10/17/2026
"স্মৃতির পাতায় প্রফেসর মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন স্যার"
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও হৃদয়ের গভীর থেকে কিছু কথা।
কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসেন, আর নীরবে নিজেদের অস্তিত্বের এমন গভীর ছাপ রেখে যান যে, তাঁদের চলে যাওয়ার পরও প্রতিটি মুহূর্তে তাঁদের উপস্থিতি অনুভব করা যায়। তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক কোনো সাংগঠনিক পরিচয়, আনুষ্ঠানিকতা কিংবা দায়িত্বের সীমারেখায় আবদ্ধ থাকে না। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালোবাসা ও এক গভীর পারিবারিক বন্ধনে। প্রফেসর মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন স্যারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটিও ছিল ঠিক তেমনই এক হৃদয়ছোঁয়া সম্পর্ক।
সিলেট জেলা সমিতির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে কাছ থেকে জানার, বোঝার এবং তাঁর স্নেহময় হৃদয়কে অনুভব করার সৌভাগ্য হয়েছে। তিনি ছিলেন আমাদের কাছে শুধু একজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কিংবা অভিভাবক নন—তিনি ছিলেন আমাদের আপনজন, আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করা এক মহৎ হৃদয়ের মানুষ। প্রবাসী জীবনের ও সাংগঠনিক কাজের ব্যস্ততার মাঝেও তিনির আন্তরিকতা, মমতা, হাসিমাখা কথা এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যেত। তিনির সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আজ মনে পড়ে, আর বুকের ভেতর এক অদৃশ্য শূন্যতা আরও গভীর হয়ে ওঠে।
স্যারের সঙ্গে সম্পর্কের কিছু স্মৃতি আজও বিশেষভাবে মনে পড়ে। সমিতির প্রতিটি সভার আগে তিনি নিজে ফোন করে সবার উপস্থিতির খোঁজ নিতেন এবং কাজটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য আন্তরিকভাবে উৎসাহ দিতেন।
প্রবাসী জীবন ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার পরও তিনি আমাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বসে সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। তাঁর স্নেহভরা পরামর্শ আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করত। কোনো সদস্য অসুস্থ বা বিপদে পড়লে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিতেন। এই প্রবাসে যেকোনো ব্যক্তির সুখে দুখে সবার খবর রাখতেন।
আজ স্যার আমাদের মাঝে নেই—এই নির্মম সত্যটি মেনে নেওয়া সত্যিই অত্যন্ত কঠিন। বারবার মনে হয়, হয়তো তিনি আবার ফোন করবেন, কোনো পরামর্শ দেবেন, স্নেহভরা কণ্ঠে কথা বলবেন, কিংবা সাংগঠনিক কোনো কাজে আগের মতো পাশে এসে দাঁড়াবেন। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম—আমাদের সেই প্রিয় মানুষটি আর কখনো শারীরিকভাবে ফিরে আসবেন না।
তিনির অনুপস্থিতি আমাদের হৃদয়ে যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।
তিনির সঙ্গে কাটানো সময়, তিনির কথোপকথন, স্নেহভরা আচরণ, আন্তরিক হাসি এবং ভালোবাসায় ভরা প্রতিটি মুহূর্ত আজ স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে আছে।
কখনো কখনো মনে হয়, স্মৃতিগুলোই যেন এখন আমাদের একমাত্র আশ্রয়—যেখানে ফিরে গিয়ে আমরা তিনিকে আবার দেখতে পাই, তিনির কণ্ঠ শুনতে পাই, তিনির স্নেহ অনুভব করতে পারি। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়। এটি একজন অভিভাবক, একজন পথপ্রদর্শক এবং একান্ত আপনজনকে হারানোর বেদনা।
মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন, কিন্তু তাঁর ভালোবাসা, আদর্শ, শিক্ষা, কর্ম এবং মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া অমলিন ছাপ কখনো মুছে যায় না। প্রফেসর রহিম উদ্দিন স্যারও আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন একজন জ্ঞানী ও শ্রদ্ধেয় মানুষ, স্নেহশীল অভিভাবক, নিবেদিত সংগঠক এবং পরম আপনজন হিসেবে।
তিনির স্মৃতি আমাদের পথ দেখাবে, তিনির আদর্শ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে, আর তিনির ভালোবাসা আমাদের হৃদয়ে নীরবে বেঁচে থাকবে।
মহান আল্লাহর দরবারে কাঁদতে কাঁদতে দোয়া করি—আল্লাহ যেন আমাদের প্রিয় স্যারকে ক্ষমা করে দেন, তাঁর সকল ভুলত্রুটি মার্জনা করেন, তাঁর কবরকে নূর ও রহমতে পরিপূর্ণ করে দেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। হে আল্লাহ, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন, তাঁকে শান্তি দান করুন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দিন।
প্রিয় স্যার, আপনি আমাদের মাঝে নেই—এই শূন্যতা আমাদের প্রতিটি দিন, প্রতিটি স্মৃতি এবং প্রতিটি অনুভূতিতে গভীরভাবে অনুভূত হবে। কিন্তু আপনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও অমলিন স্মৃতিগুলো কোনোদিন মুছে যাবে না। আপনি আমাদের হৃদয়ে, আমাদের স্মৃতিতে এবং আমাদের ভালোবাসায় আজীবন বেঁচে থাকবেন।
ইয়া আল্লাহ সবাইকে জান্নাতবাসী করুন আমীন।
সিলেট জেলা সমিতির সকল সদস্যের পক্ষ থেকে
মোহাম্মদ আব্দুল হাই
( সভাপতি)