17/06/2026
চাকরি মেলা-২০২৬
অদ্য ১৭ জুন ২০২৬ ইং তারিখ ইএসডিও প্রধান কার্যালয়,গোবিন্দনগর, ঠাকুরগাঁও জয়নাল আবেদীন মিলায়তনে রেইজ প্রকল্পের আওতায় একটি চাকরির মেলার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জনাব মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও।
তিনি বলেন আজকের এই দিনটি শিক্ষানবিশদের স্বপ্ন পূরণের বিশেষ দিন।ঠাকুরগাঁওয়ের মতো একটি সীমান্ত এলাকায় দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো এসেছে শিক্ষানবিশদের তৎক্ষনাৎ চাকরি দিতে। এটি একটি বিশাল সুযোগ। তোমরা যারা এখানে এসেছ, নিজেদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখো। 'ওস্তাদ-শিষ্য' মডেলের অনুসরণে হাতে-কলমে বাস্তবমুখী শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত অপরিহার্য। এই দক্ষতাই তোমাদের কর্মসংস্থানের মূল চাবিকাঠি।" তিনি রেইজ প্রকল্পের এই আয়োজন দেখে এতটাই মুগ্ধ যে, সাথে সাথেই ঘোষনা দেন যে খুব শিঘ্রই সরকারীভাবে একটি এরকম চাকরির মেলার আয়োজন করা হবে। বেকারত্ব দুরিকরনে রেইজ প্রকল্পের তিনি ভয়সি প্রসংশা করেন।
জনাব মোঃ আনোয়ার পাশা খান উপ-পরিচালক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জানান যে, রেইজ প্রকল্পের এই চাকরি মেলায় এসে তাঁর এক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে এসে তিনি দেখতে পেয়েছেন কীভাবে ওস্তাদ-শিষ্য মডেলের মাধ্যমে তরুন-তরুনীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শিখে অনেক সহজেই চাকরির পাচ্ছে। এটি আসলেই প্রসংশার বিষয়।
মোছাঃ জিন্নাতারা ইয়াছমিন উপ-পরিচালক মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জানান, রেইজ প্রকল্পের এই চাকরি মেলা আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের তরুণ-তরুণীদের জন্য, বিশেষ করে নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এক বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরও নারীদের বিভিন্ন ট্রেডে বাস্তবমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। রেইজ প্রকল্পের এই মেলায় এসে তরুণীদের চাকরির প্রতি যে আগ্রহ এবং আত্মবিশ্বাস আমি দেখেছি, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। ওস্তাদ-শিষ্য মডেলের এই হাতে-কলমে শিক্ষা আমাদের মেয়েদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করছে। দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো আজ ঠাকুরগাঁওয়ে এসে তাদের তৎক্ষণাৎ চাকরির সুযোগ দিচ্ছে, যা নারীদের ক্ষমতায়নে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।"
ড. সেলিমা আখতার ম্যাডাম বলেন, অধ্যক্ষ ইকো পাঠশাল এন্ড কলেজ,ঠাকুরগাঁও রেইজ প্রকল্পের এই চাকরি মেলায় আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এখানে যে উদ্দীপনা আমি দেখছি, তাতে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—আজকের এই চাকরি মেলায় এসে কোনো শিক্ষানবিশকে খালি হাতে ফেরত যেতে হবে না। ইনশাআল্লাহ, এখানে আসা প্রতিটি যোগ্য ও দক্ষ তরুণ-তরুণীর জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা হবে। ওস্তাদ-শিষ্য মডেলের মাধ্যমে তারা যে হাতে-কলমে ও বাস্তবমুখী শিক্ষা পেয়েছে, তার প্রতি দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলোর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আজকের এই মেলা আমাদের বেকারত্ব দূর করতে এবং তরুণদের স্বাবলম্বী করতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড.মুহম্মদ শহীদ উজ জামান স্যার বলেন যে,রেইজ প্রকল্পের আওতায় স্বল্প শিক্ষিত বেকার তরুন তরুনীদের ০৬ মাস মেয়াদী হাতে কলমে প্রশিক্ষণ। আজ উক্ত শিক্ষানবিশদের নিয়ে একটি চাকরির মেলার আয়োজন করা হয়। উক্ত মেলায় ৪০০ জন শিক্ষানবিশ অংশগ্রহন করেন। এর মধ্যে তাৎক্ষনিক ভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২০৫ জন শিক্ষানবিশের চাকরি নিশ্চিত হয় এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান অবশিষ্ঠদের পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ প্রদান করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করবেন।
জনাব কাজী মশরুর-উল-আলম, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, পিকেএসএফ রেইজ প্রকল্পের এই চাকরি মেলা প্রমাণ করেছে যে ওস্তাদ-শিষ্য মডেলের মাধ্যমে আমাদের তরুণদের দক্ষ করার উদ্যোগটি কতটা সফল। এই মডেলের অভাবনীয় সফলতা এখন শুধু আমাদের দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বাইরেও আন্তর্জাতিকভাবে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। তিনি একটি অত্যন্ত আনন্দের খবর জানিয়ে বলেন, রেইজ প্রকল্প আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত চলমান থাকবে। এর ফলে আমাদের তরুণ-তরুণী ও শিক্ষানবিশরা তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে এবং স্বপ্ন পূরণের জন্য সামনে আরও বড় ও ভালো সুযোগ পাবে।"