আত্ম জাগরণ

Call Directions Contact the organization

আত্ম জাগরণ সত্যান্বেষী'দের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত।

🌺শ্রী দুর্গা নক্ষত্র মালিকা স্তুতি🌺বিরাটনগরং রম্যং গচ্ছমানো যুধিষ্ঠিরঃ ।অস্তুবন্মনসা দেবীং দুর্গাং ত্রিভুবনেশ্বরীম্ ॥ ১ ...
15/10/2026

🌺শ্রী দুর্গা নক্ষত্র মালিকা স্তুতি🌺

বিরাটনগরং রম্যং গচ্ছমানো যুধিষ্ঠিরঃ ।
অস্তুবন্মনসা দেবীং দুর্গাং ত্রিভুবনেশ্বরীম্ ॥ ১ ॥
যশোদাগর্ভসংভূতাং নারায়ণবরপ্রিয়াম্ ।
নন্দগোপকুলেজাতাং মঙ্গল্যাং কুলবর্ধনীম্ ॥ ২ ॥
কংসবিদ্রাবণকরীং অসুরাণাং ক্ষয়ংকরীম্ ।
শিলাতটবিনিক্ষিপ্তাং আকাশং প্রতিগামিনীম্ ॥ ৩ ॥
বাসুদেবস্য ভগিনীং দিব্যমাল্যবিভূষিতাম্ ।
দিব্যাম্বরধরাং দেবীং খড্গখেটকধারিণীম্ ॥ ৪ ॥
ভারাবতরণে পুণ্যে যে স্মরন্তি সদাশিবাম্ ।
তান্বৈ তারয়তে পাপাত্ পঙ্কেগামিব দুর্বলাম্ ॥ ৫ ॥
স্তোতুং প্রচক্রমে ভূয়ো বিবিধৈঃ স্তোত্রসম্ভবৈঃ ।
আমন্ত্র্য দর্শনাকাঙ্ক্ষী রাজা দেবীং সহানুজঃ ॥ ৬ ॥
নমোऽস্তু বরদে কৃষ্ণে কুমারি ব্রহ্মচারিণি ।
বালার্কসদৃশাকারে পূর্ণচন্দ্রনিভাননে ॥ ৭ ॥
চতুর্ভুজে চতুর্বক্ত্রে পীনশ্রোণিপয়োধরে ।
ময়ূরপিঞ্ছবলয়ে কেয়ূরাঙ্গদধারিণি ॥ ৮ ॥
ভাসি দেবি যদা পদ্মা নারায়ণপরিগ্রহঃ ।
স্বরূপং ব্রহ্মচর্যং চ বিশদং তব খেচরি ॥ ৯ ॥
কৃষ্ণচ্ছবিসমা কৃষ্ণা সঙ্কর্ষণসমাননা ।
বিভ্রতী বিপুলৌ বাহূ শক্রধ্বজসমুচ্ছ্রয়ৌ ॥ ১০ ॥
পাত্রী চ পঙ্কজী কণ্ঠী স্ত্রী বিশুদ্ধা চ যা ভুবি ।
পাশং ধনুর্মহাচক্রং বিবিধান্যায়ুধানি চ ॥ ১১ ॥
কুণ্ডলাভ্যাং সুপূর্ণাভ্যাং কর্ণাভ্যাং চ বিভূষিতা ।
চন্দ্রবিস্পার্ধিনা দেবি মুখেন ত্বং বিরাজসে ॥ ১২ ॥
মুকুটেন বিচিত্রেণ কেশবন্ধেন শোভিনা ।
ভুজঙ্গাऽভোগবাসেন শ্রোণিসূত্রেণ রাজতা ॥ ১৩ ॥
ভ্রাজসে চাববদ্ধেন ভোগেনেবেহ মন্দরঃ ।
ধ্বজেন শিখিপিঞ্ছানাং উচ্ছ্রিতেন বিরাজসে ॥ ১৪ ॥
কৌমারং ব্রতমাস্থায় ত্রিদিবং পাবিতং ত্বয়া ।
তেন ত্বং স্তূয়সে দেবি ত্রিদশৈঃ পূজ্যসেऽপি চ ॥ ১৫ ॥
ত্রৈলোক্যরক্ষণার্থায় মহিষাসুরনাশিনি ।
প্রসন্না মে সুরশ্রেষ্ঠে দয়াং কুরু শিবা ভব ॥ ১৬ ॥
জয়া ত্বং বিজয়া চৈব সঙ্গ্রামে চ জয়প্রদা ।
মমাऽপি বিজয়ং দেহি বরদা ত্বং চ সাম্প্রতম্ ॥ ১৭ ॥
বিন্ধ্যে চৈব নগশ্রেষ্ঠে তব স্থানং হি শাশ্বতম্ ।
কালি কালি মহাকালি সীধুমাংসপশুপ্রিয়ে ॥ ১৮ ॥
কৃতানুযাত্রা ভূতৈস্ত্বং বরদা কামচারিণি ।
ভারাবতারে যে চ ত্বাং সংস্মরিষ্যন্তি মানবাঃ ॥ ১৯ ॥
প্রণমন্তি চ যে ত্বাং হি প্রভাতে তু নরা ভুবি ।
ন তেষাং দুর্লভং কিঞ্চিৎ পুত্রতো ধনতোऽপি বা ॥ ২০ ॥
দুর্গাত্তারয়সে দুর্গে তত্ত্বং দুর্গা স্মৃতা জনৈঃ ।
কান্তারেষ্ববপন্নানাং মগ্নানাং চ মহার্ণবে ॥ ২১ ॥
(দস্যুভির্বা নিরুদ্ধানাং ত্বং গতিঃ পরমা নৃণাম্)
জলপ্রতরণে চৈব কান্তারেষ্বটবীষু চ ।
যে স্মরন্তি মহাদেবীং ন চ সীদন্তি তে নরাঃ ॥ ২২ ॥
ত্বং কীর্তিঃ শ্রীর্ধৃতিঃ সিদ্ধিঃ হ্রীর্বিদ্যা সন্ততির্মতিঃ ।
সন্ধ্যা রাত্রিঃ প্রভা নিদ্রা জ্যোৎস্না কান্তিঃ ক্ষমা দয়া ॥ ২৩ ॥
নৃণাং চ বন্ধনং মোহং পুত্রনাশং ধনক্ষয়ম্ ।
ব্যাধিং মৃত্যুং ভয়ং চৈব পূজিতা নাশয়িষ্যসি ॥ ২৪ ॥
সোऽহং রাজ্যাত্পরিভ্রষ্টঃ শরণং ত্বাং প্রপন্নবান্ ।
প্রণতশ্চ যথা মূর্ধ্না তব দেবি সুরেশ্বরি ॥ ২৫ ॥
ত্রাহি মাং পদ্মপত্রাক্ষি সত্যে সত্যা ভবস্ব নঃ ।
শরণং ভব মে দুর্গে শরণ্যে ভক্তবৎসলে ॥ ২৬ ॥
এবং স্তুতা হি সা দেবী দর্শয়ামাস পাণ্ডবম্ ।
উপগম্য তু রাজানমিদং বচনমব্রবীত্ ॥ ২৭ ॥
শৃণু রাজন্ মহাবাহো মদীয়ং বচনং প্রভো ।
ভবিষ্যত্যচিরাদেব সঙ্গ্রামে বিজয়স্তব ॥ ২৮ ॥
মম প্রসাদান্নির্জিত্য হত্বা কৌরববাহিনীম্ ।
রাজ্যং নিষ্কণ্টকং কৃত্বা ভোক্ষ্যসে মেদিনীং পুনঃ ॥ ২৯ ॥
ভ্রাতৃভিঃ সহিতো রাজন্ প্রীতিং প্রাপ্স্যসি পুষ্কলাম্ ।
মৎপ্রসাদাচ্চ তে সৌখ্যং আরোগ্যং চ ভবিষ্যতি ॥ ৩০ ॥
যে চ সঙ্কীর্তয়িষ্যন্তি লোকে বিগতকল্মষাঃ ।
তেষাং তুষ্টা প্রদাস্যামি রাজ্যমায়ুর্বপুঃসুতম্ ॥ ৩১ ॥
প্রবাসে নগরে চাপি সঙ্গ্রামে শত্রুসঙ্কটে ।
অটব্যাং দুর্গকান্তারে সাগরে গহনে গিরৌ ॥ ৩২ ॥
যে স্মরিষ্যন্তি মাং রাজন্ যথাহং ভবতা স্মৃতা ।
ন তেষাং দুর্লভং কিঞ্চিদস্মিন্ লোকে ভবিষ্যতি ॥ ৩৩ ॥
য ইদং পরমস্তোত্রং ভক্ত্যা শৃণুয়াদ্বা পঠেৎ বা ।
তস্য সর্বাণি কার্যাণি সিদ্ধিং যাস্যন্তি পাণ্ডবাঃ ॥ ৩৪ ॥
মৎপ্রসাদাচ্চ বস্সর্বান্ বিরাটনগরে স্থিতান্ ।
ন প্রজ্ঞাস্যন্তি কুরবঃ নরা বা তন্নিবাসিনঃ ॥ ৩৫ ॥
ইত্যুক্ত্বা বরদা দেবী যুধিষ্ঠিরমরিন্দমম্ ।
রক্ষাং কৃত্বা চ পাণ্ডূনাং তত্রৈবান্তরধীয়ত ॥ ৩৮ ॥

🌺শ্রী দুর্গা নক্ষত্র মালিকা স্তুতি — বাংলা অনুবাদ🌺

১। রমণীয় বিরাট নগরের দিকে যেতে যেতে যুধিষ্ঠির মনে মনে ত্রিভুবনেশ্বরী দেবী দুর্গার স্তুতি করতে লাগলেন।
২। যিনি যশোদার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন, নারায়ণের প্রিয় বরদাত্রী, নন্দগোপের কুলে জাতা, মঙ্গলময়ী ও কুলবর্ধনী।
৩। যিনি কংসকে বিদ্রাবিত করেছেন, অসুরদের ক্ষয়কারিণী, যাকে শিলার উপর ফেলে দেওয়া হয়েছিল, অথচ যিনি আকাশে উড্ডীয়মানা।
৪। বাসুদেবের ভগিনী, দিব্য মাল্যে বিভূষিতা, দিব্য বস্ত্রধারিণী দেবী, খড়্গ ও খেটক ধারণকারিণী।
৫। ভার অবতরণের পুণ্যকর্মে যারা সর্বদা সদাশিবাকে স্মরণ করেন, তিনি তাদের পাপ থেকে ত্রাণ করেন, যেমন কাদায় আটকে যাওয়া দুর্বলা নারীকে উদ্ধার করা হয়।
৬। এরপর রাজা যুধিষ্ঠির ভ্রাতাদের সঙ্গে দেবীর দর্শনাকাঙ্ক্ষী হয়ে নানা প্রকার স্তোত্র দ্বারা আবার স্তুতি আরম্ভ করলেন।
৭। বরদাত্রী কৃষ্ণা, কুমারী ব্রহ্মচারিণীকে নমস্কার। তুমি বালসূর্যের ন্যায় আকারবতী, পূর্ণচন্দ্রের ন্যায় মুখমণ্ডলবিশিষ্টা।
৮। চতুর্ভুজা, চতুর্মুখী, পীনশ্রোণী ও পয়োধরবিশিষ্টা, ময়ূরপুচ্ছের বলয়ধারিণী, কেয়ূর ও অঙ্গদধারিণী।
৯। হে দেবি, যখন তুমি পদ্মা (লক্ষ্মী) রূপে নারায়ণের পরিগ্রহী হও, তখন তোমার স্বরূপ, ব্রহ্মচর্য ও খেচরী রূপ অতি বিশুদ্ধ।
১০। কৃষ্ণবর্ণা, সঙ্কর্ষণের সমান মুখমণ্ডলবিশিষ্টা, বিপুল বাহুদ্বয় শক্রধ্বজের ন্যায় উন্নত করে ধারণকারিণী।
১১। তুমি পাত্রী, পঙ্কজী, কণ্ঠী, স্ত্রী, ভূমিতে বিশুদ্ধা। পাশ, ধনু, মহাচক্র ও নানা অস্ত্র ধারণ করে আছ।
১২। সুন্দর পূর্ণ কুণ্ডলযুক্ত কর্ণদ্বয়ে বিভূষিতা। হে দেবি, তোমার মুখ চন্দ্রের সঙ্গে স্পর্ধা করে বিরাজমান।
১৩। বিচিত্র মুকুট ও সুন্দর কেশবন্ধনে শোভিতা। ভুজঙ্গের ভোগের ন্যায় শ্রোণিসূত্রে রাজিতা।
১৪। তুমি বাধা দিয়ে শোভমান, যেমন মন্দর পর্বত ভোগে বাধাপ্রাপ্ত। ময়ূরপুচ্ছের উচ্চ ধ্বজে তুমি বিরাজমানা।
১৫। কৌমার ব্রত অবলম্বন করে তুমি ত্রিদিব (স্বর্গ) পবিত্র করেছ। সেই কারণে দেবতারা তোমার স্তুতি ও পূজা করেন।
১৬। ত্রিলোক রক্ষার্থে মহিষাসুরনাশিনী হে দেবি, আমার প্রতি প্রসন্না হও, দয়া করো, শিবা হও।
১৭। তুমি জয়া ও বিজয়া, সংগ্রামে জয়প্রদা। আমারও বিজয় দাও, হে বরদা, এখনই।
১৮। বিন্ধ্য পর্বতশ্রেষ্ঠে তোমার স্থান চিরস্থায়ী। কালি কালি মহাকালি, সীধু-মাংস-পশুপ্রিয়া।
১৯। ভূতগণের অনুগামিনী, বরদা, কামচারিণী। ভার অবতারে যারা তোমাকে স্মরণ করবে।
২০। যারা প্রভাতে তোমাকে প্রণাম করে, তাদের পুত্র বা ধন কোনো কিছুই দুর্লভ হয় না।
২১। দুর্গ (সংকট) থেকে ত্রাণ কর বলে তোমাকে দুর্গা বলা হয়। কান্তারে (জঙ্গলে) পতিত ও মহাসমুদ্রে নিমগ্নদের।
২২। (দস্যুদের দ্বারা আবদ্ধদেরও তুমি পরম গতি)। জলপথ, কান্তার ও অরণ্যে যারা মহাদেবীকে স্মরণ করে, তারা কখনো দুঃখ পায় না।
২৩। তুমি কীর্তি, শ্রী, ধৃতি, সিদ্ধি, হ্রী, বিদ্যা, সন্ততি, মতি, সন্ধ্যা, রাত্রি, প্রভা, নিদ্রা, জ্যোৎস্না, কান্তি, ক্ষমা ও দয়া।
২৪। পূজিতা হলে তুমি মানুষের বন্ধন, মোহ, পুত্রনাশ, ধনক্ষয়, ব্যাধি, মৃত্যু ও ভয় নাশ করো।
২৫। আমি রাজ্যচ্যুত হয়ে তোমার শরণাপন্ন হয়েছি। হে সুরেশ্বরী, মস্তক নত করে তোমাকে প্রণাম করছি।
২৬। হে পদ্মপত্রাক্ষি, আমাকে ত্রাণ করো। সত্যে সত্যা হও, হে দুর্গা, শরণ্যে ভক্তবৎসলে, আমার শরণ হও।
২৭। এইভাবে স্তুতি করায় দেবী পাণ্ডবকে দর্শন দিলেন এবং রাজার কাছে গিয়ে বললেন।
২৮। হে মহাবাহু রাজন, আমার কথা শোন। অচিরেই সংগ্রামে তোমার বিজয় হবে।
২৯। আমার প্রসাদে কৌরববাহিনী নিধন করে নিষ্কণ্টক রাজ্য পেয়ে তুমি পুনরায় পৃথিবী ভোগ করবে।
৩০। ভ্রাতাদের সঙ্গে তুমি পরম প্রীতি লাভ করবে। আমার প্রসাদে তোমার সুখ ও আরোগ্য হবে।
৩১। যারা এই লোকে বিগতকল্মষ হয়ে সঙ্কীর্তন করবে, আমি তুষ্ট হয়ে তাদের রাজ্য, আয়ু ও সুন্দর দেহ দান করব।
৩২। প্রবাসে, নগরে, সংগ্রামে, শত্রুসঙ্কটে, অরণ্যে, দুর্গম কান্তারে, সাগরে, ঘন অরণ্যে বা পর্বতে।
৩৩। যারা আমাকে সেভাবে স্মরণ করবে যেভাবে তুমি করেছ, এই লোকে তাদের কোনো কিছুই দুর্লভ হবে না।
৩৪। যারা এই পরম স্তোত্র ভক্তিসহ শ্রবণ বা পাঠ করবে, হে পাণ্ডব, তাদের সকল কার্য সিদ্ধ হবে।
৩৫। আমার প্রসাদে বিরাট নগরে অবস্থানকারী তোমাদের কৌরবগণ বা সেখানকার অধিবাসীরা চিনতে পারবে না।
৩৮। এই বলে বরদা দেবী যুধিষ্ঠিরকে রক্ষা করে পাণ্ডবদের রক্ষা করে সেখানেই অন্তর্হিত হলেন।
এটি মূল স্তোত্রের সরল ও স্পষ্ট বাংলা অনুবাদ।

*🌺*শ্রী দুর্গা নক্ষত্র মালিকা স্তুতি — মাহাত্ম্য ও পাঠবিধি*🌺*

# # # মাহাত্ম্য (ফলশ্রুতি)
এই স্তোত্র যুধিষ্ঠির কর্তৃক বিরাট নগরে অজ্ঞাতবাসে থাকাকালীন পাঠ করা হয়েছিল। মুনিরা পাণ্ডবদের এই স্তোত্র শিখিয়েছিলেন সংকট মোচনের জন্য।

স্তোত্রের নিজস্ব ফলশ্রুতি অনুসারে:
- ভক্তিসহ পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল কার্য সিদ্ধ হয়।
- সংগ্রামে, শত্রুসঙ্কটে, প্রবাসে, দুর্গম পথে, অরণ্যে বা সাগরে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
- দেবী তুষ্ট হয়ে রাজ্য, আয়ু, স্বাস্থ্য, পুত্র ও সুখ দান করেন।
- শত্রু চিনতে পারে না, গুপ্ত থাকার সাহায্য করে।
- দুর্গতি, ভয়, বন্ধন, রোগ ও ধনক্ষয় দূর হয়।
- যুধিষ্ঠিরের মতো পাণ্ডবরা এই স্তোত্রের প্রসাদে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে জয়লাভ ও রাজ্য পুনরুদ্ধার করেছিলেন।

এটি বিশেষভাবে **সংকটকালে**, **শত্রুভয়**, **অজ্ঞাতবাস** বা **যুদ্ধ/প্রতিযোগিতায় জয়** কামনায় অত্যন্ত ফলপ্রদ বলে বিবেচিত।

# # # পাঠবিধি (নিয়ম)
- **সময়**: প্রাতঃকাল (ব্রহ্মমুহূর্ত বা সূর্যোদয়ের আগে) অথবা সন্ধ্যায়। বিশেষভাবে মঙ্গলবার, শুক্রবার, অষ্টমী ও নবমী তিথিতে পাঠ শুভ।
- **পদ্ধতি**: স্নান করে পরিচ্ছন্ন বস্ত্র পরিধান করে, দেবীর সামনে বা পূজাস্থানে বসে ভক্তিসহ পাঠ করতে হয়। শুরুতে ওঁ গণেশায় নমঃ বলে আরম্ভ করা উত্তম।
- **সংখ্যা**: একবার, তিনবার বা এগারবার পাঠ করা যায়। নিয়মিত নিত্যপাঠ হলে উত্তম ফল পাওয়া যায়।
- **মনোভাব**: শুদ্ধচিত্তে, ভক্তি ও শ্রদ্ধা সহকারে পাঠ করতে হয়। অর্থ বুঝে পাঠ করলে ফল বৃদ্ধি পায়।
- **বিশেষ**: সংকটকালে, যাত্রায় বা যুদ্ধ/পরীক্ষার আগে বিশেষভাবে পাঠের বিধান রয়েছে।

এই স্তোত্র পাঠে দেবী দুর্গার কৃপা লাভ হয় এবং জীবনের দুর্গতি দূর হয়।

জয় মা দুর্গা।

#শ্রীদুর্গা
#দুর্গানক্ষত্রমালিকাস্তুতি
#নক্ষত্রমালিকাস্তুতি
#মাদুর্গা
#দুর্গাস্তোত্র
#জয়মাদুর্গা





🌺শ্রী মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্ (আদি শঙ্করাচার্য বিরচিত)🌺অয়ি গিরিনন্দিনি নন্দিতমেদিনি বিশ্ববিনোদিনি নন্দনুতেগিরিবরবিন্ধ্...
13/10/2026

🌺শ্রী মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্ (আদি শঙ্করাচার্য বিরচিত)🌺

অয়ি গিরিনন্দিনি নন্দিতমেদিনি বিশ্ববিনোদিনি নন্দনুতে
গিরিবরবিন্ধ্যশিরোধিনিবাসিনি বিষ্ণুবিলাসিনি জিষ্ণুনুতে ।
ভগবতি হে শিতিকণ্ঠকুটুম্বিনি ভূরিকুটুম্বিনি ভূরিকৃতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১ ॥
সুরবরবর্ষিণি দুর্ধরধর্ষিণি দুর্মুখমর্ষিণি হর্ষরতে
ত্রিভুবনপোষিণি শঙ্করতোষিণি কিল্বিষমোষিণি ঘোষরতে ।
দনুজনিরোষিণি দিতিসুতরোষিণি দুর্মদশোষিণি সিন্ধুসুতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ২ ॥
অয়ি জগদম্ব মদম্ব কদম্ববনপ্রিয়বাসিনি হাসরতে
শিখরিশিরোমণি তুঙ্গহিমালয় শৃঙ্গনিজালয় মধ্যগতে ।
মধুমধুরে মধুকৈটভগঞ্জিনি কৈটভভঞ্জিনি রাসরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ৩ ॥
অয়ি শতখণ্ডবিখণ্ডিতরুণ্ডবিতুণ্ডিতশুণ্ড গজাধিপতে
রিপুগজগণ্ডবিদারণচণ্ডপরাক্রমশুণ্ড মৃগাধিপতে ।
নিজভুজদণ্ডনিপাতিতখণ্ডবিপাতিতমুণ্ড ভটাধিপতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ৪ ॥
অয়ি রণদুর্মদশত্রুবধোদিতদুর্ধরনির্জরশক্তিভৃতে
চতুরবিচারধুরীণমহাশিবদূতকৃতপ্রমথাধিপতে ।
দুরিতদুরীহদুরাশয়দুর্মতিদানবদূতকৃতান্তমতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ৫ ॥
অয়ি নিজহুংকৃতিমাত্রনিরাকৃতধূম্রবিলোচনধূম্রশতে
সমরবিশোষিতশোণিতবীজসমুদ্ভবশোণিতবীজলতে ।
শিবশিবশুম্ভনিশুম্ভমহাহবতর্পিতভূতপিশাচপতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ৬ ॥
ধনুরনুসঙ্গরণক্ষণসঙ্গপরিস্ফুরদঙ্গনটৎকটকে
কনকপিশঙ্গপৃষৎকনিষঙ্গরসদ্ভটশৃঙ্গহতাবটুকে ।
কৃতচতুরঙ্গবলক্ষিতিরঙ্গঘটদ্বহুরঙ্গরটদ্বটুকে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ৭ ॥
অয়ি শরণাগতবৈরিবধূবরবীরবরাভয়দায়িকরে
ত্রিভুবনমস্তকশূলবিরোধিশিরোধিকৃতামলশূলকরে ।
দুমিদুমিতামরদুন্দুভিনাদমহোমুখরীকৃতদিঙ্নিকরে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ৮ ॥
সুরললনাততথেয়িতথেয়িতথাভিনয়োদরনৃত্যরতে
হাসবিলাসহুলাসময়িপ্রণতার্তজনেমিতপ্রেমভরে ।
ধিমিকিটধিক্কটধিক্কটধিমিধ্বনিঘোরমৃদঙ্গনিনাদরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ৯ ॥
জয়জয়জপ্যজয়েজয়শব্দপরস্তুতিতৎপরবিশ্বনুতে
ঝণঝণঝিংঝিমিঝিংকৃতনূপুরশিঞ্জিতমোহিতভূতপতে ।
নটিতনটার্ধনটীনটনায়কনাটিতনাট্যসুগানরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১০ ॥
অয়ি সুমনঃসুমনঃসুমনঃসুমনঃসুমনোহরকান্তিযুতে
শ্রিতরজনীরজনীরজনীরজনীকরবক্ত্রবৃতে ।
সুনয়নবিভ্রমরভ্রমরভ্রমরভ্রমরভ্রমরাধিপতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১১ ॥
মহিতমহাহবমল্লমতল্লিকমল্লিতরল্লকমল্লরতে
বিরচিতবল্লিকপল্লিকমল্লিকঝিল্লিকভিল্লিকবর্গবৃতে ।
সিতকৃতফুল্লসমুল্লসিতারুণতল্লজপল্লবসল্ললিতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১২ ॥
অবিরলগণ্ডগলন্মদমেদুরমত্তমতঙ্গজরাজপতে
ত্রিভুবনভূষণভূতকলানিধিরূপপয়োনিধিরাজসুতে ।
অয়ি সুদতীজনলালসমানসমোহনমন্মথরাজসুতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১৩ ॥
কমলদলামলকোমলকান্তিকলাকলিতামলভালতলে
সকলবিলাসকলানিলয়ক্রমকেলিকলৎকলহংসকুলে ।
অলিকুলসংকুলকুবলয়মণ্ডলমৌলিমিলদ্বকুলালিকুলে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১৪ ॥
করমুরলীরববীজিতকূজিতলজ্জিতকোকিলমঞ্জুরুতে
মিলিতমিলিন্দমনোহরগুঞ্জিতরঞ্জিতশৈলনিকুঞ্জগতে ।
নিজগণভূতমহাশবরীগণরঙ্গণসংভৃতকেলিততে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১৫ ॥
কটিতটপীতদুকূলবিচিত্রময়ূখতিরস্কৃতচন্দ্ররুচে
প্রণতসুরাসুরমৌলিমণিস্ফুরদংশুলসন্নখসান্দ্ররুচে ।
জিতকনকাচলমৌলিমদোর্জিতনির্জরকুঞ্জরকুম্ভকুচে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১৬ ॥
বিজিতসহস্রকরৈকসহস্রকরৈকসহস্রকরৈকনুতে
কৃতসুরতারকসংগরতারকসংগরতারকসূনুসুতে ।
সুরথসমাধিসমানসমাধিসমাধিসমাধিসুজাতরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১৭ ॥
পদকমলং করুণানিলয়ে বরিবস্যতি যোऽনুদিনং ন শিবে
অয়ি কমলে কমলানিলয়ে কমলানিলয়ঃ স কথং ন ভবেৎ ।
তব পদমেব পরংপদমিত্যনুশীলয়তো মম কিং ন শিবে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১৮ ॥
কনকলসৎকলসিন্ধুজলৈরনুষিঞ্জতি তে গুণরঙ্গভুবং
ভজতি স কিং নু শচীকুচকুম্ভতটীপরিরম্ভসুখানুভবং ।
তব চরণং শরণং করবাণি নতামরবাণি নিবাশি শিবং
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১৯ ॥
তব বিমলেন্দুকলং বদনেন্দুমলং সকলং ননু কূলয়তে
কিমু পুরুহূতপুরীন্দুমুখীসুমুখীভিরসৌ বিমুখীক্রিয়তে ।
মম তু মতং শিবনামধনে ভবতীকৃপয়া কিমুত ক্রিয়তে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ২০ ॥
অয়ি ময়ি দীনদয়ালুতয়া করুণাপরয়া ভবিতব্যমুমে
অয়ি জগতো জননী কৃপয়াস যথাসি তথানুমিতাসি রমে ।
যদুচিতমত্র ভবত্যুররীকুরুতাদুরুতাপমপাকুরুতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ২১ ॥
॥ ইতি শ্রীমহিষাসুরমর্দিনীস্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ॥

নোট: এটি সংস্কৃত মূল স্তোত্রের বাংলা লিপি রূপ। বিভিন্ন উৎসে সামান্য বানান বা শব্দের পার্থক্য দেখা যায় (যেমন “বর্ষিণি/হর্ষিণি”, কিছু শ্লোকের ক্রম বা শব্দচয়ন)। উপরের রূপটি একটি স্বীকৃত ও প্রচলিত পাঠ।
জয় মা দুর্গা! 🙏

🌺**শ্রী মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্ — শুধু বাংলা অনুবাদ (সহজ ভাবার্থ)**🌺

প্রতিটি শ্লোকের শেষে “জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে” এর অর্থ:
**বিজয় হোক, বিজয় হোক হে মহিষাসুরনাশিনী, সুন্দর জটাজূটধারিণী পর্বতকন্যা!**

# # # ১
হে পর্বতকন্যা, যিনি পৃথিবীকে আনন্দে ভরিয়ে দেন, সমগ্র বিশ্বকে বিনোদিত করেন এবং দেবতাদের দ্বারা বন্দিতা।
হে দেবী, মহান পর্বতের চূড়ায় অধিষ্ঠিতা, বিষ্ণুর আনন্দস্বরূপা, দেবতাদের দ্বারা বন্দিতা।
হে ভগবতী, শিবের পত্নী, আপনি অসংখ্য জীবের জননী ও পালনকর্ত্রী।

# # # ২
হে দেবী, দেবতাদের প্রতি বর বর্ষণকারী, ক্ষমতাবান দানবদের পরাজিতকারী, দুষ্টদের দমনকারী এবং আনন্দে মগ্ন।
ত্রিলোকের পালনকর্ত্রী, শিবসন্তোষকারী, পাপনাশিনী এবং স্তবগীতে আনন্দ বোধকারী।
দানবদের ক্রোধ নিবারণকারী, অসুরপুত্রদের পরাজিতকারী, দুর্মদদের শক্তি শোষণকারী এবং সমুদ্রকন্যা রূপে প্রসিদ্ধ।

# # # ৩
হে জগতের জননী, কদম্ববনে প্রিয়, হাস্যোজ্জ্বল ও করুণাময়।
আপনি উচ্চ হিমালয়ের শৃঙ্গসমূহের মাঝে অবস্থান করছেন।
মধুকৈটভ জাতের অসুরবাহিনীকে ধ্বংসকারী—আপনি সেই যুদ্ধবীরতায় আনন্দ পান।

# # # ৪
হে দেবী, আপনি শতকোটি হাতীবাহিনীকে ভগ্ন করেছেন।
শত্রুর হাতীবাহিনীকে ছিন্নভঙ্গ করে আপনি পরাক্রমশালীরূপে প্রদর্শিত হয়েছেন।
নিজ বাহু দিয়ে শত্রুপদল ও নেতৃবর্গকে ধ্বংস করেছেন।

# # # ৫
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রখর ও অপরাজেয় শত্রুদের বিনাশকারী, শক্তিতে পরিপূর্ণ।
বিচক্ষণ ও কৌশলী, মহাশিবের দূতদের নেতৃত্বে প্রমথপতি।
দুশ্চরিত্র ও দুরাচার দানবদের আপনি পরাস্ত করেছেন।

# # # ৬
আপনি আশ্রিতদের ভীতিহীন করে দেন এবং শত্রুদের বিনাশ করেন।
ত্রিলোকের শত্রুদের বিনাশে শূল হাতে যুদ্ধ করেছেন।
তাম্র দুন্দুভির ধ্বনিতে যুদ্ধক্ষেত্র মুখরিত হয়েছে।

# # # ৭
আপনার হুংকারেই ধূম্রবর্ণী অসুরেরা বিনাশিত হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে অসুরদের রক্তবীজ থেকে উৎপত্তি হওয়া শক্তি আপনি নাশ করেছেন।
শুম্ভ-নিশুম্ভকে আপনি পরাস্ত করে ভূত-পিশাচরাও তুষ্ট হয়েছেন।

# # # ৮
ধনু-শস্ত্র নিয়ে আপনি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবল পরাক্রম প্রদর্শন করেছেন।
সোনালি তীরপ্রহারে শত্রুদের ধ্বংস করেছেন।
চতুরঙ্গ সেনাপদ্ধতিতে আপনার বাহিনী যুদ্ধ করেছে—বহুমাত্রিক বিজয়।

# # # ৯
দেবকন্যারা আপনার নৃত্যে মগ্ন; সুরের লয় তাদের আনন্দে ভরিয়ে তোলে।
বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালবদ্ধ সুরে সকলে কৌতূহলে নৃত্য করছে।
মৃদঙ্গের ধ্বনি চারপাশে মধুর রস ছড়িয়ে দেয়।

# # # ১০
জয়ধ্বনি ও জপে বিশ্ব আপনাকে স্তুত করছে।
নূপুরের ঝংকারে ভূত-পিশাচও মুগ্ধ হয়ে উঠেছে।
নাট্য-নৃত্য ও সঙ্গীতের সুরে সবাই মুগ্ধ।

# # # ১১
হে সুন্দরী, তোমার কান্তিময় রূপ সকলকে আকর্ষণ করে।
চন্দ্রমা-সদৃশ তোমার মুখমণ্ডল যেন রজনীকরের মতো দীপ্ত।
তোমার সুন্দর চক্ষু ভ্রমরের সমান—মনভ্রমে উত্পন্ন।

# # # ১২
আপনি মহাযুদ্ধে অসুরদের সঙ্গে লড়াই করেছেন ও বিজয়ী হয়েছেন।
বিভিন্ন ধরনের দলে বিভক্ত অসুরবাহিনীকে আপনি ধ্বংস করেছেন।
ফুলের মতো কোমল ও কোমল কান্তি আপনার সৌন্দর্যকে বাড়ায়।

# # # ১৩
আপনি রাজসভার মত পরাক্রমশালী—মত্ত হাতীর মতো শত্রুদের ভীত করেছেন।
ত্রিলোকের অলংকার—আপনি সৌন্দর্যের কণা, সমুদ্রসদৃশ মাধুর্য ধারণকারী।
আপনি সকলের মন-লোভী, মনমথরাজের সুলভ রূপে মোহনীয়।

# # # ১৪
আপনি কমলপদ্মের মতো কোমল ও কান্তিময়।
হংসদের সঙ্গে কেলি করা—আপনার বিলাসী ও মাধুর্যপূর্ণ রূপ।
পদ্মবনে আপনি মধুমাখি-বেষ্টিত—প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরা।

# # # ১৫
আপনার বাঁশির সুর এত মধুর যে কোকিলও লজ্জিত হয়।
শৈলবনে আপনার সুর প্রতিধ্বনিত হয়ে মনোহর পরিবেশ তৈরী করে।
আপনার সঙ্গীরা আপনার গুণগান করে—সবাই মুগ্ধ।

# # # ১৬
আপনার হলুদ-বর্ণবিন্যাস এমন যে চাঁদের নরম দীপ্তিও তাতে মিল খায়।
দেব-অসুরেরা আপনার সম্মুখে প্রণতি করে; মুকুটে রত্নচ্ছটায় দীপ্ত।
আপনার পদে সোনার পর্বতও নত—আপনি ভরসার পাথর।

# # # ১৭
আপনি সহস্র বাহুবাহিত অসুরকে পরাজিত করেছেন।
তারকসুরদের বিরুদ্ধে আপনি লড়েছেন ও জয়ী হয়েছেন।
দেবতা যজ্ঞ ও সমাধি করে আপনার উপাসনায় লীন।

# # # ১৮
হে করুণানিধি, যার পদপদ্মে আশ্রয় নিলে সদা মঙ্গল হয়।
পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত তোমার করুণায় সব কষ্ট নিধ্বংস হয়।
তোমার পদই আমার চিরস্থায়ী আশ্রয়; এতেই শান্তি ও শিবলাভ।

# # # ১৯
আপনি স্বর্ণবর্ণা, সমুদ্রসদৃশ সৌন্দর্যে জগতকে আলোকিত করেন।
ইন্দ্রাণীও আপনার সৌন্দর্যে মুগ্ধ; আপনার আশীর্বাদে সুখের অনুভব হয়।
আমি আপনার পদপদ্মে শরণ জ্ঞাপন করি; তার আশ্রয়ে শান্তি ও শিবতা।

# # # ২০
আপনার নির্মল মুখের দীপ্তি সকল অপবিত্রতা নষ্ট করে দেয়।
আপনাকে অবজ্ঞা করলে দেবলোকও বিপদগ্রস্ত হয়—আপনি এত শক্তিমান।
আমার বিশ্বাস আপনার কৃপা ও শিবনামেই মুক্তি—আপনি করুণাময় হোন।

# # # ২১
হে করুণাময়ী দেবী, আমাকে দীন-হৃদয় ভেবে করুণাই হোক আপনার ওপর।
হে জগতের জননী, আপনি যেমন কৃপাশীল, তেমনি আমার প্রতি করুণাময় হন।
যা আপনি উপযুক্ত মনে করেন—তাই করুন; আমার দুঃখ দূর করুন।

---

**🌺শ্রী মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্-এর বিস্তারিত মাহাত্ম্য*🌺*

# # # উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্ (অয়ি গিরিনন্দিনি) জগদ্গুরু আদি শঙ্করাচার্যের রচিত বলে প্রচলিত। এটি মূলত **দেবী মাহাত্ম্য** (দুর্গা সপ্তশতী বা চণ্ডী) থেকে অনুপ্রাণিত। দেবী মাহাত্ম্যে বর্ণিত মহিষাসুর বধ, মধু-কৈটভ, রক্তবীজ, চণ্ড-মুণ্ড, শুম্ভ-নিশুম্ভ ইত্যাদি অসুর সংহারের কাহিনি এই ২১টি শ্লোকে সংক্ষেপে ও ছন্দোময়ভাবে ফুটে উঠেছে।

শিবরহস্য পুরাণেও এই স্তোত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। বাঙালি সমাজে এর মাহাত্ম্য আরও গভীর, কারণ মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে সম্প্রচারিত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ গীতি-আলেখ্যের মাধ্যমে এই স্তোত্র ও চণ্ডীপাঠ বাঙালির শারদীয় উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে।

# # # আধ্যাত্মিক ও প্রতীকী মাহাত্ম্য
মহিষাসুর কেবল একটি পৌরাণিক অসুর নয়। তন্ত্র ও বেদান্তের ভাষ্যে **মহিষাসুর** হলো মানুষের অন্তরের পাশবিক বৃত্তি—কাম, ক্রোধ, মোহ, লোভ, অহংকার ও আলস্য (তমোগুণ)। মহিষ (মোষ) রূপটি ভার, অন্ধকার ও স্থূল প্রকৃতির প্রতীক।

দেবী দুর্গা (মহিষাসুরমর্দিনী রূপে) হলেন আদি শক্তি। তিনি এই অন্তরের অসুরদের বধ করে সাধকের মধ্যে সত্ত্বগুণের জাগরণ ঘটান। স্তোত্রের প্রতিটি শ্লোকের শেষে আসা ধ্রুবপদ—
**“জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে”**—সাধকের অন্তরে বীররস, তেজ ও আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে।

এই স্তোত্র পাঠের মাধ্যমে দেবীর রণরঙ্গিনী ও করুণাময়ী উভয় রূপের স্মরণ হয়। এটি কেবল বাহ্যিক শত্রু নয়, অন্তরের কলুষতা, ভয় ও নেতিবাচক ভাবনাও দূর করে।

# # # পাঠের বিস্তারিত সুফল (মাহাত্ম্য)
নিয়মিত ভক্তিভরে পাঠ বা শ্রবণ করলে নিম্নলিখিত ফল লাভ হয় বলে শাস্ত্র ও ভক্তদের অভিজ্ঞতায় বর্ণিত:

1. **ভয় ও শত্রু বিনাশ**
প্রকাশ্য ও গোপন শত্রুবাধা, মামলা-মোকদ্দমা, পরশ্রীকাতরতা ও মানসিক ভয় দূর হয়। মা দুর্গার রণরঙ্গিনী রূপ স্মরণে অন্তরের দুর্বলতা কেটে যায়।

2. **আত্মবল ও তেজ বৃদ্ধি**
হতাশা, বিষণ্ণতা ও দুর্বলচিত্ততা দূর হয়ে অমিত সাহস ও সংকট মোকাবিলার ক্ষমতা জাগে।

3. **স্বাস্থ্য ও রোগ নিবারণ**
দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা, অজ্ঞাত ভয় ও অকালমৃত্যুর আশঙ্কা প্রশমিত হয়। অনেক ভক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা থেকেও স্বস্তি পান।

4. **সমৃদ্ধি ও গৃহসুখ**
১৮ ও ১৯ নম্বর শ্লোকের ভাবানুসারে গৃহে লক্ষ্মীর কৃপা বজায় থাকে। ধনধান্য বৃদ্ধি, পারিবারিক শান্তি ও সুখলাভের কথা বলা হয়।

5. **আধ্যাত্মিক উন্নতি ও মোক্ষ**
২১তম শ্লোক অনুসারে শরণাগত ভক্তের ত্রিতাপ (আধিভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক) নাশ হয়। নিয়মিত পাঠে দেবীর কৃপায় ইহলোকে সুখ ও পরলোকে মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়।

6. **অন্তরের শুদ্ধি**
কাম, ক্রোধ, মোহ, লোভ ও আলস্যরূপ অন্তরের মহিষাসুর বিনষ্ট হয়। মন শুদ্ধ হয় এবং সত্ত্বগুণ বৃদ্ধি পায়।

# # # পাঠের নিয়ম ও সর্বোত্তম সময়
- সর্বোত্তম সময়: ব্রহ্ম মুহূর্ত (ভোরবেলা), নবরাত্রি, মহালয়া বা দুর্গাপূজার সময়।
- নিয়মিত পাঠ সবচেয়ে ফলদায়ক।
- স্নান করে, পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে, দেবীর মূর্তি বা চিত্রের সামনে ফুল, ধূপ ও দীপ দিয়ে একাগ্রচিত্তে পাঠ করুন।
- সম্পূর্ণ পাঠে সাধারণত ১০-১৫ মিনিট সময় লাগে।

**সারকথা:** মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্ কেবল একটি স্তব নয়; এটি দেবী দুর্গার শক্তি, করুণা ও বিজয়ের প্রতীক। এর নিয়মিত পাঠ বাহ্যিক ও অন্তরের উভয় শত্রুকে পরাজিত করে ভক্তের জীবনে সাহস, শান্তি, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি আনে।

জয় মা দুর্গা! জয় মহিষাসুরমর্দিনী! 🙏

#মহিষাসুরমর্দিনী
#মহিষাসুরমর্দিনীস্তোত্রম্
#শ্রীমহিষাসুরমর্দিনী
#অয়িগিরিনন্দিনি
#মাদুর্গা
#জয়মাদুর্গা
#দুর্গাপূজা
#শারদীয়
#মহালয়া
#চণ্ডীপাঠ
#দেবীমাহাত্ম্য
#নবরাত্রি
#জয়মহিষাসুরমর্দিনী
#মায়েরকৃপা
#ভক্তি
#স্তোত্রম্
#শঙ্করাচার্য

🌺 সাংখ্যযোগ দর্শন — কারিকা ২০ 🌺🔱 প্রকৃতি কাজ করে, পুরুষ আলোকিত করেন অভিজ্ঞতাকে — চৈতন্য ও জড়ের গভীর রহস্য📜 মূল সংস্কৃত ...
10/10/2026

🌺 সাংখ্যযোগ দর্শন — কারিকা ২০ 🌺

🔱 প্রকৃতি কাজ করে, পুরুষ আলোকিত করেন অভিজ্ঞতাকে — চৈতন্য ও জড়ের গভীর রহস্য

📜 মূল সংস্কৃত কারিকা (২০)

तस्मात्तत्संयोगादचेतनं चेतनावदिव लिङ्गम् ।
गुणकर्तृत्वे च तथा कर्तेव भवत्युदासीनः ॥

🕉️ বাংলা হরফে সংস্কৃত পাঠ

তস্মাত্তৎসংযোগাদচেতনং চেতনাবদিব লিঙ্গম্।
গুণকর্তৃত্বে চ তথা কর্তেব ভবত্যুদাসীনঃ॥ ২০॥

🌼 সহজ বাংলা অর্থ

পুরুষ ও প্রকৃতির সংযোগের ফলে অচেতন সূক্ষ্ম উপকরণ—বিশেষত বুদ্ধি ও অন্তঃকরণ—চেতন বলে মনে হয়। আবার প্রকৃতির তিন গুণই কার্যকলাপ সম্পাদন করলেও পুরুষকে যেন কর্তা বলে মনে হয়, যদিও তিনি স্বরূপত উদাসীন, নিরপেক্ষ ও অকর্তা।

এই কারিকার মূল শিক্ষা হলো—প্রকৃতি কার্যকলাপের উৎস, আর পুরুষ চৈতন্যস্বরূপ সাক্ষী। তাদের সংযোগের ফলে চেতনা ও কার্যকলাপের মধ্যে এমন এক সম্পর্ক প্রকাশিত হয়, যার কারণে প্রকৃতির কাজ পুরুষের কাজ বলে মনে হয়।

---

🔱 ১. কারিকা ২০-এর মূল দার্শনিক প্রশ্ন

আগের তিনটি কারিকায় আমরা পুরুষের অস্তিত্ব, বহুত্ব এবং স্বরূপ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

🔹 কারিকা ১৭: পুরুষের অস্তিত্ব কেন স্বীকার করা হয়?

🔹 কারিকা ১৮: সাংখ্যদর্শন অনুসারে পুরুষ বহু কেন?

🔹 কারিকা ১৯: পুরুষের স্বরূপ কী—সাক্ষী, দ্রষ্টা ও অকর্তা।

🔹 কারিকা ২০: পুরুষ অকর্তা হলে আমরা নিজেদের কর্তা বলে মনে করি কেন? আর মন ও বুদ্ধি প্রকৃতির অন্তর্গত হলে সেগুলিকে চেতন বলে মনে হয় কেন?

এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গভীর। কারণ দৈনন্দিন জীবনে আমরা বলি—“আমি ভাবছি”, “আমি সিদ্ধান্ত নিচ্ছি”, “আমি রাগ করছি”, “আমি কাজ করছি”।

কিন্তু সাংখ্যদর্শন আমাদের এই অভিজ্ঞতাকে আরও সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করতে শেখায়।

আমাদের চিন্তা, স্মৃতি, বিচার, আবেগ ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত মন, বুদ্ধি, অহংকার এবং ইন্দ্রিয়গুলি প্রকৃতির বিকার। এগুলি চৈতন্যস্বরূপ পুরুষ নয়। তবুও পুরুষের উপস্থিতিতে এই মানসিক প্রক্রিয়াগুলি যেন চেতন বলে প্রকাশিত হয়।

একইভাবে, প্রকৃতির গুণগুলি কাজ করলেও পুরুষকে কর্তা বলে মনে হয়।

এই আপাতবিরোধের ব্যাখ্যাই কারিকা ২০-এর কেন্দ্রবিন্দু।

🌿 ২. প্রথম শিক্ষা — অচেতন কীভাবে চেতন বলে মনে হয়?

কারিকার প্রথম অংশ:

“তস্মাত্তৎসংযোগাদচেতনং চেতনাবদিব লিঙ্গম্।”

এখানে অচেতনং চেতনাবদিব কথাটির অর্থ—অচেতন বস্তু বা উপকরণ চেতন বলে যেন প্রতীয়মান হয়।

সাংখ্যদর্শনে বুদ্ধি, মন ও অহংকার প্রকৃতির অন্তর্গত। এগুলি অভিজ্ঞতা সংগঠিত করে, চিন্তা করে, বিচার করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। কিন্তু সাংখ্যের মতে, এগুলি নিজেরাই পুরুষের মতো স্বতন্ত্র চৈতন্যস্বরূপ নয়।

তাহলে আমরা কীভাবে চিন্তা করছি, বুঝছি এবং সিদ্ধান্ত নিচ্ছি?

সাংখ্যের ব্যাখ্যায়, প্রকৃতি ও পুরুষের সংযোগের ফলে বুদ্ধির কার্যকলাপ চেতন বলে প্রকাশিত হয়। যেমন একটি স্বচ্ছ স্ফটিকের পাশে রঙিন ফুল রাখলে স্ফটিকটিকেও সেই রঙে রঞ্জিত বলে মনে হতে পারে, তেমনি বুদ্ধির কার্যকলাপও চৈতন্যের উপস্থিতিতে সচেতন অভিজ্ঞতা বলে প্রতীয়মান হয়।

এই উপমাটি বোঝানোর জন্য; এটি পুরুষকে বাস্তবিক কোনো আলো বা বস্তু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে না।

🪔 আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

আমরা সাধারণত নিজের মনকে নিজের প্রকৃত স্বরূপ বলে ধরে নিই। মন যা বলছে, সেটিকেই সত্য মনে করি; বুদ্ধি যা বিচার করছে, সেটিকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মনে করি।

কিন্তু মন ও বুদ্ধি পরিবর্তনশীল। কখনো তারা পরিষ্কারভাবে বিচার করে, কখনো ভুল করে; কখনো শান্ত থাকে, কখনো অস্থির হয়ে ওঠে।

যদি মন ও বুদ্ধির প্রতিটি অবস্থাকেই নিজের চূড়ান্ত পরিচয় বলে ধরে নিই, তাহলে তাদের প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের আত্মপরিচয়ও দুলতে থাকবে।

কারিকা ২০ আমাদের শেখায়—মন ও বুদ্ধির কার্যকলাপকে পর্যবেক্ষণ করো, কিন্তু তাদেরই চৈতন্যস্বরূপ পুরুষ বলে ধরে নিও না।

🌱 ব্যবহারিক উদাহরণ

ধরা যাক, তোমার মনে একটি চিন্তা এল:

“আমি জীবনে কিছুই করতে পারব না।”

এই চিন্তাটি উঠল বলেই কি কথাটি সত্য হয়ে গেল?

না। এটি একটি মানসিক ঘটনা। এর পেছনে ভয়, অতীতের ব্যর্থতা, অন্যের সঙ্গে তুলনা কিংবা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।

তুমি চিন্তাটিকে পর্যবেক্ষণ করতে পারো, তার কারণ খুঁজতে পারো এবং বাস্তব তথ্য দিয়ে যাচাই করতে পারো।

নিজেকে বলতে পারো:

“আমার মনে ব্যর্থতার ভয়সংক্রান্ত একটি চিন্তা উঠেছে। চিন্তাটি আমার অভিজ্ঞতার অংশ, কিন্তু যাচাই না করে এটিকে চূড়ান্ত সত্য বলে গ্রহণ করব না।”

এই অনুশীলন কারিকা ২০-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষার একটি ব্যবহারিক প্রয়োগ—যদিও চিন্তা পর্যবেক্ষণ করার আধুনিক কৌশলটি কারিকার আক্ষরিক অনুবাদ নয়।

---

🔥 ৩. দ্বিতীয় শিক্ষা — প্রকৃতির গুণ কাজ করে, অথচ পুরুষকে কর্তা বলে মনে হয় কেন?

কারিকার দ্বিতীয় অংশ:

“গুণকর্তৃত্বে চ তথা কর্তেব ভবত্যুদাসীনঃ।”

এর মূল বক্তব্য হলো—প্রকৃতির গুণগুলির কার্যকলাপের কারণে পুরুষকে যেন কর্তা বলে মনে হয়, যদিও তিনি স্বরূপত উদাসীন বা অকর্তা।

সাংখ্যদর্শনে প্রকৃতির তিনটি গুণ রয়েছে:

🔹 সত্ত্ব: প্রকাশ, স্বচ্ছতা, জ্ঞান ও ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত।

🔹 রজঃ: ক্রিয়া, গতি, প্রচেষ্টা, আকাঙ্ক্ষা ও অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত।

🔹 তমঃ: জড়তা, ভার, আবরণ ও নিষ্ক্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত।

এই তিন গুণের পারস্পরিক ক্রিয়ায় প্রকৃতির বিভিন্ন কার্যকলাপ ও মানসিক অবস্থা প্রকাশিত হয়।

যখন বুদ্ধি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, মন কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করে, অথবা শরীর কোনো কাজ সম্পাদন করে, তখন আমরা সাধারণত বলি—“আমি এই কাজ করছি।”

সাংখ্যের বিশ্লেষণ হলো, এই কার্যকলাপগুলি প্রকৃতির অন্তর্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘটিত হয়। পুরুষকে সেই প্রক্রিয়ার আরেকটি সক্রিয় কর্তা হিসেবে কল্পনা করা হয় না।

🌺 উদাহরণ: রাগের মুহূর্ত

কেউ তোমাকে অপমান করল। তোমার মনে রাগ তৈরি হলো। শরীরে উত্তেজনা অনুভূত হলো। মনে পাল্টা উত্তর দেওয়ার ইচ্ছা জাগল।

এই ঘটনার মধ্যে কয়েকটি স্তর রয়েছে:

১. একটি বাহ্যিক ঘটনা ঘটেছে।

২. মন ঘটনাটিকে একটি নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে।

৩. রজোগুণপ্রধান প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়ার প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে।

৪. বুদ্ধি সিদ্ধান্ত নিতে পারে—তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাবে, নাকি শান্ত হয়ে উত্তর দেবে।

৫. তুমি নিজের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন হতে পারো এবং তার পরিণাম বিবেচনা করতে পারো।

সাংখ্যদর্শনের ভাষায়, মানসিক ও শারীরিক কার্যকলাপ প্রকৃতির অন্তর্গত। পুরুষ সেই কার্যকলাপের চৈতন্যস্বরূপ সাক্ষী।

🌿 ব্যবহারিক শিক্ষা

রাগের মুহূর্তে নিজেকে বলো না—“আমি রাগ, আমি রাগেরই দাস।”

বরং বলো:

“আমার মধ্যে রাগের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আমি এর কারণ বুঝব এবং সচেতনভাবে প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করব।”

এতে রাগকে অস্বীকার করা হয় না। আবার রাগের বশে অন্যকে আঘাত করাকেও সমর্থন করা হয় না।

দর্শনের সূক্ষ্মতা মনে রেখো: পুরুষের অকর্তৃত্ব সাংখ্যের একটি অধিবিদ্যাগত বক্তব্য; এটি দৈনন্দিন জীবনে নৈতিক দায়িত্ব অস্বীকার করার অনুমতি নয়। ব্যবহারিক জীবনে নিজের আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং তার পরিণামের দায়িত্ব গ্রহণ করা অপরিহার্য।

---

🧘 ৪. পুরুষ ও প্রকৃতির সংযোগ বলতে কী বোঝায়?

সাংখ্যদর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতির সংযোগকে সাধারণ দুটি বস্তু একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ার মতো সম্পর্ক হিসেবে বোঝা উচিত নয়।

প্রকৃতি হলো জড়, ত্রিগুণময় ও পরিবর্তনশীল মূল উপাদান। পুরুষ হলো চৈতন্যস্বরূপ সাক্ষী। তাদের সংযোগের ফলে অভিজ্ঞতা, ভোগ এবং প্রকৃতির কার্যকলাপের অর্থপূর্ণ প্রকাশ ঘটে।

এই সম্পর্ক বোঝানোর জন্য বিভিন্ন ভাষ্যকার নানা উপমা ব্যবহার করেছেন। যেমন, স্ফটিকের পাশে রঙিন ফুল থাকলে স্ফটিক রঙিন বলে মনে হয়, অথবা কোনো কাজের কার্যকলাপের সঙ্গে সচেতন পর্যবেক্ষকের উপস্থিতির সম্পর্ক।

তবে মনে রাখতে হবে, কোনো উপমাই পুরুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ককে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে না।

🌼 আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান

ধ্যানের সময় তুমি একটি চিন্তা লক্ষ্য করলে। চিন্তাটি উঠল, কিছুক্ষণ থাকল, তারপর মিলিয়ে গেল।

এরপর আরেকটি চিন্তা এল।

এই পরিবর্তনগুলি লক্ষ্য করতে গিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে:

- চিন্তার বিষয়বস্তু কি সর্বদা একই থাকে?
- অনুভূতির প্রকৃতি কি সব সময় একই থাকে?
- বুদ্ধির সিদ্ধান্ত কি কখনো বদলায়?
- সাংখ্যের ভাষায়, এই পরিবর্তনশীল মানসিক প্রক্রিয়াগুলির সঙ্গে চৈতন্যস্বরূপ পুরুষের সম্পর্ক কী?

এই প্রশ্নগুলির উদ্দেশ্য জোর করে কোনো বিশেষ ধ্যান-অভিজ্ঞতা তৈরি করা নয়। বরং অভিজ্ঞতা, মন ও চৈতন্যের প্রকৃতি সম্পর্কে গভীর অনুসন্ধান করা।

---

🌻 ৫. কারিকা ২০ থেকে জীবনের পাঁচটি ব্যবহারিক শিক্ষা

১. চিন্তাকে চূড়ান্ত সত্য মনে কোরো না

মনে কোনো চিন্তা উঠলেই সেটিকে বাস্তব সত্য বলে গ্রহণ করার দরকার নেই। যাচাই করো, প্রমাণ খোঁজো এবং প্রয়োজনে নিজের ধারণা সংশোধন করো।

২. আবেগকে চিনতে শেখো

রাগ, ভয়, ঈর্ষা, দুঃখ বা হতাশা তৈরি হলে প্রথমে অনুভূতিটিকে শনাক্ত করো। তারপর তার কারণ ও সম্ভাব্য পরিণাম বিচার করো।

৩. নিজের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করো

কখন তোমার মধ্যে রজোগুণপ্রধান অস্থিরতা প্রকাশ পায়? কখন তমোগুণপ্রধান জড়তা দেখা দেয়? কোন পরিস্থিতিতে সত্ত্বগুণপ্রধান স্বচ্ছতা ও স্থিরতা বৃদ্ধি পায়?

এই পর্যবেক্ষণ আত্মজ্ঞান ও আচরণ সংশোধনে সহায়ক হতে পারে।

৪. কর্মের দায়িত্ব গ্রহণ করো

“সবই প্রকৃতির কাজ”—এই বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যবহার করে নিজের ভুলকে অস্বীকার কোরো না। বরং নিজের অভ্যাস, সিদ্ধান্ত এবং আচরণের কারণ খুঁজে সেগুলি উন্নত করার চেষ্টা করো।

৫. সাক্ষীভাবের সঙ্গে সচেতন কর্মকে যুক্ত করো

শুধু পর্যবেক্ষণ করাই যথেষ্ট নয়। পর্যবেক্ষণ থেকে যা শিখলে, তা ব্যবহার করে জীবনের সমস্যার সমাধান করো, সম্পর্কের যত্ন নাও এবং নিজের কর্তব্য পালন করো।

---

📿 ৬. দশ মিনিটের আত্মপর্যবেক্ষণ অনুশীলন

প্রথম ২ মিনিট — শরীর: শরীরের ক্লান্তি, আরাম, অস্বস্তি ও শ্বাসের স্বাভাবিক প্রবাহ লক্ষ্য করো।

পরের ৩ মিনিট — মন: মনে কী চিন্তা আসছে, তা লক্ষ্য করো। চিন্তাকে জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা কোরো না।

পরের ২ মিনিট — গুণের পর্যবেক্ষণ: নিজের মানসিক অবস্থায় সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ-সম্পর্কিত কোন প্রবণতা বেশি প্রকাশ পাচ্ছে, তা বিচার করো।

পরের ২ মিনিট — কারণ অনুসন্ধান: বর্তমান মানসিক অবস্থার সঙ্গে কোন ঘটনা, প্রত্যাশা, অভ্যাস বা শারীরিক অবস্থা যুক্ত, তা খুঁজে দেখো।

শেষ ১ মিনিট — সচেতন পদক্ষেপ: আজ একটি ছোট, উপকারী কাজ নির্ধারণ করো। যেমন, অসমাপ্ত কাজের একটি অংশ শেষ করা, কারও সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলা অথবা নিজের কোনো ভুল সংশোধন করা।

এই অনুশীলনটি কারিকার ভাবনাকে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার একটি উপায়; এটি সাংখ্যদর্শনের পূর্ণ তাত্ত্বিক উপলব্ধির বিকল্প নয়।

---

🔱 ৭. কারিকা ১৯ ও ২০-এর পারস্পরিক সম্পর্ক

কারিকা ১৯: পুরুষ সাক্ষী, দ্রষ্টা, স্বরূপত নিরপেক্ষ ও অকর্তা।

কারিকা ২০: পুরুষ ও প্রকৃতির সংযোগের ফলে প্রকৃতির অচেতন উপকরণ চেতন বলে প্রতীয়মান হয় এবং প্রকৃতির কার্যকলাপের কর্তা হিসেবে পুরুষকে মনে হয়।

অর্থাৎ, কারিকা ১৯ পুরুষের স্বরূপ ব্যাখ্যা করে; কারিকা ২০ ব্যাখ্যা করে কেন আমাদের অভিজ্ঞতায় পুরুষ ও প্রকৃতির কার্যকলাপের মধ্যে এমন একটি আপাত অভিন্নতা দেখা যায়।

এই ধারাবাহিকতা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাংখ্যদর্শনের মুক্তির পথ শুধু পুরুষের অস্তিত্ব স্বীকার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃতি ও পুরুষের পার্থক্যকে যথার্থভাবে উপলব্ধি করাও তার কেন্দ্রীয় বিষয়।

---

🌺 ৮. কারিকা ২০-এর মহামর্ম

আমরা প্রায়ই নিজের চিন্তাকে নিজের পরিচয়, নিজের আবেগকে নিজের স্বরূপ এবং নিজের কাজকে নিজের চৈতন্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ এক করে দেখি। সাংখ্যদর্শন এই অভ্যাসকে গভীরভাবে পরীক্ষা করতে শেখায়।

মন ও বুদ্ধি প্রকৃতির অন্তর্গত; তাদের কার্যকলাপ পরিবর্তনশীল। পুরুষ চৈতন্যস্বরূপ সাক্ষী। প্রকৃতির গুণগুলি কার্যকলাপ সম্পাদন করে, অথচ পুরুষকে কর্তা বলে মনে হয়—এই আপাতবিরোধের মধ্যেই কারিকা ২০-এর মূল দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টি নিহিত।

জীবনের ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এই শিক্ষা আমাদের চিন্তা ও আবেগকে আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে, নিজের আচরণের কারণ অনুসন্ধান করতে এবং সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।

তবে দর্শনের এই শিক্ষা কখনোই দায়িত্ব এড়ানো, আবেগ দমন করা বা অন্যের কষ্টকে উপেক্ষা করার অজুহাত হওয়া উচিত নয়।

✨ স্মরণীয় বাণী

“প্রকৃতি কার্যকলাপের ক্ষেত্র, পুরুষ চৈতন্যস্বরূপ সাক্ষী; এই দুয়ের পার্থক্য বুঝতে শেখাই সাংখ্যের বিবেকজ্ঞানের পথে এক গভীর পদক্ষেপ।”

🌺 আত্মজাগরণ • বিবেকজ্ঞান • সাক্ষীভাব • আত্মঅনুসন্ধান • কৈবল্য 🌺

#সাংখ্যযোগদর্শন #সাংখ্যদর্শন #সাংখ্যকারিকা #কারিকা২০ #সাংখ্যকারিকা২০ #পুরুষ #প্রকৃতি #প্রকৃতিপুরুষ #সাক্ষীচৈতন্য #সাক্ষীভাব #চৈতন্য #দ্রষ্টা #অকর্তা #বিবেকজ্ঞান #কৈবল্য #আত্মজ্ঞান #আত্মঅনুসন্ধান #আধ্যাত্মিকতা #আত্মজাগরণ #ধ্যান #মনন #আত্মপর্যবেক্ষণ #ত্রিগুণ #সত্ত্ব #রজঃ #তমঃ #প্রকৃতিরগুণ #মানসিকশান্তি #আত্মউপলব্ধি #জ্ঞানযোগ #ভারতীয়দর্শন #হিন্দুদর্শন #সনাতনদর্শন #আধ্যাত্মিকজ্ঞান #মুক্তি #দর্শন

Address

Narsingdi
80333

Telephone

+8801634301175

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আত্ম জাগরণ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to আত্ম জাগরণ:

Shortcuts

Share