21/06/2025
তিক্ত অভিজ্ঞতা, তবু ভালোবাসা দিয়ে রক্ত দিয়েছিলাম…
রোগী অনেক আগেই বলেছিল, ঈদের সময় তার রক্ত দরকার হবে। মানুষ হিসেবে, ডোনার হিসেবে আমি কথা দিয়েছিলাম—আমার রক্ত সে পাবে।
ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসেছি, কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভুলিনি। ৩৫ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে গেলাম যশোর সদর হাসপাতালে। হাসপাতালে গিয়ে ব্লাড দিলাম। সে তো ঠিকই রক্ত পেল, কিন্তু আমি?
২০ ঘণ্টা পর আমার হাতে দেখা দিলো ভয়াবহ ব্যথা, জমাট রক্ত, ফোলা হাত।
হাতের শিরায় রক্ত চলে গিয়েছিল, যন্ত্রণা এতটাই বেশি ছিল যে কয়েক রাত ঘুমাতে পারিনি। হাসপাতাল থেকে কেউ একবারও ফোন করে খোঁজ নেয়নি, জানতে চায়নি—"ভাই কেমন আছেন?"
আমি একজন ছাত্র। আমাকে তারা হাসপাতালে নিয়েছিল, কিন্তু ফেরার সময় নিজ খরচে বাসায় ফিরতে হয়েছে। নাস্তার কথা আর নাই বললাম। দুপুরে বন্ধুর মেসে গিয়ে খেয়েছিলাম। আর তখনো বুঝিনি আমার হাতের অবস্থা এত খারাপ হতে যাচ্ছে।
আব্বুকে জানাইনি, ভয় পেয়েছিলাম। চুপিচুপি আম্মুকে বলেছিলাম।
আমার চিকিৎসার জন্য আম্মু নিজের গুছিয়ে রাখা টাকা থেকে ১৫০০ টাকা বের করে দেয়।
সেই রাতে আমার চোখে ঘুম ছিল না—শুধু ব্যথা, যন্ত্রণা আর কিছু প্রশ্ন।
এই ছিল আমার ৮ম বার রক্ত দেওয়া।
আল্লাহর রহমতে এখন একটু ভালো আছি, তবে মা এবার বলে দিয়েছেন—আর না।
"তুই রক্ত দিবি না।"
আমি হয়তো আর কখনো রক্ত দেবো না। কিন্তু আমি চাই, আপনারা অন্তত ব্লাড ডোনারদের সম্মান করুন।
তারা রক্ত দেয় ভালোবাসা দিয়ে, স্বার্থ ছাড়াই। বিনিময়ে তাদের যত্নটুকু, সম্মানটুকু তো পাওয়া উচিত, তাই না?
---
সবার প্রতি আহ্বান—
ব্লাড ডোনারদের শুধু রক্ত নেওয়ার যন্ত্র হিসেবে দেখবেন না।
তাদের হৃদয়ের মর্যাদা দিন।
💔🩸