বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ,ডেনমার্ক। Bangla Masjid,Denmark.

  • Hjem
  • Danmark
  • Copenhagen
  • বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ,ডেনমার্ক। Bangla Masjid,Denmark.

বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ,ডেনমার্ক। Bangla Masjid,Denmark. Kontaktoplysninger, kart og anvisninger, kontaktformular, åbningstider, tjenester, stjerner, fotos, videoer og meddelelser fra বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ,ডেনমার্ক। Bangla Masjid,Denmark., Frivilligt arbejde, Hejrevej 28, Copenhagen.

BREAKING NEWS | The crescent moon has NOT been sighted in Saudi Arabia. Therefore,   will be celebrated on Friday, 20th ...
18/03/2026

BREAKING NEWS | The crescent moon has NOT been sighted in Saudi Arabia. Therefore, will be celebrated on Friday, 20th March 2026.

May Allāh allow us to utilise the remaining moments of this blessed month to engage in that which pleases Him, may He accept our siyām, qiyām & a'māl and may He allow us to witness many more Ramadāns in good health. Āmīn

12/03/2026

প্রথম মুসলিম প্রজন্ম (সাহাবা ও তাবেয়ী)
প্রথম যুগে, মুসলিমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ-এর অনুসারী ছিলেন।
এই সময়ে সাধারণ আকিদা ছিল সরাসরি কুরআন, সহীহ হাদিস, এবং সালাফদের বোঝার ওপর ভিত্তি।
পরবর্তীতে ফিকহি ব্যবস্থায় এই আকিদা আশারী (Ash‘ari) ও মাতুরিদি / মাধুরী (Maturidi) পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হয়েছে।
আশারী → মূলত শাফই, মালিকি এবং হানবালি প্রেক্ষাপটে
মাতুরিদি → হানাফি প্রেক্ষাপটে
➡️ অর্থাৎ প্রথম যুগের আকিদা = সুন্নি মূল আকিদা, যা পরবর্তীতে মাদ্রাসার মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ডাইজড হয়েছে।
২️⃣ আহলে হাদিস / সালাফি আন্দোলন
ইবনে তাইমিয়্যাহ (1263–1328 খ্রি.) ও ইবনে ক্বাইয়িম (1292–1350 খ্রি.) মধ্যযুগে আহলে হাদিস ধারা শক্তিশালী করেছেন।
তাদের মতে:
কুরআন ও হাদিসের সরাসরি ব্যাখ্যা
মাজহাবের কালেকশন বা ঐতিহ্য অনুসরণ বাধ্যতামূলক নয়
আধুনিক আহলে হাদিস আন্দোলন ১৮–১৯ শতকে ভারত উপমহাদেশে সংগঠিত রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের আকার নেয়।
➡️ তাই ইতিহাস অনুযায়ী, আধুনিক আহলে হাদিস আন্দোলন মূলত ১৮–১৯ শতকে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, সালাফি নীতির ভিত্তিতে।
৩️⃣ বেদআত (বিদ‘আত) হিসেবে বিশ্লেষণ
যদি আমরা ইসলামের মূল আকিদা প্রথম যুগের আহলুস সুন্নাহ অনুযায়ী দেখি, তবে:
প্রথম যুগের আকিদা → আশারী / মাতুরিদি কাঠামোর ভিত্তিতে
আহলে হাদিসের অনেক পদ্ধতি (মাজহাব প্রত্যাখ্যান, কিছু ফিকহি ও আকিদাগত ব্যাখ্যা) → ইতিহাসগতভাবে পরে এসেছে
সুতরাং, অনেক আলেমের দৃষ্টিতে আহলে হাদিসের আধুনিক কিছু মতবাদ বেদ‘আতি (নতুন বিদ‘আত) হিসেবে গণ্য হয়।

23/02/2026

🇩🇰 দ্বিতীয় জানাযার স্থান পরিবর্তন 🇩🇰আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
গভীর শোকের সাথে জানানো যাচ্ছে যে আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত প্রিয় সদস্য কে.বি.এম. রেফাতুল হক মিঠু গত ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭:০৫ মিনিটে (১৯:০৫) ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
(নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব।)
মরহুমের জানাজা ও দাফনের সময়সূচি নিম্নরূপ:
প্রথম জানাজা
তারিখ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি
সময়: দুপুর ১:০০টা (১৩:০০)
স্থান: Minhaj-ul-Quran Mosque
ঠিকানা: Bispevej 24, 2400 Copenhagen NV
দ্বিতীয় জানাজা
সময়: দুপুর ২:০০টা (১৪:০০)
স্থান: Baitul Mukarram Mosque
ঠিকানা: Ørnevej 24, 2400 Copenhagen NV
দাফন
তারিখ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি (একই দিন)
সময়: বিকাল ৩:০০টা (১৫:০০)
স্থান: Brøndby Cemetery
ঠিকানা: Brøndbyøstervej 180, 2605 Brøndby, ইনশাআল্লাহ।
আমরা মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন মরহুমের সকল গুনাহ মাফ করে দেন, তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।
আমীন।

22/02/2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
গভীর শোকের সাথে জানানো যাচ্ছে যে আমাদের বাংলাদেশ কমিউনিটির অত্যন্ত প্রিয় সদস্য রেফাত হোসাইন মিঠু গতকাল ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭:০৫ মিনিটে (১৯:০৫) ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
(নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব।)
জানাজার নামাজ ও দাফনের সময়সূচি নিম্নরূপ:
প্রথম জানাজা (নামাজে জানাজা)
তারিখ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি
সময়: দুপুর ১২:০০টা
স্থান: Minhaj-ul-Quran Mosque
ঠিকানা: Bispevej 24, 2400 Copenhagen NV
দ্বিতীয় জানাজা ও দাফন
তারিখ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি (একই দিন)
সময়: দুপুর ১:০০টা (১৩:০০)
স্থান: Brøndby Cemetery
ঠিকানা: Brøndbyøstervej 180, 2605 Brøndby, ইনশাআল্লাহ।
আমরা মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন মরহুমের সকল গুনাহ মাফ করে দেন, তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।
আমীন।
বিনীত,
রিয়ান

আহলান সাহলান মা‌হে রমাদান !📌রমজান ক‌্যালেন্ডারের জন‌্য কৃতজ্ঞতা আহলে সুন্নাহ যুব সাংস্কৃতিক ফোরাম এর প্রতি
18/02/2026

আহলান সাহলান মা‌হে রমাদান !

📌রমজান ক‌্যালেন্ডারের জন‌্য কৃতজ্ঞতা আহলে সুন্নাহ যুব সাংস্কৃতিক ফোরাম এর প্রতি

ডেনমার্ক তথা ইউ‌রো‌পের মুস‌লিমরা আজ‌কে শ‌বে বরাত ( নিস‌ফে শাবান ) পালন কর‌বেন ! মহান আল্লাহ পাক সবার ইবাদত ও ফ‌রিয়াদ কব...
02/02/2026

ডেনমার্ক তথা ইউ‌রো‌পের মুস‌লিমরা আজ‌কে শ‌বে বরাত ( নিস‌ফে শাবান ) পালন কর‌বেন !
মহান আল্লাহ পাক সবার ইবাদত ও ফ‌রিয়াদ কবুল করুন 🤲

*শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাত সম্পর্কে জ্ঞাতব্য*[Bengali translation of Shaykh Abdul Karim Yahya’s “Note on the 15th nigh...
31/01/2026

*শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাত সম্পর্কে জ্ঞাতব্য*
[Bengali translation of Shaykh Abdul Karim Yahya’s “Note on the 15th night of Sha'ban.” The writer lives in Yemen.]

মূল: শায়খ আবদুল করিম ইয়াহইয়া (ইয়েমেন)
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
আরবী রিসোর্স: Muhammad Robayed Bin Musa

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

আরবী শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাত, যাকে আরবীতে ‘লাইলাতুন্ নিসফে মিন শা’বান’ তথা মধ্য শা’বান মাসের রাত (শবে বর’আত) বলা হয়, তা বছরের সেরা রাতগুলোর একটি [ইসলামী সালের দিন গণনায় রাত আগে আসে, তাই এটি শা’বানের ১৫ তারিখ দিনের আগের রাত/১৪ তারিখ দিনগত রাত]। হযরত আতা’ ইবনে ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে,

عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: «مَا مِنْ لَيْلَةٍ بَعْدَ لَيْلَةِ الْقَدْرِ أَفْضَلُ مِنْهَا , يَعْنِي لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ يَنْزِلُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا.

লাইলাতুল কদর-এর পরে ১৫ শা’বানের রাতের চেয়ে উত্তম রাত আর নেই। এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো এতে বর্ষিত খোদায়ী রহমত ও বরকত। [১]

এক রাতে সাইয়্যেদাহ আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা লক্ষ্য করেন যে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে নেই। তিনি হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুঁজতে বের হন এবং তাঁকে ‘বfকী’ কবরস্থানে দু’হfত আকাশের দিকে প্রসারিত অবস্থায় মোনাজাতে রত দেখতে পান। তিনি হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা-কে বলেন যে এই রাতে, অর্থাৎ, শা’বান মাসের ১৫ তারিখ রাতে, আল্লাহতা’লা ‘কালব’ গোত্রের অধীনে তাবৎ ভেড়ার যতোগুলো লোম আছে, তার চেয়েও বেশি মানুষকে ক্ষমা করে দেন। ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম তিরমিযী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও ইমাম ইবনে মাজাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এটি বর্ণনা করেন; বানু কালব গোত্র আরবদের মাঝে প্রসিদ্ধ ছিল এর সদস্যদের মালিকানাধীন বিশাল ভেড়ার পালের জন্যে। [২]

হাদীসটির মূল এবারত:

قَالَتْ: فَقَدْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَخَرَجْتُ أَطْلُبُهُ، فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ رَافِعٌ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ. فَقَالَ: «يَا عَائِشَةُ أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ؟» قَالَتْ، قَدْ قُلْتُ: وَمَا بِي ذَلِكَ، وَلَكِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ، فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعَرِ غَنَمِ كَلْبٍ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র এরশাদ ফরমান,

إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ.

শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাতে আল্লাহ পাক তাঁর সৃষ্টিকুলের দিকে তাকান এবং দুই শ্রেণির মানুষ ছাড়া বাকি সবাইকে মাফ করে দেন; এই দুই প্রকার হলো আল্লাহর সাথে শরীককারী এবং এমন লোক যারা মুসলমান ভাইদের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করে। [৩] [বঙ্গানুবাদকের নোট: এখানে ‘শির্ক’ বলতে সুন্নী উলামাদের ব্যাখ্যানুযায়ী ‘শির্কে খফী’ তথা গোপন শির্ক/নফসানীয়াত’ বা কুপ্রবৃত্তিকে বুঝিয়েছে। কেননা মুসলমান সমাজ ‘শির্কে জলী’ তথা প্রকাশ্য মূর্তিপূজা করবেন না। রাসূলুল্লাহ (দ:) এরশাদ করেন, “আমি আশঙ্কা করি না আমার (বেসালের) পরে তোমরা শির্কে প্রত্যাবর্তন করবে” [সহীহ]। অর্থাৎ, মুসলমান সমাজ মূর্তিপূজোয় আর ফিরে যাবেন না। তাই সুন্নী উলামাবৃন্দ হাদীসে প্রদত্ত শির্ক-সম্পর্কিত যাবতীয় বিবরণকে শির্কে খফী তথা কুপ্রবৃত্তি বলে চিহ্নিত করেছেন। দেখুন - সুলাইমান ইবনে আবদিল ওয়াহহাব প্রণীত ‘আস্ সাওয়াইক্বুল ইলাহিয়্যা ফী রাদ্দি আলাল ওয়াহহাবীয়্যা,’ ৪৪ পৃষ্ঠা, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক সংস্করণ]

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا، فَإِنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: أَلَا مِنْ مُسْتَغْفِرٍ لِي فَأَغْفِرَ لَهُ أَلَا مُسْتَرْزِقٌ فَأَرْزُقَهُ أَلَا مُبْتَلًى فَأُعَافِيَهُ .

এই রাত যখন আগমন করে, তখন আমাদের উচিত সারা রাত এবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হওয়া এবং পরের দিন রোযা রাখা; কেননা সূর্যাস্ত থেকে সোবেহ সাদেক পর্যন্ত আল্লাহ সবাইকে ডেকে বলেন, “ক্ষমাপ্রার্থী কেউ এমন আছো কি, যাকে আমি মাফ করতে পারি? রিযক-প্রার্থী এমন কেউ আছো কি, যাকে আমি রিযক দান করতে পারি? রোগাক্রান্ত কেউ আছো কি, যাকে আমি আরোগ্য দিতে পারি?” [৪]

ইমাম আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাতে ঘরের বাইরে গিয়ে আসমানের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তিনি বলেন যে হযরত দাউদ (নবী আলাইহিস্ সালাম)-ও এই রাতের একই সময়ে ঘরের বাইরে যেতেন এবং হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম বলেছেন যে কেউ যদি এই সময় আল্লাহকে ডাকেন, তাহলে আল্লাহ তাঁর প্রার্থনার জবাব দেন; আর কেউ তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে তাঁকেও তিনি মাফ করে দেন। এই কারণেই ইমাম আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সারা রাতব্যাপী এবাদত-বন্দেগী করতেন।

বর্ণিত আছে যে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান,

خَمْسُ لَيَالٍ لَا تُرَدُّ فِيهِنَّ الدُّعَاءَ: لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، وَأَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَجَبٍ، وَلَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَلَيْلَتَيِ الْعِيدَيْنِ.

“পাঁচটি রাতে দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না: রজব মাসের ১ম রাত, শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাত, বৃহষ্পতিবার রাত, ঈদুল ফিতরের (রোযার ঈদের) রাত এবং ঈদুল আযহার (কোরবানি ঈদের) রাত।” [৫]

হযরত একরিমাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও অন্যান্য তাফসীরবিদ উলেমা বলেন যে আল-কুরআনের সূরা দুখানে উল্লেখিত لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ (বরকতময় রাত) বলতে শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাতকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে [তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মোফাসসিরীন এটিকে ‘লাইলাতুল কদর’ তথা কদরের রাত্রি বলেছেন]।

আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান,

فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ .

এই রাতে প্রতিটি হেকমতময় আজ্ঞার বণ্টন স্পষ্ট হয়” ।[৬]

তাফসীরকারদের এই মতানুযায়ী, শবে বরা’তের রাতে আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাদের জন্যে পরবর্তী বছরের যে রিযক বরাদ্দ করেছেন তা বলবৎ হয় (ইমাম আহমদ রেযা খাঁন কৃত তাফসীরে কানযুল ঈমানেও লাইলাতুল কদরের পাশাপাশি শবে বরা’তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে – অনুবাদক)। তাঁদের রিযক বরাদ্দের পাশাপাশি যাঁদের ভাগ্যে ইন্তেক্বাল লেখা আছে, তাঁদেরও নাম উল্লেখ করা হয়। হযরত ‘আতা ইবনে এয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ , نُسِخَ لِمَلَكِ الْمَوْتِ كُلُّ مَنْ يَمُوتُ فِي تِلْكَ السَّنَةِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى شَعْبَانَ، قَالَ عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ: إِنَّ الرَّجُلَ لَيَظْلِمُ , وَيَفْجُرُ , وَيَنْكِحُ النِّسْوَانَ , وَيُعَرِّسُ الْأَعْرَاسَ , وَمَا اسْمُهُ فِي الْأَحْيَاءِ، قَدْ نُسِخَ اسْمُهُ مِنَ الْأَحْيَاءِ إِلَى الْأَمْوَاتِ.

এই রাতে মৃত্যুদূত আজরাইল ফেরেশতা একটি তালিকা পান; এটিতে আসছে বছর যাঁরা ইন্তেকাল করবেন তাঁদের নাম থাকে। “কোনো ব্যক্তি ফসল রোপণ, বিয়ে-শাদী ও ঘর নির্মাণ করতে পারেন, কিন্তু তাঁর নাম ইতোমধ্যে মৃতদের তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছে।” [৭]

তাই পুণ্যবান মুসলমানদের অনেকেই শবে বরা’তে আল্লাহর কাছে তাঁর মনোনীত বান্দাদের নামের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে দরখাস্ত করতেন, যেমনিভাবে তাঁরা প্রচুর রিযকের জন্যেও প্রার্থনা করতেন।

সাইয়্যেদুনা উমর ইবনে আব্দিল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

“বছরের চারটি রাতকে উপেক্ষা করবে না, কেননা ওগুলোতে আল্লাহতা’লা তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমত নাযেল করেন: রজব মাসের ১ম রাত, শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং ঈদুল আযহার রাত।”

এই কারণে প্রাথমিক যুগের মুসলমানদের অনেকেই শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাতকে ‘জীবন্ত’ করে তুলতেন। তাঁরা মানুষকে ওই রাতে মসজিদে এসে রাত জেগে এবাদত-বন্দেগী ও ক্ষমা প্রার্থনা (তওবা) করার জন্যে উৎসাহিত করতেন।

বেশ কিছু হাদীসে বলা হয়েছে যে এই রাতে আল্লাহতা’লার রহমত-বরকতপ্রাপ্তি থেকে কয়েক শ্রেণীর মানুষ বাদ পড়বে। এদের মধ্যে রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে (অর্থাৎ, নফসানীয়াতের তাবেদারি করে) এবং যারা মুসলমান ভাইদের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করে। কিছু কিছু উলেমা সুনির্দিষ্টভাবে সেই সব লোকের কথা উল্লেখ করেন যারা সাহাবা-এ-কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বা প্রাথমিক যুগের মুসলমানদেরকে অপমান করে থাকে, কিংবা যারা মুসলমানদেরকে কাফের (’মুশরিক’) ও বেদআতী আখ্যা দিয়ে থাকে [যেমন - ওহাবী, মওদূদী, সালাফী, শিয়া এন্ড কোং - অনুবাদক]। এছাড়া, রহমত থেকে বঞ্চিত লোকদের মধ্যে রয়েছে যেনাকারী (অবৈধ যৌনাচারী), আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ও পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।

এই শ্রেণীভুক্ত লোকেরা রমযান মাসের ১ম রাত ও লাইলাতুল কদরের মতো মহিমান্বিত রজনীগুলোতেও আল্লাহর রহমত-বরকত পায় না। তাই আমাদের উচিত এই সব গুনাহ ও দূষণীয় কাজ সর্বাত্মকভাবে এড়িয়ে চলা। প্রাথমিক জমানার কোনো এক আলেম বলেছিলেন, “সর্বোত্তম গুণাবলী হলো নির্মল অন্তর, মহানুভব আত্মা ও উম্মতের কল্যাণকামী হওয়া। এই সকল গুণের মাধ্যমেই পুণ্যবান বুযূর্গানে দ্বীন নিজ নিজ সুউচ্চ মকামে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, বিপুল পরিমাণ এবাদত-বন্দেগী ও রোযা (উপবাস) দ্বারা নয়।”

শবে বর’আতে যে রহমত-বরকত আল্লাহ পাক মঞ্জুর করেন, তা যেনো আমাদের প্রতিও তিনি বর্ষণ করেন। এই রাতে তাঁর কাছে প্রার্থনা দ্বারা তাঁরই রেযামন্দি হাসিল ও ক্ষমা লাভের সামর্থ্য যেনো তিনি আমাদের নসীব করেন; আমরা এ-ও তাঁর কাছে কামনা করি যেনো তিনি আমাদের সামগ্রিক কল্যাণ বরাদ্দ করেন এবং সকল অনিষ্ট দূর করেন। তিনি যেনো অফুরন্ত সালাত-সালাম আমাদের হেদায়াতদাতা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি প্রেরণ করেন, যাঁর মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি দুনিয়ার জীবন থেকে আখেরাতের জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব এবং যাঁর হেদায়াত তথা পথপ্রদর্শনের মধ্যে নিহিত এই জীবন ও পরকালীন জীবনের সকল কল্যাণ।

[শায়খ আব্দুল করিম ইয়াহইয়া ইয়েমেনের হাদরামাওতের অধিবাসী । এ দেশীয় বাতেলপন্থীরা দাবি করে থাকে যে শবে বর’আত শুধু উপমহাদেশেই পালন করা হয়, আরবে নয়। তাদের এই অসত্য দাবি খণ্ডনের উদ্দেশ্যেই এই লেখাটি অনুবাদ করা হয়েছে। - অনুবাদক]

তথ্যসূত্র :

[১] আমালী : তারতিবুল আমালী আল খামিয়িছিয়াতু লিশ শাজারাত, ২:১৪২ হাদীস নং ১৮৮৭।

(ক) তবারী : শরহু উসূলি ই‘তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, ৩:৪৯৯ হাদীস নং ৭৬৯।

[২] ইবনে মাজাহ : আস সুনান, ১:৪৪৪ হাদীস নং ১৩৮৯।

(ক) তিরমিযী : আস সুনান, ২:১০৮ হাদীস নং ৭৩৯।

(খ) আহমদ : আল মুসনাদ, ৬:৭১ হাদীস নং ২৪৪৬৯]

(গ) ইবনে আবী শায়বা : আল মুসান্নাফ, ১০:৪৩৭।

(ঘ) বায়হাকী : শু‘য়াবুল ঈমান, ৫:৩৫৬ হাদীস নং ৩৫৪৫।

[৩] ইবনে মাজাহ : আস সুনান, ১:৪৪৫ হাদীস নং ১৩৯০।

(ক) ইবনে হিব্বান : আস সহীহ, ১২:৪৮১ হাদীস নং ৫৬৬৫।

(খ) তাবারানী : আল মু‘জামুল আওসাত, ৭:৩৬ হাদীস নং ৬৭৭৬।

(গ) বায়হাকী : শু‘য়াবুল ঈমান, ৫:৩৬০ হাদীস নং ৩৫৫২।

[৪] ইবনে মাজাহ : আস ‍সুনান, বাবু মা জাআ ফি লায়লাতিন নিসফি শা‘বান, ১:৪৪৪ হাদীস নং ১৩৮৮]

[৫] আব্দুর রাযযাক : আল মুসান্নাফ, বাবু নিসফি মিনাশ শা‘বান, ৪:৩১৭ হাদীস নং ৭৯২৭]

[৬] আল কুরআন : আদ দুখান, ৪৪:৪]

[৭] আমালী : তারতিবুল আমালী আল খামিয়িছিয়াতু লিশ শাজারাত, ২:১৪২ হাদীস নং ১৮৮৬।

*সমাপ্ত*

মেরাজ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?
15/01/2026

মেরাজ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

25/12/2025
16/12/2025

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ সম্মানিত কমিউনিটির দ্বীনি ভাই ও বোনেরা অত্যন্ত দুঃখাকান্ত ভাবে জানানো যাচ্ছে যে ডেনমার্কের বসবাসরত সকলের প্রিয় এবং বাইতুল মোকাররমের বিশিষ্ট খাদেম আমাদের প্রিয় মহিউদ্দিন ভাইয়ের আম্মা রাত বারোটায় বাংলাদেশে ইন্তেকাল করেছেন ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন সে আরশের মালিক ইয়া আল্লাহ তুমি ওনার জীবনের সকল ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে দিও এবং তোমার জান্নাতের সর্বোচ্চ মেহমান হিসেবে কবুল করে নিও আমিন ইয়া রব্বুল আলামিন

18/11/2025

আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বোনেরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি আমাদের কমিউনিটির অত্যন্ত পুরাতন সিনিয়র ব্যক্তি রেফায়েত হোসেন বাচ্চু ভাই ইন্তেকাল করেছেন ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন আল্লাহ পাক উনার ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতের ফেরদৌস দান করুক আমরা বিস্তারিত তথ্য কখন জানাযা ইনশাআল্লাহ পরে জানাবো আপনাদেরকে সকল ওনার জন্য দোয়া করবেন

Adresse

Hejrevej 28
Copenhagen
2200

Telefon

+4571811682

Internet side

Underretninger

Vær den første til at vide, og lad os sende dig en email, når বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ,ডেনমার্ক। Bangla Masjid,Denmark. sender nyheder og tilbud. Din e-mail-adresse vil ikke blive brugt til andre formål, og du kan til enhver tid afmelde dig.

Kontakt Organisationen

Send en besked til বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ,ডেনমার্ক। Bangla Masjid,Denmark.:

Del