BSAAG বিসাগ জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের পথ প্রদর্শক।
আমাদের ফেসবুক গ্রুপঃ www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded

12/04/2025

"বিদেশী ভাষা শিখতে আগে প্রয়োজন বাংলা ভাষার গাঁথুনি"

অল্প কিছুদিন আগের কথা। ও-লেভেল শেষ করে একটা ছেলে ডাডের ঢাকা অফিসে গেছে। উদ্দেশ্য জার্মানিতে ব্যাচেলর করতে কি কি দরকার সেটা সম্পর্কে জানা। ছেলেটি প্রকৌশলী হতে চায়, ডাডের অফিসার তাকে বললেন, তার এ-লেভেলে গণিত, রসায়ন এবং পদার্থবিদ্যা থাকতে হবে। ছেলেটি তার কথা মতন এই বিষয় গুলো নিয়ে এ-লেভেল শুরু করে দিল। একই সাথে সে জার্মান ভাষায় ভর্তি হল। তার স্বপ্ন জার্মানিতে গাড়ির প্রকৌশলী হওয়া, যেকোনো মূল্যে সে তার লক্ষে পৌঁছাবে।

এ-লেভেল পড়া শেষের দিকে, জার্মান ভাষাও বি-১ পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে- এমন একটা সময়ে ছেলেটা জার্মানিতে আবেদন করা শুরু করল। আবেদন করার পর সে খুব দ্রুত উত্তর পেল। এত বেশি দ্রুত যে, সে নিজেও অবাক হয়ে গেল। প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানানো হল, জার্মানিতে ব্যাচেলর করার জন্য সে উপযোগী নয়। কারণটা আর কিছু নয়, জার্মানিতে ব্যাচেলর করতে অন্তত একটা ভাষা (বাংলা বা ইংরেজি) নিয়ে পড়া থাকতে হবে।

ডাডের অফিসার ভদ্রলোক ভুল করে এই ব্যাপারটি খেয়াল করেননি। সাধারণত যারা বাংলা মিডিয়ামে পড়ে, তারা নিজের অজান্তেই এবং কিছুটা অনীহার সাথে বাংলা বা ইংরেজি পড়ে। ইংলিশ মিডিয়ামে এ-লেভেলে এটা নিতে হবে এমন কোন কথা নেই!

ছেলেটা প্রচন্ড নাড়া খেয়ে গেল, ভুলটা তার ছিল না। কিন্তু অন্যের এই সামান্য ভুলের জন্য তাকে আবার নতুন করে বাংলা (বা অন্য একটি ভাষা) নিয়ে পড়তে হবে, এর জন্য খরচ হয়ে যাবে মূল্যবান অনেকটা সময়।

তবে আমার গল্পের মরাল ছিল এই যে, জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য সবচেয়ে আগে যে যোগ্যতাটি প্রয়োজন, সেটি হল একটি ভাষার উপর দক্ষতা থাকা। একটি ভাষার উপর নিপুণ দক্ষতা এবং বিশুদ্ধতা না থাকলে উচ্চশিক্ষাতে কোনভাবেই তাকে যোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না। এই নিয়ম সম্ভবত আমেরিকা কানাডায় নেই। তবে জার্মানিতে এটা আবশ্যক।
আমাদের দেশের সিংহভাগ ছেলে মেয়ে বাংলিশে বাতচিত করে।

অনেকের হিন্দির প্রতিও দুর্বলতা আছে বলে শোনা যায়। বিদেশী ভাষা শেখা খারাপ নয়, কিন্তু সেটা নিজের ভাষা বাদ দিয়ে নয়। অন্তত একটি ভাষাতে সবাইকেই সুনিপুণ হতে হবে। সেটা না হলে, প্রকৌশল হোক আর চিকিৎসা বিদ্যায় পড়া হোক, জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়তে হবে।

যেকোনো নতুন বিদেশী ভাষা শিখতে আমরা সাধারণত জানা ভাষায় প্রথমে সেই বস্তু বা ঘটনাটিকে মনে মনে কল্পনা করি। পরের পর্বে সেই কথাগুলোকেই অবচেতন মন নতুন ভাষায় রূপান্তর করে। এখানে যদি মূল ভাষাতেই গলদ থেকে যায়, তাহলে অনুবাদের মান যে ভাল হবে না- এটা বলাই বাহুল্য।

একজন মানুষ একটি ভাষায় দক্ষ কিনা, এর প্রমাণ পাওয়া যায় তার নিত্য জীবনে সেই ভাষাটির প্রয়োগ এবং চর্চার মাধ্যমে। আমরা কথা বলার সময় যে পরিমাণ বিদেশী শব্দ ব্যবহার করি, সেখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, অন্তত একটি ভাষাতে নিখুঁত ভাবে মনের ভাব প্রকাশের যোগ্যতা থেকে আমরা জাতিগতভাবে অনেকখানি পিছিয়ে আছি।

জার্মান শেখার সময় আমাদের মনের ভেতর একটির বদলে দুইটি অনুবাদের মেশিন চলে। একবার বাংলা থেকে ইংরেজি, তারপর ইংরেজি থেকে জার্মান। এটা আমাদের ছেলেমেয়েদের জার্মান শেখার সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা।

আমি নিজে এক সময় এই ডুয়েল প্রসেসিং এর কাজ করতাম, এবং নিজের অভিজ্ঞতা বলে এই কারণে অনেক জার্মান শব্দ জানলেও বলার ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যা হত। সরাসরি বাংলাতে চিন্তা করে সেটাকে জার্মান করার অভ্যাস করলে জার্মানে কথা বলতে সুবিধে হয়। একই সাথে একটা প্রসেসর কম ব্যবহার করাতে মাথা ঠাণ্ডা থাকে।

তাহলে যেটা বলছিলাম, সবাই ভাল করে বাংলা শেখ। বেশি করে বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজে বের করে প্রতিনিয়ত অনুশীলন কর। তার জন্য বাংলায় লেখাটার গুরুত্ব অতীব। যারা আজকে বাংলায় ভাল করে একটি বিষয় সাজিয়ে লিখতে পারছে না, তারা কোনদিনও ইংরেজিতে বা জার্মানে থিসিস বা পেপার লেখায় সফল হতে পারবে না। সামান্য এই ফেসবুকেই চ্যাট হোক, আর উচ্চশিক্ষার প্রশ্নই হোক, বাংলায় অনুশীলন করি। প্রিয়জনকে বাংলায় লিখি, ভালবাসি, বাংলায় ভালবাসি।

পাদটীকা~ সেই ছেলেটি হাল ছেড়ে দেয় নি। ভাষা নিয়ে আবার এ-লেভেলের পরিক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। আমার ধারণা ছিল ইংরেজি মাধ্যমের ছেলেমেয়েরা ভাল বাংলা পারে না। ছেলেটি আমার সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে আমার সাথে ঘন্টার পর ঘণ্টা চমৎকার বাংলায় লিখে কথা বলল। একটা বানানও ভুল পেলাম না, শব্দচয়নে প্রায় কোন ইংরেজি শব্দই ব্যবহার করল না। যার ইচ্ছে আছে, সে ঠিক পারে!

(আমি নিজেও এখনও শিখছি, কেউ বাংলা প্রতিশব্দ পেলে ধরিয়ে দেবে, ধন্যবাদ।)

#আদনান_সাদেক, বিসাগ।

"মারুফ সুজনের মৃত্যু থেকে শেখাঃ সহানুভূতি নয়, নিজের দায়িত্ব নিজের"সুজন নামের বাংলাদেশের একটা ছেলের গল্প। দূরদেশে স্বপ্ন ...
30/03/2025

"মারুফ সুজনের মৃত্যু থেকে শেখাঃ সহানুভূতি নয়, নিজের দায়িত্ব নিজের"

সুজন নামের বাংলাদেশের একটা ছেলের গল্প। দূরদেশে স্বপ্ন পূরন করতে এসে অকালে লাশ হয়ে ফিরে গেল। ঘটনাটি ২০১৭ সালের।

তার লাশ নিয়ে কি হবে, কিভাবে দেশে যাবে, কে খরচ দেবে - এই নিয়ে জটিলতায় বেশ কয়েকটা দিন লাশকাটা ঘরে পড়ে রইল ছেলেটার মরদেহ। এই নিয়ে দেশ বিদেশের অনেক মানুষ সামনে এগিয়ে এসেছে, তাদের সাধ্যমত সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। একটু দেরীতে হলেও সুজনের লাশ শেষ পর্যন্ত দেশে পৌঁছেছে। এই ঘটনা অনেকের জানা।

তবে আমি সুজনকে সহানুভূতি জানানোর জন্য লিখছি না। শুধু মনে করিয়ে দিতে চাইছি, সুজনের মৃত্যু থেকে নেয়া শিক্ষা আমরা ভুলে গিয়েছি।
মারুফ নামের একটি ছেলেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল ২০২৫ সালের ১২ই মার্চ। সুজনের মতন তার মৃত্যু ক্যান্সারে নয়। বরং তাঁকে জোর করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। তাঁর মৃতদেহ দেশে পাঠানোর জন্য ৩২০০ ইউরো তোলা হয়েছে ফেসবুক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে।

ফেসবুকে এরমধ্যে আরও দুইজন বাংলাদেশীর ঘটনা জানি। এদের লাশ দেশে পাঠানোর জন্য টাকা চাওয়া হয়েছে।

(এইখানে একটা কথা বলে রাখি। লাশ পাঠানোর জন্য টাকা চেয়ে, একটি ঘটনায় সেই টাকা মেরে দেয়া হয়েছে - এমন প্রমানাদি আছে)
মরে যাবার পরে সহানুভূতি নয়, বরং নিজের ভবিষ্যৎ এবং নিজের পরিবারের দায়ভার বেঁচে থাকতেই আমাদের নিজেকেই নিতে হবে। আমি সমাধান নিয়ে ২০১৭ সালেই পোষ্ট দিয়েছিলাম। এইবার আবার দিচ্ছি, ২০২৫ সালে। আশা করি, এই অবস্থায় ভবিষ্যতে আর যেন কেউ না পরে!

এই সমাধানটা প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর হাতের মুঠোয়। চাইলেই যেকোন ছাত্রছাত্রী একটি সামান্য বীমা করে রাখলে এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। খরচ মাসে মাত্র ১ ইউরো!
জীবন বীমা বা লাইফ ইনস্যুরেন্স। এটা আমাদের সবারই জানা। যারা বিশেষ করে জার্মানিতে আসছে, বা বিদেশে যাচ্ছে, যাদের ব্লকের টাকাটা আত্মীয় বন্ধুদের থেকে ধার করে আনা, তাদের সবারই উচিত হবে একটি জীবন বীমা করে রাখা। এবং জার্মানিতে জীবন বীমার কাজগুলো খুব সহজে করা সম্ভব। খরচ একেবারেই সাধ্যের মধ্যে।
আমি এখানে উদাহরণ স্বরূপ একটি বীমা কোম্পানির ইন্টারনেট সাইট থেকে কিছু স্ক্রিন শট দিচ্ছি। এখানে একজন ছাত্র, যে কিনা ধূমপান করে না, ২০০০ সালে জন্ম, এবং আগামী ১০ বছরের জন্য ২৫,০০০ ইউরোর জীবন বীমা করতে চাইছে, তার জন্য একটা উদাহরণ দিচ্ছি।

আগামী ১০ বছর পর্যন্ত নিজের পরিবারকে অন্তত ২৫ হাজার ইউরো দিয়ে সুরক্ষা করার খরচ মাসে মাত্র ১ ইউরো! এই মাত্র ১ ইউরো খরচে, লাশ নেয়া বাদ দিয়েও ব্লক একাউন্ট, দেনা এবং পরিবারকে তাৎক্ষনিক সাপোর্ট দেয়া সম্ভব।

এমনকি ১ লক্ষ ইউরো বীমার খরচ মাসে মাত্র ২,২১ ইউরো।
মারুফ বা সুজনের মতন ট্র্যাজিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, এই কামনা করি। তবে এই ধরণের ঘটনা আমাদের হাতে না থাকলেও নিজের দায়িত্বে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষমতা কিন্তু আমাদের হাতেই আছে। সময়ে আমরা যেন সঠিক কাজগুলো করতে ভুলে না যাই।
পুনশ্চঃ নেট ঘাটলে অনেক ধরণের বীমার কোম্পানি পাওয়া যাবে, এবং সেখানে সম্ভবত আরো কয়েক পয়সা কমেও জীবন বীমা করা সম্ভব। উপরের উদাহরনে দেয়া বীমা কোম্পানির (নাম ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করেছি) সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন পরিচয় নেই, এবং বীমা করার সময় আমার নাম উল্লেখ করারও কোন আবশ্যকতা নেই।

#আদনান_সাদেক
বিসাগ, জার্মানি
৩০.০৩.২০২৫।


এই নিয়ে ২০১৭ সালে দেয়া পোষ্টঃ
https://www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded/posts/1101363859974002/

জার্মানিতে  #স্পন্সরশীপের বিস্তারিত  #নিয়মাবলী"জার্মানি যেতে সবচেয়ে বড় বাঁধাগুলোর একটি ব্লক একাউন্ট দিয়ে ১২ হাজার ইউরো (...
20/03/2025

জার্মানিতে #স্পন্সরশীপের বিস্তারিত #নিয়মাবলী"

জার্মানি যেতে সবচেয়ে বড় বাঁধাগুলোর একটি ব্লক একাউন্ট দিয়ে ১২ হাজার ইউরো (২০২৫) দেখানো। অনেকের জন্য একটা বিশাল দেয়ালের মতন, আবার টাকা দেখানোর পরেও টাকা পাঠানো নিয়ে অনেক ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। অনেককে আবার জার্মানিতে আসার পরে ব্লক একাউন্ট দেখাতে হয়, কোন কোন ক্ষেত্রে সেটা দ্বিতীয় বছরেও চাওয়া হয়। এই বাঁধা পাশ কাটানোর সবচেয়ে কার্যকরী উপায়টির নাম স্পন্সরশীপ।

#স্পন্সরশীপ_কি?
জার্মানিতে আসতে ভিসা প্রয়োজন, এমন সকল দেশের নাগরিকদের জন্য, জার্মানিতে ভিসা পেতে যথেষ্ট আর্থিক সামর্থ্য আছে - সেটা দেখানোর একটি উপায়ের নাম স্পন্সরশীপ বা জামিননামা। এই জামিনের মাধ্যমে জামিনদাতা একজনকে জার্মানিতে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারেন এবং তার অবস্থানকালের সকল খরচের জামিন বা গ্যারান্টি দেন।
খরচের মধ্যে বিশেষত মাসিক খরচাদি, চিকিৎসা ও বাসস্থান, এবং ছাত্রদের ক্ষেত্রে টিউশন ফি বা পড়ার খরচ বোঝায়।

জামিনদাতা এই আমন্ত্রণপত্র জার্মানির নিজ শহরের ফরেন অফিস থেকে উত্তোলন করে জামিন প্রাপককে পাঠাবেন। সেই পত্র দেখিয়ে প্রাপক স্থানীয় দূতাবাস থেকে ভিসা নিতে পারবে। সাধারণত এই ভিসা বেশ দ্রুত ইস্যু করা হয়, টুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে এমনকি সাথে সাথেও একইদিনে পাওয়া যাবার অনেক ঘটনা আছে।

#কে স্পন্সর হতে পারবেন?
জার্মানিতে বৈধ বসবাসরত যেকোন ব্যাক্তি জামিন দিতে পারবেন। এইজন্য জার্মান নাগরিক হতেই হবে এমন কোন কথা নেই। এমনকি আত্মীয় বা পরিবারের সদস্য হতে হবে - এমন কোন নিয়মও নেই। তবে নাগরিক এবং পারিবারিক সম্পর্ক থাকলে তারা অগ্রাধিকার পাবেন এটা বলাই বাহুল্য।

জামিনদাতার #যোগ্যতা
জামিনদাতার ভালো মাসিক আর্থিক আয় থাকতে হবে। চাকরি দাতাদের এতটুকু আয় থাকতে হবে, যেন তিনি তার পারিবারিক এবং মাসিক খরচাদি চালানোর পরেও অন্তত ১০০০ ইউরো বাড়তি দেখাতে পারেন।
এক্ষেত্রে তার স্থায়ী কাজের চুক্তি/কন্ট্রাক্ট থাকতে হবে। চুক্তির একটি কপি এবং শেষ অন্তত তিন মাসের বেতনের রসিদ দেখাতে হবে।

ব্যবসায়ীদেরকে গত বছরের লাভ ক্ষতির হিসেব থেকে দেখাতে হবে যে, তার জামিন হবার্ট আর্থিক ক্ষমতা আছে। পিএইচডি বা সীমিত সময়ের চাকরির চুক্তি থাকলে অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র টুরিস্ট হিসেবে (শুধুমাত্র তিন মাসের জন্য) আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। তবে কাউকে ছাত্র ভিসায় এক বছরের জন্য স্পন্সর করা কঠিন হবে।

স্পন্সর দাতাকে যথেষ্ট বড় বাসা দেখাতে হবে, অথবা আমন্ত্রিত অতিথির জন্য আলাদা বাসা ভাড়া করে দেখাতে হবে। যথেষ্ট বড় বাসা বলতে সাধারণত প্রতিজনের জন্য অন্তত ১৫ স্কয়ার মিটার, এটা শহর ভেদে সামান্য এদিক ওদিক হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, জামিনদাতার পরিবারে ৪ জন সদস্য থাকলে এবং নতুন একজনকে নিজের বাসায় আশ্রয় দিয়ে স্পন্সর দিতে চাইলে তার বাসা অন্তত ৭৫ স্কয়ার মিটার হওয়া উচিত।

জামিনদাতার #ঝুঁকি
স্পন্সরশীপ দেয়া আপাতদৃষ্টিতে সহজ হলেও স্পন্সরশীপের সম্পূর্ণ সময়কাল জুড়ে জামিনদাতাকে বেশ কিছু ঝুঁকির কথা মাথায় রাখতে হবে। যেমন, যেকোনো কারণে জামিন প্রাপক কোন ঝুট ঝামেলায় পড়লে, বা নিজে কোন ঝামেলা তৈরি করলে, তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব এবং আর্থিক খরচের দায়ভার জামিনদাতার থাকবে।

কেউ যদি স্পন্সরশীপ নিয়ে এসে ইউরোপের অন্য দেশে গা ঢাকা দেয়, সেক্ষেত্রে তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর খুঁজে পাওয়া থেকে শুরু করে দেশে ফেরত পাঠানো পর্যন্ত যত খরচ, সব কিছু জামিনদাতা দিতে বাধ্য থাকবেন। অন্যদিকে এই জাতীয় কিছু ঝামেলা হলে, জামিনদাতাকে পরবর্তীতে ফরেন অফিসে ঝামেলায় পড়তে হবে, বা পরবর্তী কাউকে স্পন্সর করতে চাইলে সেটা আর সম্ভব হবে না। একারণে শুধুমাত্র নিজের একান্ত বিশ্বস্ত কাউকেই জামিন দেয়ার পরামর্শ দেয়া হল।

একইসময়ে একজনের জন্য একাধিক স্পন্সর দেয়া বেশ কঠিন ব্যাপার। আবার একবার কাউকে স্পন্সরশীপ দিয়ে দিলে সময়সীমা শেষ হবার আগে জামিনদাতাও চাইলেও স্পন্সরশীপ বাতিল করা সম্ভব নয়। সুতরাং কাউকে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্পন্সর করার আগেই এই ঝুঁকিগুলো চিন্তা করে দেখা উচিত।

স্পন্সরশীপের #ধাপসমূহ
জার্মানিতে অবস্থানরত জামিনদাতা তার নিজস্ব শহরের স্থানীয় রাথ-হাউসে (ফরেন অফিস) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যাবেন। এখানে খেয়াল রাখতে হবে যে, জামিনদাতাকে সশরীরে যেতে হবে। অফিসে গিয়ে তাকে বলতে হবে যে, তিনি একজন অতিথি বা ছাত্রের জন্য „Verpfichtungserklärung“ চান।

প্রয়োজনীয় #কাগজপত্রের তালিকাঃ

- ব্যক্তিগত পাসপোর্ট বা ভিসার কাগজপত্র।
- আর্থিক অবস্থার প্রমাণাদি। চাকরির চুক্তিপত্র, বেতনের রসিদ, ব্যবসার - বাৎসরিক লাভক্ষতির হিসেব, অন্যান্য আর্থিক সম্পত্তির প্রমাণাদি ইত্যাদি।
আমন্ত্রিত অতিথির পূর্ণ নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ঠিকানা, জামিনদাতার সাথে সম্পর্ক ইত্যাদি তথ্যাদি।
- আমন্ত্রিত অতিথির জন্য হেলথ ইনস্যুরেন্স বা চিকিৎসা বীমার প্রমাণাদি।
- বাসস্থানের প্রমাণাদি। বাসার আকৃতিসহ চুক্তিপত্র ইত্যাদি।
- অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর সময়কাল আবেদনপত্রে লিখে দিতে হবে।

এইসব কাগজপত্র ঠিক থাকলে ফরেন অফিস সাধারণত সাথে সাথেই Verpfichtungserklärung জামিনদাতাকে ইস্যু করবেন এবং জামিনদাতাকে সকল ঝুঁকি মেনে নিয়ে সেখানে স্বাক্ষর করতে হবে।

এই কাগজটি মুল কপি জামিনদাতা অতিথিকে পোষ্টে পাঠিয়ে দিতে পারেন। সেই কাগজ নিয়ে ঢাকার জার্মান দূতাবাসে গেলে ভিসার আবেদনকারীকে আর কোন ব্লক একাউন্ট বা আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণাদি দেখাতে হবে না।

একইসাথে এই পদ্ধতিতে স্টুডেন্ট ভিসায় জার্মানিতে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীকে স্পন্সর করা সম্ভব। তবে জার্মানিতে এরমধ্যে অতিথি ভিসায় চলে এসেছে বা এসাইলাম নিয়ে আছে, এমন কাউকে স্পন্সর করা সম্ভব নয়।

স্পন্সরশীপের কাগজ „Verpfichtungserklärung“ পেতে প্রায় ৩০ ইউরো ফি দিতে হয়।

#তথ্যসূত্রঃ
জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তথ্যঃ https://bit.ly/4hszAlf

Stuttgart শহরের ফরেন অফিসের তথ্যঃ https://bit.ly/4bK5Qiy

Rechtsgrundlage/জার্মান আইনের তালিকাঃ § 68 Aufenthaltsgesetz (AufenthG) § 47 Abs. 1 Nummer 12 Aufenthaltsverordnung (AufenthV) § 49 Abs. 2 Aufenthaltsverordnung (AufenthV)

লেখাঃ #আদনান_সাদেক, বিসাগ।

পুনশ্চঃ আমি জার্মানির সাইট থেকে পড়ে যতটুকু বুঝতে পেরেছি, স্পন্সর নিয়ে আবেদন করলে সেখানে waiting period ৮-১০ সপ্তাহে নেমে আসার কথা। এই নিয়ে কারো অভিজ্ঞতা থাকলে (পজিটিভ বা নেগেটিভ) শেয়ার করার জন্য (তথ্যসূত্র সহ) অনুরোধ রইল।


17/03/2025

"বার্লিনঃ পড়ার জন্য, শুধু চাকরির জন্য নয়।"

একটা ছেলে আমাকে ফেসবুকে মেসেজ দিয়ে বলল, ভাইয়া, বার্লিনে যেতে চাই, আপনার কি মতামত।

আমি বলি, বার্লিনেই কেন? অন্য কোথাও চেষ্টা করনি?

-ওখানে অনেক জব পাওয়া যায়। চাকরি করে সব খরচ তুলে ফেলা যাবে। দেশেও টাকা পাঠানো যাবে। জার্মানি মানেই তো প্রথমেই বার্লিন। আপনি কি বলেন?

আমি একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলি, বার্লিনের চেয়েও অনেক ভাল শহর আছে। আমি নিজে হলে আগে বার্লিন বাদ দিয়ে অন্য শহর খুঁজতাম। এখানে ভাল পছন্দমতো বিষয় পেলে অন্য কথা। তবে চাকরি পাওয়া সহজ এই যুক্তিতে বার্লিন যাওয়া ঠিক হবে না।

- ভাই, রাজধানী শহর তো বার্লিন। টিভিতে দেখায়, খবরের কাগজে নাম আসে। আমার বড় মামাতো ভাই গেছে দুই বছর আগে। সবসময় কাজ পায়। কাজের চাপে দেশে কথা বলার পর্যন্ত সময় পায় না।

- তাহলে তো আর আমাকে জিজ্ঞেস করার কিছু নেই। তুমি মনস্থির করেই ফেলেছ।

- ভাই, আপনি বললে একটু মনে সাহস পাই।

- সাহস দিতে পারছি না। বার্লিনে যেও না।

ছেলেটা মন খারাপ করে আমার সাথে আর যোগাযোগ করে নি।

বেশ কিছুদিন পরে সে দক্ষিণের ছোট একটা শহর থেকে ইমেইল করল।

- ভাইয়া, আপনার কথামতো বার্লিনে না গিয়ে এখানে পড়তে এসেছি। কোন কাজ পাচ্ছি না, মামাতো ভাই বলেছে, বার্লিনে চলে যেতে। কি করব বুঝতে পারছি না।

আমি দেখলাম মহা বিপদ। বাংলাদেশে যেমন সব চাকরির কেন্দ্র ঢাকাতে, এই দেশে সেটা নয়। যে দেশ যত উন্নত, তাদের রাজধানী অর্থনৈতিক দিক থেকে ততটাই গুরুত্বহীন। বার্লিনও সেরকম।

জার্মানির সবচেয়ে বড় শহর, মানুষের সংখ্যা অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে বেশী। যতদূর মনে হয় রেস্টুরেন্ট টাইপ অড চাকরি পেতে সমস্যা হয় না। এছাড়া বাংলাদেশী আছে অনেক।

পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে ছেলেমেয়েদের অনেক ধরণের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বার্লিনে বাংলাদেশের এম্ব্যাসি থাকাতে অনেকের জন্য এটা একটা স্বস্তির বিষয়। তারপরেও আমি ছেলেটাকে বার্লিনে না যেতে বলেছি।

এর পেছনে আমার কিছু যুক্তি আছে।

যেসব ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যায়, তাদের উচিত যথা সম্ভব মস্তিষ্কের ব্যবহার হয় - এমন ধরণের কাজ করা। বিদেশে দেশের মতন ধরাবাঁধা সাজেশন দিয়ে পড়া শেষ করা সম্ভব নয়। এখানে নিজের কিছুটা স্বকীয়তার দরকার আছে। রেস্টুরেন্টের থালা বাটি ধোয়া মোছাতে তেমন কোন মাথার কাজ হয় না।

বার্লিনে মানুষের অনুপাতে বড় ধরণের স্থানীয় ইন্ডাস্ট্রির সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে কম। সুতরাং কার্যত গবেষণা মূলক বা কারখানায় বুদ্ধি খাটিয়ে করতে হয় এমন কাজের সংখ্যা কম।

অন্যদিকে অড জব বা শারীরিক শ্রম দিয়ে করা যায় -এই ধরণের কাজ বেশী। সুতরাং সহজেই ছেলেমেয়েরা অড জবে আকর্ষিত হবে। এবং ফলাফল হল, মস্তিষ্কের কাজ না করাতে নিজের পড়াশোনায় তারা পিছিয়ে পড়তে থাকবে। একটা সময়ে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফুল টাইম শ্রমজীবী হয়ে যাবার আশংকা খুবই বেশী।

বার্লিনে দেশীয় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় প্রচলিত বেতনের অর্ধেক টাকায় কাজ করছে অনেক বাংলাদেশী - এমন ঘটনা শোনা যায়। অর্ধেক পয়সায় কেন, বিনামূল্যেও যদি পড়ার সাথে সম্পর্ক আছে - এমন বিষয় নিয়ে কেউ কাজ করত, তাহলে অন্তত তাদের ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগত।

আরেকটা সমস্যা বার্লিনের মতন বড় শহরগুলিতে। বাংলাদেশী বেশী হওয়াতে সারাদিনের কার্যক্রমে সবকিছুতে দেশী মানুষের সাথে হয়। ফলাফলে দেখা যায় অনেক বছর জার্মানিতে থেকেও সামান্য জার্মান শেখা বা চর্চা করা হয় না।

এমনটা নয় যে বার্লিনে ভাল কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই, বা সেখানে পড়াশোনা করে কেউ ভাল করছে না। তবে আমার দেখাতে প্রায় ৯০ শতাংশ ছেলেপেলে বার্লিনে যায় সেখানে কাজ পাওয়া সহজ এই কারণে। সেখানে ভাল বা পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারবে - এইজন্য নয়।

এইখানে আমার সমস্যা।

জার্মানিতে বেকার মানুষের সংখ্যার দিক থেকে করা তালিকায় বার্লিন প্রায় সবার পেছনে {পূর্ব জার্মানির কিছু শহর বাদ দিলে}। এর অর্থ বার্লিনের অর্থনৈতিক অবস্থা জার্মানির বেশীরভাগ অঞ্চলের চেয়ে খারাপ। যেখানে স্থানীয় বেকারের সংখ্যা বেশী, সেখানে বিদেশীদের ভাল চাকরি পাওয়া সহজ হবার কোন কারণ নেই।

#আদনান_সাদেক

পুনশ্চঃ গল্পের ছেলেটি অনেক কষ্টে পড়াশোনা শেষ করে প্রায় সাথে সাথে ভালো চাকরি পেয়েছে। মোটামুটি ভাল জার্মান বলতে পারে। এবং মাঝে মাঝেই তার বার্লিনে থাকা মামাতো ভাইকে দেখতে যায়।

তার ভাষায় বার্লিন অসাধারণ একটা টুরিস্টিক শহর। না গেলে বিশাল মিস। মামাতো ভাই অবশ্য তার থেকেও দুই বছর আগে জার্মানিতে এসেও এখনও পড়া শেষ করতে পারে নি। তবে এই নিয়ে তাকে খুব বেশী চিন্তিত দেখা যায় না।

সম্প্রতি সে বহুপথ গাড়ি চালিয়ে আমার সাথে প্রথমবারের মতন দেখা করতে আসলো। আমরা দুইজন মিলে ব্ল্যাক ফরেস্টে হাইকিং করতে গেলাম।

অনেক কষ্ট করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এই ধরনের ছেলেমেয়েদের গল্প লিখতে আমার বড়ই আনন্দ হয়।

17/03/2025

জার্মানিতে মেডিক্যাল সিস্টেম নিয়ে কিছু কথা।

জার্মানিতে ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ করার মতন কিছু বিষয় আছে। সব ডাক্তার, সব নার্স ভালো না। এটা কোন দেশেই নয়। মানুষ মানেই ভালো মন্দ মিশিয়ে।

তবে এখানে কালচার এবং মাইন্ডসেট বা দৃষ্টিভঙ্গির একটা প্রভাব আছে। আমরা যে ধরনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বা খাদ্যাভাসে অভ্যস্থ, সেটা জার্মানিতে ভিন্ন। কিছু ক্ষেত্রে একেবারেই ভিন্ন। সেক্ষেত্রে দুইটা সিস্টেমের তুলনা করার জন্য জার্মানদের দৃষ্টি ভঙ্ঘী এবং কালচার মাথার রাখলে হয়তো ফেয়ার ভাবে তুলনা করা সম্ভব হতে পারে।

আমি কয়েকটা বিষয় অনেক বছর জার্মানিতে থেকে খেয়াল করেছি,
১। স্বাস্থ্য মূলত মানুষের নিজ দ্বায়িত্বের জিনিস। অন্তত ইউরোপে মানুষ এইভাবে দেখে। জার্মানিতে আরো বেশি। আমাদের দেশে খাবার বলতে আমরা বুঝি যা মুখরোচক। এখানে তেল মশলা লবন চিনি সস বা অন্য আরো ধরনের অস্বাস্থ্যকর জিনিস খাবার হিসেবে ধরা হয়। শরীরে কতটুকু পুষ্টি হচ্ছে, তার হিসেব খুব কম মানুষ করে। এখানে দুই দেশের একটা বড় ধরনের পার্থক্য আছে।

জার্মানিতে পৃথিবীর জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক খেলার ক্লাব। প্রত্যেকেই জিম বা ইয়োগা কোন ধরনের খেলায় নিয়মিত জড়িত।
বাংলাদেশে এটার বাস্তবতা ভিন্ন। খেলার সুযোগ নেই, খালি মাঠ নেই ইত্যাদি।

জার্মানিতে মানুষয়ের দিন শুরু হয় গড়ে ভোর সাড়ে পাঁচটায় এবং মানুষ্ ঘুমাতে যায় রাতে দশটার আগে। আমার যতটুকু দেখা, বাংলাদেশে এই বিষয়টা একটু ভিন্ন। রাত দশটায় সন্ধ্যে হয়। রাত ১/২ টার আগে বেশিরভাগ ঘুমাতে যায় না। এটা সায়েন্টিফিক্যালি প্রমানিত যে, ঘুমের সাইকেল ঠিক থাকার উপরে আমাদের স্বাস্থ্যের একটা বিশাল প্রভাব আছে।

খাদ্যাভাস, ব্যায়াম এবং ঘুম - এই তিনটি জিনিসের কারনে আমাদের সাধারন স্বাস্থ্যের মান বা স্ট্যান্ডার্ড জার্মানির সাথে তুলনা যোগ্য নয়। আমাদের ইমিউন সিস্টেম অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি দুর্বল। যেসব অসুখ জার্মানিতে ৭০/৮০ র পরে হয় (হৃদরোগ, রক্তচাপ ইত্যাদি), সেটা আমাদের দেশের মানুষের ৪০ পার হলেই শুরু হয়।
এই সমস্যা ওষুধ দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। সেটা উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষমতা নেই বদলে দেবার।

২। উন্নত দেশে রোগ নিরাময়ের চেয়ে রোগ প্রতিরোধের গুরুত্ব বেশি।
আমাদের দেশে ডাক্তাররা বা ফার্মেসিস্টরা বসে আছে ঔষধ দেবার জন্য। ঔষধ যেন আদৌ খেতে না হয়, মানুষ যেন অসুস্থ না হয় - এই নিয়ে মাথা ব্যাথা কম। বরং যত বেশি অসুস্থ, তত বেশি এন্টিবায়োটিক, তত বেশি মুনাফা।

এই দেশের মাইন্ড সেট/মানসিকতা একেবারেই উলটো। ডাক্তাররা সহজে ঔষধ দিতে চান না। এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশ ছাড়া কোনভাবেই ফার্মেসি দিবে না।অতিরিক্ত ঔষধ সাময়িক উপকারে আসলেও বেশি পরিমানে গ্রহন করলে একসময় শরিরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে আসবে। তখন আর কোন ঔষধেই কাজ হবে না। এইটা যারা এখনো ধরতে পারে নি, তাদের জন্য জার্মানির সিস্টেম ভালো নাও লাগতে পারে।
৩। ভাষা Lost in Translation। একটা বড় অংশের ছেলেমেয়েরা যারা চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ করে, তাদের ৯৯ শতাংশ জার্মান ভাষা ভালো জানে না। এরা ডাক্তারের কাছে গিয়ে আশা করে, ডাক্তার নার্স এরা সবাই ইংরেজিতে কথা বলবে। এইটা সম্পূর্ন ভুল একটা প্রত্যাশা।
এবং খেয়াল করে দেখেছি, শুধুমাত্র ভাঙ্গা ইংরেজি বলে, এমন ডাক্তারের কাছে আমাদের ছেলেমেয়েরা বেশি যায়। সেখানে ডাক্তারের ডাক্তারি স্কিলের চেয়ে ভাষাগত দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়।

ডাক্তারি বিদ্যা রেস্টুরেন্টে ভাত ডাল অর্ডার করার সাথে তুলনা করা যাবে না। এখানে জটিল বিষয় খুঁটিনাটি ব্যাখ্যা করার জন্য এবং রোগী ও ডাক্তার - দুই পক্ষের বোধগম্যের জন্য একটি কমন ভাষা আবশ্যক। জার্মানিতে এই ভাষার নাম জার্মান। এটা আমি নিজে পারি না বলে সিসটেমকে গালি দেয়া ঠিক হবে না।

আমি নিজেও প্রথমদিকে এই নিয়ে ভুক্তভোগী ছিলাম। কিন্তু নিজের ভাষার সমস্যা মেটার পরে এই নিয়ে অভিযোগ করার মতন কিছু খুঁজে পাইনি। বরং ডাক্তাররা মন দিয়ে কথা শুনে। ডাক্তারি জ্ঞানের পাশাপাশি তাদের হিউমার জ্ঞান চমতকার।

মেডিক্যাল সিস্টেম নিয়ে যারা পৃথিবীতে গবেষনা করে, তারা নানাবিধ জিনিস যাচাই করে। গোগল করলে পৃথিবীর সেরা মেডিকেল সিস্টেমের মধ্যে যেকোনো স্টাডিতে জার্মানিকে প্রথম ৫-১০ টা দেশের মধ্যে পাওয়া যাবে। এটা প্রমানিত তথ্য। এই নিয়ে কারো দ্বিমত বা খারাপ অভিজ্ঞতা থাকতেই পারে, তবে সেটা সামগ্রিক বিচারে যুক্তিতর্কের মধ্যে পড়ে না।
জার্মানির শিক্ষা ব্যবস্থা পৃথিবীর সেরাদের একটা। সেখানে আমি পাশ করতে পারি নি, বা অনেকেই ২ বছরের মাস্টার্স ৪ বছরে শেষ করছে বলে সিস্টেম খারাপ - এই যুক্তি কি ঠিক হবে?

পুনশ্চঃ একটা জিনিস পরিস্কার। ২০১৫ সালের পরে সিরিয়ান এবং ২০২২ এর পরে ইউক্রেন থেকে কয়েক মিলিয়ন রিফিউজি নেয়ার পরে থেকে জার্মানির সব সিস্টেম এক ধরনের ওভারলোডেড অবস্থায় আছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ পড়েছে এবং ডাক্তারের কাছে এপয়েন্টমেন্ট পাওয়া, বিশেষ করে যেসব শহরে রিফিউজি বেশি, দিন দিনে কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এটা মেডিক্যাল সমস্যা না, এটা একটা রাজনৈতিক সমস্যা।

#আদনান_সাদেক

Adresse

Leonberg

Benachrichtigungen

Lassen Sie sich von uns eine E-Mail senden und seien Sie der erste der Neuigkeiten und Aktionen von BSAAG erfährt. Ihre E-Mail-Adresse wird nicht für andere Zwecke verwendet und Sie können sich jederzeit abmelden.

Die Organisation Kontaktieren

Nachricht an BSAAG senden:

Teilen