15/05/2024
পারিবারিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা: আব্বা বেঁচে থাকলে যে পরামর্শ দিতেন।
প্রকৃতিতে বৃষ্টি শেষ হয়, তারপর রোদ উঠে, কিন্তু মধ্যবিত্তের আর্থিক সংকটের বর্ষা কখনো শেষ হয় না। তাই এদের দরকার ছাতা- অন্তত যাতে 'আর্থিক বর্ষা' কিছুটা হলেও ঠেকানো যায়। আমি মাঝে মাঝে ভাবি, আমার এ বর্ষাকালীন ছাতা কী হবে তা যদি আব্বাকে জিজ্ঞেস করতাম তিনি কী বলতেন? আমার ধারণা তিনি নিচের কথা গুলো বলতেন।
১। যা কিনবি নগদ টাকায় কিনবি। বাকিতে নয়। নগদ টাকায় কিনলে 'টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে' এ সাইকোলজিক্যাল ফিলিংটি কাজ করে। যা অযথা ব্যয় থেকে আমাদের রক্ষা করে। বাকিতে কিনলে যেহেতু টাকা তাৎক্ষণিকভাবে হাতছাড়া হয় না, তাই খরচ করতে মন খচখচ করে না। মনে রাখবি, ক্রেডিট কার্ডেও এটা প্রযোজ্য।
২. সুপারশপ নয় ছোট মুদি দোকান/ কাঁচা বাজার থেকে কেনাকাটা করবি। সুপারশপের এস্টাবলিশমেন্ট খরচের কারণে যেকোনো জিনিষের দাম বেশি থাকে।
৪. বিদ্যুত/ মোবাইল ফোনের খরচ কমা।গাড়ির তেল খরচও কমা। রেস্টুরেন্টে খাওয়া কমিয়ে দে। বাড়িতেও খাওয়াদাওয়ার বাহুল্য কমিয়ে দেয়াই ভালো। তবে দরকারি খাবার যেমন দুধ, ডিম বাদ দিস না।
৫. খুব দরকার না হলে নতুন জামাকাপড়/জুতো না কেনাই ভালো।
৬. বিলাস দ্রব্য বর্জন কর। দুনিয়ার সব ঘড়ি একই সময় দেখায়। দামি হলে ভিন্ন সময় দেখায় না।
৭. যে ফার্নিচারে আরো বেশ কবছর যাবে, ওগুলো না বদলানোই ভালো।
৮. ছোটবেলায় তোর মা মুষ্টিচাল বাঁচাতেন, মনে আছে? অল্প অল্প সঞ্চয় কর।
৯. ভুলেও না বুঝে শেয়ার মার্কেটে যাবি না। ওটা সবার জন্য না।
১০. বড়ো কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান না করাই ভালো। এটা লোক দেখানো অপচয় মাত্র, বরং টাকাটা রেখে দে। বিপদে কাজে লাগবে।
১১. সুদ/ লাভ যুক্ত ঋণ নিবি না। প্রাণে মারা পড়বি।
১২. অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ করিস না। তবে একদম যে বউবাচ্চা নিয়ে বেড়াতে যাবি না তা নয়, কিন্তু সেটা যেন আর্থিক নিরাপত্তা নষ্ট না করে।
১৩. যদ্দুর সম্ভব সঞ্চয়ে হাত দিবি না। যা আয় সে অনুযায়ী খরচ করবি। চাদরের বাইরে পা বাড়ালেই সমস্যা।
মনে রাখবি 'পয়সা বাঁচানো' মানে 'পয়সা আয়' করা। তবে, বাদলা ব্যাটা একটা কথা বলি, তাহলো মধ্যবিত্তদের আর্থিক লড়াই আসলে কখনো শেষ হয় না, তারপরও সম্ভব হলে অন্যদের সাহায্য করবি। দানের মতো বরকত আর কিছুতে নাই।
আব্বা,আব্বা, আপনার অসাধারণ পরামর্শগুলো খুব মিস করি।
(পোস্টটি শেয়ার করা যাবে।)