26/05/2026
“আরাফাহ দিবসের সিয়াম— পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা”
আরাফাহ দিবসের সিয়াম সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে এ দিনের সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন—
سُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ؟ فَقَالَ: «يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ»
বাংলা অনুবাদ: আরাফাহ দিবসের সিয়াম সম্পর্কে (নবী ﷺ -কে) জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে”। [সহীহ মুসলিম, হাদিস ২৬৩৭]
এই দিনে আল্লাহর সম্মানিত মেহমান তথা হাজীগণ আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন, যা হজ্জের অন্যতম ফরজ আমল। এজন্য এ দিনটিকে আরাফাহ দিবস হিসাবে অভিহিত করা হয়। এ দিনটির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
১. ইসলাম ও আল্লাহর নেয়ামত পরিপূর্ণ হওয়ার ঐতিহাসিক দিন: বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম আরাফার ময়দানে অবস্থানকালে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন এই ঐতিহাসিক আয়াত নাযিল করে বলেন—
﴿ ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗاۚ ﴾ [المائدة: ٣]
বাংলা অনুবাদ: “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পরিপূর্ণ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসাবে মনোনীত করলাম। ” [সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৩]
২. এ দিনের দু‘আ সর্বোত্তম দু‘আ: এ সম্পর্কেও আল্লাহর রাসূল ﷺ এর স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়,
«خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ»
বাংলা অনুবাদ: “আরাফার দিনের দু‘আ-ই সর্বোত্তম দু‘আ।” [সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস ৩৫৮৫, শাইখ আলবানী রহ. হাদিসটিকে হাসান বলেছেন]
৩. জাহান্নাম থেকে সর্বাধিক মুক্তির দিন: এই দিনে আল্লাহ তা'আলা সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি প্রদান করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
«مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ، مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَإِنَّهُ لَيَدْنُو، ثُمَّ يُبَاهِي بِهِمِ الْمَلَائِكَةَ، فَيَقُولُ: مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟»
বাংলা অনুবাদ: “আরাফাহ দিবসের তুলনায় এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ এর চেয়ে অধিক লোককে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। (এ দিনে) আল্লাহ নিকটবর্তী হন, অতঃপর বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গৌরব প্রকাশ করেন এবং বলেন, “তারা কী চায় (তারা কী উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে)?”। [সহীহ মুসলিম, হাদিস ৩১৭৯]