07/22/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিশাল পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল সম্প্রচার ও হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত
গত ১৯ জুলাই, রোববার টরন্টোর স্কারবোরোস্থ থমসন মেমোরিয়াল পার্কে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর বার্ষিক বনভোজন। হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পার্কের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে অতিথিরা বনভোজনস্থলে আসতে শুরু করেন। দীর্ঘদিন পর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা, শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় এবং আনন্দঘন আড্ডায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল মুখর হয়ে ওঠে। প্রবীণদের স্মৃতিচারণ, তরুণদের উচ্ছ্বাস এবং শিশু-কিশোরদের প্রাণচাঞ্চল্যে থমসন মেমোরিয়াল পার্কে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ ফুটে ওঠে।
জালালাবাদ এসোসিয়েশন মূলত বৃহত্তর সিলেটবাসীর সংগঠন হলেও এ বনভোজনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ফলে অনুষ্ঠানটি আঞ্চলিকতার সীমানা অতিক্রম করে টরন্টো ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সর্বজনীন সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়।
এবারের আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল পার্কের খোলা প্রাঙ্গণে বিশাল এলইডি স্ক্রীনে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা সরাসরি সম্প্রচার। হাজারো ফুটবলপ্রেমী একসঙ্গে বড় পর্দায় বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করেন। খেলার প্রতিটি আক্রমণ, গোলের সম্ভাবনা এবং নাটকীয় মুহূর্তে দর্শকদের সম্মিলিত উল্লাসে পুরো পার্ক অনেকটাই একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের রূপ নেয়। বিভিন্ন দলের পতাকা ও জার্সি পরিহিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আয়োজনটিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
বিশাল পর্দায় ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল প্রদর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয় স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের অন্টারিও লিবারেল পার্টির এমপিপি পদপ্রার্থী আহসানুল হাফিজের সৌজন্যে। তাঁর এ সহযোগিতা বনভোজনের আনন্দকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলে।
বনভোজনে আগত অতিথিদের জন্য দিনব্যাপী বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার, বিকেলের নাশতা এবং চা-পানের ব্যবস্থা রাখা হয়। আকর্ষণীয় ফটোবুথে ছবি তোলার জন্যও অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। শিশু-কিশোর ও পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম পুরো আয়োজনকে আরও আনন্দময় করে তোলে।
দিনের শেষ পর্বে বিভিন্ন স্পনসরের সৌজন্যে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল টরন্টো–ঢাকা–টরন্টো বিমান টিকিট, যা স্পন্সর করেন মাইগ্রেশন এইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর চৌধুরী। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ছিল ৮৫ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, যা স্পন্সর করেন ব্যারিস্টার আরিফ হোসেন। এছাড়াও বিজয়ীদের হাতে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পিকনিকের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন কনভেনর মনসুর আহমেদ, কো-কনভেনর সংগঠনের সহ সভাপতি আব্দুল কালাম বুরহান ও সহকারী প্রচার সম্পাদক লুৎফুর রহমান এবং সদস্যসচিব ও সংগঠনের যুব ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক গোলাম ইমরান সুমন। তাঁদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন সংগঠনের সভাপতি এবাদ চৌধুরী, নির্বাহী সহসভাপতি মেহেদী শরীফ মারুফ এবং সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ বিশ্বকাপ ফাইনাল সম্প্রচারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জিয়াউল ভূঁইয়া রিংকু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী চৌধুরী।
অতিথি আপ্যায়ন ও অভ্যর্থনার দায়িত্বে ছিলেন নির্বাহী সদস্য মকবুল হোসেন মঞ্জু, হোসাইন আহমেদ লনি, রেজওয়ান চৌধুরী ও আবু জাহির শাকিব, দপ্তর সম্পাদক ফারুক আহমদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম চৌধুরী এবং সহকারী সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক পারমিতা সেন।
খাবার ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন এসোসিয়েশনের সহসভাপতি আব্দুল কালাম বুরহান, তাহমিনা চৌধুরী, আমজাদ আলী ও জুবের আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ হাসান তারেক ইমাম, সহকারী কোষাধ্যক্ষ ইকবাল চৌধুরী, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফয়সল আহমদ, ক্রীড়া সম্পাদক নাহিদ আহমদ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা মাকসুদা বেগম রিনু এবং তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আলী হোসেন।
র্যাফেল টিকিটের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন জুয়েল আহমেদ। টিকিট বিপণনের দায়িত্ব পালন করেন প্রচার সম্পাদক আল আমিন এবং সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক তানিম ইকবাল চৌধুরী।
সদ্য নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর প্রথম বৃহৎ আয়োজন। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে এমন একটি অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করা নতুন পরিষদের জন্য ছিল একটি বড় সাংগঠনিক সাফল্য। কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ বনভোজনে উপস্থিত থেকে আয়োজকদের উৎসাহ দেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বনভোজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। অতিথিদের স্বাগত জানানো থেকে শুরু করে খাবার পরিবেশন, খেলা সম্প্রচার, র্যাফেল ড্র পরিচালনা, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁরা আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন।
অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদের পার্ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজেও অংশ নিতে দেখা যায়। ব্যবহৃত স্থানটি পরিচ্ছন্ন রেখে যাওয়ার এই উদ্যোগ উপস্থিত অতিথি ও কমিউনিটির সদস্যদের প্রশংসা অর্জন করে।
জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর বার্ষিক বনভোজন এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক সংগঠনের অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের একটি বৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
আয়োজনটি সফল ও স্মরণীয় করে তোলার জন্য জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর পক্ষ থেকে সকল অতিথি, স্পনসর, শুভানুধ্যায়ী, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
_আল আমিন
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টো
Ebad Chowdhury Maruf Sharif Monsur Ahmed Alamin Ahmed Saad Choudhury