03/05/2026
🏰 মালদুয়ারের রাজা টংকনাথ চৌধুরী
ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার কুলিক নদীর তীরে গড়ে ওঠা মালদুয়ার রাজবাড়ি শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি একটি ঐতিহ্যের প্রতীক, যার সাথে জড়িয়ে আছে রাজা টংকনাথ চৌধুরীর গৌরবময় ইতিহাস।
👤 বংশপরিচয়
বুদ্ধিনাথ চৌধূরীর তিন পুত্র—রামনাথ, টংকনাথ ও গৌরাঙ্গনাথ। রামনাথের অকাল মৃত্যু এবং গৌরাঙ্গনাথের অক্ষমতার কারণে, বুদ্ধিনাথের মৃত্যুর পর চতুর ও দক্ষ টংকনাথ জমিদারির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
তার স্ত্রী ছিলেন জয়রামা শংকরী দেবী। তাদের তিন পুত্র—কর্মনাথ, রুদ্রনাথ ও শেষনাথ চৌধুরী।
📜 জমিদারির সূচনা
টংকনাথের পূর্বপুরুষরা জমিদার ছিলেন না। তার পিতা বুদ্ধিনাথ চৌধূরী ছিলেন এক জমিদারের মন্দিরের সেবায়েত। নিঃসন্তান জমিদার কাশী যাওয়ার আগে তাম্রপাতে দলিল করে যান—ফিরে না এলে সেবায়েতই হবেন সম্পত্তির মালিক। পরে তিনি আর ফিরে না আসায় বুদ্ধিনাথ জমিদারি লাভ করেন।
👑 উপাধি লাভ
১৯২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ব্রিটিশ সরকার তাকে “চৌধুরী” উপাধিতে ভূষিত করে। এছাড়া দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজনাথ রায়ের কাছ থেকে তিনি “রাজা” উপাধি লাভ করেন। তার আভিজাত্য ও অতিথিপরায়ণতা ছিল কিংবদন্তিতুল্য।
📚 শিক্ষা ও সমাজসেবা
রাজা টংকনাথ ছিলেন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি।
✔️ কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি.এ পাশ (তৎকালীন দিনাজপুরে বিরল)
✔️ বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য
✔️ জেলা বোর্ডের সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
✔️ ২টি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা
✔️ ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান
✔️ একটি ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠা (বর্তমানে রাণীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়)
✔️ সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, যার বই আজও বিভিন্ন কলেজে সংরক্ষিত
🌿 ইতিহাসের এক অধ্যায়
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি ভারতে চলে যান এবং ১৯৪৮ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
✨ উপসংহার
রাজা টংকনাথ শুধু একজন জমিদার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও দূরদর্শী নেতা। তার গড়ে তোলা রাজবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানগুলো আজও আমাদের ইতিহাসের গর্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
📍 আসুন, আমাদের ঐতিহ্যকে জানি, সংরক্ষণ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরি।
লেখা: সংগৃহীত
ছবি: এআই
#রাজাটংকনাথ #ঠাকুরগাঁও #ইতিহাস #ঐতিহ্য #বাংলার_জমিদার