08/14/2026
টরন্টোতে ‘জুলাই নেটওয়ার্ক’-এর উদ্যোগে ‘৩৬ জুলাই’ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
জুলাইয়ে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও শহীদদের আত্মত্যাগকে শক্তিতে রূপান্তর করে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান
টরন্টো: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে ‘জুলাই নেটওয়ার্ক, টরন্টো’-এর উদ্যোগে ‘৩৬ জুলাই সভা ও দোয়া’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট টরন্টোর বাংলা টাউনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া ঘোপ, আনাস ও শান্তসহ সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতার ত্যাগ এবং দেশে-বিদেশে আন্দোলনের পক্ষে ভূমিকা রাখা বাংলাদেশিদের অবদান তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র-জনতার সাহস, ঐক্য ও আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে দেশের সর্বস্তরের মানুষ জীবনবাজি রেখে অন্যায়, বৈষম্য, নিপীড়ন ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার প্রতি সংহতি জানিয়ে টরন্টোসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও রাজপথে নেমেছিলেন। টরন্টোর বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা ও সমাবেশে হাজারো মানুষ অংশ নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আন্দোলনের বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
বক্তারা বলেন, জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক অর্জন নয়। এটি বাংলাদেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফসল। শহীদদের রক্তের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানো এবং বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় টরন্টোতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী এবং নানাভাবে ভূমিকা রাখা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমন্বয়ে ‘জুলাই নেটওয়ার্ক’ গড়ে উঠেছে। সংগঠনটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, চেতনা ও জনআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশে ও প্রবাসে সচেতনতামূলক এবং মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
অনুষ্ঠানে টরন্টোর বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ হেলাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ‘জুলাই নেটওয়ার্ক’-এর অন্যতম সংগঠক মহিউদ্দিন আহমদ-এর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন টরন্টোতে জুলাই আন্দোলনের প্রধান সংগঠক, বাংলা কমিউনিটির পরিচিত ব্যক্তিত্ব ও রিয়েলটর কোহিনুর তানভীর, ‘জুলাই নেটওয়ার্ক’-এর সংগঠক, টরন্টোতে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুন হোসাইন, টরন্টোতে জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখ ও সংগঠক রাব্বিউল হাসান রাজ এবং মানবাধিকার সংগঠক, অ্যাক্টিভিস্ট ও টরন্টোতে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ বেলায়েত হোসাইন।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন, কামাল মিয়া, আহমদ ওয়ায়েস নিজাম, বেলাল আহমদ, মেহরাজ উদ্দিন চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম, শামীম আহমদ, রুহুল আমীন, শহীদুল ইসলাম, ওয়াসিম সাজ্জাদ, জাহিদুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, ইনতিসার খান ইশমাম, হাবীব রহমান, আমান উল্লাহ আমান, তাহমিদ আহমদ, সিদ্দিক আহমদ, মাসুম চৌধুরী, আকিফ ইব্রাহিম, জাহিদ আহমদ, সালেহ আহমদ শাহী, রেদওয়ান হোসাইন, মাওলানা আরিফুল ইসলাম ও নাসিম আল জান্নাহ চৌধুরী প্রমুখ।
‘জুলাই নেটওয়ার্ক’-এর পক্ষ থেকে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মৃতি ও আত্মত্যাগ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে ইতিহাসভিত্তিক গবেষণা, প্রকাশনা, চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃতি বা এর স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে টরন্টোতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে প্রামাণ্যচিত্র ও প্রকাশনা প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে টরন্টোতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে ভূমিকা রাখা সকল শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।
আলোচনা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও কল্যাণ কামনা করে মাওলানা রুহুল আমীনের পরিচালনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
বার্তা প্রেরক
জুলাই নেটওয়ার্ক, টরন্টো
কানাডা।