আমার তেরখাদা

আমার তেরখাদা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আমার তেরখাদা, Community Service, Terokhada.

আসুন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সততা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্দর একটি তেরখাদা গড়ি।

আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, পরামর্শ বা যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন আমাদের অফিসিয়াল 📧 [email protected] ইমেইলে। ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য 🥀

17/06/2026

আসুন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সততা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্দর একটি তেরখাদা গড়ি।

ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য 🥀

খুলনায় দুই বাস ও তেলবাহী ট্রাকের ত্রিমুখী সং* ঘ* র্ষ, বিএল কলেজের শিক্ষার্থীসহ আ* হ* ত  ২৪/২৫ জন
17/06/2026

খুলনায় দুই বাস ও তেলবাহী ট্রাকের ত্রিমুখী সং* ঘ* র্ষ, বিএল কলেজের শিক্ষার্থীসহ আ* হ* ত ২৪/২৫ জন

তেরখাদা ব্রিজের সংযোগ সড়কের বালু সরে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ​তেরখাদা প্রতিনিধি:তেরখাদা ব্রিজের সংযোগ সড়কের দুই পাশের ব...
16/06/2026

তেরখাদা ব্রিজের সংযোগ সড়কের বালু সরে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
​তেরখাদা প্রতিনিধি:
তেরখাদা ব্রিজের সংযোগ সড়কের দুই পাশের বালু ও মাটি সরে গিয়ে এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

#আমার_তেরখাদা #তেরখাদা_নিউজ #জনদুর্ভোগ #তেরখাদা_ব্রিজ

এটা খুলনার দৌলতপুর ওয়েষ্টজোন বিদ্যুৎ মসজিদের ফজরের নামাজের সমযকার ছবি। ফজরের নামাজের সময় মসজিদের ভেতরে লোকমান নামক এক মু...
14/06/2026

এটা খুলনার দৌলতপুর ওয়েষ্টজোন বিদ্যুৎ মসজিদের ফজরের নামাজের সমযকার ছবি। ফজরের নামাজের সময় মসজিদের ভেতরে লোকমান নামক এক মুসল্লিকে গু*লি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির এক নেতাসহ দুজন গু*লিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফজরের নামাজ চলাকালে কয়েকজন সশ-স্ত্র দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে মসজিদের ভেতরে ঢোকে। তারা সরাসরি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গু*লি ছোড়ে। এতে আলম শেখও গু*লিবিদ্ধ হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁরা মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আইন বিচার ব্যবস্থার এমন করুন দশা যে ইবাদত খানা মসজিদ পর্যন্ত আজ নিরাপদ নয়।

#আমার_তেরখাদা

সাবেক আইজি বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেফতারপুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কম...
14/06/2026

সাবেক আইজি বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেফতার

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করেছে দুবাই পুলিশ।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্টমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিস্তারিত আসছে...
সুত্র: যমুনা টিভি

পলাশবাড়ীতে বিশাল বিশাল মূর্তি নির্মাণের নেপথ্যে কীরাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৪২ কিলোমিটার উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী...
14/06/2026

পলাশবাড়ীতে বিশাল বিশাল মূর্তি নির্মাণের নেপথ্যে কী

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৪২ কিলোমিটার উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী। ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ধরে ছয় ঘণ্টার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিলেই দেখা মিলবে উপজেলাটির। দীর্ঘ যাত্রা শেষে আপনি যে গন্তব্যে পৌঁছাবেন, তা এখন কেবল ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক বা উপাসনালয়ের সীমানায় আবদ্ধ নেই; বরং সাম্প্রতিক সময়ে এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

গাইবান্ধার অনগ্রসর এ জনপদে একের পর এক বিশাল মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৮ ফুটের শিব এবং ৫৩ ফুটের কৃষ্ণের পর এবার রামমূর্তি নির্মাণের কর্মযজ্ঞ স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। যেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যালঘু, সেখানে এমন স্থাপনা নির্মাণের নেপথ্য কারণ, উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এলাকাবাসীর মতে, এর পেছনে থাকতে পারে দেশি-বিদেশি বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর সুদূরপ্রসারী নীলনকশা। মন্দির প্রাঙ্গণে বিদেশি কূটনীতিকদের যাতায়াত এবং প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে এমন কর্মযজ্ঞ চালানোয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত ১১ জুন সেখানে চলমান আকাশচুম্বী রামমূর্তি নির্মাণের কাজ আপাতত স্থগিত রয়েছে। কিন্তু সরকারি এ সিদ্ধান্তের পরও ধোঁয়াশা কাটছে না। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ের বিশাল এ কর্মযজ্ঞের আড়ালে কি নিছক ধর্মীয় আবেগ, নাকি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য এটি কোনো অশুভ ‘ট্রোজান হর্স’?

এ প্রকল্পের মূল কারিগর হরিদাস চন্দ্র তরণী, যার জীবন যেন কোনো থ্রিলার উপন্যাসের চিত্রনাট্য। এক সময় এসি মেরামতের ছদ্মবেশে গণভবনের অন্দরে যার ছিল অবাধ যাতায়াত, যিনি অতীতে ‘মুসলমান’ পরিচয় ধারণ করে প্রতারণার দায়ে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, সেই হরিদাসের অস্বাভাবিক এ উত্থান এখন গোয়েন্দা মহলে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

গত ১১ জুন এ বিষয়ে দিনভর কথা হয় রংপুর ও গাইবান্ধার উচ্চপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে। এদের মধ্যে ছিলেনÑরংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব, গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বিতর্কের কেন্দ্র থাকা হরিদাস চন্দ্র তরণী।

প্রশাসনের আরো বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা চাকরির বিধিবিধানের কারণে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেছেন। এছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালী বেশ কয়েকজনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলাপে হরিদাসের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য মিলেছে।

আমাদের এ অনুসন্ধানের লক্ষ্য কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়; বরং হরিদাসের এই রহস্যময় অর্থায়ন, ভিনদেশি গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং ক্ষমতার অলিন্দে তার অকল্পনীয় উত্থানের নেপথ্যে থাকা সেই অশুভ ছায়া খুঁজে বের করা, যা হয়তো রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

গণভবন ও ‘ট্রোজান হর্স’

হরিদাসের এই মূর্তি নির্মাণের আড়ালে কি লুকিয়ে আছে কোনো গভীর দুরভিসন্ধি? স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ একে অভিহিত করছেন ‘ট্রোজান হর্স’ হিসেবে। তাদের আশঙ্কা, আপাতত স্বস্তি মিললেও এ প্রকল্পের আড়ালে থাকা হরিদাস তার আসল রূপ নিয়ে ঠিকই ফিরে আসবেন। হরিদাসও তাদের ‘ফিরে আসা’র প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

পৌরাণিক ‘ট্রোজান হর্স’ বা গ্রিক ট্রয় নগরী জয়ের সেই বিশালাকায় কাঠের ঘোড়াটি মূলত ধূর্ত রণকৌশলের প্রতীক। এ কৌশলের মূল ভিত্তি হলো আপাতদৃষ্টিতে কোনো নিরীহ উপহারের বস্তু বা ব্যক্তির আড়ালে শত্রুপক্ষকে সুরক্ষিত দুর্গের ভেতর প্রবেশ করানো।

গাইবান্ধার এ প্রকল্পের প্রেক্ষাপটে হরিদাস চন্দ্র তরণীর কর্মকাণ্ডকে প্রশাসন ও স্থানীয়রা ‘ট্রোজান হর্স’ হিসেবেই দেখছেন। এখানে বিশাল মন্দির ও মূর্তি নির্মাণের ধর্মীয় আবরণের আড়ালে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টতার গভীর ছক কাজ করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বাইরের শান্ত আবহে তৈরি করছে এক গোপন ও অশুভ ষড়যন্ত্রের জাল।

মন্দিরের আয় ঘিরে তিনি যেসব আষাঢ়ে গল্প ফেঁদেছেন, তা খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখও এড়াতে পারেনি। তার দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবজি সাপ্লাই দিয়ে তিনি পাঁচ কোটি টাকা আয় করেছিলেন। কিন্তু এ-সংক্রান্ত দলিল বা আয়কর নথি দেখাতে পারেননি তিনি।

আমার দেশ-এর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এক সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘কথিত’ ব্যবসায় সক্রিয় থাকাকালেই শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ সেলিমের সঙ্গে তার গভীর সখ্য গড়ে ওঠে, যা আজও রহস্যে ঘেরা।

ভারত থেকে এসি মেরামতের প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে কেন তিনি সরাসরি গণভবনের পাশের দোকানেই এসি মেরামতের কাজ নিয়েছিলেন, কারা ছিল নেপথ্যের কারিগরÑসেসব প্রশ্নের উত্তরও মেলেনি তার অসংলগ্ন বয়ানে।

তবে গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এসি মেরামতের সুবাদে গণভবনে অবাধ যাতায়াত ছিল তার, যেখানে শেখ রেহানার সঙ্গেও পরিচয় ঘটেছিল। যদিও শেখ রেহানার সঙ্গে সখ্যের কথা হরিদাস সরাসরি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু শেখ সেলিমের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন ও তাদের মধ্যকার বিরোধের কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেন, যা এক সাধারণ এসি মেরামত শ্রমিকের সঙ্গে উচ্চপদস্থদের রহস্যময় সম্পর্কের ইঙ্গিতবাহী।

এখানেই শেষ নয়, হরিদাসের সঙ্গে ভারতীয় সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখন গোয়েন্দাদের তল্লাশির কেন্দ্রে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের তার আস্তানায় ঘন ঘন যাতায়াত এবং রহস্যময় কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারের উচ্চমহলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয় হাইকমিশনের প্রভাব সীমিত করার জোরালো সুপারিশ করেছে।

জানা গেছে, বগুড়ার শিবগঞ্জের বাসিন্দা হরিদাস ক্লাস সিক্সে থাকতেই ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকে ফিরে আসার পরই তার মধ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদের দীক্ষা ও কর্মতৎপরতা শুরু হয়। এক সময় মুসলিম পরিচয়ে ময়মনসিংহের এক সবজি বিক্রেতার মেয়েকে বিয়ে করা হরিদাস এখন নিজেকে এক মহাপরিকল্পনার কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া।

হরিদাসের আস্তানা

পলাশবাড়ীতে শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দিরটি এখন আর কেবল সাধারণ কোনো উপাসনালয় নয়; বরং রহস্যঘেরা এক গোলকধাঁধা। বিশাল মন্দির কমপ্লেক্সটিতে প্রবেশ করতেই মনে হবে আপনি কোনো অতি সুরক্ষিত দুর্গের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। সরু, নোংরা নালার ওপর বাঁশের পুলের মতো। ওই পুল পেরিয়ে কমপ্লেক্সটিতে ঢুকতে হয়। এর সরু প্রবেশমুখে পুলিশ আর মন্দিরের লোকজনের শক্ত পাহারা। মন্দিরের উল্টো দিকে অনেক তরুণের পদচারণ, ঘোরাফেরা। অতিথিদের প্রতি তীক্ষ্ণ নজরদারি করছেন তারা। পুরো চত্বর সিসি ক্যামেরা দিয়ে মোড়ানো এবং প্রতিটি পদক্ষেপ এখানে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের অধীন।

গত ১১ জুন বিকালে মন্দিরের প্রবেশমুখের পাশেই দোতলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে হরিদাসের সঙ্গে গভীর আলোচনায় মগ্ন পাওয়া যায় দুই রহস্যময় তরুণকে, যার একজন উপজাতি, অন্যজন বাঙালি। ঢাকা থেকে আসা এই ‘জরুরি’ অতিথিদের সঙ্গে তার রুদ্ধদ্বার বৈঠক যেন বাইরের শান্ত পরিবেশের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। মূর্তি তৈরির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণার ঠিক পরপরই এই গোপন বৈঠক গোয়েন্দা মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমরা কক্ষটিতে প্রবেশ করতে চাইলে হরিদাস তার জরুরি বৈঠক চলার কথা জানিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন। আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর আমরা কক্ষে প্রবেশ করলে তিনজনের মুখেই উৎকণ্ঠার ছাপ স্পষ্ট ছিল। দুই তরুণ দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যান, যাওয়ার সময় উপজাতি তরুণটা আমাদের পরিচয় জানতে চাইলেন। তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি হাসিমুখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন, যা পুরো ঘটনাকে রহস্যময় ধাঁধায় পরিণত করেছে।

এরপর দীর্ঘক্ষণ কথা হয় হরিদাসের সঙ্গে। তার অতীত, প্রতারণার অভিযোগ, শেখ সেলিম, শেখ রেহানা ও গণভবনে এসি মেরামতের প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

হরিদাসের এই বর্ণিল উপস্থিতির পেছনে রয়েছে অন্ধকার অতীত। ২০২২ সালে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করলে আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। ২০১৪ সাল থেকে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার এক অভিনব জাল বুনেছিলেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় তার মালিকানাধীন ‘প্যারিস রিসোর্ট’ ছিল প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের গোপন আখড়া, যেখানে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করে তাদের জিম্মি করা হতো।

গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফাঁসাতে ব্যবহৃত বিদেশি ‘ট্র্যাপিং চ্যানেলের’ সঙ্গেও হরিদাসের সম্পৃক্ততার গুঞ্জন রয়েছে। তবে হরিদাস সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

রেহানার সঙ্গে সম্পর্ক ও গণভবন

একটি এসি মেরামতের দোকান থেকে রাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু গণভবনÑহরিদাস চন্দ্র তরণীর উত্থান যেন কোনো সস্তা সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। কিন্তু সাধারণ মেকানিকের পেশা কি কেবলই ছদ্মবেশ ছিল? গোয়েন্দা তথ্যের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা চাঞ্চল্যকর সব নথিপত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভারতের মাটিতে মেকানিক প্রশিক্ষণের আড়ালে দীক্ষা গ্রহণের পর যখন তিনি ফিরে এলেন, তখন তার লক্ষ্যবস্তু ছিল অনেক উঁচুতে।

২০১০ সাল-পরবর্তী সময়ে হরিদাসের জীবনবৃত্তান্তের পাতায় যোগ হয় এক রহস্যময় অধ্যায়। গণভবনের এসি মেরামতের ওসিলায় তিনি পেয়ে যান সুরক্ষিত প্রাঙ্গণে অবাধ প্রবেশের পাস। আর সেই সুবর্ণ সুযোগকেই তিনি কাজে লাগান ‘ট্রোজান হর্স’ কৌশলে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণভবনের অন্দরে দায়িত্বরত থাকাকালীনই শেখ রেহানার সঙ্গে তার পরিচয় ঘটেছিল, যা ছিল তার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রথম বড় সিঁড়ি। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, হরিদাস অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এই সখ্য বা শেখ রেহানার সঙ্গে তার কোনো ধরনের বিশেষ সম্পর্কের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শেখ রেহানার সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সংযোগ ছিল না।

শেখ সেলিমের মতো উচ্চপদস্থ নেতার সঙ্গে একজন এসি মেকানিকের এই ব্যবসায়িক লেনদেন এবং পরে তার সঙ্গে বিরোধের বিষয়টিই প্রমাণ করে, হরিদাস কেবল মেকানিক ছিলেন না; তিনি ছিলেন ক্ষমতার পর্দার আড়ালের এক কুশীলব।

গণভবনের এসি মেরামতের ওই দিনগুলোতে হরিদাস কি কেবল যন্ত্রের ত্রুটি সারাতেন, নাকি গড়ে তুলেছিলেন রাষ্ট্রের স্পর্শকাতার তথ্যপাচার, প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিং নেটওয়ার্ক? সে প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজতে মরিয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তিন ভাই ভারতে

পলাশবাড়ীর অতি সাধারণ এক গ্রাম থেকে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া হরিদাস চন্দ্র তরণীর উত্থান এখন দেশের গোয়েন্দা মহলের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া হরিদাসের আপন তিন ভাই গোবিন্দ, গৌরাঙ্গ ও আনন্দ চন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে বসবাস করছেন। হরিদাসের এই পরিবারিক প্রেক্ষাপট এবং তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে গত ৯ জুন রংপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা হয়।

স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, পলাশবাড়ীতে হরিদাসের এই মহাপরিকল্পনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সেখানে ইতোমধ্যে ২৮ ফুট উঁচু শিবমূর্তি এবং ৫৩ ফুট উঁচু কৃষ্ণমূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, যার একটির উদ্বোধন করেছিলেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। এমনকি এখানে ১৪৪টি মূর্তি নির্মাণের বিশাল এক প্রজেক্টও হাতে নেওয়া হয়।

হরিদাসের এ কর্মযজ্ঞ ও অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে তদন্ত শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকাণ্ডের পরিধি পর্যালোচনার দাবিও জোরালো হয়েছে।

প্রশাসনের সতর্ক পর্যবেক্ষণ

মন্দির নির্মাণের আড়ালে হরিদাসের বিশাল এ কর্মকাণ্ড কেবল স্থানীয় কোনো বিষয় নয়; বরং এটি এখন রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের নজরে। গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এই বিশাল স্থাপনা নির্মাণের নেপথ্যে ভারতের সংশ্লিষ্টতা এবং হরিদাসের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশাসন গভীর ও সতর্ক পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন আমার দেশকে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তারা মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে গত ১১ জুন গাইবান্ধায় অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব জানান, সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভার্চুয়াল উপস্থিতি ছিল এবং সর্বসম্মতিক্রমে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বিশাল এ কর্মযজ্ঞ চালিয়ে গেছেন হরিদাস। আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে তিনি যেখানে ইচ্ছা সেখানে স্থাপনা গড়ে তুলেছেন।

স্বত্ব: ©️ আমার দেশ
প্রদিবেদক: আবু সুফিয়ান, ঢাকা ও বাদশাহ ওসমানী, রংপুর
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০৮: ৪২
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ১০: ০৫

13/06/2026

আজকের যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহের আড়ালে নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যমের চেয়ে 'ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট' বা জোরপূর্বক জনমত তৈরির কারখানা হিসেবেই মিডিয়ার ভূমিকা বেশি দৃশ্যমান। সত্য ও মিথ্যার এই কৃত্রিম কুয়াশা ভেদ করে প্রকৃত বাস্তবতাকে চেনা তাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ভিডিও : কার্টসী Maruf Hayath

সেনাপ্রধান নামাজের ইমামতি করছেন। বিষয়টাকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?
13/06/2026

সেনাপ্রধান নামাজের ইমামতি করছেন। বিষয়টাকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?

ইন্ডিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, ব্যারাকপুরের সাবেক এমপি ও বিজেপি নেতা ত্রিবেদী শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে স্ত্রী মৃণাল ত...
12/06/2026

ইন্ডিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, ব্যারাকপুরের সাবেক এমপি ও বিজেপি নেতা ত্রিবেদী শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ইন্ডিয়া-বাংলাদেশকে এক করার কথা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা মিলেমিশে একটা ক্রিকেট টিম হলে কত ভালো হবে?

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত, মাত্রা ৪.৫ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্ক...
11/06/2026

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত, মাত্রা ৪.৫

ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে এই কম্পন অনুভূত হয। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের এক বার্তায় জানায়, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৫ মাত্রার। এটি ‘মৃদু’ শ্রেণির ভূমিকম্প।

এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায়। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আবহাওয়া অধিদফতরের ভূকম্পন কেন্দ্র থেকে এই উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার।

এর আগে, গত ৮ জুন ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প ‍অনুভূত হয় বাংলাদেশে। সেটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটানের পুনাখা জেলা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে।

Address

Terokhada
9230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আমার তেরখাদা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share