25/05/2026
বিভ্রান্তির সুযোগ নেই!
আগামীকাল নয়, বরং বুধবার আরাফার রোজা।
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন,আমি আশা করি,আরাফার দিনের রোজার বিনিময়ে আল্লাহ পাক বিগত একবছর এবং পরবর্তী একবছরের গোনাহ মাফ করে দিবেন। (মুসলিম, তিরমিযি)
প্রত্যেক মুমিনের উচিত,আরাফার দিনে রোজা রেখে
দু'বছরের গোনাহ মাফের সুযোগ নেয়া এবং আগামী
একবছর নেক হায়াতের আশা করা।
৯ই জিলহজ্জ আরাফার রোজা। আরাফার মাঠে হাজীগণের অবস্থানের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই আর হাজীদের জন্য আরাফার রোজা সুন্নাত ও নয়।
এ দিবসটিকে আরাফার দিন নামকরণের কারণ বুঝলেই আমাদের বিষয়টি বুঝে আসবে।
আরাফাহ নামকরণের ব্যাপারে আলেমগণ তিনটি কারণ বর্ননা করেন।
১- আরাফাহ শব্দের অর্থ পরিচয়,বিশ্বাস,জানা।
৮ ই জিলহজ্জ দিবাগত রাতে হযরত ইব্রাহিম আঃ স্বপ্ন যোগে নিজের প্রিয় পুত্রকে কুরবানী করতে আদিষ্ট হলেন। কিন্তু হযরত ইব্রাহিম (আঃ) নিজের স্বপ্নের ব্যাপারে কিছুটা সন্দেহে ছিলেন। ৯ ই জিলহজ্জ রাতে
আবারো স্বপ্নে দেখার পর তার পুর্ন "বিশ্বাস" (আরাফা) হয় বিধায় এদিনকে আরাফা বলে।
২- ৯ই জিলহজ্ব তারিখে হযরত জিব্রাইল আঃ কর্তৃক
হযরত ইব্রাহিম আঃ কে হজ্বের পুর্ন নির্দেশনাবলী
পরিচয় (আরাফা) করিয়ে দেয়া হয় বিধায় এদিনকে আরাফা বলা হয়।
৩- এদিন গাজীসাহেবগণ আরাফাত মাঠে গমন করেন। এজন্য আরাফার দিন বলা হয়।
(দেখুন,বেনায়া ও এনেয়া।শরহে হেদায়া)
আরাফার রোজা বলা হলেও এর দ্ধারা উদ্দেশ্য ৯ই জিলহজ্বের রোজা।পরিভাষাগত নাম আরাফার রোজা।
হজ্ব্বের আমালগুলোর দিকে লক্ষ্য করে--
৮ জিলহজ্জকে ইয়ামুত্তারবিয়াহ।
৯ জিলহজ্জ ইয়াওমে আরাফা আর ১০ জিলহজ ইয়াওমে নাহার বলা হয়।
আল্লাহ কিছু এবাদত নির্ধারিত করেছেন নির্দিষ্ট সময়ের সাথে,যেমন ফজরের নামাজের সময় সুবহে সাদেকের সাথে সম্পৃক্ত,বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আদায় করা হয়।
কিছু এবাদত রাতের সাথে সম্পৃক্ত, যেমন লাইলাতুলকদর, সারা পৃথিবীতে একসাথে লাইলাতুল কদর হওয়া অসম্ভব,ঠিক তেমনি সারা বিশ্বে আরাফার রোজা ও একসাথে হওয়া অসম্ভব।
যেহেতু এ রোজা ৯ই জিলহাজের রোজা,একটি হাদিসে ৯জিলহাজের রোজা ও বলা হয়েছে। আমাদের চাঁদ দেখা অনুযায়ী আগামী বুধবার আরাফার রোজা রাখতে হবে।
দ্বিতীয়তঃ আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করা উচিত, লিবিয়া তিওনিশিয়া সহ আর ও কয়েকটি দেশ সৌদী আরবের একদিন আগে চাঁদ দেখে থাকে।স্বাভাবিক আরাফাতে অবস্থানের দিন তাদের ১০ জিলহজ্ব ঈদের দিন হয়,তারা কী ঈদের দিন রোজা রাখবে?
তৃতীয়ত ইতিহাসে অনেক বছর হজ্ব পালিত হয়নি,
আল্লাহ না করুক,এরুপ যদি কখনো হয়,তা হলে কী
আরাফার রোজা সুন্নাত থাকবেনা?
তাই কোন প্রকারের বিভ্রান্তির শিকার না হয়ে
আমাদের দেশের চাঁদ দেখা অনুযায়ী এবছর ৯ই জিলহজ্জ মুতাবেক ২৭শে মে বুধবার আরাফার রোজা রাখতে হবে।
আল্লাহ তাওফিক দিন।