18/05/2026
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলত ও আমল
রামাযান মাস ইবাদতের বসন্তকাল হলেও, জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনও অন্যান্য দিনরাতের তুলনায় আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ। মহান আল্লাহ সুরা ফজরে এই দশ রাতের কসম খেয়েছেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর হাদিস অনুযায়ী, এই দিনগুলোতে সম্পাদিত নেক আমল আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো সময়ের জিহাদের চেয়েও বেশি প্রিয়। ইসলামের পাঁচটি রুকন বা মৌলিক স্তম্ভের এক অপূর্ব সমন্বয় এই দশ দিনেই পরিলক্ষিত হয়। তাই একজন মুমিনের উচিত এই দিনগুলোতে ইবাদতে বেশ মগ্ন হওয়া। সারা বছরের ইবাদাতের রুহ সঞ্চার করা। কারণ সকল সময়ের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার দরবারে জিজ্ঞাসিত হতে হবে
(নিচে প্রথম দশকের বিশেষ কিছু আমল দেয়া হলো)
১. অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করা: অদিক পরিমানে আল্লাহ তাআলার যিকির করা। ইস্তেগফার ও সকল প্রকার শরয়ী তাসবীহাত পড়া। দুরুদ শরীফ পড়া।আল্লাহ তাআলা বলেন,তারা যেন নিদিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহ তাআলার নাম উচ্ছারণ করে। (সূরা হজ: ২৮)।
২. নেক আমল ও দান-সদকা করা: এই দিনগুলোতে নফল ইবাদতের পাশাপাশি অভাবীদের দান করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেন:
مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ
"এই দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহর নিকট অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক প্রিয়।" (সহীহ বুখারী: ৯৬৯)।
৩. গুনাহ ও পাপকাজ পরিহার করা: সম্মানিত এই দিনগুলোতে বিশেষ করে সব ধরণের ছোট-বড় গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করা। (সূরা তাওবা: ৩৬)।
৪. সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করা: ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ এই দশকেই পালন করা হয়। যার প্রতিদান হলো জান্নাত। (সুনানুত তিরমিযী: ৮১০)।
৫. সামর্থ্য থাকলে কোরবানি করা: আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কোরবানি করা। কুরআনে এসেছে:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
"অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।" (সূরা কাউসার: ২)।
৬. চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকা: কোরবানি করার ইচ্ছা পোষণকারী ব্যক্তি জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি পর্যন্ত চুল-নখ কাটবেন না। (সহীহ মুসলিম: ১৯৭৭)।
৭. তাকবীর, তাহমীদ ও তাহলীল পাঠ করা: বেশি বেশি 'আল্লাহু আকবার', 'আলহামদুলিল্লাহ' ও 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠ করা। (আল-মুজামুল কাবীর: ১১১১৬)।
৮. তাকবীরে তাশরীক আদায় করা:
তাকবীরে তাশরিক বেশি করে পড়া। বিশেষ করে
৯ই জিলহজ ফজর থেকে ১৩ই জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর উচ্চস্বরে এই তাকবীর পড়া ওয়াজিব:
اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
৯. প্রথম নয় দিন সিয়াম পালন করা: জিলহজ মাসের ১ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত নফল রোজা রাখা মুস্তাহাব বা উত্তম। (সুনানে আবু দাউদ: ২৪৩৭)।
১০. আরাফার দিনের রোজা রাখা: ৯ই জিলহজ আরাফার রোজা রাখলে বিগত ও আগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। রাসুল (সা.) বলেন:
أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ
(সহীহ মুসলিম: ১১৬২)।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পাপ কাজ থেকে বিরত রেখে নেক কাজে অগ্রজ থাকার তাওফিক দিন।
১ জিলহজ্জ -১৪৪৭ হিজরী
-------------------------------
আন-নাজাত ফাউন্ডেশন সিলেট, বাংলাদেশ