয়।
স্পেন একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের সাথে মিল রেখে তারা ইমিগ্রেশন নীতি, ভিসা নীতি প্রণয়ন করে। স্পেনে কি ঘটছে তা জার্মানী , বেলজিয়াম সহ অন্যান্য সকল দেশ তীক্ষ্ণ নজরে রাখে। তাই দূতাবাসের পরামর্শ, সার্বিকভাবে স্পেনের আইন মেনে চলুন, অতীতের ত্রুটি বিচ্যুতি হয়ে থাকলে তা নিজের মধ্যেই রাখুন। আপনার একক ত্রুটির দায়িত্ব স্পেন প্রবাসী সকল বাংলাদেশি বহন করবে না । স্পেন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। এ শ্রম বাজারের ভবিষ্যত রক্ষার্থে সকলকেই সহযোগিতা করতে হবে।
ধন্যবাদ সবাইকে।